আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
41 views
in যাকাত ও সদকাহ (Zakat and Charity) by (1 point)
আমার এক পরিচিত দাদা বর্তমানে তার কিছু সম্পদ তার ছেলের নামে উইল করতে চাচ্ছেন বা লিখে দিতে চাচ্ছেন।। সেই দাদার চার মেয়ে এক ছেলে।। দাদারা পাঁচ ভাই তিন বোন,, সম্ভবত।। দাদা দ্বীনের বিষয়ে বেশ ভালো জানেন,, আমাদের জানা মতে,, এবং মানারও সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন তার জীবনে।।  তিনি তার বাবা-দাদার কাছ থেকে প্রাপ্ত সম্পদ ইসলাম মোতাবেক সঠিকভাবে ভাইবোন,, ছেলেমেয়েদের মধ্যে বন্টন করে দেওয়ার উইল করেছেন বা দিয়ে দিয়েছেন।। কিন্তু ঝামেলা হচ্ছে,, তিনি তার কিছু সম্পদ শুধু তার ছেলের নামে লিখে দিতে চাচ্ছেন,, এইটা তার মেয়েরা মেনে নিতে চাচ্ছেন না।। বলে রাখি,, এই সম্পদ তার পৈতৃক ভাবে পাওয়া না।। যেই দাদার কথা বলছি,, উনার এক মামার কোনো সন্তান ছিলো না,, দাদার সেই মামার শেষ সময় এই দাদা তার যত্ন নিয়েছিলেন।। তখন দাদা একাই ছিলেন,, তখনও তার আর কোনো ভাইবোন হয়নি,, পরে হয়েছে।। দাদার মামা মারা যাওয়ার আগে দাদার উপর খুশি হয়ে দাদাকে বেশ কিছু জমি লিখে দিয়ে যান।। পরবর্তীতে দাদার ভাইবোনদের দ্বায়িত্ব পালন করতে গিয়ে,, তাদের বড় করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওই মামার কাছ থেকে পাওয়া জমি থেকে কিছু কিছু করে বিক্রি করেন।। পরে তার চার মেয়েদের বিয়ের জন্যও বেশ কিছুটা করে সেই মামার কাছ থেকে পাওয়া জমি থাকেই বিক্রি করেন।। কিন্তু তিনি তার একমাত্র ছেলের জন্য বলতে গেলে কিছুই করেননি।। অর্থ সম্পদ দিয়ে ছেলের লেখাপড়া বা কর্মব্যবস্থা করে দেওয়া বা জমি রেখে ছেলের নামে দেওয়া,, কিছুই না।। দাদা সম্ভবত মনে মনে নিজেকে তার ছেলের কাছে অপরাধী ভাবেন।। বর্তমানে দাদার শরীর কিছুটা খারাপের দিকে যাওয়ায়,, তিনি বরাবরের মতো তার ছেলেকে জোড় করছেন যেন ওই দান শর্তে প্রাপ্ত সম্পদ থেকে যতটুকু বাকি আছে ওটুকু যেন ছেলে লিখে নেয়।। ছেলে বরাবরের মতোই বলছে,, "আমি শরিক ঠকাবো না আব্বা।।" কিন্তু দাদা বলছেন,, "আমি যা কিছু করছি,, বুঝেই করছি।। ভুল কিছু করছি না।। আল্লহ এটুকু বোধ আমাকে দিছে।। যা বলছি,, শোন।।" কিন্তু দাদার মেয়েরা কেউই দাদার এই সিদ্ধান্তে রাজি না।। তারাও এখন এই জমিতে ভাগ চাচ্ছে।। আবার দাদার ছোট ভাই দাদাকে বলছেন,, "তোমার সম্পদ থেকে তো তুমি আমাদের জন্যই খরচ করেছো।। আমরা তো সবাই পেয়েছিই।। এখন তুমি এটুকু তোমার ছেলেকে দিতেই পারো।।" এখন প্রশ্ন হচ্ছে,, দাদা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন,, তা কি ঠিক আছে??!! নাকি শরিয়ত মোতাবেক এই সম্পদেরও ভাগ হওয়া প্রয়োজন??!!

1 Answer

0 votes
by (72,810 points)

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

জবাবঃ

https://ifatwa.info/64869/ নং ফাতওয়ায় উল্লেখ রয়েছে যে,

জীবিত অবস্থায় ওয়ারিশদের মাঝে সম্পত্তি দিলে সেটাকে হেবা বলে, মৃতবরনের পর সম্পত্তির ভাগকে মিরাছ বলে।

ব্যক্তি জীবিত এবং সুস্থ্য থাকা অবস্থায় তার মালিকানাধীন সম্পদ যাকে ইচ্ছে দান করতে পারে। যেখানে ইচ্ছে খরচ করতে পারে। এতে তার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।

,

ব্যক্তি জীবিত থাকা অবস্থায় তার অর্জিত সম্পদের একক মালিকানা তার হাতেই থাকে। তাতে যাচ্ছে তাই হস্তক্ষেপের অধিকার তার রয়েছে। এতে কেউ হক দাবী করার অধিকার রাখে না। তার মালিক তার সন্তান বা অন্য কেউ নয়। হ্যাঁ, মৃত্যুর পরের কথা ভিন্ন। তখন শরয়ী নীতিমালা অনুপাতে সম্পদ বন্টন করতে হয়। সে সময় ওয়ারিশগন নীতি অনুসারে সম্পদের দাবী করতে পারবেন। তবে জীবদ্দশায় কেহ সম্পদ দিয়ে গেলে সেটি হিবা তথা গিফট।

,

যদি কোনো ব্যাক্তি জীবিত অবস্থায় তার সম্পদ সন্তানদের দিয়ে যেতে চায়, সেক্ষেত্রে নিয়ম হলোঃ

প্রথমে নিজের বাকি জিবনের জন্য যাহা কিছু রাখতে চায়, ততটুকু সম্পদ রেখে দিবে, যাতে করে পরবর্তীতে মুখাপেক্ষী না হতে হয়। অতঃপর স্ত্রী জীবিত থাকলে তাকে  সম্পদের আট ভাগের এক ভাগ দিবে। অবশিষ্ট সম্পদ তার সন্তানদের মাঝে বরাবর করে বন্টন করে দিবে।

এই বরাবর করে বন্টন করা উত্তম। যদি মিরাছের নিয়ম অনুযায়ী মেয়েকে ছেলের তুলনায় অর্ধেক দেয়, সেটিও জায়েজ আছে।

,

হাদীস শরীফে এসেছেঃ

  النُّعمَانِ بنِ بَشِيرٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا : أَنَّ أبَاهُ أتَى بِهِ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: إِنِّي نَحَلْتُ ابْنِي هَذَا غُلاَماً كَانَ لِي، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: أَكُلَّ وَلَدِكَ نَحَلْتَهُ مِثْلَ هَذَا ؟» فَقَالَ: لاَ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: فَأَرْجِعهُ وَفي رِوَايةٍ: فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: أَفَعَلْتَ هذَا بِوَلَدِكَ كُلِّهِمْ ؟ قَالَ: لاَ، قَالَ: اِتَّقُوا الله وَاعْدِلُوا فِي أَوْلاَدِكُمْ فَرَجَعَ أَبِي، فَرَدَّ تِلْكَ الصَّدَقَةَ . وفي روايةٍ : فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «يَا بَشيرُ أَلَكَ وَلَدٌ سِوَى هَذَا ؟» فَقَالَ: نَعَمْ، قَالَ: «أكُلَّهُمْ وَهَبْتَ لَهُ مِثْلَ هذَا ؟» قَالَ: لاَ، قَالَ: فَلاَ تُشْهِدْنِي إِذاً فَإِنِّي لاَ أَشْهَدُ عَلَى جَوْرٍ وفي روايةٍ : «لاَ تُشْهِدْنِي عَلَى جَوْرٍ» . وفي رواية : «أَشْهِدْ عَلَى هذَا غَيْرِيثُمَّ قَالَ: «أَيَسُرُّكَ أَنْ يَكُونُوا إِلَيْكَ فِي البِرِّ سَواءً؟» قَالَ: بَلَى، قَالَ: «فَلا إِذاً» . متفق عليه

 নু’মান ইবনে বাশীর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তাঁর পিতা তাঁকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে হাজির হয়ে বললেন, ‘আমি আমার এই ছেলেকে একটি গোলাম দান করেছি। [কিন্তু এর মা আপনাকে সাক্ষী রাখতে বলে।]’ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, ‘‘তোমার সব ছেলেকেই কি তুমি এরূপ দান করেছ?’’ তিনি বললেন, ‘না।’ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘তাহলে তুমি তা ফেরৎ নাও।’’

,

অন্য এক বর্ণনায় আছে, ‘‘তোমার সব ছেলের সঙ্গেই এরূপ ব্যবহার দেখিয়েছ?’’ তিনি বললেন, ‘না।’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং তোমাদের সন্তানদের মাঝে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা কর। সুতরাং আমার পিতা ফিরে এলেন এবং ঐ সাদকাহ [দান] ফিরিয়ে নিলেন।’’

,

আর এক বর্ণনায় আছে, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘হে বাশীর! তোমার কি এ ছাড়া অন্য সন্তান আছে?’’ তিনি বললেন, ‘জী হ্যাঁ।’ [রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন, ‘‘তাদের সকলকে কি এর মত দান দিয়েছ?’’ তিনি বললেন, ‘জী না।’ [রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন, ‘‘তাহলে এ ব্যাপারে আমাকে সাক্ষী মেনো না। কারণ আমি অন্যায় কাজে সাক্ষ্য দেব না।’’

,

অন্য এক বর্ণনায় আছে, ‘‘আমাকে অন্যায় কাজে সাক্ষী মেনো না।’’

,

অন্য এক বর্ণনায় আছে, ‘‘এ ব্যাপারে তুমি আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে সাক্ষী মানো।’’ অতঃপর তিনি বললেন, ‘‘তুমি কি এ কথায় খুশী হবে যে, তারা তোমার সেবায় সমান হোক?’’ বাশীর বললেন, ‘জী অবশ্যই।’ তিনি বললেন, ‘‘তাহলে এরূপ করো না।’’

(সহীহুল বুখারী ২৫৮৬, ২৫৮৭, ২৬৫০, মুসলিম ১৬২৩, তিরমিযী ১৩৬৭, নাসায়ী ৩৬৭২-৩৬৮৫, আবূ দাউদ ৩৫৪২, ইবনু মাজাহ ২৩৭৫, ২৩৭৬, আহমাদ ১৭৮৯০, ১৭৯০২, ১৭৯১১, ১৭৯৪৩, মুওয়াত্তা মালিক ১৪৭৩)

,

অন্য বর্ণনায় এসেছে হযরত নোমান ইবনে বশীর (রাযি.) বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা (সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে) তোমাদের সন্তানদের মাঝে ইনসাফ করো। তোমাদের সন্তানদের মাঝে ইনসাফ করো।’ (সহীহ বুখারী : ১/৩৫২; সুনানে আবুদাউদ : ৩৫৪৪)

,

আরো জানুনঃ

https://ifatwa.info/6405/

,

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!

,

প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনার দাদার জন্য উত্তম হলো যে, এভাবে ছেলেকে আলাদাভাবে সম্পদ লিখে না দেওয়া। বরং তার মৃত্যুর পর তার পুরো সম্পদ ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী বন্টন হবে। আর এই ক্ষেত্রে ছেলে এমনিও বোনদের থেকে বেশী পাবে। তাই এটাই উত্তম হবে। আর অনেক সময় মৃত্যুর আগে সব সম্পদ লিখে দিলে অনেক ঝামেলাও হয়। আর যদি প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে মেয়েদেরকে তার সম্পদ থেকে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যেই ছেলের নামে লিখে দিতে চান তাহলে আপনার দাদার মারাত্মক গোনাহ হবে। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী আব্দুল ওয়াহিদ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)
by (1 point)
reshown by
আফওয়ান।। আর একটু ঠিক ভাবে বুজে নেওয়ার জন্য জিজ্ঞাসা।। তিনি মেয়েদের বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে কিছু করছেন না।। উপহার হিসেবে তার মামার কাছ থেকে পাওয়া সম্পদ থেকে হিসাব মতো বা হিসাবের বেশিই তিনি তার মেয়েদের জন্য খরচ করেছেন।। এখন ওই সম্পদের যতটুকু আছে,, হিসাব মোতাবেক তা তার ছেলের ভাগে কম ই হয়ে যায়।। কিন্তু তিনি তার এক ছেলের জন্য কোনো খরচ না করায়,, বর্তমানে তিনি তার ছেলের নামে ঐ কিছুটা জমি লিখে দিতে চাচ্ছেন।।  তিনি কিন্তু তার পৈতৃক সম্পদে এমন কিছু করতে চাননি।। তার বাবা-দাদার কাছ থেকে পাওয়া সম্পদ সব ইসলাম মোতাবেক সঠিকভাবে ভাগ করে দিয়েছেন বা উইল করে রেখেছেন।। এক্ষেত্রেও কি একই হুকুম??!!
by (1 point)
অনুগ্রহ করে বিষয় টা যদি একটু ক্লিয়ার করতেন,, অনেক উপকৃত হতাম ইং শা আল্লহ।। 

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...