আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
193 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (22 points)
আসসালামু আলাইকুম। আমি IOM এর শিক্ষার্থী। পাশাপাশি জেনারেল লাইনে Computer Science নিয়ে পড়ছি।

১.হায়েজ অবস্থায় সূরা পড়া দেয়া থাকলে কি ভেঙে ভেঙে সূরা মুখস্থ করা যাবে এবং পড়া দেয়ার সময় ভেঙে ভেঙে পড়া দেয়া যাবে?মুকাররিরাহ আপু বললেন ভেঙে ভেঙে পড়া দেয়া যাওয়ার কথা।

আমি কিছুদিন আগেও প্রশ্ন দিয়েছি কিছু।কিন্তু উত্তর বুঝতে পারিনি।দয়া করে ধরে ধরে সবগুলো প্রশ্নের উত্তর দিবেন ইন শা আল্লাহ।
১.পুরুষ শিক্ষকের আন্ডারে কি আমি গবেষণা করতে পারব?আমার গবেষণা হবে মেডিসিন নিয়ে এছাড়া আরো অন্যান্য বিষয় থাকতে পারে ।নিয়ত থাকবে মুসলিম উম্মাহর উপকারের।আমার গ্রুপে আমার কয়েকজন মেয়ে ফ্রেন্ড থাকবে।ছেলেরাও থাকতে পারে ২/১ জন।পরিপূর্ণ পর্দা মেইনটেইন করে,ইন্টার‍্যাক্ট কম করে কি আমি এই গবেষণার কাজে যুক্ত হতে পারব?জায়েজ হবে কি?

২.পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি চান্স পাইনি।তাই মাস্টার্স পিএইচডি বিদেশের কোনো ভালো ইউনিভার্সিটিতে করতে চাই যাতে আমার শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারি।পাশাপাশি দ্বীনের দাওয়াত দিতে পারি।দূর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে আমি যে সমাজে বাস করি সেখানে দুনিয়ার ডিগ্রী দেখেই মানুষকে জাজ করা হয় এবং যে যত হাই প্রোফাইলড,সে তত ভ্যালু ক্রিয়েট করতে পারে।দ্বীনের দাওয়াতের ক্ষেত্রে আমি এই সুযোগটা নিতে চাচ্ছি পাশাপাশি পাবলিকে চান্স না পাওয়ার ক্ষতটা সারাতে চাচ্ছি।এরকম চিন্তা ভাবনা করাটা কি আমার জন্য জায়েজ?গুনাহ হবে এতে?
৩.যেহেতু প্রাইভেটে ১২/১৩ লাখ টাকা খরচ করে আমার বাবা মা আমাকে পড়াচ্ছেনই,তাই তারা আশা করে আমি চাকরি করব।আমিও আর দ্বিমত করি না।দ্বিমত করতে গেলেই ক্যাচাল লেগে যাবে।আমিও চাই চাকরি করতে যেহেতু অনেকগুলো টাকার ব্যাপার আছে।এই যে চাকরি করতে চাচ্ছি এতে কি আমার গুনাহ হবে?

ধরে ধরে উত্তর দিলে উপকৃত হতাম।

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
মহিলাদের হায়েজ অবস্থায় কুরআন শরিফ স্পর্শ করা, তেলাওয়াত করা জায়েজ নেই। 
,
হায়েজ,নেফাস,গোসল ফরজ থাকা অবস্থায় কুরআনে কারীম পড়া হারাম। 
সুতরাং মোবাইল দেখে কুরআন পড়াও হারাম।
,
হাদীস শরীফে এসেছেঃ
   
عن ابن عمر : عن النبي صلى الله عليه و سلم قال لا تقرأ الحائض ولا الجنب شيئا من القرآن (سنن الترمذى، ابواب الطهارات، باب ما جاء في الجنب والحائض : أنهما لا يقرأن القرآن، رقم الحديث-131

অনুবাদ-হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-ঋতুবতী মহিলা এবং গোসল ফরজ হওয়া ব্যক্তি কোরআন পড়বে না।
(সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং-১৩১,
সুনানে দারেমী, হাদীস নং-৯৯১,
মুসনাদুর রাবী, হাদীস নং-১১,
মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-১০৯০,
মুসন্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদীস নং-৩৮২৩)
 
,
★কিছু ফুকাহায়ে কেরামগন কঠিন প্রয়োজনের দিক লক্ষ্য করে জায়েযের এই ছুরত বলেছেন যে প্রত্যেক শব্দ ভেঙ্গে ভেঙ্গে পড়বে।
যেভাবে শিক্ষক শিখানোর সময় ভেঙ্গে ভেঙ্গে শিখায়।
(নাজমুল ফাতওয়া ২/৯৮)
যেমন الحمد কয়েক বার পড়বে, لله কয়েকবার পড়বে।
رب কয়েকবার পড়বে। العالمين কয়েকবার পড়বে।
এক বারে একসাথে মিলিয়ে পড়বেনা।
,
★অন্যত্রে এসেছেঃ
হায়েজ অবস্থায়  কুরআন শরিফ পড়া সম্পুর্ন ভাবে  নিষেধ। 
তাই হেফজ করতে চাইলেও সেই সময়ে কুরআন  শরিফ  পড়া যাবেনা।
এটাই শরীয়তের  হুকুম।
সেক্ষেত্রে সময়ের ক্ষতির ফিকির করবেনা।
ক্ষতি হয় হোক,তারপরেও সেইকদিন  বিরতি দিবে।
(কিতাবুন নাওয়াজেল ৩/১০৮)
.
সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন, 
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে সতর্কতামূলক হায়েজ অবস্থায় কুরআন হিফজ না করাই উচিত।
মনে মনে,বা আয়াত ভেঙ্গে ভেঙ্গে পড়া যদিও জায়েজ বুঝা যায়,তবে এক্ষেত্রে উলামায়ে কেরামদের মতবিরোধও রয়েছে,আবার এতে পুরো আয়াত বা অধিকাংশ আয়াত অনেক সময় হয়তোবা মুখে উচ্চারিত হতেও পারে,মুখস্ত করার সময় এটির সম্ভাবনা অনেক বেশি। তাই সতর্কতামূলক হায়েজ চলাকালীন হেফজ বন্ধ রাখাই উচিত।

তদুপরি আপনি যদি মুখস্ত করতেই চান,তাহলে এভাবে পড়বেন, যেমন الحمد কয়েক বার পড়বেন, لله কয়েকবার পড়বেন।
رب কয়েকবার পড়বেন। العالمين কয়েকবার পড়বেন।
এক বারে একসাথে মিলিয়ে পড়বেননা।

তবে পড়াশোনাার ক্ষেত্রে যেহেতু এভাবে একই শব্দ কয়েকবার করে পড়া যায় না তাই এমতাবস্থায় আপনি কোনোক্রমেই কুরআন পড়া শুনাবেন না।

আরো জানুনঃ 

(০২)
আপনি যদি শরীয়তের সমস্ত শর্তাবলী মেনে ফিতনাহ থেকে দূরে থেকে পূর্ণ শরীয়তের গন্ডির মধ্যে থেকে মাস্টার্স পিএইচডি বিদেশের কোনো ভালো ইউনিভার্সিটিতে করতে পারেন,সেক্ষেত্রে শরীয়তের দৃষ্টিকোণ হতে কোন বাধা নেই।

এরকম চিন্তাভাবনা করা জায়েজ আছে, এতে কোন গুনাহ হবে না।

(০৩)
যদি সত্যিকার অর্থেই আপনার চাকরি করার প্রয়োজন দেখা দেয়,সেক্ষেত্রে মহিলাদের চাকরি বৈধ হওয়ার জন্য যেসব শর্তাবলী আছে, সেসব শর্তাবলী মেনে আপনি চাকরি করতে পারেন।

মহিলাদের চাকুরী সংক্রান্ত বিস্তারিত বিধান জানুনঃ 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...