আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
94 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (1 point)
আসসালামু আলাইকুম। আমার বিয়ে হয়েছিলো মোটামুটি আমার পরিবারের বিরুদ্ধে। পাত্র আল্লাহওয়ালা দেখে সবার বিরোধিতা করে আমি বিয়ে করেছিলাম।উনার বাবা ফ্রান্সের সিটিজেনশীপপ্রাপ্ত ছিলেন।তখনো উনার মা বোন যায় নি।আর উনিও ফ্রান্সে কখনো যাবেন না বলেই জানিয়েছিলেন।মূলত ফ্রান্সে কখনো যাবেন না শর্তে বিয়ে হয়েছিলো।আমি এ বিষয়ে নিশ্চিন্ত ছিলাম।এরপর হাসিনার আমলে আয়নাঘর রিলেটেড ইস্যুর কারণে সেফটি মেইনটেইন এর জন্য উনি হালাকায় যাওয়া এবং দ্বীনি ভাইদের সাথে মেশা অফ করে দেন।আসলেই তখন রিস্ক ছিলো।এরপর আস্তে আস্তে উনি দ্বীন থেকে সরে যেতে থাকেন।আমার গর্ভাবস্থায় উনি কম্বাইন্ড জীমে জয়েন করেন।আমি শুধু জানতাম মেইল জিম।কিন্তু পরে দেখি কম্বাইন্ড।এটা নিয়ে অনেক ঝামেলা করি, পরে চেঞ্জ করে মেইল জীমে জয়েন করেন।উনার স্থুলতার সমস্যা ছিলো।মূলত এসব কারণেই উনি প্র‍্যাক্টিসিং থেকে এখন নন প্র‍্যাক্টিসিং হয়ে গিয়েছেন। উনার মা বোন সিটিজেনশিপ পেয়ে ফ্রান্সে চলে গিয়েছেন।এখন উনিও সেখানে যেতে চান এবং আমাকে আর আমার মেয়েকেও নিতে চাচ্ছেন।যেটা স্পষ্টতই শর্তের খেলাপ। আমি কোনোভাবেই সেখানে যেতে রাজী নই।যাবো না ইনশা আল্লাহ। আমার বাবা-মা,ভাই আমার সিদ্ধান্তে নারাজ।তারা বলেছেন কোনোভাবেই হাযবেন্ডকে ফ্রান্সে একা ছাড়া যাবে না সাথে যেতে হবে।উনার কাগজপত্রে কিছু ঝামেলা থাকার দরুন এখনো উনার জন্য এপ্লাই করা হয় নি।এপ্লাই করবে অতিশীঘ্রই।এখন যেহেতু আমার বাবা-মার সাপোর্ট পাবো না সেহেতু আমার অন্যত্র ইনকাম এবং থাকার ব্যবস্থা করা লাগবে যদি তিনি চলে যান।আমার মেয়ে আর আমি যদি কোনো মাদ্রাসা বা অন্যত্র চাকরি নিয়ে থাকি জায়েজ হবে? আমি বি.ফার্ম গ্র‍্যাজুয়েট।চাইলেই জব করতে পারবো কিন্তু মেয়ের জন্য আর ফ্রি মিক্সিং এর জন্য ওভাবে জব করতে চাচ্ছি না।বরং কোনো ইসলামিক কিছুর সাথে জড়িত হতে চাচ্ছিলাম।এমতাবস্থায় আমার জন্য ইসলামিক রুলিংস কেমন হবে? কোনোভাবেই ফ্রান্সে যেতে চাচ্ছি না।আমার পর্দা নষ্ট হবে।মেয়েটাও বেদ্বীন পরিবেশ পাবে।দয়া করে জানাবেন।

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

কুফফার রাষ্ট্রে লেখাপড়া/চাকরি/বসবাসের জন্য যেতে হলে অবশ্যই দুটো প্রধান শর্ত মেনে চলতে হবে।

প্রথম শর্ত: বসবাসকারীকে স্বীয় দ্বীনের ব্যাপারে আশঙ্কামুক্ত হতে হবে। অর্থাৎ তার এমন ‘ইলম, ঈমান ও প্রবল ইচ্ছাশক্তি থাকতে হবে, যা তাকে দ্বীনের ওপর অটল থাকার মতো এবং বক্রতা ও বিপথগামিতা থেকে বেঁচে থাকার মতো আত্মবিশ্বাসের জোগান দেয়। আর কাফিরদের প্রতি তার অন্তরে শত্রুতা ও বিদ্বেষ থাকতে হবে। অনুরূপভাবে কাফিরদের সাথে মিত্রতা ও তাদের প্রতি ভালোবাসা থেকে তাকে দূরে থাকতে হবে। কেননা তাদের সাথে মিত্রতা স্থাপন করা এবং তাদেরকে ভালোবাসা ঈমানের পরিপন্থি।
সমস্ত প্রকার অন্যায় অশ্লীল কাজ থেকে দূরে থাকতে হবে।
মহান আল্লাহ বলেছেন,

 لَا تَجِدُ قَوْمًا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ يُوَادُّونَ مَنْ حَادَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَوْ كَانُوا آبَاءَهُمْ أَوْ أَبْنَاءَهُمْ أَوْ إِخْوَانَهُمْ أَوْ عَشِيرَتَهُمْ 

“তুমি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী এমন কোনো জাতিকে পাবে না, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল বিরোধীদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করে; যদিও তারা তাদের পিতা, অথবা পুত্র, অথবা ভাই, কিংবা জ্ঞাতি-গোষ্ঠী হয়।” [সূরাহ মুজাদালাহ: ২২]

দ্বিতীয় শর্ত: নিজের দ্বীনকে প্রকাশ করার মতো সক্ষমতা থাকতে হবে। অর্থাৎ, বসবাসকারী ব্যক্তি কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই ইসলামের নিদর্শনাবলি প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবেন। নামাজ, জুমু‘আহ ও জামা‘আত—যদি তার সাথে জামা‘আতে নামাজ ও জুমু‘আহ প্রতিষ্ঠা করার মতো কেউ থেকে থাকেন—প্রতিষ্ঠা করতে বাধাগ্রস্ত হবেন না। অনুরূপভাবে জাকাত, রোজা, হজ ও অন্যান্য শার‘ঈ নিদর্শন প্রতিষ্ঠা করতে বাধাগ্রস্ত হবেন না। যদি এসব কাজ করার সক্ষমতা না থাকে, তাহলে তখন হিজরত ওয়াজিব হয়ে যাওয়ার কারণে সেখানে বসবাস করা জায়েজ হবে না।

বিস্তারিত জানুনঃ  

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,   
মেয়েদের বিদেশে পড়াশোনা/বসবাসের জন্য যাওয়া বেশ কিছু শর্ত সাপেক্ষ বৈধ।
ক, উপরে উল্লেখিত শর্তাবলী পূর্ণ ভাবে মেনে চলতে হবে।
খ, মাহরাম পুরুষ এর সাথে যেতে হবে। সেখানে গিয়েও মাহরামদের সাথে থাকতে হবে।
গ, সেখানকার এলাকা,রাস্তা সম্পূর্ণ নিরাপদ হতে হবে।
ঘ, পূর্ণ পর্দা মেইনটেইন করে চলতে হবে। 
ঙ, সহ শিক্ষা হলে সহ শিক্ষা মূলক প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করার শর্তাবলী পাওয়া যেতে হবে। 
চ, ফিতনার কোনো আশংকা থাকা যাবেনা।
ছ, গুনাহে জড়িয়ে পড়ার আশংকা থাকা যাবেনা।

উপরে উল্লেখিত শর্ত মেনে আপনি যদি ফ্রান্সে গিয়ে থাকতে পারেন, সেক্ষেত্রে আপনার জন্য স্বামীর সাথে ফ্রান্সে যাওয়া জায়েজ হবে।
 
এক্ষেত্রে পূর্ণ দ্বীন মানার ক্ষেত্রে আপনি যদি সমস্যা হওয়ার প্রবল আশঙ্কাবোধ করেন, আপনার সন্তানের বেদ্বীন হয়ে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা করেন, সেক্ষেত্রে আপনার জন্য ফ্রান্সে না যাওয়াই উচিত।

আপনার বাবা-মা যদি আপনাকে সাপোর্ট না করে, সেক্ষেত্রে আপনার স্বামী তো আপনাকে ভরণ পোষণ দিবেই।

যেহেতু আপনি তার বিবাহিতা স্ত্রী, তো আপনার চাকরির প্রয়োজন হবে না।

তদুপরি আপনার স্বামী যদি আপনার ভরণপোষণ না দেয়, আপনার বাবা-মা ও যদি আপনাকে কোন প্রকারের সাপোর্ট না করে, সেক্ষেত্রে শরীয়তের গণ্ডির মধ্যে থেকে আপনি চাকরি করতে পারবেন।

এ সংক্রান্ত জানুনঃ

প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনার স্বামীর জন্য বিদেশে যাওয়ার বিধান জানুনঃ- 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...