0 votes
96 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (21 points)
উস্তাদ, আমরা তাজবিদ শিক্ষারত অবস্থায় কুরআন পড়ে খতম দিতে চাইলে তিলাওয়াত করা যাবে কি? আমাদের তাজবীদ এখনো ততটা পাকা পোক্ত নয়,এক্ষেত্রে অনিচ্ছাকৃত ভূল হতে পারে।তাই আমরা কি কুরআন খতম থেকে বিরত থাকবো?এতে কি গুনাহ হবে?

1 Answer

0 votes
by (30.9k points)
বিসমিহি তা'আলা

সমাধানঃ-

তাজবিদ শিক্ষাঃ
তাজবিদের যে কায়দা সমূহ আদায় না করিলে অর্থের মধ্যে ফাসাদ সৃষ্টি হতে পারে সে সমস্ত কায়দাকে শিক্ষা করা ও সেই কায়দা অনুযায়ী কুরআন তেলাওয়া  করা ফরয।অন্যদিকে যে সমস্ত কায়দা-কে ফলো না করলে অর্থের মধ্যে কোনো পরিবর্তন নিয়ে আসবে না সেগুলোকে শিক্ষা করা ও সে অনুযায়ী কুরআন তেলাওয়াত করা মুস্তাহাব।
এ কায়দা সমূহকে ফলো না করলে তেলাওয়াত কারী গোনাহগার হবে না।

তাজবিদ এর অর্থঃ
তাজবিদের শাব্দিক অর্থ,সুন্দর্য্য।
পরিভাষায় মাখরাজঃ
সিফাত আদায় পূর্বক মাখরাজ হতে হরফের উচ্ছারণকে তাজবিদ বলে।(অর্থাৎ-পরিভাষায় তাজবিদ বলা হয়,মাখরাজ হতে হরফ সমূহের উচ্ছারণ ও চিকন-গাড় স্বরের সিফাত সমূহের আদায় করণ এবং কোনো প্রকার বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ি ব্যতীত আওয়াজকে লম্বা করে উচ্ছারণ করণ কে)

তাজবিদ বিষয়ে পূর্ণ পাণ্ডিত্য অর্জন করা ফরযে কেফায়াহ।তথা একশ্রেণী লোক তাজবিদের বিশেষজ্ঞ হয়ে গেলে অবশিষ্ট উম্মতের পক্ষ থেকে তা আদায় হয়ে যাবে।

ব্যক্তিগত ভাবে তাজবিদের সাধারণ জ্ঞান শিক্ষা সম্পর্কে মুতা'আখখিরিন উলামায়ে কেরাম বলেন,
তাজবিদের এমন পরিমাণ জ্ঞান যা আদায় না করিলে অর্থ পরিবর্তন-পরিবর্ধন হয়ে যেতে পারে,এমন জ্ঞান অর্জন করা ব্যক্তিগত ভাবে প্রত্যেকের উপর ওয়াজিব।

আর এমন জ্ঞান যা আদায় না করলে আপাত দৃষ্টিতে অর্থের মধ্যে কোনো প্রকার সমস্যা করবে না, বরং যা তেলাওয়াতের সুন্দর্য্য-কে বৃদ্ধি করে,সেই পরিমাণ জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেকের উপর মুস্তাহাব।

প্রকাশ থাকে যে,
ক্বেরাত বিশেষজ্ঞ উলামায়ে কেরাম বলেন,তাজবিদ শিক্ষা করা প্রত্যেকে মুসলমানের উপর ফরযে (আইন)।
ক্বেরাত বিশেষজ্ঞ মুহাস্মদ ইবনে জাযরি রাহ বলেন,
ﻭﺍﻷﺧﺬ ﺑﺎﻟﺘﺠﻮﻳﺪ ﺣﺘﻢ ﻻﺯﻡ ﻣﻦ ﻟﻢ ﻳﺠﻮﺩ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﺁﺛﻢ .
তাজবিদ সহকারে কোরআন শিক্ষা করা অতি অত্যাবশ্যকীয়।তাজবিদ সহকারে যে কুরআন পড়বে না সে গোনাহগার হবে।
কিন্তু উনার ছেলে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ জাযরি এই কবিতার ব্যখ্যায় লিখেন,যাদের জন্য পূর্ণ তাজবিদ সহকারে কুরআন তেলাওয়াত সম্ভব। শুধুমাত্র তাদের জন্যই পূর্ণ তাজবিদ সহকারে কুরআন তেলাওয়াত করা ওয়াজিব।
আর যাদের বেলায় সম্ভব নয়, তাদের জন্য পূর্ণ তাজবিদ সহকারে কুরআন তেলাওয়াত করা ওয়াজিব নয়।বরং অর্থে পরিবর্তন আসেনা এমনকরে কুরআন পড়াই তাদের জন্য যথেষ্ট হবে।
এমনকি তারা পূর্ণ তাজবিদ সহকারে না পড়লেও তাদের কোনোপ্রকার গোনাহগার হবেন না।(শরহু তাইয়্যিবাতুন-নাশর-৬৩)

কেননা হাদীস শরীফে এসেছে,
হযরত আয়েশা রাযি থেকে বর্ণিত,
وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ -: " «الْمَاهِرُ بِالْقُرْآنِ مَعَ السَّفَرَةِ الْكِرَامِ الْبَرَرَةِ، وَالَّذِي يَقْرَأُ الْقُرْآنَ وَيَتَتَعْتَعُ فِيهِ وَهُوَ عَلَيْهِ شَاقٌّ لَهُ أَجْرَانِ» " مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন, কুরআন সম্পর্কে বিজ্ঞজনদের হাশর হবে, আ'মলনামা লিখক পবিত্রতম ফিরিস্তাদের সাথে। আর যে ব্যক্তি কোরআন পড়তে আটকে যায় এবং এমন অবস্থায় সে কুরআনকে পড় যে, কুরআনের উচ্ছারণ তার জন্য কষ্টকর লাগে।সে ব্যক্তি দু'টি সওয়াব পাবে।(প্রথম সওয়াব পাবে পড়ার জন্য এবং দ্বিতীয় সওয়াব পাবে কষ্ট করে পড়ার জন্য)
(মিশকাতুল মাসাবিহ-২১১২)
 দেখুন-(মাওসুাতুল ফেকহিয়্যাহ-১০/১৭৮)

সু-প্রিয় পাঠকবর্গ!
হাদীসের বর্ণনা 'কুরআন পড়তে আটকিয়ে যাওয়া'
উক্ত হাদীসে বর্ণিত ব্যক্তিটি নিশ্চয় পূর্ণ তাজবিদকে রপ্ত করতে পারেনি কেননা সে তো ঠিকমত পড়তেই পারছেনা বরং পড়তে গিয়ে আটকিয়ে যাচ্ছে।এরপরও সে হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী দু'টি সওয়াবের অংশীদার হবে।
এত্থেকে বুঝা গেল যে, মুস্তাহাব পর্যায়ের তাজবিদকে ছেড়ে দিয়ে কুরআন পড়তে কোনো অসুবিধে নেই।এবং এতে  কোনো প্রকার গোনাহও হবে না।হ্যা জরুরী পর্যায়ের তাজবিদ তাকে শিখতে হবে।

বিশিষ্ট ফকিহ আল্লামা রশিদ আহমদ রাহ,বলেন,
হুরুফে মুতাশাবিহাত তথা সামঞ্জস্যশীল হরফ যেমন, ظ. ض    ذ .ز    س.ص.ث.   ط. ت. এর মধকার উচ্ছারণ পার্থক্য  জানা ও আদায় করা ফরয।তাছাড়া অন্যান্য কায়েদা যেমন এজহারের কায়দা,এখফার কায়েদা জানা ও সে অনুযায়ী আ'মল করা মুস্তাহাব।
আহসানুল ফাতাওয়া-৪/৮৫

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই!
নবীণ শিক্ষার্থীদের কুরআন তেলাওয়াত সম্পর্কে এতটুকু বলা যায় যে,যদি তারা আরবী সামঞ্জস্যশীল হরফের উচ্ছারণ সঠিকভাবে শিখে নিতে পারে তাহলে তাদের জন্য কুরআন তেলাওয়াত বৈধ হবে।এক্ষেত্রে যদিও তারা পূর্ণ তাজবিদকে আয়ত্ব করতে সক্ষম না হোক।
হ্যা অবশ্যই পূর্ণ তাজবিদকে শিক্ষার চেষ্টা সবাইকে করতে হবে, কেননা সেটা মুস্তাহাব।

আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

উত্তর লিখনে

মুফতী ইমদাদুল হক

ইফতা বিভাগ, Iom.

পরিচালক

ইসলামিক রিচার্স কাউন্সিল বাংলাদেশ

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনার দ্বীন সম্পর্কীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য রয়েছে আমাদের  অভিজ্ঞ ওলামায়কেরাম ও মুফতি সাহেবগনের একটা টিম যারা ইনশাআল্লাহ প্রশ্ন করার ২৪-৪৮ ঘন্টার সময়ের মধ্যেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন।

...