আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
126 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (2 points)
আসসালামুয়ালাইকুম ওরাহমাতিল্লাহি ওবারাকাতুহ

উস্তাজ আমি এবছর এইচএসসি দিয়েছি পাশাপাশি IOM এর আলিম প্রিপারেটরি কোর্সের ২৫১৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী।আমি চাচ্ছিলাম জেনারেল পড়াশোনা ছেড়ে দিতে কিন্তু আমার মা চাই আমি যেন মহিলা কলেজ থেকে অনার্স কমপ্লিট করি। কিন্তু মহিলা কলেজেও তো  স্যাররা থাকেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছবি জমা দিতে হবে, স্যারদের সাথে কথা বলতে হবে আবার আবেদন করতে গেলে অন্যান্য নন মাহরাম ছবি দেখবেন(আবেদন আমি নিজে করেছি কিন্তু এখন ঐ কাগজ প্রিন্ট আউট করতে গেলে নন মাহরাম এর চোখে তো আমার ছবি পড়বে)। এখানে কী পর্দার খেলাফ হবে না?আমি ভবিষ্যতে চাকরি করতে চাই না ,তাই আমার কাছে মনে হয় আমার এই উচ্চ শিক্ষা আমার কোনো কাজে আসবে না,এখানে আমি অনর্থক অর্থ-সময় ব্যয় করব। কিন্তু আমি ছেড়ে দিবো বললেই আমার আম্মা ভীষণ কষ্ট পান,আমার সাথে ঠিক ভাবে কথা বলেন না যা আমাকে মানসিক ভাবে খুব পীড়া দেয়।, এক্ষেত্রে আমার করনীয় কী? আমি কী আমার মায়ের খুশির জন্য জেনারেল পড়া চালিয়ে যাব?মা চান চাকরি না করলেও যেন ডিগ্রী অর্জন করি।আমার পরিবার -আত্মীয় স্বজন সবাই উচ্চ শিক্ষিত , মায়ের ধারণা উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন না করলে এক সময় আমি হয়তো আফসোস করব, অন্যদের সামনে নিজেকে ছোট মনে করবো।আমার ভয় হয় উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করতে গিয়ে না আমি আবার দ্বীনি ইলম থেকে মাহরুম হয়ে যায়।কেননা এইচএসসির আগে পড়ার প্রেশার এতো বেড়ে গিয়েছিল যে অবশেষে আমি ফরজে আইন কোর্স ছেড়ে দিয়েছিলাম, আল্লাহুম্মাগফিরলী। জেনারেলে ভর্তি হয়ে যদি আবার পরীক্ষার প্রেশারে দ্বীনি পড়াশোনা ছেড়ে দেই সেই ভয় বার বার কাজ করছে। দাওয়াতি কাজের ক্ষেত্রে কী উচ্চ শিক্ষা কোনো কাজে আসবে? সার্বিক দিক বিবেচনা করে আমার জন্য কোন কাজটি ইসলামীক দৃষ্টিতে অধিক উত্তম হবে?

আমার ঈমানের অবস্থা মাঝে মাঝে খুব খারাপ হয়ে যায়, সবসময় ঈমান নবায়ন করব কীভাবে উস্তাজ?
জাজাকাল্লাহ খইরান

1 Answer

0 votes
by (640,500 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহাম।
জবাবঃ-
তাই বলা যায় মুসলিম দেশের মুসলিম সরকারের জন্য ওয়াজিব যে,অচিরেই পৃথক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা।
প্রয়োজনে এ জন্য শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী পালন করা সমস্ত মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব ও কর্তব্য।
কিন্তু যতদিন পর্যন্ত এই পৃথক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু না হচ্ছে ,ততদিন প্রয়োজনের তাগিদে নিম্নোক্ত শর্তাদির সাথে কলেজ-ভার্সিটিতে শিক্ষা গ্রহণের পরামর্শ দেয়া যেতে পারে।

১/শিক্ষা অর্জন দেশ ও মুসলিম জাতীর খেদমতের উদ্দেশ্যে হতে হবে।
২/চোখকে সব সময় নিচু করে রাখতে হবে,প্রয়োজন ব্যতীত কোনো শিক্ষক/শিক্ষিকার দিকে তাকানো যাবে না।মহিলা/পুরুষ তথা অন্য লিঙ্গের  সহশিক্ষার্থীদের সাথে তো কোনো প্রকার সম্পর্ক রাখা যাবেই না।সর্বদা অন্য লিঙ্গর শিক্ষার্থী থেকে নিজেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখতে হবে।(ফাতাওয়া উসমানী ১/১৬০-১৭১)
আল্লাহ-ই ভালো জানেন। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/343

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন!
উম্মাহর স্বার্থে নিজ ঈমান আমল হেফাজত করার স্বার্থে ফুকাহায়ে কেরামগণ সহশিক্ষার রুখসত দিয়ে থাকেন। আপনি একটু গভীরভাবে লক্ষ্য করে দেখুন, আপনার  জন্য নিজ ঈমান আমলের হেফাজত সম্ভব হচ্ছে কি না? যদি সম্ভব না হয়, তাহলে সহশিক্ষাকে পরিত্যাগ করে এমন শিক্ষাতেই ব্যস্ত হন, যেখানে আপনার ঈমান আমলের হেফাজত হয়। যেহেতু আপনার পরিবারের সবাই জেনারের শিক্ষিত,  তাই একটু কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করে দেখুন, নিজ ঈমান আমলকে কি হেফাজতে রাখা সম্ভব হচ্ছে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by
আসসালামুয়ালাইকুম ওরাহমাতিল্লাহি ওবারাকাতুহ। উস্তাজ কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার  করে  বলতে কী বুঝিয়েছেন,,,?জেনারেল বাদ দিয়ে দ্বীনি ইলম অর্জন করব নাকি দুইটাই চালিয়ে যাবো।আমি আসলে বুঝতে পারতেছি না,আফওয়ান।
জাজাকাল্লাহ খইরান 

by (640,500 points)
যথাসম্ভব নিজ ঈমান আমলকে হেফাজত করে দু'টিই চালিয়ে যাবেন।
by
উস্তাদ, কম্পিউটার এর দোকান থেকে যে পাসপোর্ট সাইজের ছবি বের করতে হবে, আবেদন ফর্ম তুলতে হবে যেখানে আমার ছবি দেওয়া।এতে নন মাহরাম আমাকে দেখলে আমার গুনাহ হবে না? এক্ষেত্রে আমার করনীয় কি?
কম্পিউটারের দোকান থেকে ছবি বের করার সময় কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করলে কোনো নন মাহরামের থেকে আমার ছবি আড়াল করতে পারবো?
by (640,500 points)
নিজের ছবি আড়াল করার জন্য সর্বোচ্ছ চেষ্টা করবেন। যদি সম্ভব না হয়, এবং অন্যদিকে ছবি তুলাটা জরুরী হয়, তাহলে আপনার জন্য অনুমোদন থাকবে। 

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...