আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
41 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (2 points)
السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ
এক জায়গায় বিয়ের কথাবার্তা চলছে। প্রাথমিক আলোচনায় পাত্র পক্ষ দেনমোহর নিয়ে পাত্রীর বাবার সাথে কথা বলেছে। কিন্তু উনারা (পাত্র পক্ষ) দেন মোহর ১৫লাখ টাকা ফিক্স করেছে।এক্ষেত্রে পাত্র পক্ষ নিজেরাই এই amount ধার্য করেছে।(পাত্রীর বাবা একটা এমাউন্ট বলেছে এরপর পাত্র পক্ষ এই এমাউন্ট বলেছে)
পাত্র পক্ষ বলেছে ১০লক্ষ টাকা ক্যাশ বিয়ের দিন দিবে  আর ৫লাখ টাকা দিয়ে উনারা স্বর্ণ+মেয়েকে সাজাই দিবে।কারণ বিয়ের দিন উনারা মেয়েকে উঠায় নিবেনা। ওয়ালিমা পরে করবে আর তখনি উঠায় নিবে।
১) এখন পাত্রী কি কথা বলে দেনমোহর কমিয়ে নিবে?
২)আর কমালে কত টুকু কমাবে? এমাউন্ট টা বললে ভালো হয়

৩)বিয়ের দিন যদি পাত্রীর বাবা পাত্র পক্ষকে দাওয়াত করে কিন্তু পাত্র পাত্রী কেউ সমর্থন করেনা তাহলে এক্ষেত্রে কি করা যায়?
জানালে মুনাসিব হয়।

1 Answer

0 votes
by (714,870 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

শরীয়তের বিধান অনুযায়ী বিয়েতে মোহর অপরিহার্য,এটা স্ত্রীর হক।

আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ  

واحل لكما ما وراء ذلكم ان تبتغوا باموالكم محصنين غير مسافحين فما استمتعتم به منهن فاتوهن اجورهن فريضة ولا جناح عليكم فيما تراضيتم به من بعد الفريضة ان الله كان عليما حكيما

উল্লিখিত নারীরা ছাড়া অন্যদেরকে তোমাদের জন্য বৈধ করা হয়েছে, যে স্বীয় সম্পদ দ্বারা প্রয়াসী হবে তাদের সাথে বিবাহবন্ধনে, ব্যভিচারে নয়। অতএব তাদের নিকট থেকে তোমরা যে আনন্দ উপভোগ করেছ (সে কারণে) তাদের ধার্যকৃত মোহর তাদেরকে প্রদান করবে। আর মোহর নির্ধারিত থাকার পরও কোনো বিষয়ে পরস্পর সম্মত হলে তাতে তোমাদের কোনো অপরাধ হবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।-সূরা নিসা : ২৪

 ★মোহর সম্পূর্ণরূপে নারীর প্রাপ্য। তার স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি ছাড়া অন্য কারো তাতে হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। সুতরাং স্বামী যেমন স্ত্রীকে মোহর থেকে বঞ্চিত করতে, কিংবা পরিশোধ করার পর ফেরত নিতে পারে না তেমনি পিতা-মাতা, ভাইবোন বা অন্য কেউ নিজ কন্যার, বোনের বা আত্মীয়ার মোহর তার স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি ছাড়া নিতে পারে না। নিলে তা হবে কুরআনের ভাষায় অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করা হবে।

আরো জানুনঃ 

https://ifatwa.info/6833/  নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ- 
মহান আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ  
واحل لكما ما وراء ذلكم ان تبتغوا باموالكم محصنين غير مسافحين فما استمتعتم به منهن فاتوهن اجورهن فريضة ولا جناح عليكم فيما تراضيتم به من بعد الفريضة ان الله كان عليما حكيما

উল্লিখিত নারীরা ছাড়া অন্যদেরকে তোমাদের জন্য বৈধ করা হয়েছে, যে স্বীয় সম্পদ দ্বারা প্রয়াসী হবে তাদের সাথে বিবাহবন্ধনে, ব্যভিচারে নয়। অতএব তাদের নিকট থেকে তোমরা যে আনন্দ উপভোগ করেছ (সে কারণে) তাদের ধার্যকৃত মোহর তাদেরকে প্রদান করবে। আর মোহর নির্ধারিত থাকার পরও কোনো বিষয়ে পরস্পর সম্মত হলে তাতে তোমাদের কোনো অপরাধ হবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।-সূরা নিসা : ২৪

واتوا النساء صدقاتهن نحلة فان طبن لكم عن شيئ منه نفسا فكلوا هنيئا مرئيا

এবং তোমরা নারীদেরকে দাও তাদের মোহর খুশিমনে। এরপর তারা যদি স্বেচ্ছায় স্বাগ্রহে ছেড়ে  দেয় কিছু অংশ তোমাদের জন্য তাহলে তা স্বচ্ছন্দে ভোগ কর।-সূরা নিসা : ৪
,
★সুতরাং মোহরানা যদি স্ত্রী সন্তুষ্টি চিত্তে মাফ করে দেয়,বা কমিয়ে দেয়,তবেই সেটা জায়েয হবে।
,
অন্যায় ভাবে অন্যের সম্পদ যেমন গ্রাস করা হালাল নয়,জোড় কাহারো থেকে টাকা ছিনিয়ে নেওয়া যেমন হালাল নয়,ইহার দ্বারা যেমন ছিনতাইকারী/জালেম যেমন উক্ত টাকার উপর যেমন মালিক হয়না,তেমনই জোড় করে স্ত্রীর কাছ থেকে মোহরানা মাফ করে নিলে বা কমিয়ে নিলে সেটাও হালাল নয়।
হারাম।
,
এর দ্বারা মোহরানা মাফ বা কমানো হবেনা, মহান আল্লাহর কাছে এর জবাবদিহি করতে হবে।
হাদীস শরীফে এসেছেঃ   

وَعَنْ أَبِىْ حُرَّةَ الرَّقَّاشِىِّ عَنْ عَمِّه قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ : «أَلَا لَا تَظْلِمُوا أَلَا لَا يَحِلُّ مَالُ امْرِئٍ إِلَّا بِطِيبِ نَفْسٍ مِنْهُ». رَوَاهُ الْبَيْهَقِىُّ فِىْ شُعَبِ الْإِيْمَانِ وَالدَّارَقُطْنِىِّ فِى الْمُجْتَبٰى

আবূ হুররাহ্ আর্ রক্কাশী (রহঃ) তাঁর চাচা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সাবধান! কারো ওপর জুলুম করবে না। সাবধান! কারো মাল তার মনোতুষ্টি ছাড়া কারো জন্য হালাল নয়।

(আহমাদ ২০৬৯৫, শু‘আবুল ঈমান ৫১০৫, ইরওয়া ১৪৫৯, সহীহ আল জামি‘ ৭৬৬২। মিশকাত শরীফ ২৯৪৬)

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
(০১)
এক্ষেত্রে পাত্রী দেনমোহর কমাবে না। বরং পাঁচ লক্ষ টাকার নগদ স্বর্ণ রূপা ইত্যাদি গ্রহণ করবে, বাকি ১০ লক্ষ টাকা সে বাকি রেখে পরবর্তীতে নিবে।

হ্যাঁ যদি স্ত্রী নিজের থেকেই ১০ লাখ টাকা মোহরানা মাফ করে দিতে চায়,তাহলে সন্তুষ্টি চিত্তে সে মাফ করে দিতে পারে। 

এমন অধিকার তার রয়েছে। তবে পরবর্তীতে স্ত্রী আর সেই কমিয়ে দেওয়া দশ লক্ষ টাকার দাবি কোনদিনও করতে পারবে না।

(০২)
এটি পাত্রীর একান্ত ব্যাক্তিগত সিদ্ধান্ত। 

(০৩)
পাত্রীর বাবা কে যদি চাপ না দিয়েই এই দাওয়াতের আয়োজন হয় তাহলে এক্ষেত্রে পাত্রপক্ষ সেই দাওয়াতে যেতে পারবে।

বিস্তারিত জানুনঃ- 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...