আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
50 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (1 point)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

সম্মানিত হযরত, আমাদেরকে আমার আপন খালার মেয়ে বিয়েতে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। এ বিয়েটি একটি কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আমার খালার মেয়ে একজন আলেমা, তারা বিয়েতে যথাসম্ভব পর্দা মেইনটেইন করার চেষ্টা করবেন। পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আলাদা জায়গা ব্যবস্থা করা হবে এবং কোন প্রকার ফ্রি মিক্সিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে না।

আমাদের পরিবার থেকে আমি বা আমার আম্মু কখনো কোন বিয়ে অনুষ্ঠানে যাই না। কখনো একান্ত জরুরি হয়ে গেলে আর সেখানে আমার আব্বু আমার ভাই কে নিয়ে যায় , তবে এইবার আমার বাবা চিল্লার জামাতে অবস্থান করছেন। আব্বুকে এ বিষয়ে ফোনে জানালে, আব্বু সেখানে যেতে নিষেধ করেন। আব্বুর মতে, যদি কোন কারণে পর্দা নষ্ট হয়ে যায়, তবে আব্বুর মতে, এ কারণে যদি আত্মীয়তা সম্পর্ক নষ্ট হয় তাহলে হোক, তবুও তিনি জান্নাত হারাতে পারবেন না।

উল্লেখ্য বিষয় হলো, আব্বু চিল্লায় থাকায় আমরা ওই খালার বাসার পাশে আরেক খালার বাসায় অবস্থান করছি। সুতরাং বিয়েতে না গেলে, আমার নানা, নানি সহ নানার বাসার সবাই কষ্ট পাবে। আবার আমাদের পক্ষে বিয়ের দিন সকালের আগে সেখান থেকে ফিরে আসা সম্ভব হচ্ছে না। যেহেতু আমার পর্দার বিষয়টি আমার বাবার নিকট মূল চিন্তার কারণ, তাই আমরা আব্বুক বলেছিলাম যে, আমার মা যদি আমার ভাইকে নিয়ে সেখান থেকে ঘুরে আসে তাহলে হবে কি না, কিন্তু তাতে ও আব্বু নিষেধ করেদেন।

এক্ষেত্রে আমাদের করণীয় কি?

1 Answer

0 votes
by (70,170 points)

 

بسم الله الرحمن الرحيم

 

জবাবঃ-

https://www.ifatwa.info/1707  নং ফাতওয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মাতাপিতার আদেশকে মান্য করা মূলত তিনটি মূলনীতির আলোকে হয়ে থাকে।

(১) তাদের আদেশ কোনো মুবাহ বিষয়ে হতে হবে।কোনো ওয়াজিব তরকের ব্যাপারে হতে পারবে না।এবং কোন হারাম কাজের জড়িত হওয়ার জন্যও হতে পারবে না।

(২) যে কাজের আদেশ তারা দিবেন,এতে তাদের ফায়দা থাকতে হবে,বা শরীয়তের পছন্দসই কাজ হতে হবে।

(৩) যে কাজের আদেশ দিচ্ছেন,তা তাদের সন্তানদের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারবে না।

সুতরাং যদি সন্তানের কষ্ট লাগবের জন্য তারা আদেশ দিয়ে থাকেন,তাহলে এক্ষেত্রে মাতাপিতার আদেশকে মান্য করা ওয়াজিব।

ইবনে তাইমিয়্যাহ রাহ লিখেন,

ويلزم الإنسان طاعة والديه في غير المعصية وإن كانا فاسقين ، وهو ظاهر إطلاق أحمد ، وهذا فيما فيه منفعة لهما ولا ضرر ، فإن شق عليه ولم يضره : وجب ، وإلا فلا

গোনাহের কাজ ব্যতীত মুবাহ কাজে,মাতাপিতার আদেশকে মান্য করা ওয়াজিব।যদি তার ফাসিকও হয়।এটা তখন যখন তাতে মাতাপিতার ফায়দা থাকবে,এবং সন্তানের জন্য ক্ষতিকারক হবে না।যদি সন্তানের উপর কষ্টদায়ক হয় তবে ক্ষতিকারক না হয়, তাহলে তখন মাতাপিতার আদেশ মান্য করা ওয়াজিব। (আল-ফাতাওয়াল কুবরা-৫/৩৮১)

আল্লামা হাসক্বাফী রাহ লিখেন,

لَا يَحِلُّ سَفَرٌ فِيهِ خَطَرٌ إلَّا بِإِذْنِهِمَا. وَمَا لَا خَطَرَ فِيهِ يَحِلُّ بِلَا إذْنٍ وَمِنْهُ السَّفَرُ فِي طَلَبِ الْعِلْمِ

যে সফরে ক্ষতির আশংকা থাকবে সে সফর মাতাপিতার অনুমতি ব্যতীত বৈধ নয়।আর যে সফরে ক্ষতির সম্ভাবনা নাই,সে সফর মাতাপিতার অনুমতি ব্যতীত বৈধ।এর মধ্যে একটি হলো,ইলম অন্বেষণের জন্য সফর করা।অর্থাৎ ইলম অর্জনের জন্য সফর করা মাতাপিতার অনুমতি ব্যতীত ও বৈধ।

চার মাযহাব সম্বলীত সর্ব বৃহৎ ফেক্বাহী গ্রন্থ "আল-মাওসু'আতুল ফেক্বহিয়্যায় " বর্ণিত রয়েছে,

ومذهب الحنفية: يكره الخروج إلى الحج إذا كره أحد أبويه وكان الوالد محتاجا إلى خدمة الولد، وإن كان مستغنيا عن خدمته فلا بأس.

وذكر في السير الكبير إذا كان لا يخاف عليه الضيعة فلا بأس بالخروج. وحج الفرض أولى من طاعة الوالدين، وطاعتهما أولى من حج النفل

فتح القدير ٢ / ١١٨، والفتاوى الهندية ١ /٢٢٠   -بحوالة الموسوعة الفقهية،ج٢- ص،٢٠٤-

হানাফি মাযহাবের সিদ্ধান্তঃ যদি মাতপিতার কেউ একজন সন্তানকে হজ্বে যেতে নিষেধ করে এমতাবস্থায় যে, পিতা-মাতা উক্ত সন্তানের খেদমতের মুহতাজ।তাহলে এমন পরিস্থিতে সন্তানের জন্য হজ্বে যাওয়া মাকরুহ।আর যদি মাতাপিতা উক্ত সন্তানের খেদমতের মুহতাজ না হন,তাহলে এমতাবস্থায় সন্তান হজ্বে যেতে পারবে।এতে কোনো শরয়ী অসুবিধা নেই।

সিয়ারে কাবীর কিতাবে বর্ণিত আছে, যখন সন্তানের  ক্ষতির কোনো প্রকার সম্ভাবনা থাকবে না, (যেমন সাগরের সফর ইত্যাদি হবে না) তখন তার জন্য মাতাপিতার অনুমতি ব্যতীত সফর করা বৈধ রয়েছে। জেনে রাখা ভালো, ফরয হজ্ব মাতাপিতার খেদমতের চেয়ে উত্তম।তবে নফল হজ্বের চেয়ে মাতাপিতার খেদমতই উত্তম। (ফাতহুল ক্বাদির-২/১১৮,ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া,১/২০৬)

প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন/বোন!

আপাতদৃষ্টিতে আপনি যেহেতু পাখি দুটিকে কক্ষে রাখলে তেমন কোন ক্ষতির সম্ভাবনা আছে বলে মনে করেন না বিধায় তা মাতা পিতার অবধ্যতার অন্তর্ভূক্ত হবে না বলে আশা করা যায়। তবে উত্তম হবে পিতা মাতাকে বুঝানো যে, বাহিরে রাখলে পাখিগুলোর যত্ন নিতে ত্রুটি হওয়াতে ঘরে এনেছেন, বিধায় তারা যেন এক্ষেত্রে নিষেধ না করেন বা বিষটি সহজ ভাবে গ্রহণ করেন। মোটকথা তাদেরকে হেকমতের সাথে বুঝাতে হবে যেন, তারা নারাজ না হয়ে যায়।

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!

প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে প্রথমত বাবাকে আত্নীয়তার বিষয়টি আরো ভালো ভাবে বুঝানোর চেষ্টা করবেন। সেই সেখানে গেলে পর্দা লঙ্ঘন না হওয়ার বিষয়টি বাবাকে নিশ্চিত করা উচিত। এরপর যদি বাবা অনুমতি দেন তাহলে সেখানে যাওয়া যাবে। তবে বাবার নির্দেশ অমান্য করে সেখানে যাওয়া যাবে না। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী মুজিবুর রহমান
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...