https://ifatwa.info/131217/?show=131346#a131346 আগের ফতওয়া ছিল এটা।
উস্তায এখানে আমার স্ত্রীকে আপনি সরাসরি পরামর্শ দিয়েছেন আলহামদুলিল্লাহ।
তবে এখানে আমি আরো কিছু বিষয় জানতে চাচ্ছি:
প্রথমত, আমরা যে ফ্লাটে থাকি সেখানে একটা রুমে আমি আমার ওয়াইফ থাকি। ঐ রুমে এটাস বাথরুম আছে কিন্তু এটাস রান্নাঘর নেই । রান্না ঘর পুরো ফ্ল্যাটেই একটা, এটাতেই বাসার সবার খাবার রান্না হয়। রান্না আমার স্ত্রী ই করে। এখন স্ত্রীর নিজস্ব অ্যাটাস রান্নাঘর নাই। এজন্য কি আমার হক আদায় হচ্ছে কিনা এটা আমি জানতে চাচ্ছি?
দ্বিতীয় বিষয় হচ্ছে, আমরা যে রুমে থাকি পাশেই আরেকটা রুম আছে যেখানে মা থাকে। এখন রুম থেকে কিছুটা জোরে কথা বললে অপর রুম থেকে শোনা যায়। তো এটা নিয়ে ভাবলে আমার কাছে খারাপ লাগে, কারণ আমাদের কত পার্সোনাল সময় আছে বা কত প্রাইভেসি মোমেন্ট আছে। সেই সময়ও আমাদের কথাবার্তা অপর রুম থেকে শোনা গেলে এটা তো খুব খারাপ। এক্ষেত্রে আমার তো মনে হচ্ছে আমার ওয়াইফের প্রাইভেসি নষ্ট হচ্ছে। তো শরীয়ত স্ত্রীকে যে প্রাইভেসি দেওয়ার কথা বলছে, আমি কি সেই হক আদায় করতে পারতেছি কিনা?
তৃতীয় বিষয় হচ্ছে, স্ত্রীর স্বাধীন মত রুমে থাকবে আর সে যখন ইচ্ছা তখন তালা দিয়ে বাইরে যাবে তার কাছে একমাত্র এটার চাবি থাকবে। এরকমও তো হচ্ছে না। আমরা যদি বাইরে কোথাও ঘুরতে যাই তখন আম্মা এসে রুমে মাঝেমধ্যে বিভিন্ন তল্লাশি করে যে আমরা আসলে কিছু গোপন করতেছি কিনা বা কিছু আনছি কিনা বাইরে থেকে, যেটা তাদেরকে দেই নাই। এক্ষেত্রে স্ত্রীর প্রাইভেসি বা রুমের যেই স্বাধীনতা সেটাও আমার কাছে মনে হচ্ছে আদায় হচ্ছে না। তো স্ত্রীকে কে একটা রুম দিতে হবে যেখানে সে স্বাধীন মত ঢুকতে পারবে বের হতে পারবে। এবং স্বামী ব্যতীত অন্য কেউ অনুমতি ছাড়া রুমে প্রবেশ করতে পারবে না, এগুলো তো কিছুই হচ্ছে না। তো এখানেও কি আমি স্ত্রীর হক আদায় করতে পারতেছি?
এখন আরেকটা বিষয় হচ্ছে মৌলিকভাবে পর্দার তেমন সমস্যা হচ্ছে না। কিন্তু আমি কণ্ঠের পর্দার ব্যাপারে জানতে চাচ্ছি। সেটা হচ্ছে যে ফ্ল্যাট বাসা তো ছোট। এখন একই ফ্ল্যাটে আমার ছোট ভাই অর্থাৎ স্ত্রী নন মাহরাম আছে। এখন আমার স্ত্রী কাজের জন্য রুম থেকে বের হলে খিমার (বোরকার মতো) পরে বের হতে হয়। কেননা বাসায় ননমাহরাম আছে। তো স্বাভাবিক পোশাকে বের হলে তো নন মাহরাম সামনে পড়লে পর্দা নষ্ট হবে। এখন আমার ভাইও মোটামুটি চোখের হেফাজত করে, মোটামুটি কিছুটা দ্বীনদার। সে রুমে থাকে, আমার ওয়াইফ নিজস্ব রুমে এলে তখন আমার ভাই প্রয়োজনে তার রুম থেকে বের হয়। এমনিতে খুব সহজে সামনে পড়ে না, পড়লেও খিমার বা বোরকা পরা অবস্থায় পড়ে। কিন্তু কন্ঠের পর্দার ব্যাপারটা হচ্ছে আমার একটা ছোট বাচ্চা মেয়ে আছে সে দৌড়াদৌড়ি করে তাকে ডাকতে হয় তার সাথে অনেক কথা বলতে হয়। এছাড়া আমার সাথে কথা বলার ক্ষেত্রেও। আর বাচ্চার জন্য একটু ঘন ঘন কথা বলতে হয়। এক্ষেত্রে তো আমার ভাই পাশের রুমে থাকে, সে তো কণ্ঠ শুনতে পায়। এখন আমি যতটুক জানি কন্ঠের পর্দা করাও ফরজ। তো এই পরিস্থিতিতে আমার ওয়াইফের কি কন্ঠের পর্দা হচ্ছে কিনা? আর একসাথে থেকে কন্ঠে পর্দা করাও সম্ভব না? কারন কথা তো বলতে হবেই। এখনো আমার স্ত্রীর তার বাচ্চার সাথে কথাবার্তা, আবার আমার সাথে কথাবার্তা, স্বাভাবিক কথাবার্তা, কাজকর্মের কথাবার্তা সবকিছুই তো নন মাহরাম অর্থাৎ আমার ভাই শুনতে পায়। এক্ষেত্রে কি আমার স্ত্রীর কন্ঠের পর্দা লঙ্ঘন হইতেছে কিনা? হলে করণীয় কি? আর এই জন্য কি আমার গুনাহ হবে কিনা?
এখন বিষয় হচ্ছে আমার স্ত্রীর উপর অনেক কিছুই ওয়াজিব না। তারপরও সে বাসার সবার রান্নাবান্না করে। সবার চাহিদা অনুযায়ী রান্নাবান্না করার চেষ্টা করা। আমার মায়ের খেদমত করে। আমার বাচ্চা কে লালন পালন করে, আমার কাপড় ধুয়ে দেয় সবকিছু গুছিয়ে রাখে। সারাদিন খাটাখাটনির পরও দিন শেষে একটু মানসিক প্রশান্তি পায় না। পরিবারের সদস্যরা অযথা বিষয় নিয়ে আমার স্ত্রীকে কষ্ট দেয়, বিশেষ করে আমার মা। আমার স্ত্রী এত এত ইহসান করে তারপরও তার প্রতি কেউ মহব্বত বা তাকে কেউ উৎসাহ দেয় না। বরংচ তার ভুল ধরা, তাকে নিয়ে কটাক্ষ করা গীবত করা ইত্যাদিতে ব্যস্ত। এত কিছুর পরও সে ধৈর্য ধরে প্রায় তিন বছর যাবত একসাথে আছে। সে কখনো আলাদা হতে চাইত না। মার সাথে একসাথে থাকার চেষ্টা করত। মার জন্য দোয়া করত হেদায়েতের আল্লাহ তায়ালা যেন তাকে দ্বীনের বুঝ দান করে। এত বছর যাবৎ সে শুধু মানসিকভাবে কষ্টই পেয়ে যাচ্ছে। সন্তান হওয়ার আগে একটু কম ছিল। কিন্তু বাচ্চা হওয়ার পরে আরো বেশি ঝামেলা হয়। বাচ্চা লালন পালনের ক্ষেত্রেও অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। কিন্তু সে আস্তে আস্তে এখন মানসিকভাবে একদম ভেঙে পড়ে। সে কান্না করে আমাকে বলে, সে এই সংসারে অনেক কোমলতা নিয়ে এসেছিল। একটা নরম পরিষ্কার দিল নিয়ে এসেছিল। সে ছোটবেলা থেকেই বড়দের সাথে তর্ক করা পছন্দ করে না। হিংসা বিদ্বেষ গিবত এগুলো থেকে সে ছোট থেকেই অনেক দূরে ছিল। সে এরকম ভাবতো যে তার পাশের সবাইও তার সাথে তার মতো সফট ব্যবহার করবে, সম্মান করবে। কিন্তু তার প্রতি অন্যদের হিংসা, বিদ্বেষ গীবত এগুলো কারণে সে আস্তে আস্তে একদম কুরে কুরে শেষ হয়ে যাইতেছে। তার পাখির মত নরম অন্তরটা এখন নষ্ট হয়ে গেছে। এ বিষয়গুলো সে আমাকে এই ভাবে প্রায়ই কান্না করে বলে। আমাদের ইচ্ছে ছিল খুব সাদামাটা জীবন যাপন কবো। ঈমান আমল ইলম নিয়ে পরে থাকবো। দুনিয়াটা এত চাকচিক্য করবো না। ঘরে অপ্রয়োজনে এতো আসবাবপত্রও থাকবে না। কিন্তু পরিবারের কারনে বিশেষ করে আমার মায়ের কারণে এগুলা কিছুই হচ্ছে না। দুজনের ই মনে হচ্ছে যে দিন দিন আল্লাহ থেকে দূরত্ব তৈরি হইতেছে। একসাথে থাকার কারণে যেগুলো আল্লাহ থেকে তার উপর দায়িত্ব না বা ওয়াজিব না, সে সেই কাজগুলো নিয়ে সারাদিন ব্যস্ত। বাচ্চার কারণে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারে না। এজন্য সে তার শখগুলো পূরণ করতে পারে না। ইলম অর্জনে, আমলে সে সময় দিতে পারে না। তার উপর মায়ের পক্ষ থেকে তাকে কষ্ট দেওয়া, কটাক্ষ করা ইত্যাদি যত দিন যাচ্ছে সব মিলিয়ে সে প্রচন্ড মানসিক কষ্টে আছে। আস্তে আস্তে তার জীবন সংকীর্ণ হয়ে যাচ্ছে। আগে তার অনেক বাচ্চা নেওয়ার স্বপ্ন ছিল, একমাত্র দ্বীনের জন্যই। কিন্তু এখন সে বাচ্চা নিতেও ভয় পায়। কারণ একটা বাচ্চাকে সে তার মত করে পুরোপুরি ভাবে দ্বীনি তরবিয়ত দিতে পারতেছে না, পরিবারের হস্তক্ষেপের কারণে।
এখন উস্তায সব মিলিয়ে আমি কি ডিসিশন নিব কি করবো বুঝতে পারতেছি না। আমি মাকেও কিছু বলতে পারি না, বলতে গেলেই সে কষ্ট পাবে। তাকে বোঝানোও যায় না। আলাদা হলেও সে কষ্ট পাবে। কিন্তু আমার কাছে মনে হয় আলাদা হলে সাময়িক প্রথমে কষ্ট পেলেও পরে তার প্রতি আমাদের খেদমত, নিয়মিত তার খোঁজখবর নেওয়া এগুলো কারণে তার আস্তে আস্তে কষ্টটা কেটে যাবে। এখন একসাথে থেকে তো ভালোবাসা বাড়তেছে না, তিক্ততা বাড়তেছে। সবাই বিভিন্ন গুনাহে লিপ্ত হয়তেছে। মা অযথা বিষয় নিয়ে কষ্ট পায়। যেমন আমরা স্বামী-স্ত্রী একটু ভালোবাসা প্রকাশ করলেও এটা তার কষ্ট লাগে। আলাদা থাকলে তো অন্তত এই বিষয়গুলো হবে না। এখন একসাথে থেকে এত কিছু করার সত্যও এগুলো মায়ের চোখে পড়তেছে না। এখন উস্তায আমি একচুয়ালি কি করবো কি কিছু বুঝতে পারতেছি না। ফাইনাল ডিসিশন নিতে পারতেছি না।