আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
135 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (5 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ।
সহশিক্ষায় থাকাকালীন পর্দার বুঝ পেয়েছিলাম আলহামদুলিল্লাহ। বিভিন্ন ভাবে পর্দার খেলাফ হচ্ছিল এবং ফিতনায় ডুবে যাওয়ার আশঙ্কায় সহশিক্ষা ছেড়ে দিয়েছিলাম গত রমজানে আলহামদুলিল্লাহ। গত রমজান মাস থেকে সহশিক্ষা ছেড়ে দেয়ার জন্য পারিবারিক ভাবে চাপে আছি। বিভিন্ন ভাবে মানসিক চাপে রাখছে আমাকে।বিয়েও দিতে চাচ্ছে না আমাকে কোনঠাসা করে আবার সহশিক্ষায় ফেরাতে চাচ্ছে। আমি ফিরতে চাইছি না সহশিক্ষায়, ফিতনায় জড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। আমাকে যদি চাপে পড়ে এই পরিবেশে ফিরতেই হয় তাহলে আমি অভিমানে আমার পরিবারের মানুষদের সাথে স্বাভাবিক হতে পারবো না। তাদের থেকে দূরে সড়ে যাবো, যদি এমনটা হয় তাহলে কি আমার গুনাহ হবে? আমি বুঝাতে পারছি না কোনোভাবেই তাদেরকে। যে সহশিক্ষায় না ফেরার জন্য এত লাঞ্চনা, অপমান, মানসিক কষ্ট সহ্য করলাম সেই সহশিক্ষায় ফিরতে যদি আমাকে বাধ্য করা হয় তাহলে যারা এত দিন আমাকে কষ্ট দিয়েছে আমি তাদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলতে পারবো না। আমার করনীয় কি?

আমি এর আগেও একবার প্রশ্ন করেছিলাম আমাকে বলা হয়েছিল ফিতনায় পড়ার আশঙ্কা থাকলে ওই পরিবেশ আমার জন্য জায়েজ হবে না। আমিও যেতে চাই না ওই পরিবেশে। আল্লাহ সহায় হোন।
★ আমাদের দেশে পর্দা রক্ষা করে জেনারেল পড়ার সুযোগ নেই। মহিলা কলেজেও পুরুষ শিক্ষক আছে। পরীক্ষা, ভাইভা এসবের উসিলায় নারীদের নিকাব খুলতে বাধ্য করা হয়। আমি সহ অনেক বোন সহশিক্ষা নিয়ে বিভিন্ন সমস্যায় আছেন, পারিবারিক চাপে আছেন, আমরা ক্ষমতা রাখি না কোনো শান্তিপূর্ণ দাবি নিয়ে প্রতিবাদ গড়ে তোলার কিন্তু আমাদের দেশের উলামায়ে কেরাম গণ যদি এই বিষয়ে কোনো সমাধানের রাস্তা দেখান আমরা নিশ্চয়ই সমর্থন করবো ইনশাআল্লাহ।
জাযাকুমুল্লাহু খইরন।

1 Answer

0 votes
by (814,710 points)

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
জেনারেল শিক্ষা অর্জন সম্পর্কে আমরা ইতি পূর্বে বলেছিলাম যে, 
বলা যায় মুসলিম দেশের মুসলিম সরকারের জন্য ওয়াজিব যে,অচিরেই পৃথক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা।
প্রয়োজনে এ জন্য শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী পালন করা সমস্ত মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব ও কর্তব্য।
কিন্তু যতদিন পর্যন্ত এই পৃথক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু না হচ্ছে ,ততদিন প্রয়োজনের তাগিদে নিম্নোক্ত শর্তাদির সাথে কলেজ-ভার্সিটিতে শিক্ষা গ্রহণের পরামর্শ দেয়া যেতে পারে।
১/শিক্ষা অর্জন দেশ ও মুসলিম জাতীর খেদমতের উদ্দেশ্যে হতে হবে।
২/চোখকে সব সময় নিচু করে রাখতে হবে,প্রয়োজন ব্যতীত কোনো শিক্ষক/শিক্ষিকার দিকে তাকানো যাবে না।মহিলা/পুরুষ তথা অন্য লিঙ্গের  সহশিক্ষার্থীদের সাথে তো কোনো প্রকার সম্পর্ক রাখা যাবেই না।সর্বদা অন্য লিঙ্গর শিক্ষার্থী থেকে নিজেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখতে হবে।(ফাতাওয়া উসমানী ১/১৬০-১৭১)(শেষ)
এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/434


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
আপনি যদি মনে করেন যে, সহশিক্ষা ব্যবস্থাতে আপনার জন্য দ্বীন পালন কোনোভাবেই কখনো সম্ভবপর হবে না, তাহলে আপনার জন্য সহশিক্ষাতে যাওয়া জায়েয হবে না। যেহেতু সহশিক্ষা ব্যবস্থায় পড়াশোনা না করলে আপনার পরিবারের অনেকেই নারাজ। তাই পর্দা রক্ষা করে মহিলা কলেজে ভর্তি হয়ে যাবেন। এক্ষেত্রে পর্দা রক্ষা তুলনামূলক সহজ হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...