আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
47 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (4 points)
আসসালামু আলাইকুম উস্তাদ। দুধ মা হওয়ার বিষয়ে জানার ছিল। সম্প্রতি আমার জা এর একটা ছেলে বাবু হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ এবং আমারও একটা ৫ মাসের ছেলে বাবু আছে আলহামদুলিল্লাহ। আমার জা এর আরেকটি ৮ বছরের ছেলে আছে এবং আমার ৫ বছরের আরেকটি ছেলে আছে।
১. এখন যদি আমি আমার জা এর ছোট ছেলেটার দুধ মা হই তাহলে কি উনার বড় ছেলেটাও আমার দুধ ছেলে হিসেবে গণ্য হবে?

২. এক্ষেত্রে কি উনার বড় বাচ্চাটা যখন বালেগ হবে তখন ওর সাথেও আমার পর্দার বিধান শিথিল হবে?

৩. শুধু আমি যদি দুধ খাওয়াই তাহলে কি আমার ছেলেদের সাথেও আমার জা এর দুধ মায়ের সম্পর্ক হবে, পর্দার বিধান শিথিল হবে নাকি উনারও আমার ছেলেকে দুধ খাওয়াতে হবে?

৪. আর দুধ মা হওয়ার জন্য কি কোন নির্দিষ্ট পরিমাণ দুধ খাওয়ানো বা নির্দিষ্টবার দুধ খাওয়ানোর সীমা আছে নাকি শুধু একবার অল্প পরিমাণ খাওয়ালেও দুধ মায়ের সম্পর্ক তৈরি হবে??

আমরা জয়েন ফ্যামিলিতে থাকি এবং আমার জা এর বড় ছেলেটা আমার কাছে এসে অভ্যস্ত এবং আমার ছেলেটা আমার জা এর অনেক আদরের। তাই এই বিষয়ে আমাকে উত্তর দিয়ে সাহায্য করবেন ইন-শা-আল্লাহ।

1 Answer

0 votes
by (633,330 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
আয়েশা উম্মুল মু’মিনীন (রাঃ) বলেনঃ 
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ أَنَّهَا قَالَتْ جَاءَ عَمِّي مِنْ الرَّضَاعَةِ يَسْتَأْذِنُ عَلَيَّ فَأَبَيْتُ أَنْ آذَنَ لَهُ عَلَيَّ حَتَّى أَسْأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ذَلِكَ فَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَأَلْتُهُ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ إِنَّهُ عَمُّكِ فَأْذَنِي لَهُ قَالَتْ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّمَا أَرْضَعَتْنِي الْمَرْأَةُ وَلَمْ يُرْضِعْنِي الرَّجُلُ فَقَالَ إِنَّهُ عَمُّكِ فَلْيَلِجْ عَلَيْكِ قَالَتْ عَائِشَةُ وَذَلِكَ بَعْدَ مَا ضُرِبَ عَلَيْنَا الْحِجَابُ وَقَالَتْ عَائِشَةُ يَحْرُمُ مِنْ الرَّضَاعَةِ مَا يَحْرُمُ مِنْ الْوِلَادَةِ
পর্দার হুকুম নাযিল হওয়ার পর আমার দুধ চাচা আবুল কু’আয়সের ভাই আফলাহ (রাঃ) আমার নিকট প্রবেশের অনুমতি চাহিলেন। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা না করা পর্যন্ত তাহাকে অনুমতি দিতে অস্বীকার করিলাম। আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাশরীফ আনিলেন এবং আমি এই বিষয়টি তাহাকে অভিহিত করিলাম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে আমার নিকট আসার অনুমতি দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিলেন।
আয়েশা (রাঃ) বলিলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে স্ত্রীলোক দুধ পান করাইয়াছে, পুরুষ আমাকে পান করায় নাই। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ তিনি তোমার চাচা, তোমার নিকট সে প্রবেশ করিতে পারিবে আয়েশা (রাঃ) বলেন, এই ঘটনা পর্দার হুকুম নাযিল হওয়ার পরে সংঘটিত হইয়াছে।[1] আয়েশা (রাঃ) বলিয়াছেনঃ জন্মের (সম্পর্কের) দ্বারা যাহা হারাম হয় দুধ পানের (সম্পর্কের) দ্বারাও উহা হারাম হইবে।(মুয়াত্তা ইমাম মালিক-১২৬৯)


দুধ পানের মুদ্দত বা সময়সীমা সাধারণত দুই বৎসর।দুই বৎসর পর সন্তানকে দুধ পান করানো যাবে না।হ্যা, বিশেষ জরুরতে সর্বোচ্ছ আড়াই বৎসর পর্যন্ত দুধ পান করানো যাবে। আড়াই বৎসর পর যদি কোনো শিশু কোনো মহিলার দুধ পান করে,তাহলে এদ্বারা দুধ সম্পর্ক প্রমাণিত হবে না।এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/1490


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
(১) এখন যদি আপনি আপনার জা এর ছোট ছেলেটার দুধ মা হন, তাহলে উনার বড় ছেলেটা আপনার দুধ ছেলে হিসেবে গণ্য হবে না।

(২) এক্ষেত্রে উনার বড় বাচ্চাটা যখন বালেগ হবে তখন ওর সাথে আপনাকে সম্পূর্ণ পর্দা করতে হবে।

(৩) শুধু আপনি যদি দুধ খাওয়ান, তাহলে আপনার ছেলেদের সাথে আপনার জা এর দুধ মায়ের সম্পর্ক হবে না। পর্দার বিধানে শিথিলতা হবে না।   

(৪) দুধ মা হওয়ার জন্য কোন নির্দিষ্ট পরিমাণ দুধ খাওয়ানো শর্ত নয়। তবে দুধ খাওয়ানোর নির্দিষ্ট সময় সীমা রয়েছে। একবার অল্প পরিমাণ দুধ খাওয়ালেও দুধ মায়ের সম্পর্ক তৈরি হবে।

বিঃদ্রঃ 
পরিকল্পিত ভাবে দুধ সম্পর্ক তৈরী কখনো জায়েয হবে না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...