0 votes
33 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (4 points)
আসসালামু আলাইকুম উস্তাদ।

আমি শাওন বলছিলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে। আজকে সন্ধায় আপনাকে কল দিয়েছিলাম।
আমার ২ টা প্রশ্ন ছিলো।

১) আমি ২ জন প্রাপ্তবয়স্ক সাক্ষীর সামনে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলাম এবং তিনি প্রস্তাব গ্রহণ করেছিলেন। সেখানে একজন সাক্ষী হাসাহাসি করে বলছিলেন  এভাবে আবার বিয়ে হয় নাকি।
আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এখানে বিয়েটা কি বৈধ হয়েছে?

এবং সেই সাক্ষী হাসতে হাসতে সেখানে এটাও বলছিলেন এই বিয়ে মানি না।

২)আমার রাগ খুব খারাপ পর্যায়ের রাগ। রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। তখন কি করি সেটা আমার মাথায় থাকে না। পরে বুঝতে পারি যে আমি এটা কি করলাম। রাগারাগি করে মাথার চুল ছিড়ে ফেলা, ঘরের জিনিস ভেঙে ফেলা, হাতের ফোন ভেঙে ফেলা আমার প্রায়ই এরকম হয়ে যায়।  যতই চেষ্টা করি আমি তখন কন্টোল করতে পারি না।
কয়েক বছর আগে ফোনে কথা বলার সময় আমি একটা বিষয় নিয়ে রাগারাগি করে তালাক বলে ফেলি।  কিন্তু আমার এটা বলার কোন নিয়ত বা ইচ্ছা ছিলো না। যখন আমি তালাক বলি তার মধ্যেই সে ফোনটা কেটে দেয়। পরে মাথা ঠান্ডা হলে তাকে আমি জিজ্ঞেস করি কিছু শুনেছে কিনা। সে জানায় সে কিছুই শুনে নাই।
কিন্তু আমার এখন একেবারেই মনে পড়ছে না আমি কয়বার বলেছিলাম? এখন আমার করণীয় কি? যদি কষ্ট করে একটু জানাতেন খুবই উপকৃত হতাম।

একজন ভাই মেসেজটি করলেন..উস্তাদ মুফতী ইমদাদ সাহেব মেহেরবাণী করে বিষয়টি যদি একটু দেখতেন..জাযাকাল্লাহ খায়র..

1 Answer

0 votes
by (32.2k points)

বিসমিহি তা'আলা

জবাবঃ-

বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার জন্য বর-কনের ইজাব এবং কবুলকে সাক্ষীদের জন্য শ্রবণ করাই যথেষ্ট।পরবর্তীতে সাক্ষ্য প্রদাণের কোনো প্রয়োজন নেই।

যেমন, পিতামাতার পক্ষে সন্তানদের সাক্ষ্য শরয়ী কোর্টে গ্রহণযোগ্য নয়।কিন্তু তারা আবার নিজ পিতা মাতার বিয়ের সাক্ষী হতে পারে।যেমন ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়াতে বর্ণিত রয়েছে-

وينعقد بحضور من لا تقبل شهادته له أصلا كما إذا تزوج امرأة بشهادة ابنيه منها وكذا إذا تزوج بشهادة ابنيه لا منها أو ابنيها لا منه هكذا في البدائع

এমন কারো উপস্থিতিতেও বিয়ে শুদ্ধ হয়ে যাবে, যাদের সাক্ষ্য উক্ত বর বা কনের ব্যাপারে শরিয়ত গ্রহণ করে না।যেমন,কেউ কোনো মহিলাকে তালাক দেয়ার পর তাদেরই নিজ সন্তানদের সামনে দ্বিতয়বার বিয়ে করে নিল,বা বর তার সন্তানদের সামনে বা কনে তার সন্তানদের সামনে বিয়ে করে নিল,তাহলে ঐ সব বিয়ে বিশুদ্ধ হয়ে যাবে।(ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া-১/২৬৭)

ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়ায় আরো বর্ণিত রয়েছে,

وهل يشترط فهم الشاهدين العقد ذكر في الفتاوى أن المعتبر السماع دون الفهم حتى لو تزوج بشهادة الأعجميين جاز قال الظهير: والظاهر أنه يشترط الفهم أيضا، كذا في السراج الوهاج وهو الصحيح، كذا في الجوهرة النيرة

বিবাহ অনুষ্টানের আলাপ-আলোচনাকে বুঝা শর্ত নাকি শুধুমাত্র শ্রবণই যথেষ্ট?

এ সম্পর্কে ফাতাওয়ার কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,শ্রবণই শর্ত, বুঝা শর্ত নয়।এমনকি কেউ যদি কোন ভিন্নভাষী দু'জন সাক্ষীর সামনে বিয়ে করে নেয়,তাহলে সে বিয়ে বিশুদ্ধ হয়ে যাবে। ফকিহ যাহির রাহ বলেন,সাক্ষীদের জন্য বর-কনের কথা বুঝা ও শর্ত।

ولو تزوج امرأة بحضرة السكارى وهم عرفوا أمر النكاح غير أنهم لا يذكرونه بعد ما صحوا انعقد النكاح هكذا في خزانة المفتين وفي فتاوى أبي الليث

যদি কেউ কোনো মহিলাকে একদল মাতালদের সামনে বিয়ে করে নেয়।যারা মাতাল হলেও তাদের বিয়ের জ্ঞান লোপ পায়নি।তবে তারা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাবার পর বিয়ের কথাকে স্বরণ করতে পারছে না।এমন পরিস্থিতেও বিয়ে শুদ্ধ হয়ে যাবে।(ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া-১/২৬৮)

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!

বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার জন্য সাক্ষীদের শ্রবণই যথেষ্ট।সাক্ষীদের সম্মতি বা মতামতের কোনো প্রয়োজন নেই।সুতরাং প্রশ্নে বর্ণিত বিয়ে হয়ে গেছে।

(২)

রাগ কত প্রকার? ও কি কি?

কোন অবস্থায় তালাক পতিত হবে আর কোন অবস্থায় পতিত হবে না। এবিষয়ে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন- 182

আমরা যা বুঝলাম, আপনার রাগান্বিত অবস্থাটা সম্ভবত তৃতীয় প্রকারের অন্তর্ভুক্ত।সুতরাং তালাক পতিত হয়ে যাবে।

এখন কয়টা তালাক দিয়েছেন,সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করুন- যদি কোনোওভাবে নিশ্চিত না হতে পারেন যে,কয় তালাক দিয়েছিলেন,তাহলে তখন তিন তালাকই পতিত হবে।কেননা মহিলার লজ্জাস্থান মূলত পুরুষের জন্য হারাম।বিয়ে অতঃপর মহর প্রদাণ পূর্বকই সেটা হালাল হয় ।সুতরাং কখনো যদি হালাল হারাম উভয়ের সম্ভাবনা দেখা দেয়, তাহলে তখন হারামেরই তারজিহ হবে।(কিতাবুল-ফাতাওয়া-৫/৪০)

যেমন বিশিষ্ট ফকিহ ইবনে নুজাইম রাহ লিখেন,
الأصل في الابضاع التحريم،فإذا تقابل في المرأة حل و حرمة غلبت الحرمة ،ولهذا لايجوز التحري في الفروج،
মহিলাদের লজ্জাস্থান মূলত পুরুষের জন্য হারাম।সুতরাং কখনো যদি কোনো মহিলার ব্যাপারে হালাল-হারাম উভয়ের সম্ভাবনা দেখা দেয়,তাহলে হারামেরই তারজিহ হবে।এজন্য মহিলাদের লজ্জাস্থানের ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ অনুমোদিত নয়।(আল-আশবাহ ওয়ান-নাযাইর-৬৭)
আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

উত্তর লিখনে
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ, Iom.

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনার দ্বীন সম্পর্কীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য রয়েছে আমাদের  অভিজ্ঞ ওলামায়কেরাম ও মুফতি সাহেবগনের একটা টিম যারা ইনশাআল্লাহ প্রশ্ন করার ২৪-৪৮ ঘন্টার সময়ের মধ্যেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন।

Related questions

...