আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
58 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (3 points)
السلام عليكم و رحمة الله و بركاته

১) সালাতের সিজদাতে কি তাসবিহ পাঠের পর বাংলাতে দো'আ করা যাবে? আমি শুনেছি ফরজ নামাজে করা যাবে না, তাহলে কি সুন্নহ বর নফল নামাজে করা যাবে?

আর সব নামাজের সিজদায় কি কোর'আনের কোনো আয়াত পড়া যাবে দো'আ হিসেবে? রব্বানা দো'আ গুলো পড়া যাবে ফরজ সুন্নাত নফল নামাজের সিজদায়?

২) মসজিদে জামায়াতে নামাজের ক্ষেত্রে মসজিদে প্রবেশ করে যদি দেখি ইমাম নামাজ শুরু করে দিয়েছে এবং ১ম রাকাআতের রুকুতে আছে, তবে কি ঢুকে মাত্র ইমামের সাথে রুকুতে চলে যাবো? নাকি তাকবীর দিয়ে সানা পড়ে রুকুতে যাবো? এরপর যে রাকাআত গুলো মিস গিয়েছে ঐগুলো কিভাবে পড়বো?

৩) সাহরির শেষ সময় যদি ৪:৫৪ হয় এবং ফজরের ওয়াক্ত শুরু হয় ৪:৫৫তে, এখন কেউ যদি ৪:৫৪তে পানি খায় ৪:৫৫তে পৌছানোর আগেই পানি খেয়ে শেষ করে তাহলে কি তার রোজাটা হবে?

৪) অজ্ঞাতবশত কেউ যদি ওযুর সময় গড়গড়া করে তাহলে কি রোজা ভেঙে যাবে? পানি পেটে গিয়েছে নাকি যায়নি সেটা যদি না বুঝতে পারে? আর যদি সন্দেহের মধ্যে থাকে যে গড়গড়া করেছে নাকি করেনি মানে পড়ছে না। সেই ক্ষেত্রে কি ধরে নিবে?

৫) প্রতিদিনের রোজার নিয়্যাত নাকি প্রতিদিন করতে হয়, তো রোজার নিয়্যাত কি মুখে করা বাধ্যতামূলক? আর নিয়্যাত তো থাকেই যে পরদিন রোজা রাখবো আবার রোজা রাখবো সেই নিয়্যাতেই তো সাহরি করি, তাহলে আবার আলাদা করে নিয়্যাত কিভাবে করবো?
এতদিন তো মুখে ঐভাবে নিয়্যাত করি নি। তাহলে রোজাগুলো হয় নি একটাও?

1 Answer

0 votes
by (607,050 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
হাদীস শরীফে এসেছেঃ   
রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন

إِنَّ هَذِهِ الصَّلَاةَ لَا يَصْلُحُ فِيهَا شَيْءٌ مِنْ كَلَامِ النَّاسِ، إِنَّمَا هُوَ التَّسْبِيحُ وَالتَّكْبِيرُ وَقِرَاءَةُ الْقُرْآنِ»

নিশ্চয় এ নামায; এতে মানুষের মুখে প্রচলিত কথা বলা উচিত নয়। নিশ্চয় এটি তাসবীহ, তাকবীর এবং কুরআন তিলাওয়াতের স্থান। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-৫৩৭] 

আপনি নামাযের বাহিরে বাংলায় দু'আ করবেন, অথবা আপনি আপনার অন্তরে সেই বিশেষ বিষয়কে উপস্থিত রেখে মুজমাল দু'আ যাতে দুনিয়া আখেরাতের সকল প্রকার কল্যাণ রয়েছে,যেমন "রাব্বানা আতিনা ফিদ-দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ"  কুরআন-হাদীসে বর্ণিত এমন দু'আ করতে পারবেন।

নফল সালাতে বাংলায় দু'আ সম্পর্কে কেউ কেউ রুখসত দিয়ে থাকেন।

বিস্তারিত জানুনঃ   

নামাযের সেজদায় শুধুমাত্র কুরআন-হাদীসে বর্ণিত দু'আ গুলোই করা যাবে।
সেজদায় গিয়ে سبحان  ربي الأعلى 
ছাড়াও অন্যান্য দোয়া পড়া যাবে। সমস্যা নেই। কিন্তু দুনিয়াবি দোয়া বা আরবী ছাড়া অন্য কোন ভাষায় দুআ করা যাবে না।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেজদায় অনেক দোয়া পাঠ করতেনঃ

عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِىَّ -صلى الله عليه وسلم- كَانَ يَقُولُ فِى سُجُودِهِ « اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِى ذَنْبِى كُلَّهُ دِقَّهُ وَجِلَّهُ وَأَوَّلَهُ وَآخِرَهُ

হযরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ সেজদায় পড়তেন আল্লাহুম্মাগফিরলি জামবি’ কুল্লাহু দিক্কাহু ওয়া জিল্লাহু ওয়া আওয়ালাহু ওয়া আখিরাহু”। {তাহাবী শরীফ, হাদিস নং-১৩০৭, সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং-৮৭৮, সহীহ মুসলিম, হাদিস নং-১১১২, সহীহ ইবনে খুজাইমা, হাদিস নং-৬৭২, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নং-১৯৩১}
আরো জানুনঃ  
.
★প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
হানাফী মাযহাব অনুসারে যেকোনো ধরনের স্বলাতে অর্থাৎ ফরজ, সুন্নাত, নফল, বিতির স্বলাতে সিজদায় আরবি কুরআন হাদীসে বর্ণিত দু'আ করা যাবে,তবে বাংলায় দু'আ করা যাবেনা।
বাংলায় দু'আ করলে স্বলাত ভেঙ্গে যাবে। 

তবে নফল সালাতে বাংলায় দু'আ সম্পর্কে কেউ কেউ রুখসত দিয়ে থাকেন।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
আপনি সেজদায় বাংলায় দোয়া করতে চাইলে আপনার অন্তরে সেই বিশেষ বিষয়কে উপস্থিত রেখে মুজমাল দু'আ যাতে দুনিয়া আখেরাতের সকল প্রকার কল্যাণ রয়েছে,যেমন "রাব্বানা আতিনা ফিদ-দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ"  কুরআন-হাদীসে বর্ণিত এমন দু'আ করতে পারবেন।

মুখে উচ্চারণ করে বাংলা শব্দ বলা যাবেনা।
মুখে উচ্চারণ না করে মনে মনে বলতে পারবেন।

সব নামাজের সিজদায় কোর'আনের দোয়া মূলক আয়াত পড়া যাবে দো'আ হিসেবে। রব্বানা দো'আ গুলো পড়া যাবে ফরজ সুন্নাত নফল নামাজের সিজদায়।

(০২)
দাঁড়িয়ে তাকবিরে তাহরিমা বলে রুকুর তাকবির বলে সরাসরি রুকুতে চলে যাবেনা।

সানা পড়বেননা।

এক্ষেত্রে কোনো রাকাত ছুটে গিয়ে থাকলে ইমামের সালাম ফিরানোর পর সেই রাকাত আদায় করার জন্য দাঁড়িয়ে সানা পড়বেন।
তারপর অবশিষ্ট নামাজ আদায় করবেন।

কোনো রাকাত ছুটে গিয়ে থাকলে অবশিষ্ট রাকাত আদায়ের নিয়ম সংক্রান্ত বিস্তারিত জানুনঃ 

(০৩)
রোযাটা হবে।
তবে সতর্কতা কাম্য

আরো জানুনঃ- 

(০৪)
পানি গলায় চলে গেলে রোযা ভেঙ্গে যাবে।
অন্যথ্যায় রোযা ভেঙ্গে যাবেনা 

পানি গলায় গিয়েছে? নাকি যায়নি,এমন সন্দেহে থাকলে সতর্কতামূলক সেই রোযার কাজা আদায় করতে পারেন।

(০৫)
প্রশ্নের বিবরন মতে এক্ষেত্রে আলাদা করে নিয়্যাত করতে হবেনা।
আপনি যেহেতু রোযা রাখার উদ্দেশ্যেই সাহরী করছেন,সুতরাং সেটিই নিয়ত হিসেবে যথেষ্ট। 

সাহরী যদি কোনোদিন না খান,উঠতে না পারেন,সেক্ষেত্রে শুধু রোযা রাখলাম, মনে মনে বললেই হবে।

বিস্তারিত জানুনঃ- 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 184 views
...