আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
29 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (1 point)
১)ছেলে বা মেয়ে যে কেউ কি বিয়ের প্রস্তাব দিলেই অপরজন কবুল করলে বিয়ে হয়ে যাবে যদি শরয়ী সাক্ষী উপস্থিত থাকে?

২)যদি এমন হয় দুই পরিবারের বিবাহের কথা চলছে।দুইজনই বিয়েতে মত দিয়েছে।মেয়ের অভিভাবক একদিন মেয়েকে না জানিয়েই ছেলেকে দুইজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে প্রস্তাব দিল এবং ছেলে কবুল করল কিন্তু মেয়ে জানেই না আজই তার বিয়ে।এই বিয়ে কি সংগঠিত হবে?

৩) প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে বিয়েতে রাজি না।তাঁকে সম্মতির জন্য জিজ্ঞাসা করলে সে মানা করবে।বাবা যদি তাঁকে না জানিয়েই ছেলের কাছে বিয়ের প্রস্তাব দেয় ও ছেলে কবুল করে তাহলে কি বিবাহ হবে?

৪)সমাজে যে বিবাহের পদ্ধতি প্রচলিত আছে কাজীর মাধ্যমে যদিও এখানে পর্দার লঙ্ঘন সহ আরও অনেক ভুল ভ্রান্ত থাকে।এই পদ্ধতিতে কি বিবাহ হবে?

৫)মেয়ের কাছে অনুমতি নেয়ার সময় কি সাক্ষীদের শুনতে পাওয়া জরুরি?

৬)মেয়ে যদি সাক্ষীদের সামনে ছেলেকে বলে আমি আপনাকে বিবাহ করতে চাই।ছেলে বলে আমি তোমাকে স্ত্রী হিসেবে কবুল করলাম।

অথবা, ছেলে যদি বলে আমি তোমাকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করতে চাই বা বিবাহ করতে চাই মেয়ে যদি বলে আমি রাজি বা কবুল করলাম।

এই দুই ক্ষেত্রে কি বিবাহ আদায় হবে?

1 Answer

0 votes
ago by (634,080 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার জন্য ইজাব কবুল হওয়া শর্ত।
لما في الفتاوي الهندية ج ١- ص:٢٧٠
ينعقد بالإيجاب والقبول وضعا للمضي أو وضع أحدهما للمضي والآخر لغيره مستقبلا كان كالأمر أو حالا كالمضارع،
এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/79209

আল্লামা হাসক্বফী রা বলেনঃ 
(وَ) شُرِطَ (حُضُورُ) شَاهِدَيْنِ(حُرَّيْنِ) أَوْ حُرٌّ وَحُرَّتَيْن (مُكَلَّفَيْنِ سَامِعَيْنِ قَوْلَهُمَا مَعًا)
 দুজন স্বাধীন পুরুষ অথবা একজন স্বাধীন পুরুষ ও দুজন স্বাধীন মহিলা সাক্ষী হিসেবে  উপস্থিত থাকতে হবে,যারা শরীয়তের বিধি-বিধান পালনে দায়বদ্ধ থাকবে,এবং একসাথে উভয় (স্বামী-স্ত্রী) র ইজাব-কবুল শ্রবণ করবে।(আদ্দুরুল মুখতার-৩/২২)

ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়াতে বর্ণিত আছে....
(ومنها) سماع الشاهدين كلامهما معا هكذا في فتح القدير فلا ينعقد بشهادة نائمين إذا لم يسمعا كلام العاقدين، 
দুনু সাক্ষীকে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের ইজাব-কবুল শুনতে হবে,(ফাতহুল ক্বাদীর)সুতরাং না শুনার ধরুণ ঘুমন্ত ব্যক্তির সাক্ষ্য দ্বারা বিবাহ সংগঠিত হবে না।(১/২৬৮;)
এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/2679


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
(১) ছেলে বা মেয়ে যে কেউ শরয়ী সাক্ষীর সামনে অন্যকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়ার পর অপরজন কবুল করে নিলেই বিয়ে হয়ে যাবে।

(২) মেয়ে যদি বিয়ে সম্পর্কে বা বিযের প্রস্তাব সম্পর্কে না জানে যে, আজই তার বিয়ে। তাহলে এই বিয়ে সংগঠিত হবে না।

(৩) প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে বিয়েতে রাজি না।তাঁকে সম্মতির জন্য জিজ্ঞাসা করলে সে মানা করবে।বাবা যদি তাঁকে না জানিয়েই ছেলের কাছে বিয়ের প্রস্তাব দেয় ও ছেলে কবুল করে, তাহলে বিবাহ হবে না।

(৪) সমাজে যে বিবাহের পদ্ধতি প্রচলিত আছে কাজীর মাধ্যমে যদিও এখানে পর্দার লঙ্ঘন সহ আরও অনেক ভুল ভ্রান্ত থাকে। তবে এই পদ্ধতিতে বিবাহ হবে।

(৫) মেয়ের কাছে অনুমতি নেয়ার সময় সাক্ষীদের শুনতে পাওয়া জরুরি নয় । বরং যখন অপরজন কবুল বলবে, তখনই সাক্ষীর প্রয়োজন। অর্থা কবুলের সময়ই সাক্ষীর প্রয়োজন।

(৬) মেয়ে যদি সাক্ষীদের সামনে ছেলেকে বলে আমি আপনাকে বিবাহ করতে চাই।ছেলে বলে আমি তোমাকে স্ত্রী হিসেবে কবুল করলাম। তাহলে বিবাহ হয়ে যাবে।

অথবা, ছেলে যদি বলে আমি তোমাকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করতে চাই বা বিবাহ করতে চাই, মেয়ে যদি বলে আমি রাজি বা কবুল করলাম। এই উভয়ক্ষেত্রেই বিয়ে হয়ে যাবে।

بدائع الصنائع: (231/1، ط: دار الكتب العلمية)
وأما بيان صيغة اللفظ الذي ينعقد به النكاح فنقول: لا خلاف في أن النكاح ينعقد بلفظين يعبر بهما عن الماضي كقوله: زوجت وتزوجت وما يجري مجراه.
وأما بلفظين يعبر بأحدهما عن الماضي وبالآخر عن المستقبل كما إذا قال رجل لرجل: زوجني بنتك أو قال: جئتك خاطبا ابنتك أو قال جئتك لتزوجني بنتك فقال الأب: قد زوجتك أو قال لامرأة: أتزوجك على ألف درهم فقالت: قد تزوجتك على ذلك أو قال لها: زوجيني أو انكحيني نفسك فقالت: زوجتك أو أنكحت ينعقد استحسانا

الفقه الاسلامی و ادلته: (6528/9، ط: دار الفکر)
صيغة الفعل: قد تكون صيغة الإيجاب والقبول بلفظ الماضي أو بلفظ المضارع أو بلفظ الأمر، واتفق الفقهاء على انعقاد الزواج بصيغة الماضي، واختلفوا في المضارع والأمر.
أ ينعقد الزواج بصيغة الفعل الماضي: كأن يقول ولي المرأة للرجل: زوجتك ابنتي فلانة على مهر كذا، فقال الزوج: قبلت أورضيت؛ لأن المقصود بهذه الصيغة إنشاء العقد في الحال، فينعقد بها العقد من غير توقف على نية أو قرينة.
ب وأما العقد بصيغة المضارع: مثل أن يقول الرجل للمرأة في مجلس العقد: أتزوجك على مهر قدره كذا، فقالت: أقبل أو أرضى، صح العقد عند الحنفية والمالكية إذا كانت هناك قرينة تدل على إرادة إنشاء العقد في الحال، لا للوعد في المستقبل، كأن يكون المجلس مهيئاً لإجراء عقد الزواج، فوجود هذه الهيئة ينفي إرادة الوعد أو المساومة، ويدل على إرادة التنجيز؛ لأن الزواج بعكس البيع يكون مسبوقاً بالخطبة.
فإن لم يكن المجلس مهيئاً لإنجاز العقد، ولم توجد قرينة دالة على قصد إنشاء الزواج في الحال، فلا ينعقد العقد.
ولا ينعقد الزواج عند الشافعية والحنابلة بصيغة المضارع، وإنما لا بد عندهم من لفظ بصيغة الماضي مشتق من النكاح أوالزواج، بأن يقول الزوج: تزوجت أو نكحت أو قبلت نكاحها أو تزويجها، ولا يصح بكناية: كأحللتك ابنتي، إذ لااطلاع للشهود على النية. ولو قال ولي المرأة: زوجتك، فقال الزوج: قبلت، لم ينعقد الزواج لدى الشافعية على المذهب، وينعقد عند الجمهور غير الشافعية.
ج ويصح العقد عند الحنفية والمالكية بصيغة الأمر: كأن يقول الرجل لامرأة: زوجيني نفسك، وقصد بذلك إنشاء الزواج، لا الخطوبة، فقالت المرأة: زوجتك نفسي، تم الزواج بينهما.
وتوجيه ذلك عند الحنفية: أن قول الرجل يتضمن توكيل المرأة في أن تزوجه بنفسها، فقولها: زوجتك نفسي، قام مقام الإيجاب والقبول. والتوجيه عند المالكية أن صيغة الأمر تعتبر إيجاباً للعقد عرفاً، ولا تعتبر توكيلاً ضمنياً. وهذا القول أوجه. وعبارة المالكية: ينعقد النكاح بالإيجاب والاستيجاب، أي طلب الإيجاب.


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...