আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
41 views
in ব্যবসা ও চাকুরী (Business & Job) by (5 points)
আসসালামু আলাইকুম
১। ৪৯ তম  স্পেশাল বিসিএস শিক্ষকদের জন্য নিয়োগ দিয়েছে। এখানে যদি ক্যাডারের হয় তাহলে কলেজ চাকরি হবে। বাংলাদেশে পুরুষদের জন্য কলেজ খুবই কম নেই বললেই চলে। এমন অবস্থায় সহশিক্ষা কলেজ চাকরি হলে করা কি জায়েজ হবে? পুরুষদের জন্য সহশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চাকরি করলে দৃষ্টি হেফাজত করাতো খুবই কঠিন।

২।পুরুষদের জন্য শিক্ষা ক্যাডারের এপ্লাই করা ঠিক হবে?

৩। স্টুডেন্টদের দ্বীন শেখানোর  নিয়ত করে চাকরি করা ঠিক হবে?
৪।আমার এক আত্মীয় তার প্রেগন্যান্সির সময় বাচ্চা উল্টা থাকার কারণে উনি মানত কর দুয়া করেন যে বাচ্চা আল্লাহ সোজা করে দিলে ছাগল দিবেন। আবার বাচ্চা নরমাল ডেলিভারির হওয়ার জন্যও উনি মানত করেন যে ছাগল দিবেন। এখন ঊনার বাচ্চা নরমাল ডেলিভারির হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ। চালতা কিভাবে দিবেন? টাকা দিয়ে দিলে হবে নাকি ছাগল কিনেই দিতে হবে?

৫। এইভাবে মানত করা কি ঠিক হয়েছে?

1 Answer

0 votes
by (662,400 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
https://ifatwa.info/34045/ ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ 
শরীয়তের বিধান মতে গায়রে মাহরাম বালেগাহ মহিলার দিকে ইচ্ছাকৃতভাবে  দৃষ্টিপাত করা নাজায়েজ। 
অনিচ্ছায় একবার দৃষ্টি চলে গেলে সাথে সাথেই চোখ ফিরিয়ে নিতে হবে,২য় বার আর  দৃষ্টিপাত করা যাবেনা।
কারন এতে ইচ্ছাকৃতভাবেই হয়ে যায়।
সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে যদি ছেলে-মেয়েরা একসাথে ক্লাস করে,বালেগাহ মেয়েরা চেহারা হাত মুখ ঢেকে পরিপূর্ণ পর্দা না করে, তাহলে এমন প্রতিষ্ঠানে  শিক্ষকতা করলে যেহেতু বালেগাহ মহিলাদের দিকে দৃষ্টিপাত করতেই হয়, তাতে পর্দার বিধান লঙ্ঘনের গুনাহ হবে।
তাই তাকওয়ার খাতিরে তাদেরকে না পড়ানোই উত্তম।
কারন তাদের সামনেও পর্দা ফরজ।
তাদের দিকেও দৃষ্টিপাত নাজায়েজ।      

হাদীস শরীফে এসেছেঃ
  
عَنْ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ” لَا تُتْبِعِ النَّظْرَةَ النَّظْرَةَ؛ فَإِنَّمَا  لَكَ الْأُولَى وَلَيْسَتْ لَكَ الْآخِرَةُ “

হযরত বুরাইদা রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাঃ  হযরত আলী রাঃ কে বলেন, হে আলী! [সহসা] একবার দেখার পর পুনরায় [কোন বেগানা নারীকে] দেখো না। কারণ, তোমার জন্য প্রথমবারে অনুমতি রয়েছে [যখন তা অনিচ্ছায় হয়ে যাবে], কিন্তু দ্বিতীয়বারের অনুমতি নেই।
 {মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২২৯৭৪, সুনানে দারেমী, হাদীস নং-২৭৫১, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-২১৪৯, সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-২৭৭৭}

عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ” مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَنْظُرُ إِلَى مَحَاسِنِ امْرَأَةٍ أَوَّلَ مَرَّةٍ، ثُمَّ يَغُضُّ بَصَرَهُ إِلَّا أَحْدَثَ اللهُ لَهُ عِبَادَةً يَجِدُ حَلَاوَتَهَا “

হযরত আবু উমামা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, যে কোন মুসলমান কোন নারীর সৌন্দর্যের প্রতি হঠাৎ দৃষ্টি পড়ে যায়, অতঃপর সে নিজ চক্ষু নিচু করে নেয়, তবে আল্লাহ তাআলা তার জন্য এক ইবাদতের সুযোগ সৃষ্টি করেন, যাতে সে তার স্বাদ পায়। {মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২২২৭৮}

হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত।

فَالْعَيْنَانِ زِنَاهُمَا النَّظَرُ، وَالْأُذُنَانِ زِنَاهُمَا الِاسْتِمَاعُ، وَاللِّسَانُ زِنَاهُ الْكَلَامُ، وَالْيَدُ زِنَاهَا الْبَطْشُ، وَالرِّجْلُ زِنَاهَا الْخُطَا، وَالْقَلْبُ يَهْوَى وَيَتَمَنَّى، وَيُصَدِّقُ ذَلِكَ الْفَرْجُ وَيُكَذِّبُهُ

রাসূল সাঃ ইরশাদ করেন, চোখের জিনা হল [হারাম] দৃষ্টিপাত। কর্ণদ্বয়ের জিনা হল, [গায়রে মাহরামের যৌন উদ্দীপক] কথাবার্তা মনযোগ দিয়ে শোনা। জিহবার জিনা হল, [গায়রে মাহরামের সাথে সুড়সুড়িমূলক] কথোপকথন। হাতের জিনা হল, [গায়রে মাহরামকে] ধরা বা স্পর্শকরণ। পায়ের জিনা হল, [খারাপ উদ্দেশ্যে] চলা। অন্তর চায় এবং কামনা করে আর লজ্জাস্থান তাকে বাস্তবে রূপ দেয় [যদি জিনা করে] এবং মিথ্যা পরিণত করে [যদি অন্তরের চাওয়া অনুপাতে জিনা না করে]। {সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-২৬৫৭, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৮৯৩২}

আপনি সকলকে হাত পা,চেহারা সহ পরিপূর্ণ পর্দা করার আদেশ করবেন, প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের  নিয়ম আকারে বানিয়ে নিতে পারেন।   
,
সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন, 
আপনি যদি পুরুষ হোন,সেক্ষেত্রে মাসয়ালাঃ-

প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে উক্ত সহ শিক্ষা মূলক যদি সকল মেয়েরা চেহারা হাত মুখ ঢেকে পরিপূর্ণ শরীয়াহ নীতিমালা মেনে পর্দা করে,তাহলে সেখানে আপনি শিক্ষকতা করলে আপনার গুনাহ হবেনা।

সেক্ষেত্রে আপনার জন্য এমন সহ শিক্ষা মূলক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করা জায়েয হবে।

মেয়েরা কোমলতা পরিহার করে প্রয়োজনে কথা বলতে পারবে,এক্ষেত্রে শরীয়াহ বিরোধী, তাদের জীবন ঘনিষ্ঠ কোনো কথাবার্তা শোনা যাবেনা। 
ফেতনার আশংকা থাকলে এহেন চাকুরী না করাই উচিত। 

★এখানে বেতন সংক্রান্ত মাসয়ালা হলোঃ
পড়ানোর বিনিময়ে বেতন দেওয়া হয়, তাই আপনি যদি সহশিক্ষা সম্ভলিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুসারে কোনো প্রকার অবহেলা-অলসতা না করে ঠিকমত পড়ান,তাহলে যে বেতন পাবেন সেটা আপনার জন্য হালাল হবে।

তবে শরয়ী পর্দা মেইনটেইন না করলে সর্বদা পর্দা লঙ্ঘনের গোনাহে লিপ্ত থাকবেন।

আরো জানুনঃ 

সহ শিক্ষা সম্পর্কে বিস্তারিত জানুনঃ 

★আর আপনি যদি মহিলা হোন,সেক্ষেত্রে যেখানে শুধু নারীদের পড়ানো হয় সেখানে শিক্ষকতা করতে পারবেন, অথবা প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকতা করতে পারবেন।

বালেগ ছাত্রদেরকে কোনভাবেই পড়ানো আপনার জন্য জায়েজ হবে না।

বিস্তারিত জানুনঃ- 

(০২)
এক্ষেত্রে শরীয়তের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা নেই।

(০৩)
জায়েজ আছে। এতে ছওয়াবও মিলবে।

(০৪)
তিনি ছাগলও দান করতে পারেন। ছাগলের মূল্যও দান করতে পারেন। মূল্য দান করাই অধিক ভালো হবে। যাতে করে এর মাধ্যমে গরীব বেশি উপকার গ্রহণ করতে পারে।

★প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে তিনি যদি ছাগল সদকাহ না করে সেই পরিমাণ টাকা গরীব অসহায় মানুষকে দান করেন, তাহলে মান্নত আদায় হবে।

বিস্তারিত জানুনঃ- 

প্রেগন্যান্সির সময় বাচ্চা আল্লাহ সোজা করে দিয়ে থাকলে তাকে ২ টি ছাগল বা ২ টি ছাগলের মূল্য সদকাহ করতে হবে। 

(০৫)
এটি নাজায়েজ নয়।

তবে শরীয়ত মান্নত করতে উৎসাহিত করে না। শরীয়ত মূলত দান ছদকা করতে উৎসাহিত করে।

বিস্তারিত জানুনঃ- 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...