আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
45 views
in হজ ও উমরা (Hajj and Umrah) by (6 points)
আস্সালামুয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

শ্রদ্ধেও মুফতি সাহেবগণ,
আমার বাবার উপরে হজ্জ ফরয হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ। তবে আমার বাবার শারিরীক অবস্থা হলো উনার ২০১৯ সালে হার্ট অ্যাটাক হয়েছিলো। এবং ২০১৬ থেকে উনার ডায়াবেটিস। এবং মাস খানেক আগে উনার মিনি ব্রেইন স্ট্রোক হয়েছিলো।

আলহামদুলিল্লাহ উনি চলা ফেলা এবং খাওয়া সব কিছু করতে পারেন।
তবে তিনি বেশি পথ হাটতে পারেন না। হাঁপিয়ে যান। হজ্জে যেহেতু শারিরীক শক্তির প্রয়োজন তাই সেই পরিমাণ পরিশ্রম করার অবস্থা হয়তো আব্বার নাই।


এখন জানতে চাই কোনো মানুষের ঠিক কতোটা অসুস্থতা হলে বদলি হজ্জ তার পক্ষ থেকে আদায় করাতে হবে? কোন মানদন্ডের ভিত্তিতে তাকে মাযুর হিসেবে ঘোষনা দিতে পারি?


দ্বিতীয়তঃ কোন অসুস্থ মানুষের পক্ষ থেকে যদি বদলি হজ্জ করানো হয় এমন মানুষের মাধ্যমে যে কখনো ফরয হজ্জ আদায় করেনি তাহলে কি হজ্জে কিরাণ বা তামাত্তু হজ্জ করা সম্ভব কি না?


দয়া করে জানালে খুবই উপকৃত হবো ইনশাআল্লাহ।

1 Answer

0 votes
by (720,840 points)
জবাবঃ- 
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم

যদি কোনো ব্যক্তি ফরজ হজ্জ আদায় করতে অক্ষম হয় তাহলে তার পক্ষ থেকে দায়িত্ব নিয়ে অন্য কোনো ব্যক্তির হজ্জ পালনকে বদলি হজ্জ বলে। 

খাছআম গোত্রের জনৈকা মহিলা রাসূলুল্লাহ (সাঃ)কে বললেন, 

يارسول الله إن فريضة الله على عباده ، أدركت أبي شيخا كبيرا لا يثبت على الراحلة ، أفأحج عنه ؟ قال: نعم ، وذلك في حجة الوداع

‘ইয়া রাসূলুল্লাহ (সাঃ)আল্লাহ তার বান্দাদের ওপর যে ফরজ আরোপ করেছেন তা আমার পিতাকে খুব বৃদ্ধ অবস্থায় পেয়েছে। তিনি বাহনের ওপর স্থির হয়ে বসতে পারেন না। তবে কি আমি তার পক্ষ থেকে হজ্জ আদায় করে দেব? তিনি বললেন, হাঁ। ঘটনাটি ছিল বিদায় হজ্জের সময়কার।
 (বুখারি : হাদিস নং ১৪১৭)

আবু রাযিন আল আকিলি থেকে বর্ণিত। তিনি এসে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ)কে জিজ্ঞাসা করে বললেন,

قال يا رسول الله إن أبي شيخ كبير لا يستطيع الحج والعمرة والظعن فقال حج عن أبيك واعتمر

আমার পিতা খুব বৃদ্ধ, তিনি হজ্জ ও উমরা পালন করতে পারেন না। সওয়ারির ওপর উঠে চলতেও পারেন না। রাসূলুল্লাহ (সাঃ)বললেন, তোমার পিতার পক্ষ থেকে হজ্জ ও উমরা করো।
 (তিরমিযী : হাদিস নং ৮৫২)

★বদলী হজ্ব এমন লোককে দিয়ে করানো উচিত, যিনি নিজের ফরয হজ্ব আদায় করেছেন। যে ব্যক্তি নিজের হজ্ব আদায় করেনি সে যদি এমন হয় যে, তার উপর হজ্ব ফরয নয় তাহলে তাকে দিয়েও বদলী করানো জায়েয আছে। তবে তা মাকরূহ তানযীহি। আর যদি তার উপর হজ্ব ফরয হয়ে থাকে, কিন্তু সে এখনও তা আদায় করেনি তাহলে তার জন্য বদলী হজ্ব করা মাকরূহ তাহরীমী তথা নাজায়েয। তবে কেউ এমন ব্যক্তির দ্বারা বদলী হজ্ব করালে প্রেরণকারীর হজ্ব আদায় হয়ে যাবে। পুনরায় তাকে বদলী করাতে হবে না।

عن ابن عباس أن رسول الله سمع رجلا يقول لبيك عن شبرمة فقال من شبرمة؟ قال أخي أو قريب لي. قال :هل حججت؟ قال لا قال حج عن نفسك ثم حج عن شبرمة

 রাসূলুল্লাহ (সাঃ)এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেন, لَبَّيْكَ عَنْ شُبْرَمَةَ- শুবরামার পক্ষ থেকে লাববাইক। তিনি বললেন, শুবরামা কে? লোকটি বললেন, আমার ভাই বা আত্মীয়। তিনি বললেন, তুমি কি নিজের হজ্জ করেছ? লোকটি বললেন, না। তিনি বললেন, আগে নিজের হজ্জ করো। তারপর শুবরামার হজ্জ।
 (আবুদাউদ : হাদিস নং ১৪২৪)

★কোনো ব্যক্তির উপর হজ্ব ফরয ছিল, কিন্তু সে তা আদায় করেনি এবং তার পক্ষ থেকে আদায়ের অসিয়তও করেনি। এ অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। তার পক্ষ থেকে ওয়ারিশদের বদলী হজ্ব করা বা করানো জরুরি নয়। তবে কোনো ওয়ারিশ বা অন্য কেউ স্বেচ্ছায় তার পক্ষ থেকে বদলী হজ্ব করলে এর দ্বারা ঐ মৃত ব্যক্তির ফরয হজ্ব আদায় হয়ে যাওয়ার আশা করা যায়।

হযরত বুরাইদাহ রা. বলেন, জনৈক মহিলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার মা ইন্তিকাল করেছেন। তিনি হজ্ব করেননি। আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ্ব করতে পারি?’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘হ্যাঁ, তুমি তার পক্ষ থেকে হজ্ব করো।’ (সহীহ মুসলিম ১/৩৬২)

আরো জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
(০১)
সৌদি সরকারের নির্দেশনা: দুরারোগ্য রোগ যেমন, হৃদরোগ, ফুসফুসের রোগ, লিভার সিরোসিস, কিডনি ডায়ালাইসিস, প্যারালাইসিস, ডিমেনশিয়া, ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা, যক্ষ্মা এবং ক্যান্সারে আক্রান্ত ব্যক্তি হজে গমন করতে পারবেনা।

প্রশ্নের বিবরন মতে আপনার বাবার এ সমস্ত রোগ নেই।

তিনি বেশি পথ হাটতে পারেন না। হাঁপিয়ে যান। এক্ষেত্রে তিনি হজ্বে হুইল চেয়ার ব্যবহার করতে পারবেন।

সুতরাং হজে যাওয়ার আগে ডাক্তারগণের পক্ষ থেকে যে মেডিকেল রিপোর্ট নিতে হয়,স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে এ ধরনের একটি রিপোর্ট আপনার বাবা নিবেন

সে রিপোর্ট অনুপাতে যদি আপনার বাবা হজ্বে যাওয়ার উপযুক্ত না হন, এমতাবস্থায় তিনি বদলি হজ্ব করাতে পারবেন।

(০২)
যে ব্যক্তি নিজের হজ্ব আদায় করেনি সে যদি এমন হয় যে, তার উপর হজ্ব ফরয নয় তাহলে তাকে দিয়েও বদলী হজ্ব (চাই তাহা হজ্বে কিরান হোক বা তামাত্তু হোক) করানো জায়েয আছে। তবে তা মাকরূহ তানযীহি। আর যদি তার উপর হজ্ব ফরয হয়ে থাকে, কিন্তু সে এখনও তা আদায় করেনি তাহলে তার জন্য বদলী হজ্ব করা মাকরূহ তাহরীমী তথা নাজায়েয। তবে কেউ এমন ব্যক্তির দ্বারা বদলী হজ্ব করালে প্রেরণকারীর হজ্ব আদায় হয়ে যাবে। পুনরায় তাকে বদলী করাতে হবে না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...