আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
26 views
in পবিত্রতা (Purity) by (7 points)
edited by

আসসালামু 'আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ।

(১) আমার পিরিয়ডের সময় ব্লিডিং শুরু হওয়ার ২-৩ দিন আগে থেকেই খুবই সামান্য পরিমাণে কালচে প্রায় শুকনা ঘন জিনিস আসে। ব্লিডিং হয়তো ৩-৪ দিন হয়। ব্লিডিং শেষেও ২-৩ দিন এইরকম খুবই সামান্য পরিমাণে কালচে/বাদামী প্রায় শুকনা ঘন জিনিস আসে। তবে এই জিনিস শুরুর দিকে হোক বা শেষ দিকে হোক টানা ৩ দিন ৩ রাত থাকে না। হয়তো সামান্য আসছে। তারপর অনেক ঘন্টা পরে আসলো। অথবা সামান্য নখের আচরের পরিমাণ টিস্যুতে  লেগেছে। বিশেষ করে শুরুর দিকে দেখা যায় প্রায় ১০-১২ ঘন্টা, কখনো ২৪ ঘন্টা বা তার ও বেশি সময় চলে গেছে কিন্তু টিস্যু সাদা ই ছিলো। এমনটা নতুন না। মাসের পর মাস, প্রায় ৩-৪ বছর বা তারো বেশি সময় ধরে হচ্ছে। ২ পিরিয়ডের মাঝের সময়ে অতিরিক্ত সাদা স্রাবের কারণে পিরিয়ড চলাকালীন সময়ের বাইরে আমি সবসময় প্যান্টির সাথে সাদা টিস্যু ব্যবহার করি যাতে করে স্রাব কাপড়ে না লেগে যায়। তাই বিষয়টা সবসময় নজরে আসে। উল্লেখ্য, কখনো কখনো শুকনা ভাব কম থাকে বরং কালচে তরল/ঘন তরল আসে। আমি হায়েজ ধরবো কতটুকু সময়কে?

(২) ১৩-১৪ বছর বয়সী ১টা মেয়ে মোবাইল ধরেছে কি না তার মা জানতে চায়। সে মিথ্যা বলে। তার মা তাকে বলে সত্যি করে বলতে, ঈমানে বলতে। মেয়েটি ভয়ে মিথ্যা বলে, ঈমানে বলে দেয়। এখানে মেয়েটিকে কি কসমের কাফফারা আদায় করতে হবে?

(৩) রোজাদার অবস্থায় পরিস্থিতে মিথ্যা বললে কি সদকাতুল ফিতরা আদায় ও তওবার মাধ্যমে সে ক্ষমা পাবার আশা করতে পারে? নাকি কাফফারা আদায়/পুনরায় রোজা রাখা/অন্য কিছু করতে হবে?

(৪) কাজা নামাজের ফিদিয়া কিভাবে গুনতে হয়? ১ ওয়াক্তের ফরজ নামাজের জনা ১টা ফিদিয়া? নাকি রাকাআত হিসেবে? নাকি দিন হিসেবে?

1 Answer

0 votes
by (607,050 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
শরীয়তের বিধান অনুযায়ী হায়েযের সর্বনিম্ন সময়সীমা হলো ৩ তিন,আর সর্বোচ্ছ সময়সীমা ১০দিন।
এ ১০দিনের ভিতর লাল,হলুদ,সবুজ,লাল মিশ্রিত কালো বা নিখুত কালো যে কালারের-ই পানি বের হোক না কেন তা হায়েয হিসেবেই গণ্য হবে।যতক্ষণ না নেপকিন সাদা নজরে আসবে। (বেহেশতী জেওর-১/২০৬)  

হাদীস শরীফে এসেছে   
أقل الحیض للجاریۃ البکر والثیب ثلاثۃ أیام ولیالیہا وأکثرہ عشرۃ أیام
دار قطني، السنن، 1: 219، رقم: 61
রাসুল সাঃ বলেন  মহিলাদের হায়েজের সর্বনিম্ন সীমা হলো ৩ দিন ৩ রাত,সর্বোচ্চ সীমা হলো ১০ দিন ১০ রাত।

হায়েজের দিন গুলোতে যেই কালারেরই রক্ত হোক,সেটি হায়েজের রক্ত বলেই গন্য হবে। 
উক্ত সময় নামাজ রোযা ইত্যাদি আদায় করা যাবেনা।
(কিতাবুল ফাতওয়া ২/৭৬)

তবে স্পষ্ট সাদা কালারের কিছু বের হলে সেটাকে হায়েজ বলা যাবেনা।
(ফাতাওয়ায়ে হক্কানিয়াহ ২/৮৩৩)

উম্মে আলক্বামাহ তথা মার্জনা (مَوْلاَةِ عَائِشَةَ) হইতে বর্ণিত,

عن أم علقمة أَنَّهَا قَالَتْ : " كَانَ النِّسَاءُ يَبْعَثْنَ إِلَى عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ بِالدُّرْجَةِ فِيهَا الْكُرْسُفُ فِيهِ الصُّفْرَةُ مِنْ دَمِ الْحَيْضَةِ يَسْأَلْنَهَا عَنْ الصَّلَاةِ فَتَقُولُ لَهُنَّ لَا تَعْجَلْنَ حَتَّى تَرَيْنَ الْقَصَّةَ الْبَيْضَاءَ تُرِيدُ بِذَلِكَ الطُّهْرَ مِنْ الْحَيْضَةِ "

তিনি বলেনঃ (ঋতুমতী) স্ত্রীলোকেরা আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট ঝোলা বা ডিবা (دُرْجَة) পাঠাইতেন, যাহাতে নেকড়া বা তুলা (كُرْسُفْ) থাকিত। উহাতে পাণ্ডুবৰ্ণ ঋতুর রক্ত লাগিয়া থাকিত। তাহারা এই অবস্থায় নামায পড়া সম্পর্কে তাহার নিকট জানিতে চাহিতেন। তিনি [আয়েশা (রাঃ)] তাহাদিগকে বলিতেনঃ তাড়াহুড়া করিও না, যতক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ সাদা (বর্ণ) দেখিতে না পাও। তিনি ইহা দ্বারা ঋতু হইতে পবিত্রতা (طُهْر) বুঝাইতেন।(মুয়াত্তা মালিক-১২৭)

আরো জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে ব্লিডিং এর আগে ও পরে সাদা স্রাব ব্যাতিত কালচে হোক বা অন্য কোনো কালারের হোক,পুরো এই দিনগুলোকে হায়েজ হিসেবে ধরবেন।

এ সময়ে নামাজ রোযা বন্ধ রাখতে হবে।

(০২)
এক্ষেত্রে তাকে কসমের কাফফারা আদায় করতে হবেনা। 

(০৩)
সে তওবার মাধ্যমে সে ক্ষমা পাবার আশা করবে।

(০৪)
জীবিত থাকা অবস্থায় কাজা নামাজের ফিদইয়া আদায় করার সুযোগ নেই।
কাজা নামাজ নিজেকে আদায় করতেই হবে।

হ্যাঁ মারা গেলে সেক্ষেত্রে ওয়ারিশদের অসিয়ত করে গেলে তারা মাইয়্যিতের এক তৃতীয়াংশ সম্পদ থেকে মাইয়্যিতের কাজা নামাজের ফিদইয়া আদায় করবে।
 এক্ষেত্রে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও বিতর নামাজ সব মিলে প্রতিদিনের ৬ ওয়াক্ত নামাজের ৬ টি সদকায়ে ফিতর সমপরিমাণ টাকা ফিদইয়া হিসবে গরিব মিসকিনকে দান করতে হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...