আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
28 views
in ব্যবসা ও চাকুরী (Business & Job) by (16 points)
আসসালামু আলাইকুম

আমার ২টি প্রশ্ন:

১। আমার মায়ের কোনো ইনকাম নেই তবে ফিক্সড ডিপোজিটের জমানো টাকা আছে যা সুদমিশ্রিত।
আমি কি ব্যবসার প্রয়োজনে আমার মায়ের ওই টাকা হতে ঋণ নিতে পারবো এবং ব্যবসায় ব্যবহার করতে পারবো?

সময়মত ওই ঋণ পরিশোধ করে দিবো আমি ইন শা আল্লাহ।
২। আমার চাচা মানসিক ভাবে অসুস্থ, কোনো ইনকাম বা সম্পদ নেই, বিয়েও করেননি। তার সকল খরচ সাধারণত আমি এবং আমার বাবা বহন করি। যাকাত হিসেব তাকে এক কালীন অনেক গুলো টাকা একসাথে একেবারে দেওয়া যাবেনা, কারণ উনি তা সঠিক ভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবহার করতে পারবেননা। এখন উনাকে একেবারে মালিক না বানিয়ে, উনার দৈনন্দিন খরচ সহ বাসা ভাড়া, অষূধপত্র, জামাকাপড় ইত্যাদি কাজে যে খরচ সেটি কি আমি বা আমার বাবা যাকাত হতে আদায় করতে পারবো?

উনাকে কি আমি এবং আমার বাবা দুইজন ই যাকাত দিতে পারবো?

1 Answer

0 votes
by (604,290 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

https://ifatwa.info/25087/ ফতোয়ায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, 
হারাম টাকায় ব্যবসা করাও নাজায়েজ। 
,
তবে কঠিন প্রয়োজন বশত এমনটি হলে উক্ত ব্যবসার লভ্যাংশ ব্যবহারের অনুমতি কিছু ইসলামী স্কলারগন দিয়েছেন।   তারা বলেছেন যে এটি সেই ব্যবসায় তার পরিশ্রমের বিনিময়। 
হাদীস শরীফে এসেছেঃ 

عَنْ مَخْلَدِ بْنِ خُفَافٍ قَالَ : ابْتَعْتُ غُلَامًا فَاسْتَغْلَلْتُه ثُمَّ ظَهَرْتُ مِنْهُ عَلٰى عَيْبٍ فَخَاصَمْتُ فِيهِ إِلٰى عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ فَقَضٰى لِىْ بِرَدِّه وَقَضٰى عَلَىَّ بِرَدِّ غَلَّتِه فَأَتَيْتُ عُرْوَةَ فَأَخْبَرْتُه فَقَالَ : أَرُوْحُ إِلَيْهِ الْعَشِيَّةَ فَأُخْبِرُه أَنَّ عَائِشَةَ أَخْبَرَتْنِىْ أَنَّ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ قَضٰى فِىْ مِثْلِ هٰذَا : أَنَّ الْخَرَاجَ بِالضَّمَانِ فَرَاحَ إِلَيْهِ عُرْوَةُ فَقَضٰى لِىْ أَنْ اٰخُذَ الْخَرَاجَ مِنَ الَّذِىْ قَضٰى بِه عَلَىِّ لَه

মাখলাদ ইবনু খুফাফ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একটি দাস কিনেছিলাম এবং তার মাধ্যমে কিছু উপার্জনও করিয়েছিলাম। অতঃপর আমি তার মধ্যে একটি দোষ সম্পর্কে অবগত হলাম এবং শাসনকর্তা ‘উমার ইবনু ‘আবদুল ‘আযীয (রহঃ)-এর কাছে আমি তার বিষয়ে অভিযোগ করলাম। তিনি বিচার করলেন যে, আমি তাকে ফেরত দিতে পারবো, তবে অবশ্যই তার দ্বারা উপার্জিত সব কিছুই আমাকে ফেরত দিতে হবে। আমি ‘উরওয়াহ্ (রহঃ)-এর নিকট এ রায় জানালাম। তিনি বললেন, আমি সন্ধ্যাকালেই শাসনকর্তার নিকট যাবো এবং তাঁকে অবহিত করবো। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) আমাকে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ জাতীয় ঘটনায় রায় দিয়েছেন যে, উপার্জিত আয় তার তত্ত্বাবধান ব্যয় বলে সাব্যস্ত হবে। ‘উরওয়াহ্ (রহঃ) সন্ধ্যাকালেই ‘উমার ইবনু ‘আবদুল ‘আযীয (রহঃ)-এর কাছে গেলেন। এমতাবস্থায় তিনি বিচার করলেন যে, উক্ত উপার্জিত আয় তিনি পূর্বে (প্রথমে) যাকে দেয়ার জন্য আদেশ করেছিলেন তার কাছ থেকে আমি যেন তা ফেরত নেই।
(মিশকাতুল মাসাবিহ ২৮৭৯)

উক্ত সম্পদ দ্বারা ব্যবসা করে যে লভ্যাংশ অর্জিত হয়েছে বা হবে,তাহা গ্রহন করা জায়েজ নেই,এটিই অনেক ইসলামী স্কলারদের মত।

★তবে ইমাম শাফেয়ী ও মালেক রহঃ এর মতে সে ব্যাক্তি লভ্যাংশ নিজের পরিশ্রমের বিনিময় বা পারিশ্রমিক হিসাবে গ্রহণ করতে পারবে  (নববী, আল-মাজমূ‘ ৯/৩৫১)। 
তবে তাদের মতেও এহেন ব্যবসার লাভ পরিত্যাগ করাই অধিকতর নিরাপদ ও তাক্বওয়াপূর্ণ।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনার মায়ের ফিক্সড ডিপোজিটের জমানো সেই সুদ মিশ্রিত টাকায় ব্যবসা করা জায়েজ হবেনা।

এক্ষেত্রে আপনি যদি সে টাকা ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন, পরবর্তীতে সেই ঋণ যদি আপনি হালাল টাকায় পরিশোধ করেন, সেক্ষেত্রে আপনার এই পুরো ব্যবসা, ব্যবসার লাভ সবই হালাল হবে। অন্যথায় হালাল হবে না।

(০২)
আপনার চাচা যদি নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক না হোন, সেক্ষেত্রে তাকে আপনি এবং আপনার বাবা উভয়েই যাকাতের টাকা দিতে পারবেন।

এভাবে যাকাতের টাকা আস্তে আস্তে তার প্রয়োজন মোতাবেক পূরণ করার যেই ছুরত আপনি প্রশ্নে উল্লেখ করেছেন, এটা আপনারা করতে পারবেন।
সেক্ষেত্রে যখন তাকে যেই পরিমাণ যাকাত দিবেন,তখন সেই পরিমান আপনাদের যাকাত আদায় হবে।

এক্ষেত্রে ভালো হবে তার হাতে পুরো যাকাতের টাকা তুলে দিয়ে তার অনুমতিতে সেই টাকা কোথাও আলাদা ভাবে রেখে দিবেন।
সেখানে আপনারা কোনো হাত দিবেননা,শুধু মাত্র তার প্রয়োজনে তার অনুমতিতে তাহা খরচ করবেন।

তবে এক্ষেত্রে লক্ষণীয় যে তিনি আসলেই নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক কিনা?

তার যদি প্রয়োজন অতিরিক্ত জমি থাকে, প্রয়োজনে অতিরিক্ত ঘর বাড়ি থাকে, যেগুলোর বর্তমান মূল্য একত্রিত করলে নেসাব পরিমাণ সম্পদে পৌঁছে, প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ হাজার টাকার মতো হয়, সেক্ষেত্রে কিন্তু তাকে যাকাতের টাকা দেওয়া যাবে না।

এমতাবস্থায় তাকে যাকাত দিলে আপনাদের যাকাত আদায় হবেনা।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (16 points)
আসসালামু আলাইকুম 

উপরের ২ নং প্রশ্নে আমার যে চাচার কথা বলা হয়েছে উনার সম্পদ বলতে আমার দাদার সামান্য কিছু ভিটেবাড়ীর জমিজমা যা এমনিতেই গ্রামে আছে, এবং কোনো চাষাবাদ বা ফসলি জমি না। আমরা সকলে চাচা সহ শহরেই থাকি। এবং ওই জমি থাকা না থাকার সাথে চাচার দৈনন্দিন জীবনের চলাচলের কোনো সম্পর্ক নেই, অর্থাৎ এটি প্রয়োজনের অতিরিক্ত। দাম হিসাব করলে ওই জমির মূল্য অবশ্যই ১ লাখেরও অনেক বেশি হবে। 
কিন্তু এই জমির মূল্য কি চাচার ক্ষেত্রে নেসাব হিসেবে ধরা হবে?
by (604,290 points)
আপনার চাচা বিনা জরুরতে যাকাতের মাল খেতে পারবে না।
বিশেষ জরুরত হলে জরুরতে যাকাতের মাল খেতে পারবে।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 166 views
...