আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
28 views
ago in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (1 point)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ,
প্রশ্নটা একটু লম্বা তবে আমার জানা খুব দরকার

(আমার পরিবারে আম্মু,আব্বু আর ছোট ভাই ভাবি, আমি মোটামোটি ইসলাম পালনের চেষ্টা করি আলহামদুলিল্লাহ)

তবে দুঃখজনক হলেও আব্বুর মধ্যে গাইরতের বড় অভাব এবং দেখা যায় এই যুগে ভার্সিটি চাকরি এগুলোকে সফলতা মনে করে

আমি ২০২৬ এর একজন এইচ এস সি পরীক্ষার্থী বিজ্ঞান বিভাগের
বর্তমানে একটি মহিলা কলেজে অধ্যয়নরত
আমাদের কলেজে ছেলে না থাকলেও পুরুষ শিক্ষক পড়ায়
সরকারি কলেজ হওয়ায় যাওয়া লাগে না তবে প্র‍্যাক্টিকেল ক্লাস শুরু হলে যাওয়া লাগবে হয়তো

এছাড়াও সাইন্সে হওয়ায় প্রাইভেট পড়া লাগে তো আমি বাইরের সব প্রাইভেট বাদ দিয়ে বাসায় বলেছি ঘরে অনলাইনে পড়ব কিন্তু কথা হচ্ছে অনলাইনে সরাসরি টিচারদের সাথে কোনো যোগাযোগ হয় না তবে দৃষ্টি তো দিতে হয়...
আমি বাসায় কয়েকদিন আগে বলেছি যে আমি আর পড়াশোনা করতে চাই না
তো আমার আম্মু আব্বু ভাই অনেক কিছু বুঝায় আমাকে -
যে ভবিষ্যতে আমার বাচ্চা হবে ওদের পড়ানো লাগবে এছাড়াও বিয়ের জন্য নাকি পড়াশোনা দেখে যে মেয়ে কেমন ছাত্রী।আমি বলেছি এই শিক্ষা ব্যবস্থায় কোনো ছেলে এই রকম চাওয়া টাই তো খারাপ। কিন্তু তাও আমাকে বোঝায় যে আমি বাড়াবাড়ি করি আর এট লিস্ট এইচ এস সি যেন দেই
এটা না দিলে নাকি ভবিষ্যতে অনেক দুয়ার বন্ধ হয়ে যাবে(আমার ভাই আগে এসব ফ্রি মিক্সিং বা সিমিলার ব্যাপারে সিরিয়াস ছিল জানিনা কি হয়েছে)

আমি ওদেরকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি যে আমার দ্বীনের ইলম টা তো বেশি জরুরী
(আমি আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে জানা শুরু করি ক্লাস ৭ থেকে আর তখন আমি এখন থেকেও দ্বীনের ব্যাপারে অনেকটা এক্টিভ ছিলাম।আমি নিশ্চিত এরপর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার চাপে আল্লাহর দ্বীন থেকে দূরে ছিলাম কারণ অনেক হারাম থাকে এখানে। আলহামদুলিল্লাহ এখন থেকে পরিপূর্ণ পালনের চেষ্টা করতে চাই এবং দ্বীনের ইলম অর্জন করতে চাই)

আম্মু খুব একটা কিছু বলে নাই তবে প্রথমবার রাগ হয়ে বলেছিল যে আমি যেন নিজের পাত্র নিজে খুঁজে নি।কিন্তু পরে বেশি কিছু বলে নাই

আর আব্বু কেও বলেছি যে এই শিক্ষা ব্যবস্থায় কি আমার কোনো দিন নামাজ কাজা হয়নি?কোনো দিন কি আমাকে মুখ খুক্তে বাধ্য করে নি?

আব্বু বলতেছে যে কখনো কখনো হয়ত এরকম হয়েছে(মানে এটা তো নর্মাল এমন টাইপ রিপ্লাই)
ওদের কথা আমার এখন কন্টিনিউ করা উচিত
আমি উনাদেরকে অনেক লেখা পড়তে দিয়েছি এসব নিয়া প্লাস নিজেও বোঝানোর চেষ্টা করেছি
আমাকে বলে যে আমাদের পক্ষে তো ১০০% মেনে চলা সম্ভব না

তো ওই দিন আবার আমার মামাকে এসব জানায় তো মামা আমাকে বলল যে সমস্যাটা কি আর সমাধানটা কি
আমি বলছি যে বাইরে যাওয়াটা সমস্যা আর সমাধান বাসায় থাকা
এর পর জানতে চেয়েছে এরকম পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছে এমন কাউকে আমি চিনি কি না
উত্তর দিলাম না
তারপর বলল যে তুমি যাদের লেখা পড়লা তারা কি পড়া শোনা করছে ফকিহ কি না নাকি আলেম ওইটাও তো জানো না।তুমি যাদের পোস্ট পড়েছ তারা তো এটার সমাধান দেয় নি তোমার এটা নিয়ে আরও জানাশোনা করা উচিত এবং আরও টাইম দেওয়া উচিত

আমি আম্মুকে এটাও বুঝিয়েছি যে এই পড়াগুলো তো আমার জন্য ফরজ না তাছাড়া চোখের আর মনের হেফাজতও তো করা প্রয়োজন।আম্মু কিছু সময় আমাকে সাপোর্ট করে আবার বলে যে সবাই এমন হয় না
আমি অনেক বার বোঝানোর ট্রাই করেছি যে শুধু বোরকা হিজাব নিকাব পড়েই সব কিছু করা যায় না বাইরে কোনো কারণ ছাড়া এত যাওয়া যায় না এছাড়াও পরপুরুষের দিকে এভাবে দেখা যায় না

কিন্তু ওদের কথা এখন যা পড়া চলছে এটা চালাতে আপাতত তবে এক্সামের আগে বিয়ে হলে যদি হাজবেন্ড না পড়ায় তাতে প্রব্লেম নাই!!

আমাকে এটাও বোঝায় যে তুমি যদি এভাবে চলো তার পরও এত ভালো ছেলে কি পাবা আরও অনেক কিছু
❝একটা কথা আমার যদি এক্সামের আগে বিয়ে হয় আর আমার হাজবেন্ড না পড়ায় এটাতে আবার প্রব্লেম নাই❞
আবার ছেলের কম ইনকাম থাকলেও নাকি সমস্যা এটাও বোঝায়

আমার এখন এসব চিন্তায় কোনো কাজে মন বসে না আল্লাহর কাছে দোয়া করি

আমি এসব বিষয় বেশি বললেও বিরক্ত হয়ে যায় অনেক
এ অবস্থায় আমার কি করা উচিত?

1 Answer

0 votes
ago by (618,960 points)

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
জেনারেল শিক্ষা অর্জন সম্পর্কে আমরা ইতি পূর্বে বলেছিলাম যে, 
বলা যায় মুসলিম দেশের মুসলিম সরকারের জন্য ওয়াজিব যে,অচিরেই পৃথক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা।
প্রয়োজনে এ জন্য শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী পালন করা সমস্ত মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব ও কর্তব্য।
কিন্তু যতদিন পর্যন্ত এই পৃথক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু না হচ্ছে ,ততদিন প্রয়োজনের তাগিদে নিম্নোক্ত শর্তাদির সাথে কলেজ-ভার্সিটিতে শিক্ষা গ্রহণের পরামর্শ দেয়া যেতে পারে।

১/শিক্ষা অর্জন দেশ ও মুসলিম জাতীর খেদমতের উদ্দেশ্যে হতে হবে।
২/চোখকে সব সময় নিচু করে রাখতে হবে,প্রয়োজন ব্যতীত কোনো শিক্ষক/শিক্ষিকার দিকে তাকানো যাবে না।মহিলা/পুরুষ তথা অন্য লিঙ্গের  সহশিক্ষার্থীদের সাথে তো কোনো প্রকার সম্পর্ক রাখা যাবেই না।সর্বদা অন্য লিঙ্গর শিক্ষার্থী থেকে নিজেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখতে হবে।(ফাতাওয়া উসমানী ১/১৬০-১৭১)(শেষ)
এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/434

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
প্রশ্নের বিবরণমতে আপনি সহশিক্ষা ব্যবস্থায়ও নিজ ঈমান আমলকে হেফাজতে রেখে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবেন। এতে কোনো সমস্যা হবে না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...