আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
209 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (18 points)
আসসালামু আলাইকুম,

আমাদের বিদ্যালয়ে ৬-৭ টি পরীক্ষা হয়ে থাকে। সে পরীক্ষার উপর ভিত্তি করে কে কে বৃত্তি পরীক্ষা দিতে পারবে তা নির্ধারণ করা হয়। পরীক্ষার সময় সবাই কম বেশি দেখে থাকে, একই ভাবে আমিও কয়েকটা প্রশ্ন শুনে লিখেছি তবে অধিকাংশ নিজেই লিখেছি, আমি আশা করি না দিখে লিখলেও আমার পরীক্ষা ভালো হত। তবে আমার এই গুনাহের ভয়াবহতা জানা ছিলো না। আমি তারপর দেখে লেখা ছেড়ে দিলেও, সেই ফলাফলের ভিত্তিতে আমাকে বৃত্তি পরীক্ষার জন্য বাছাই করেছে। এখন পরীক্ষা দিতে আমি বাধ্য কারণ রেজিস্ট্র্বশন, সময় সব শেষ। আর এই বৃত্তি পরীক্ষা সম্পূর্ণ নিজের মেধাতেই হবে, সবাই পাবে না। এখন আমি নিয়ত করেছি বৃত্তি হতে প্রাপ্ত সব টাকা আল্লাহর রাস্তায় দিয়ে দিব। এখন কি এই বৃত্তি পাওয়া টা বা দেওয়া কি জায়েয হবে? আর না হলে করণীয় কি দয়া করে বলবেন।

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

পরীক্ষায় অন্যের খাতা দেখে বা কাহারো থেকে শুনে লেখা শরীয়তের দৃষ্টিতে বৈধ নয়। 
কারণ পরীক্ষা হল মেধা যাচাইয়ের স্থান। আর মেধা নির্ণিত হবে প্রত্যেক ব্যক্তির আলাদা আলাদাভাবে। 
,
সুতরাং যার যে মেধা সেটি সত্যিকার যাচাই হবে যদি তার নিজস্ব মুখস্ত ও যোগ্যতা থেকে উত্তর প্রদান করে। 
,
কিন্তু কারো কাছ থেকে জিজ্ঞাসা করে লিখলে বা দেখে লিখলে সেক্ষেত্রে ধোঁকার আশ্রয় নেয়া হচ্ছে। কারণ সে যা জানে না। তাও সে জানে বলে প্রকাশ করছে।
,
ফলে পরীক্ষক খাতা দেখে ভাববে উক্ত ছাত্রটি আসলে মেধাবী। কিন্তু আসলেতো মেধাবী নয়।  এ ধোঁকাবাজীর কারণে উক্ত পদ্ধতিটি জায়েজ নয়।

আর অন্যায় কাজ নিজে করা যেমন বৈধ নয়, তেমনি সহযোগিতা করাও বৈধ নয়। তাই নিজে দেখে লেখা যেমন অপরাধ হবে। তেমনি অন্যকে দেখে লিখতে সুযোগ করে দিলেও গোনাহগার হবে।

আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ 

وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ ۖ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۖ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ [٥:٢] 

সৎকর্ম ও খোদাভীতিতে একে অন্যের সাহায্য কর। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা কঠোর শাস্তিদাতা। {সূরা মায়িদা-২}
,
আরো জানুনঃ

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনি যদি এই বৃত্তি পরীক্ষা সম্পূর্ণ নিজের মেধাতেই লিখে লন,কাহারো সাহায্য না নেন,সেক্ষেত্রে বৃত্তি পাওয়া জায়েজ হবে। 

এক্ষেত্রে তাহা দান করে দিলে তো কোনো সমস্যা নেই।

তবে যদি গ্রহণ করেন,সেক্ষেত্রে মাসয়ালা হলোঃ-
যেই প্রতিষ্ঠান বৃত্তির ব্যবস্থা করবে,সেই
প্রতিষ্ঠান যদি তাদের হালাল খাত হতে বৃত্তি দেয়,তাহলে সেই বৃত্তির টাকা আপনি গ্রহণ করতে পারবেন,তাহা দিয়ে বৈধ যেকোনো কিছু করতে পারবেন। 

হ্যাঁ যদি তারা হারাম খাত তথা সুদের টাকা হতে বৃত্তি দেয়,সেক্ষেত্রে আপনি বালেগ হলে এবং নেসাব পরিমান সম্পদের মালিক না হলে সেই বৃত্তির টাকা নিতে পারবেন।
এক্ষেত্রেও সেই বৃত্তির টাকা দিয়ে বৈধ যেকোনো কিছু করতে পারবেন। চাইলে ব্যবসাও করতে পারবেন।

আর যদি আপনি নাবালেগ হোন,সেক্ষেত্রে আপনার বাবা নেসাব পরিমান সম্পদের মালিক না হলে আপনি সেই বৃত্তির টাকা নিতে পারবেন।
এক্ষেত্রেও সেই বৃত্তির টাকা দিয়ে বৈধ যেকোনো কিছু করতে পারবেন। চাইলে ব্যবসাও করতে পারবেন।

হ্যাঁ যদি আপনি বালেগ হোন,আর নেসাব পরিমান সম্পদের মালিক হোন।
অথবা আপনি নাবালেগ হোন,আর যদি আপনার বাবা নেসাব পরিমান সম্পদের মালিক হয়, সেক্ষেত্রে হারাম খাত হতে দেয়া উক্ত বৃত্তির টাকা আপনি নিতে পারবেননা।

আরো জানুনঃ- 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (18 points)
উস্তাদ এই বৃত্তি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য আমি বাছাইকৃত হয়েছি অসৎ উপায়ে। হতে পারত আমার বদলে অন্য কেউ পেতেও পারত, তবে সম্ভাবনা অনেক কম কারণ আমি ৭০-৮০ জনের মধ্যে অনেক উপরেই আছি। তাও কি ইন শা আল্লাহ জায়েয হবে?
by (770,460 points)
ফতোয়ার জওয়াবে যাহা বলা হয়েছে, সে অনুপাতে আপনি বৃদ্ধির টাকা গ্রহণের উপযুক্ত হলে আপনার জন্য সেটি জায়েজ হবে।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...