আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
11 views
ago in সালাত(Prayer) by (17 points)
আসসালামু আলাইকুম, উস্তাদ আজকে বিতির পড়ার সময় আমার মনে হচ্ছিল একটু নড়লেই পেশাব এসে পড়বে (উল্লেখ্য আমার এরকম ভাবে একটু পেশাব আসার সমস্যা থাকার কারণে প্রয়োজন বশতঃ আমি মাঝেমধ্যে ইশারায় সেজদা দেই) এবার ইশারায় সেজদা দিয়েও এটা মনে হচ্ছিল আরেকটু নড়লেই বা একটু জোরে শ্বাস নিলেই পেশাব এসে পড়বে, এরমধ্যে একটু পেশাব বের হওয়ার অনুভব হয় কিন্তু আমি নামাজ পড়তে থাকি, নামাজ শেষ করি। আমি তখন একইভাবে বসে থেকে পেশাব বের হওয়ার কথা গভীরভাবে চিন্তা করেও কনফিউজড ছিলাম। আমি অলসতার জন্য আর দোহরাই নাই (কারণ সন্দেহের রোগ তো আমার আছেই আবার এখন কাপড় পাল্টাতে হবে, বাথরুমে গেলে দেরিও হতে পারে আবার অনেক রাত হয়ে গেছে) আর সন্দেহের কারণে পরের ওয়াক্তে নামাজটা পুনরায় আদায় করার নিয়ত করেছি, এখন কি আমার বিতির ইচ্ছাকৃতভাবে কাজার গুনাহ হবে?

আমি আরো জানতে চাচ্ছি যদি কখনও আমার পেশাব ভেতরের চামড়া থেকে একটু বের হয় কিন্তু পুরোপুরি বাইরে না আসে, যেমন উদাহরণ স্বরূপ টিস্যু দিয়ে রাখলে টিস্যুর ভেতরের অংশ ভিজতে পারে কিন্তু বাইরে আসবে না (যদিও টিস্যু ব্যবহার করতে পারিনা আমি) তখন কি নামাজ হবে?
Jazaakhmullah!

1 Answer

0 votes
ago by (663,840 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

https://ifatwa.info/113169/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছে,
শরীয়তের বিধান হলো যদি কাহারো নামাজের মধ্যে অজু ভেঙে যায়,তাহলে সে সাথে সাথে অজু করার জন্য যাবে,

(জামাআতের সাথে নামাজ আদায় করলে কাতার ভেঙ্গে দিয়ে সে পিছনের কাতার ফাকা করে মসজিদ থেকে বের হবে,চাইলে নাকের উপর হাত রেখেও বের হতে পারে।) 

এক্ষেত্রে নামাজ ভঙ্গকারী কোনো কাজ যেনো তার থেকে প্রকাশ না পায়, (যেমন কাহারো সাথে কথা বলা,ইত্যাদি)   অজু করে এসে তার ছুটে যাওয়া আগে আদায় করবে,এক্ষেত্রে তাকে কিরাআত পড়তে হবেনা,  তারপর ইমামের সাথে শরীক হয়ে তার সাথেই সালাম ফিরাইবে,আর যদি ইতিমধ্যে ইমাম সালাম ফিরিয়ে দেয়,তাহলে তার নামাজ পুরো করে সে নিজেই সালাম ফিরিয়ে দিয়ে নামাজ শেষ করবে।

★ উল্লেখ্য যে কাতার ফাকা করে অজু করতে যাওয়ার সময় সে যদি চায়,নাকে হাত দিতে পারে। যাতে করে মুছল্লিরা বুঝে নিবে যে তার অজু ভেঙ্গে গিয়েছে,তাতে সকলেই দ্রুত তার  যাওয়ার জন্য  জায়গা ফাকা করে দিবে। 

সুনানে ইবনে মাজা তে আছেঃ

عن عائشۃ رضي اللّٰہ عنہا قالت: قال رسول اللّٰہ صلی اللّٰہ علیہ وسلم: من أصابہ قيء أو رعاف
أو قلس أو مذي، فلنصرف فلیتوضأ، ثم لیبن علی صلاتہ وہو في ذٰلک لایتکلم۔ (سنن ابن ماجۃ ۱؍۸۵ رقم: ۱۲۲۱)
যার নামাজের মধ্যে বমি ইত্যাদি আসে,তাহলে সে সেখান থেকে চলে যাবে। অজু করবে,এই অবস্থায় সে কোনো ভাবেই কথা বলবেনা। তারপর তার বাকি নামাজ আদায় করে নিবে।
,
আরো জানুনঃ 

হযরত আয়েশা রাযি থেকে বর্ণিত
عن عائشة، قالت: قال النبي صلى الله عليه وسلم: «إذا أحدث أحدكم في صلاته فليأخذ بأنفه، ثم لينصرف»
রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন,যদি তোমাদের কারো নামাযে অজু চলে যায়,তাহলে সে যেন নিজ নাকে ধরে নামায ভেঙ্গে অজুর জন্য চলে যায়।(সুনানু আবি দাউদ-১১১৪)

নামাযে যদি কারো অজু ভঙ্গ হয়ে যায়,এবং ঐ ব্যক্তি যদি প্রথম কাতারে থাকে,তাহলে তিনি প্রত্যেক দুই ব্যক্তির মধ্যখানে ফাক সৃষ্টি করে তিনি মসজিদ থেকে বের হয়ে অজু করতে চলে যাবেন।কিংবা যদি সামন দিক দিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ থাকে,তাহলে তিনি সামন দিক দিয়ে যাবেন।এক্ষেত্রে অনেককে ডিঙ্গিয়ে যাওয়ার রুখসত রয়েছে।এতে কোনো সমস্যা হবে না।কেননা এগুলো নিজের নামাযকে সংশোধন করার নিমিত্তেই করা হচ্ছে।যদি নামাযের কাতার থেকে বাহির হওয়ার কোনো সুযোগ না থাকে,বা কাতার সংখ্যায় অনেক থাকে,তাহলে এমতাবস্থায় বিধান হল,ঐ ব্যক্তি নামাযকে পরিত্যাগ করে আপন স্থানে বসে থাকবে।
(ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়্যাহ-৬/৫৭৯)

এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন-

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে প্রথমত এভাবে পেশাবের চাপ নিয়ে নামাজ পড়াই উচিত হয়নি।

দ্বিতীয়তঃ এভাবে ইশারা করে সেজদা দেওয়ার কোন সুযোগ আপনার নেই।

আপনি যেহেতু ইশারা করে সেজদাহ দিয়েছেন এবং এর মধ্যে পেশাব বের হওয়ার অনুভবও হয়েছে, সুতরাং আপনার সে বিতর নামাজ আদায় হয়নি।

এমতাবস্থায় আপনার জন্য উচিত ছিল পেশাব বের হলে হোক,তারপরেও ইশারা করে কোনো রুকন আদায় না করা।

পেশাব বের হলে কাহারো সাথে কথা না বলে, কোনো কিছু না খেয়ে অজু করে এসে বাকি নামাজ আদায় করা (পুনরায় সেজদা করা এবং নামাজ শেষ করা)

এখন এমনটি যেহেতু আপনি করেননি সুতরাং উক্ত বিতর নামাজ এর কাজা আদায় করা আপনার উপর ওয়াজিব।

অলসতা বশত বিতর নামাজ ওয়াক্তের মধ্যে পুনরায় আদায় না করার দরুন বিতির ইচ্ছাকৃতভাবে কাজার গুনাহ হবে।

★পেশাব ভেতরের চামড়া থেকে একটু বের হলেই আপনার অযু ভেঙ্গে যাবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

ago by (17 points)
উস্তাদ মাফ করবেন আবার প্রশ্ন করেছি আরো কিছু বিষয় সহ।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...