আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
122 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (15 points)
আসসলামু আলাইকুম।

আমি গত এক মাস হলো একটা বাচ্চাকে টিউশন পড়াই।ও আমার বান্ধবীর ছোট বোন।ওরা হিন্দু।ওদের বাসায় আমার আগে থেকে যাতায়াত ছিল।তাই ওর মা আমাকে খুব ভালো করে চেনে আর খুব ভালো সম্পর্ক।আমি ওদের বাসায় যখন ওই বাচ্চাটাকে পড়াইতে যাই তখন আন্টি আমাকে ওনাদের বাসায় খাওয়া দাওয়া করতে অনেক জোড় করে ।আর  খেলে মো করে আমি বোধহয় ওদের ঘৃণা করি ওরা হিন্দু হওয়ার জন্যে।আমি এর আগে ওকে যখন পড়াইতে যাইতাম সিয়াম রাখতাম ।কিন্তু কখনও এমন হয়েছে   যে আমি সিয়াম রাখতে পারি নি । তখন ওনার জোড়াজুড়ি তে ওনাদের বাসায় আমি একদিন মিষ্টি খেয়েছি।আর এছাড়াও শাবুর পায়েশ , কেক এগুলা খাইসি ।আর প্রত্যেকবার জিজ্ঞেস করছি  যে এগুলা উৎসর্গ করা কি। না।তখন ওরা বলছে না । তখন আমি খাইসি।তবে ২ দিন তারা আমাকে সবজি দিয়ে ভাত খাওয়াইছে।এই ২ দিন আমি জিজ্ঞেস করি নি।  বারবার জিগেশ করলে ওনারা আমাদের ধর্ম নিয়ে ভুল ধারণা করে ।এখন আমার তো খুব ভয় লাগতেসে।যে হারাম খাওয়া হয়ে গেছে কি না।

১। ওদের বাড়িতে খাওয়া কি আমার জন্যে হারাম বা না জায়েজ?

২ ।যদি হারাম হয় তাহলে আমি তো কয়েকদিন খেয়ে ফেলসি।এখন যদি হারাম খাওয়া হয় তাহলে আমি কিভাবে কাফফরা দিতে পারি অথবা তওবা করতে পারি?

৩। আমি প্রাইভেট টা বাদ দিতে চাইসিলাম।কিন্তু ২ মাস পর ওই বাচ্চার এক্সাম।ওই বাচ্চা আমাকে ছাড়া অন্য কারো কাছে পড়তেও চাচ্ছে  না।আমি তো মাঝে পথে ওকে ছাড়তেও পারতেসি না।আমি কি প্রাইভেট টা বাদ দিব ??

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

https://ifatwa.info/8029/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ- 
শরীয়তের বিধান হলো কোন অমুসলিমের দাওয়াত  যাতে  গোস্ত জাতীয় বস্তু না থাকে তাহলে তা খাওয়া জায়েজ আছে। তবে একে অভ্যাসে পরিণত করা ভাল নয়। খুবই গর্হিত কাজ।

রাসুলুল্লাহ (সা.) অমুসলিমদের দাওয়াত গ্রহণ করেছেন। তাদের রান্নাকৃত খাবার খেয়েছেন।
তাদের দেওয়া উপহারও গ্রহণ করেছেন। (বুখারি, হাদিস: ২৬১৫)

অনুরুপভাবে তাদের যবেহ করা পশুর গোশত খাওয়া যাবে না। (সূরা বাক্বারাহ ১৭৩)

فى الفتوى الهندية-ولا بأس بطعام المجوس كله الا الذبيحة الخ (الفتوى الهندية-5/347، كتاب الكراهية، الباب الرابع عشر فى اهل الذمة، البحر الرائع، كتاب الكراهية، فصل الأكل والشرب-8/184، المحيط البرهانى-8/69

যার সারমর্ম হলো মূর্তিপুজকদের খাবার খাক্যা জায়েজ আছে,তবে তাদের জবাইকৃত পশু ব্যাতিত।     

★বিধর্মীদের রান্না করা খাবার যেমন, মাছ, তরকারি ইত্যাদি খাওয়া জায়েয আছে, যদি সে খাদ্যটি হারাম না হয় এবং তাতে যদি হারাম কোন কিছুর সংমিশ্রণ না থাকে। যেহেতু রাসূলুল্লাহ ﷺ অমুসলিমদের দেয়া দাওয়াত খেয়েছেন এবং তাদের দেয়া হাদিয়াও গ্রহণ করেছেন।

 (বুখারী ২৬১৫-১৮ ‘মুশরিকদের নিকট থেকে হাদিয়া গ্রহণ’ অনুচ্ছেদ)

★সুতরাং হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দেওয়া ফল, তাদের রান্না করা খাবার যেমন, সেমাই, তরকারি ইত্যাদি খাওয়া জায়েজ। তবে খাবারটি কোনোভাবেই হারাম না হতে হবে।

পাশাপাশি তাতে হারাম কোনো কিছুর সংমিশ্রণ না থাকতে হবে। (তাদের কোনো উপাস্যের জন্য উৎস্বর্গকৃত না হতে হবে। )
,
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে নাপাক জিনিস মিশ্রিত না হওয়া সম্পর্কে নিশ্চিত হলে হিন্দুদের বাসায় গিয়ে গোশত ও উপাস্যের জন্য উৎস্বর্গকৃত খাবার ব্যাতিত অন্য খাবার খাওয়া জায়েয আছে।     
এই দাওয়াত গ্রহন করা জায়েজ আছে।     
তবে একে অভ্যাসে পরিণত করা ভাল নয়। খুবই গর্হিত কাজ।

প্রশ্নের বিবরণ মতে আপনি আপাতত প্রাইভেট বাদ না দিয়ে চালিয়ে যেতে পারবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...