আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
60 views
in ব্যবসা ও চাকুরী (Business & Job) by (2 points)

প্রশ্নঃ
আমি এবং আমার কিছু কলিগ মিলে একটা ব্যবসায় শুরু করি। কথা ছিল আমি ব্যবসায় পরিচালনা করবো এবং মাসিক বেতন নিব। তবে তারা ব্যবসায় পরিচালনার জন্য দৈনিক ২ ঘন্টা অফিস করবে। তবে কোন বেতন নিবেনা। এবং ব্যবসায় করার জন্য ছোট একটি অফিস নিবে, কয়েকটা টেবিল নিয়ে কাজ শুরু করবে। এবং সবাই মিলে ২.৫ লক্ষ টাকা ব্যাংকে রাখবে, যাতে পরবর্তীতে প্রয়োজনে খরচ করা সম্ভব হয়। এবং আমরা ২ বছর আগে ব্যবসায় লাভ-লস যাই হোক ছেড়ে দিবনা। কিন্তু ব্যবসায় শুরু করার পর বলে সব কাজ আমাকে করতে হবে, এবং তারা তাদের কথা মত ২ ঘন্টা অফিসও করেনা। পাশাপাশি ব্যাংকে টাকা না রেখে অফিস ডেকোরেশন করে সব টাকা খরচ করে ফেলে। ফলে আমার মনে অসন্তোষ দেখা দেয়। আমি কাজের প্রতি মনযোগ হারিয়ে ফেলি এবং ঠিক ভাবে কাজে মন দিতে পারছিনা । এখন আমি ব্যবসায়টি ৭ মাস পরে এসে ছেড়ে দিতে চাই। এতে কি আমার চুক্তি ভঙ্গের গুনাহ হবে? এখন ব্যবসায়টি ছেড়ে দিলে তাদের ক্ষতি করা হবে বা তাদের উপর জুলুম হবে? আমি এমন কিছু করতে চাইনা, যা মুমিন তার ভাইয়ের সাথে করতে পারেনা।


ফতোয়ার জন্য পোস্ট করার আগে আমি আমার পার্টনারদের নিম্নোক্ত মেসেজটি দেই। আশা করছি আমার পরিপূর্ণ বিষয়টি বুঝতে সহজ হবে।

ব্যবসায় ছেড়ে দেয়ার কারণঃ

ব্যবসায় চুক্তিঃ
    ১) আমি ওয়েব ডিজানের কাজ করব, অফিস দেখাশোনা করব এবং এর জন্য বেতন নিব।
    ২) সেলিম ভাই ডিজিটাল মার্কেটিং এর কাজ করবেন এবং এর জন্য কোন বেতন নিবেননা।
    ৩) রুবেল ভাই গ্রাফিক্স ডিজাইন এর কাজ করবেন এবং এর জন্য কোন বেতন নিবেননা।
    ৪) ফয়সাল ভাই এবং হাসান ভাই প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবেন এবং এর জন্য বেতন নিবেননা।
    ৫) শুধু মাত্র একজন ওয়ার্ডপ্রেস ডিজাইনারকে হায়ার করা হবে।
    ৬) আমরা একটা ছোট অফিস নিয়ে কার্যক্রম শুরু করব।
    ৭) ৫ জন মিলে মোট ২.৫ লক্ষ টাকা ব্যাংকে জমা রাখব, যেন প্রয়োজনের ঘাটতি না হয়।

প্রথম কারণঃ আমি উক্ত চুক্তির ভিত্তিতেই চাকুরি ছেড়ে আসি। আমার একার পক্ষে সম্পূর্ণ ব্যবসায় পরিচালনা সম্ভব ছিলনা। যেহেতু সবাই মিলেই কাজ করব, আমার ধারণা ছিল, সবাই কাজ করলে এখানে সমস্যার তেমন কিছু নাই। একই ভাবে একটা ডিপোজিট থাকলে কিছুটা ব্যাকাপ পাব। অন্যথায় আমার গূরত্বপূর্ণ একটা সিচুয়েশনে চাকুরি ছেড়ে দেয়ার কোন কারণ ছিলনা। কিন্তু শুরুতেই বলা হয় সব আমাকেই দেখতে হবে। ক্লাইন্টের কাজে বার বার নক দিয়েও পাওয়া যায়নি সবাইকে। এমনকি আমার বিয়ের সময়ও ক্লাইন্টের সাথে যোগাযোগ পর্যন্ত রক্ষা করা হয়নি। আশা করি বিষয়টি সবাই অবগত। এবং বিনা কারণেই ক্লাইন্টের কথা শুনতে হয়েছে। পরবর্তীতে একই ব্যাপারের পুনরাবৃত্তি হয়েছে। এরপর সেলিম ভাই আর রুবেল ভাইয়ের শক্ত সমর্থনের ভিত্তিতেই আল-আমিন সাহেবকে নিয়োগ দেয়া হয়। বলা হয় উনি দুটো কাজেই পারদর্শী। এরপরের ব্যাপার সবার-ই জানা আছে। এই সকল কিছুর পরেও আমি চেষ্টা (ত্রুটিযুক্ত চেষ্টা) করেছি সবকিছু ঠিক করার। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি। সবকিছু মিলিয়ে মানসিক ভাবেও আর শক্তি পাচ্ছিনা। এবং ব্যবসায় শুরুর সময় সবাই যতটা আগ্রহ নিয়ে এই ব্যবসায় শুরু করেছেন, ততটা আগ্রহ এখন কারো মধ্যেই নেই। ব্যাপারটা এমন যে, আমি যদি এটা ভাল ভাবে চালাতে পারি ভাল, আর না পারলেও তেমন একটা সমস্যা নেই। এবং বর্তমানে ওয়েব ছাড়া অন্য কোন কাজ করারও কোন ভরসা আমি এখানে পাচ্ছিনা বিগত সময়ের অবস্থার প্রেক্ষিতে।

দ্বিতীয় কারণঃ আমার আগের একটি এজেন্সি আছে। আমি নিজেই সেটা আপনাদের জানিয়েছি ব্যবসায় শুরুর পূর্বে, যেন কারো মনে কোন কথা না থাকে। নিজেও ক্লিয়ার থাকি। কিন্তু পরে দেখা গেল, আপনারা আমাকে সেখান থেকে অনেকটা বাধ্য করেই বের করে আনলেন। এবং এটাও চুক্তির আওতাভুক্ত যে, তাদের আমি কোন সহযোগিতা করতে পারবনা। এতে কিম্মাহ টেকনোলজির আইডিয়া শেয়ার হতে পারে। এতেও আমি একমত ছিলাম। কিন্তু সম্প্রতি তাদের কিছু আইডিয়া কিম্মাহ টেকনোলজির আইডিয়ার সাথে মিলে যায় যা আমি কখনোই শেয়ার করিনি। এবং তারা আমার থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আইডিয়া চায়, এজেন্সির বাহিরেও আমাদের বিভিন্ন প্ল্যান ছিল এক সাথে। সেই প্ল্যান গুলো নিয়ে কাজ করতে গেলেও তাদের সাথে বিভিন্ন বিষয় শেয়ার হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এখন এমন অবস্থা যে, আমি আমার ভাইকে সহযোগিতা করতে চিন্তা করে করতে হচ্ছে। তাই আমার মাথায় এটাও চিন্তা আসছে, এমন ব্যবসায় কেন করব, যেখানে আমার ভাইকে সহযোগিতা করতে চিন্তা করতে হচ্ছে।

বিঃদ্রঃ এটাই আমার চিন্তাভাবনা। আমি ভুলও হতে পারি। যদি ভুল অনুগ্রহপূর্বক সেটা জানানোর অনুরোধ করছি। জাজাকাল্লাহু খাইরান।"

1 Answer

0 votes
by (593,100 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم 

ইসলাম মানুষকে যেসব উন্নত চরিত্রের শিক্ষা দেয়, তন্মধ্যে অন্যতম গুণ বা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে অঙ্গীকার, প্রতিশ্রুতি ও চুক্তির বাস্তবায়ন। যেকোনো ভালো কাজের অঙ্গীকার পূরণ করা ওয়াজিব।

 পবিত্র কোরআনে ওয়াদার প্রতি গুরুত্বারোপ করে ইরশাদ হয়েছে, 
يا ايها الذين امنوا اوفوا بالعقود
'হে ইমানদারগণ! তোমরা অঙ্গীকারগুলো পূর্ণ করবে।' (সুরা আল-মায়িদা, আয়াত : ১)
الا الذين عاهدتم من المشركين.....

তবে যেসব মুশরিকের সঙ্গে তোমরা চুক্তি করেছ, পরে তারা চুক্তি রক্ষার ব্যাপারে কোনো ত্রুটি করেনি, আর তারা তোমাদের বিরুদ্ধে কাউকে সাহায্যও করেনি, তাদের সেই চুক্তি তোমরা মেয়াদকাল শেষ হওয়া পর্যন্ত পূর্ণ করবে। অবশ্যই আল্লাহ দায়িত্বনিষ্ঠদের ভালোবাসেন। (সুরা তাওবা, আয়াত ৪)
,
ওয়াদা (চুক্তি) পালনকারীকে আল্লাহ তায়ালা ভালোবাসেন। যেমন তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার ওয়াদা পূর্ণ করে এবং তাকওয়া অবলম্বন করে তার জানা উচিত যে, আল্লাহ তায়ালা তাকওয়াবানদের ভালোবাসেন।’ (সূরা আলে ইমরান : ৭৬)। 
.
ইসলামে অমুসলিমদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি লঙ্ঘন করা থেকেও নিষেধ করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, '(অমুহাজির মুসলমানরা) তোমাদের সাহায্য চাইলে তাদের সাহায্য করা তোমাদের অবশ্যকর্তব্য, তবে সে সাহায্য যদি এমন কোনো (অমুসলিম) সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে হয়, যাদের সঙ্গে তোমাদের কোনো চুক্তি আছে, তবে নয়।' (সুরা আনফাল, আয়াত : ৭২)

আরো জানুনঃ- 

কাউকে ধোকা দেয়া জায়েজ নেই।

হাদীস শরীফে এসেছেঃ   

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ غَشَّنَا فَلَيْسَ مِنَّا»

হযরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ যে ধোঁকা দেয়, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভূক্ত নয়। {মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-২৩১৪৭, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-১৬৪, সুনানে দারেমী, হাদীস নং-২৫৮৩, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-২২২৫, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৪৯০৫}

قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْمُسْلِمُونَ عَلَى شُرُوطِهِمْ

হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ মুসলমানগণ তার শর্তের উপর থাকবে। {সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৩৫৯৪, সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং-২৮৯০, শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৪০৩৯}

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই,
যেহতে এক্ষেত্রে তারা সকলেই চুক্তি ভঙ্গ করেছে,সুতরাং এক্ষেত্রে ব্যবসাটি ছেড়ে দিলে সেক্ষেত্রে চুক্তি ভঙ্গের গুনাহ আপনার হবেনা।
এতে আপনার জুলুমের গুনাহ হবেনা।

এক্ষেত্রে শুধু তাদের নয়,আপনারও ক্ষতি হবে।
তেই সকলে একসাথে বসে পরামর্শ মোতাবেক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে ভালো হতো।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...