জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم
(০১)
স্ত্রীর অনুমতি সাপেক্ষে মোহর কিছু দেওয়া এবং কিছু অংশ বাকি রাখা শরীয়ত সম্মত।
,
পবিত্র কুরআন শরীফে এসেছে
আল্লাহ তায়ালা বলেন
فَمَا اسْتَمْتَعْتُم بِهِ مِنْهُنَّ فَآتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ فَرِيضَةً ۚ وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا تَرَاضَيْتُم بِهِ مِن بَعْدِ الْفَرِيضَةِ ۚ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًا [٤:٢٤]
অনন্তর তাদের মধ্যে যাকে তোমরা গ্রহণ করবে,তাকে তার নির্ধারিত হক দান কর। তোমাদের কোন গোনাহ হবে না যদি নির্ধারণের পর তোমরা পরস্পরে সম্মত হও। নিশ্চয় আল্লাহ সুবিজ্ঞ, রহস্যবিদ। [সূরা নিসা-২৪]
,
★আলোচ্য আয়াত দ্বারা একথা স্পষ্ট হয় যে যদি মোহরানা নির্ধারন হওয়ার পর স্ত্রী যদি (মোহরানা মাফ করে দেওয়া বা কম করে দেওয়া বা বাকি রেখে অন্য সময়ে দেওয়া) কোনো বিষয়ের উপর স্বামীর সাথে একমত হয়, তাহলে কোনো সমস্যা নেই।
সুতরাং স্ত্রীর সম্মতিতে মোহরানা বাকি রাখা জায়েজ আছে।
لَا خِلَافَ لِأَحَدٍ أَنَّ تَأْجِيلَ الْمَهْرِ إلَى غَايَةٍ مَعْلُومَةٍ نَحْوَ شَهْرٍ أَوْ سَنَةٍ صَحِيحٌ وَإِنْ كَانَ لَا إلَى غَايَةٍ مَعْلُومَةٍ فَقَدْ اخْتَلَفَ الْمَشَايِخُ فِيهِ قَالَ بَعْضُهُمْ يَصِحُّ وَهُوَ الصَّحِيحُ وَهَذَا؛ لِأَنَّ الْغَايَةَ مَعْلُومَةٌ فِي نَفْسِهَا وَهُوَ الطَّلَاقُ أَوْ الْمَوْتُ أَلَا يَرَى أَنَّ تَأْجِيلَ الْبَعْضِ صَحِيحٌ، وَإِنْ لَمْ يَنُصَّا عَلَى غَايَةٍ مَعْلُومَةٍ، كَذَا فِي الْمُحِيطِ.
এ বিষয়ে কারো কোনো মতভেদ নেই যে,নির্দিষ্ট সময়ে পরিশোধযোগ্য সম্পূর্ণ মহরকে বাকী রাখা জায়েয।যেমনঃ- এক মাস বা এক বৎসর।কিন্তু যদি নির্দিষ্ট দিন-তারিখ উল্লেখ না থাকে, তাহলে এ সম্পর্কে উলামায়ে কেরামদের মতবিরোধ রয়েছে,কিছুসংখ্যক উলামায়ে কেরাম জায়েয বলে থাকেন।এটাই বিশুদ্ধ মত।কেননা বাস্তবে একটি দিন-তারিখ অবশ্যই নির্দিষ্ট রয়েছে।আর ইহা হল,তালাক বা মৃত্যু।কেননা দিন-তারিখ উল্লেখ ব্যতীত মহরের কিছু অংশ বাকী রাখা জায়েয[মুহিত]
(ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া-১/৩১৮)
★স্ত্রীর অনুমতি সাপেক্ষে মোহরানার কিছু অংশ বাকি রাখা জায়েজ হবে।
স্ত্রীর অনুমতি থাকলে এটি অনুচিত হবেনা।
তবে উত্তম হলো একেবারে নগদ পরিশোধ করে দেওয়া।
মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ-
واتوا النساء صدقاتهن نحلة فان طبن لكم عن شيئ منه نفسا فكلوا هنيئا مرئيا
এবং তোমরা নারীদেরকে দাও তাদের মোহর খুশিমনে। এরপর তারা যদি স্বেচ্ছায় স্বাগ্রহে ছেড়ে দেয় কিছু অংশ তোমাদের জন্য তাহলে তা স্বচ্ছন্দে ভোগ কর।-সূরা নিসা : ৪
এই আয়াতের প্রধান কয়েকটি শিক্ষা ও বিধান এই :
১. মোহর আদায় করা ফরয। স্বয়ং আল্লাহ তাআলা মোহর আদায়ের আদেশ করেছেন।
২. মোহর সম্পূর্ণরূপে নারীর প্রাপ্য। তার স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি ছাড়া অন্য কারো তাতে হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। সুতরাং স্বামী যেমন স্ত্রীকে মোহর থেকে বঞ্চিত করতে, কিংবা পরিশোধ করার পর ফেরত নিতে পারে না তেমনি পিতা-মাতা, ভাইবোন বা অন্য কেউ নিজ কন্যার, বোনের বা আত্মীয়ার মোহর তার স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি ছাড়া নিতে পারে না। নিলে তা হবে কুরআনের ভাষায় ‘আক্ল বিল বাতিল’ তথা অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করা।
৩. মুমিনের কর্তব্য খুশিমনে স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে স্ত্রীর মোহর আদায় করা। কারো অনুরোধ-উপরোধ বা জোর-জবরদস্তির অপেক্ষায় থাকা কুরআনী শিক্ষার পরিপন্থী ও অতি নিন্দনীয় প্রবণতা।
৪. স্ত্রী যদি স্বতঃস্ফূর্তভাবে মোহরের কিছু অংশ ছেড়ে দেয় কিংবা গ্রহণ করার পর স্বামীকে উপহার দেয় তাহলে স্বামী তা স্বচ্ছন্দে ভোগ করতে পারবে।
৫. পূর্ণ মোহর ছেড়ে দেওয়ার বা পূর্ণ মোহর স্বামীকে উপহার দেওয়ারও অধিকার স্ত্রীর রয়েছে, তবে সাধারণ অবস্থায় পূর্ণ মোহর না দিয়ে কিছু অংশ দেওয়াই ভালো।
৬. স্বামী যদি চাপ দিয়ে বা কৌশলে পূর্ণ মোহর বা কিছু অংশ মাফ করিয়ে নেয় তাহলে আল্লাহর বিচারে তা মাফ হবে না।
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
দেনমোহর যেটা ধার্য করা হয়, সেটা সরাসরি না দিয়ে যদি গয়না/স্বর্ণ দেয় ওই টাকায়, সেইটা জায়েয।
আর যদি এমন করা হয় যে কিছু টাকার স্বর্ণ দিলো কিছু টাকা বাকি রেখে মাফ চেয়ে নিলো। এক্ষেত্রে স্ত্রী যদি সন্তুষ্টি চিত্তে মন থেকে মাফ করে দেয়,তাকে যদি কোনোভাবে বাধ্য না করা হয়,চাপ না দেয়া হয়,সেক্ষেত্রে বাকি মোহরানা মাফ হয়ে যাবে।
(০২)
অ্যাটাচ বাথরুমে ফরয গোসল করার সময় আল্লাহর নাম ও কোনো দোয়া মুখে পড়া যাবেনা।
এক্ষেত্রে চাইলে মনে মনে পড়া যাবে।
বিসমিল্লাহ না বলে গোসল করলেও গোসল হবে।
(০৩)
তাসবীহে ফাতেমী যদি কখনো সিরিয়াল ঠিক না থাকে তাহলে সমস্যা হবেনা।
তবে ইচ্ছাকৃত সবসময় এমনটি করবেননা।
আর যদি ভুল বশত ৩৩ বার এর থেকে বেশী পরে ফেলেন,এতে কোনো সমস্যা নেই। আপনার আমল হয়ে যাবে।
(০৪)
বাজারে বিদ্যমান অধিকাংশ পারফিউমে এ্যালকোহল রয়েছে। এ্যালকোহল হারাম হওয়া যেহেতু নিশ্চিত নয়,তাই এটার ব্যবহারের অনুমোদন রয়েছে।
(০৫)
এমতাবস্থায় সাহু সিজদা দিতে হবে।
সাহু সেজদাহ না দিলে উক্ত নামায পুনরায় আদায় করতে হনে।
(০৬)
অ্যাটাচ বাথরুমে বিসমিল্লাহ মনে মনে বলে ওযু করলে হবে।
বাইরে অযু করার ব্যবস্থা করা গেলে সেটা উত্তম হবে।
(০৭)
প্রশ্নের বিবরণ মতে আপনি মাজলুম,আপনি জুলুমের শিকার হচ্ছেনা।
সুতরাং এক্ষেত্রে আপনি যদি তাদের সমস্যার কথা না ভেবে নিজের সুবিধা অনুযায়ী কাজ করেন, আর তাদের কষ্ট হয় তাহলে আপনার গুনাহ হবেনা।
তবে তারা আপনাকে যে পরিমাণ কষ্ট দিচ্ছে, এর চেয়ে তাদেরজে বেশি কষ্ট দেওয়া জায়েজ নেই।
(০৮)
এইক্ষেত্রে আপনার নামায হবে।
(০৯)
শরীয়তের বিধান হলো মহিলাদের মসজিদে জামাআতের সহিত নামাজ আদায়ের জন্য যাওয়া মাকরুহে তাহরিমি।
(কিতাবুন নাওয়াজেল ৪/২৪৮)
বিস্তারিত জানুনঃ-
আপনি সব সময়ের মতো নিজ স্থানে নামাজ পড়বেন।
(১০)
প্রশ্নের বিবরণ মতে সেই রুমের ভিতর আপনি ওড়না ছাড়া থাকলে এটা জায়েজ হবে।
এতে আপনি গুনাহগার হবেননা।
তবে শালীনতা বজায় রেখে পোশাক পরিধান করবেন।
বিস্তারিত জানুনঃ-
(১১)
মেয়েদের চুল কাটার বিধান জানুনঃ-
ছবি যদি ঢেকে রাখা না হয়,সেক্ষেত্রে সেই ঘরে নামাজ পড়লে যদিও নামাজ হয়ে যাবে,তবে সেই নামাজ মাকরুহ হবে।
(১৩)
এক্ষেত্রে সন্দেহ জনক বিষয় থেকে দূরে থাকাই ভালো।
(১৪)
এতে আপনার গুনাহ হবেনা।
বিস্তারিত জানুনঃ-