আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
101 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (27 points)
একটি মাসালা নিয়ে বির্তকে পড়েছি।কিছু আলেম বলছে তালাকে তাফবিজ সামি ফেরত নিতে পারে আবার কিছু আলেম বলছে সামি ফেরত নিতে পারেনা।
নিচের দলিল টা কি সহিহ যদি সহিহ হয় এটা কতটুকু শক্তিশালি জানাবেন।এইটা কি সামি ফেরত নিতে পারবে না।এবং সামি  ফেরত নিতে পারবে।  এই দুইটার মধ্য এর থেকে কুন্টা বেসি শক্তিশালি  এবং কুন্টা  দুর্বল।নাকি দুটাই শক্তিশালি যে সামি ফেরত নিতে পারবে এটাও শত্তিশালি সামি ফেরত নিতে পারবে না এটাও শক্তিশালি।নাকি যেকুন একটা মানলেই হবে।নিচে দলিল টা পেশ করা হল।
 মূল আলোচনা

১. তাফউইযুত তালাক মানে হলো — স্বামী স্ত্রীর হাতে তালাকের অধিকার অর্পণ করা।

যদি এটা শর্তযুক্ত ও সাময়িক হয় (যেমন: "আজ যদি তুমি চাও, তবে তালাক দিতে পারো"), তাহলে মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে ক্ষমতা আর থাকে না।

যদি এটা স্থায়ী ও সাধারণভাবে দেওয়া হয় (যেমন: "আমি চিরদিনের জন্য তোমাকে এই অধিকার দিলাম"), তবে এখানে ফকীহদের মধ্যে মতভেদ আছে যে, স্বামী তা ফেরত নিতে পারবে কি না।

২. হানাফি ফিকহ অনুযায়ী (যা আমাদের এলাকায় প্রচলিত):

স্বামী যদি স্ত্রীকে তাফউইয দেয় কিন্তু স্ত্রী তা সাথে সাথে ব্যবহার না করে, তখন স্বামী চাইলে তা ফেরত নিতে পারে।

দলিল:

কিতাবুল ফাতাওয়াল হিন্দিয়া (الفتاوى الهندية 1/374)

> "وَإِذَا فَوَّضَ إِلَيْهَا ثُمَّ رَجَعَ عَنْهُ قَبْلَ أَنْ تَخْتَارَ لَمْ يَكُنْ لَهَا أَنْ تَخْتَارَ بَعْدَهُ"
➝ অর্থ: “স্বামী স্ত্রীকে (তালাকের অধিকার) অর্পণ করার পর যদি স্ত্রী ব্যবহার করার আগেই স্বামী তা ফিরিয়ে নেয়, তবে এরপর আর স্ত্রী তা ব্যবহার করতে পারবে না।”

আল-বাহরুর রায়েক (البحر الرائق 4/67)

> “لو فوض إليها ثم رجع قبل أن تختار لم يكن لها أن تختار بعده”
➝ অর্থ: “যদি স্বামী স্ত্রীকে তাফউইয করে, কিন্তু স্ত্রী গ্রহণ করার আগে স্বামী ফেরত নেয়, তবে এরপর স্ত্রী তা ব্যবহার করতে পারবে না।”

এটাই হানাফি মাযহাবের নির্ভরযোগ্য ফতওয়া।

৩. শাফেয়ী ও মালেকি মাযহাবে সাধারণত মত হলো:

একবার তাফউইয দিলে তা স্থায়ী হয়ে যায়, স্বামী আর ফেরত নিতে পারে না।

---

 সারসংক্ষেপ

হানাফি মাযহাব (বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানে প্রচলিত) অনুযায়ী:
হ্যাঁ, তালাকে তাফউইয স্বামী ফেরত নিতে পারে — যদি স্ত্রী তখনো সেই অধিকার ব্যবহার না করে থাকে।

দলিল: ফাতাওয়াল হিন্দিয়া ১/৩৭৪, বাহরুর রায়েক ৪/৬৭ প্রভৃতি।

---

 সুতরাং আপনার ক্ষেত্রে, যেহেতু স্বামী বলেছেন “আমি ফেরত নিয়েছি” এবং আপনি তখনো তালাক দেননি, তাই আপনার হাতে আর কোনো ক্ষমতা নেই।

1 Answer

0 votes
by (814,710 points)

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
স্বামী স্ত্রীকে তালাকের অধীকার দিয়ে দিলে সেই অধিকার স্বামী ফিরিয়ে নিতে পারবে না। 
الهداية: (247/1، ط: المكتبة الإسلامية)
ولو قال لها طلقي نفسك فليس له أن يرجع عنه لأن فيه معنى اليمين لأنه تعليق الطلاق بتطليقها واليمين تصرف لازم

التنبيه على مشكلات الهداية لأبي العز الحنفي: (1326/3، ط: مکتبة الرشد)
والله تعالي جعل الطلاق بيد الزوج لا بيد المرأة رحمة منه وإحسانًا ومراعاة لمصلحة الزوجين، نعم له أن يملكها أمرها باختياره فيخيرها بين المقام معه والفراق.

الموسوعة الفقهية الكويتية: (112/13، ط: وزارة الأوقاف والشؤون الإسلامية، الكويت)
زمن تفويض الزوجة : صيغة التفويض إما أن تكون مطلقة ، أو تكون مقيدة بزمن معين ، أو تكون بصيغة تعم جميع الأوقات .
( أ ) فإن كانت صيغة التفويض مطلقة .
فقد ذهب جمهور الفقهاء إلى أن حق الطلاق للمرأة مقيد بمجلس علمها وإن طال ، ما لم تبدل مجلسها حقيقة كقيامها عنه ، أو حكما بأن تعمل ما يقطعه مما يدل على الإعراض عنه. ( ب ) وإن كانت صيغة التفويض تعم جميع الأوقات فيكون لها حق تطليق نفسها متى شاءت ولا يتقيد بالمجلس.
( ج ) وإن كانت صيغة التفويض مقيدة بزمن معين ، فإنه يستمر حق تطليق نفسها إلى أن ينتهي هذا الزمن ، ولا يبطل التفويض المؤقت بانتهاء المجلس ولا بالإعراض عنه.


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...