আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
130 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (41 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ।
আমাদের ক্লাসের একজন মেয়ে মিথ্যাবাদী। সে বিভিন্ন সময়ে নানারকম মিথ্যা কথা বানিয়ে ক্লাসের মেসেঞ্জার গ্রুপে বলতো এটেনশন পাওয়ার জন্য । এমনকি ইনবক্সেও অনেকজনকে  মিথ্যা কথা বলেছে। ওর এসব মিথ্যাচার সম্পর্কে সবাই জানা ও বোঝা সত্বেও কেউ কখনো সামনাসামনি কিছু বলেনি, এড়িয়ে গেছে। কারণ মেয়েটা প্রচুর ঝগড়ুটে, নিজের দোষ স্বীকার করবে না। কয়েকদিন আগে ও খুবই সেনসিটিভ একটা বিষয় নিয়ে গ্রুপে মিথ্যাচার করে এবং সবাই ওর মিথ্যাচার ধরে ফেলে। সবাই ওর উপর ক্ষেপে যায়। ওকে গ্রুপ থেকে রিমুভ করে দেয় এবং বলা হয় সে যেন সরাসরি ক্লাসে এসে সবার সাথে কথা বলে। তারপর সে ক্লাসে আসেনি। গ্রুপ থেকে বাদ দেওয়ার কারনে ও মেয়েদেরকে অন্য আইডি থেকে থ্রেড দেয় ক্ষতি করার। এমতাবস্থায় মেয়েটার অনুপস্থিতিতে ওর এসব কর্মকান্ড নিয়ে গ্রুপে সবাই আলোচনা করে কার সাথে কি হয়েছিলো, মজা ও নেয় অনেকে এসব নিয়ে।

১) এসব যেহেতু সে পাবলিকলি করেছে তাই তার এসব কর্মকান্ড নিয়ে তার অনুপস্থিতিতে আলোচনা করা কি গীবতের মধ্যে পড়বে?

২) গ্রুপ মেসেজ যারা পড়েছে সবারই কি গীবত শোনার গুনাহ হবে?
৩) নাকি যারা এগুলো নিয়ে মজা করেছে তাদের গীবতের গুনাহ হবে।

1 Answer

0 votes
by (814,710 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
হযরত মু'আবিয়া ইবনে হাইদাহ রাযি থেকে বর্ণিত,
معاوية بن حيدة رضي الله عنه ، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ( أَتَرعُونَ عَنْ ذِكْرِ الْفَاجِرِ ! اذْكُرُوهُ بِمَا فِيهِ كَي يَعْرِفَهُ النَّاسُ وَيَحْذَرَهُ النَّاسُ ). 
রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন,তোমরা কি ফাসিকের সমালোচনা থেকে বিরত থাকবে?বরং তোমরা ফাসিকের কৃত অপরাধ নিয়ে সমালোচনা করো,যাতেকরে লোকজন সেই অপরাধ থেকে বিরত থাকে।আস-(সুনানুল কুবরা-বায়হাক্বী-১০/২১০) এই হাদীসের সনদে কালাম থাকার ধরুণ মুহাদ্দিসিনে কেরাম এটা যঈফ হাদীস বলে বিবেচনা করেছেন।

প্রকাশ্যে গোনাহে জড়িত ফাসিক বাবা নিজের গোনাহ প্রকাশ হওয়া সম্পর্কে কোনো প্রকার পরওয়াহ করে না।এমন ব্যক্তিদের কৃত পাপ সম্বন্ধে লোকদের সতর্ক করা হবে ও বারণ করা হবে।তার ফিসক ও গোনাহ অন্যর জন্য আলোচনা সমালোচনা এজন্য বৈধ যে, সে গোনাহে লিপ্ত হওয়ার মাধ্যমে নিজে নিজের নফসের হুরমতকে নষ্ট করে ফেলেছে।তবে সাবধান তার এমন কোনো আলোচনা করা যাবে না,যা সে নিজেও লুকিয়ে রাখতে চায়,এবং সে যা করেনি তাও আলোচনা করা যাবে না। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/2114


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
(১) এসব যেহেতু সে পাবলিকলি করেছে তাই তার এসব কর্মকান্ড নিয়ে তার অনুপস্থিতিতে আলোচনা করা গীবতের মধ্যে পড়বে না।
(২) গ্রুপ মেসেজ পড়লে গীবত হবে না।
(৩)  মজা করা যাবে না।বরং গঠনমূলক আলোচনা করা যাবে। এটা গীবত হবে না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 175 views
...