আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
177 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (2 points)
আসসালামু আলাইকুম শায়েখ,

আমার বাবা বা কোনো ভাই নেই।আমার বোনের বয়স ছিল ১৫ বছর এবং ছেলের এর বয়স ছিল ২২ বছর, বিয়ের সময় ২০২৩ সাল। ছেলে এই বলে,

''আমি মিলি হক তোয়াকে(মেয়ে) কোনো তালাকের অনুমতি ব্যতীত ২৫০০০ টাকা দেনমোহরে ও নগদ ১০০০ টাকায় বিয়ের প্রস্তাব দিচ্ছি মেয়ে তখন কবুল বলে নেয় ।মেয়ে প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়ায় কোনো কাবিন বা রেজিষ্ট্রেশন করা হয়নি ছিল না কোনো কাজি কিন্তু ২ জন সাক্ষী উপস্থিত ছিল।তাদের বিয়ের বয়স প্রায় ২.৫ বছর।এখন আমার বোন আর এই ছেলের সাথে থাকতে চাচ্ছে না।আমরা ভেবেছিলাম মেয়ে রাজি থাকলে ছেলের কাছে আমরা মেয়েকে দিয়ে দিবো কিন্তু মেয়ে যেহুতু এখন থাকতে চায় না তাই আমরা ও চাইনা এমন কোনো বিয়ে থাকুক।

তারা একাধিকবার শারীরিক মেলামেশা করেছে এবং আমার বোনের একবার অ্যাবোরশন(গর্ভপাত) ও করা হয়েছে।যদি ও তাদের সাথে আমাদের কুফু নিয়ে কোনো সমস্যা নেই।এখন অনলাইন মাধ্যমে অনেক আলেম বলছে বিয়ে হয়ে গেছে আবার অনেকেই বলছে বিয়ে হয়নি।এমতাবস্থায় শায়েখ আপনার কাছে আমার প্রশ্ন---

১/তাদের বিয়ে কি শুদ্ধ হয়েছে??

২/ছেলেকে বলেছি তালাক দিতে।ছেলে সরাসরি তালাক দিবে না বলেছে।এমতাবস্থায় আমার বোন কে কি অন্যত্র বিয়ে দেয়া যাবে??

৩/এই মুহূর্তে কিভাবে এই বিচ্ছেদ করা যায় যেহুতু ছেলে তালাক না দিয়ে সংসার করতে চায়।আমার বোন কোনো অবস্থাতেই থাকতে রাজি না।এই বিষয় সম্পর্কে শুধু আমি আর আমার মা জানি।

৪/এই মুহূর্তে সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি কোনটি।

আমার বোনকে অন্যত্র বিয়ে দেয়ার উপায় কি

উল্লেখ্য আমরা উভয় পরিবারই হানাফি মাযহাব এর অনুসারী।
শায়েখ যদি কষ্ট করে উত্তর গুলো দিতেন তাহলে কৃতজ্ঞ থাকতাম।

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 
,
ইসলামী শরীয়তে বিবাহ শুদ্ধ হবার জন্য কয়েকটি শর্ত রয়েছে। যথা-
বর ও কনেকে কিংবা তাদের প্রতিনিধিকে ইজাব তথা প্রস্তাবনা ও কবুল বলতে হয়।

উক্ত ইজাব ও কবুলটি বলতে হয় দুইজন প্রাপ্ত বয়স্ক মসলিম পুরুষ বা একজন পুরুষ ও দুইজন মহিলার সামনে।

মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ- 

وَ اسۡتَشۡہِدُوۡا شَہِیۡدَیۡنِ مِنۡ رِّجَالِکُمۡ ۚ فَاِنۡ لَّمۡ یَکُوۡنَا رَجُلَیۡنِ فَرَجُلٌ وَّ امۡرَاَتٰنِ مِمَّنۡ تَرۡضَوۡنَ مِنَ الشُّہَدَآءِ اَنۡ تَضِلَّ اِحۡدٰىہُمَا فَتُذَکِّرَ اِحۡدٰىہُمَا الۡاُخۡرٰی

আর তোমরা তোমাদের পুরুষদের মধ্য হতে দু’জন সাক্ষী রাখ, অতঃপর যদি দু’জন পুরুষ না হয় তবে একজন পুরুষ ও দু’জন স্ত্রীলোক যাদেরকে তোমরা সাক্ষী হিসেবে পছন্দ কর, যাতে স্ত্রীলোকদের মধ্যে একজন ভুলে গেলে তাদের একজন অপরজনকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
(সুরা বাকারা ২৮২)

হাদিস শরিফে এসেছে, 

لَا يَجُوزُ نِكَاحٌ، وَلَا طَلَاقٌ، وَلَا ارْتِجَاعٌ إِلَّا بِشَاهِدَيْنِ

‘রাসূল (সা.) বলেছেন, দুইজন সাক্ষী ছাড়া বিবাহ, তালাক ও ফিরিয়ে আনা বৈধ হবে না।’ [মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, হাদিস: ১০২৫৪]

قوله صلى الله عليه وسلم : ( لا نكاح إلا بولي وشاهدي عدل ) رواه البيهقي من حديث عمران وعائشة ، وصححه الألباني في صحيح الجامع (7557) 

রাসুলুল্লাহ  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “অভিভাবক ও দুইজন সাক্ষী ছাড়া কোন বিবাহ নেই।” [তাবারানী কর্তৃক সংকলিত, সহীহ জামে (৭৫৫৮)]।

 নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী- “তোমরা বিয়ের বিষয়টি ঘোষণা কর।”[মুসনাদে আহমাদ এবং সহীহ জামে গ্রন্থে হাদিসটিকে ‘হাসান’ বলা হয়েছে (১০৭২)]
۔
ইজাব ও কবুলটি উভয় সাক্ষ্যি স্বকর্ণে শুনতে হবে।

উক্ত তিনটির কোন একটি শর্ত না পাওয়া গেলে ইসলামী শরীয়তে বিবাহ শুদ্ধ হয় না।

উপরোক্ত তিনটি শর্ত  পাওয়া গেলে বিবাহ হবে,অন্যথায় বিবাহ হবেনা।
,    
বিবাহ সহীহ হওয়ার জন্য শর্ত হল দু’জন আযাদ প্রাপ্ত বয়স্ক বিবেকবান দুই জন মুসলিম স্বাক্ষের সামনে পাত্র/পাত্রি প্রস্তাব দিবে আর অপরপক্ষে পাত্র/পাত্রি তা কবুল করবে। আর সাক্ষিগণ উভয়ের কথা সুষ্পষ্টভাবে শুনবে। 

আরো জানুনঃ- 

অভিভাবক ছাড়া বিবাহের বিধান জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
(০১)
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে বিবাহ পড়ানোর সময় সেখানে পাত্র ও পাত্রী ব্যতীত কে কে উপস্থিত ছিল?

পাত্র-পাত্রী ব্যতীত সেখানে যদি প্রাপ্তবয়স্ক দুজন পুরুষ সদস্য উপস্থিত থেকে বা একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ সদস্য ও দুজন প্রাপ্তবয়স্ক মহিলা সদস্য উপস্থিত থেকে সরাসরি পাত্রের প্রস্তাব ও পাত্রী কবুল বলা শোনে এবং সেই সময়ে পাত্রী নাবালেগাহ হয়ে থাকলে এ বিবাহে যদি পাত্রীর দাদা তার অবর্তমানে পাত্রীর ভাই রাজি থাকে তাহলে বিবাহ শুদ্ধ হয়ে গিয়েছে।

বিবাহ পড়ানোর সময় যদি পাত্রী বালিকা হয়ে থাকে তাহলে পাত্রীর দাদা, পাত্রীর ভাই রাজি না থাকলেও উক্ত বিবাহ শুদ্ধ হয়ে গিয়েছে।

(৩-৪)
উপরোক্ত বিবরন মতে বিবাহ শুদ্ধ হয়ে গিয়ে থাকলে এক্ষেত্রে আপনার বোনকে অন্যত্রে বিবাহ দিতে পারবেন না।

অবশ্যই তালাক নিতে হবে।

যদি পাত্র তালাক না দেয় তাহলে আদালতের শরণাপন্ন হয়ে খোলা তালাক নিতে হবে।

আর যদি উপরোক্ত বিবরন মতে বিবাহ শুদ্ধ না হয়ে থাকে,সেক্ষেত্রে আপনার বোনকে অন্যত্রে বিবাহ দিতে পারবেন।

খোলা তালাক  সংক্রান্ত জানুনঃ


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (2 points)
শায়েখ,মেয়ে সাবালিকা ও ২ জন পুরুষ সাক্ষী ছিল।
by (770,460 points)
এক্ষেত্রে আপনার বোনকে অন্যত্রে বিবাহ দিতে পারবেন না।

অবশ্যই তালাক নিতে হবে।

যদি পাত্র তালাক না দেয় তাহলে আদালতের শরণাপন্ন হয়ে খোলা তালাক নিতে হবে।

আর যদি উপরোক্ত বিবরন মতে বিবাহ শুদ্ধ না হয়ে থাকে,সেক্ষেত্রে আপনার বোনকে অন্যত্রে বিবাহ দিতে পারবেন।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...