আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
134 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (1 point)

আস সালামু আলাইকুম, 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।

ঘটনা ১ঃ 
আমি একজন সফটওয়্যার ডেভেলপার/ ইঞ্জিনিয়ার। ২০১৮-১৯ থেকে আমি দ্বীনকে মন থেকে বুঝতে এবং মানতে শুরু করি। বন্ধু বান্ধব আড্ডাবাজি এসব ফিতনা থেকে দুরে থাকতাম। ইমান আমল করতাম। ২০২১-২২ পর্যন্ত কারো সাথে মিশতাম না। মিশলেও আগের মত না। করোনার দ্বিতীয় লকডাউনের সময় বাড়িতে যাই এবং স্থানীয় বন্ধুদের সাথে একরকম বোরিংনেস থেকেই মিশতে শুরু করি। প্রথম প্রথম জানতাম তারাও অনলাইনে মার্কেটিংয়ে কাজ করে। এজন্যই আরও মিশেছিলাম। কিন্তু তাদের সাথে যত মিশছিলাম আমার ইমান আমলেও সমস্যা হচ্ছিল। আড্ডাবাজিও বেড়ে গিয়েছিল। কিছুদিন যাওয়ার পর বুঝতে পারি তারা আসলে ফ্রড তাইপের কাজ অনলাইনে করে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ২ টি। ১. অনেক ইউটিউব চ্যানেল কিনে নিজেরা ভিডিও দিয়ে নিজেদের ইমপ্লয়িদের দিয়ে ভিডিও দেখায় এবং এডসে ক্লিক করে নেয়। সেখান থেকে ইনকাম বের করে। ২. আমেরিকাতে ফেইক বাসাবাড়ির বিজ্ঞাপন দেয়। এরপর যারা বাসা ভাড়া নিতে আসে তাদেরকে একটি নির্দিষ্ট এফিলিয়েট লিংকে গিয়ে একটি অনলাইন সফটওয়্যারের সাবস্ক্রিপশন নিতে বলে। বলে যে আপনার ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করার জন্য আমাদের পার্টনারের সফটওয়্যারে সাবস্ক্রাইব করতে হবে। অনেক লোক থাকে যারা সরল বিশ্বাসে সাবস্ক্রাইব করে তাদের নির্দিষ্ট টাকা কেটে নেয়। সাবস্ক্রাইব হয়ে গেলে তার বিনিময়ে কিছু টাকা সে এফিলিয়েট কোম্পানি থেকে পায়। সাবস্ক্রাইব ফি ইউজারের কাছে ১.৫ থেকে ৩০ ডলার পর্যন্ত কাটে। আর এরা এফিলিয়েট কোম্পানি থেকে পায় ৩৫ থেকে ৬০ ডলার। ব্যাস এরপর ভাড়া নেওয়া লোক যতই নক দিক না কেন, কোন রকম রিপ্লাই রেসপন্স করেনা। ১-২ বছর আগে ২ নাম্বরে থাকা ব্যাক্তি আমার কাছে একটি সফটওয়্যার বানিয়ে চায় যেটা দিয়ে সে বাসা ভাড়া নিতে আসা লোকজনদের সাথে মেসেজিং করবে। তবে আমি ইচ্ছা করেই দিচ্ছিলাম না। কেননা হারামে সহযোগিতা করাও ঠিক না। এবং তাদের কাজ আমার হারাম মনে হয়। কিন্তু সে আমাকে বলত যে সে ভালো হয়ে যাচ্ছে। অন্য প্রজেক্টে ইনভেস্ট করতেছে যেটা হালাল। আমি নিজেও দেখেছি সে হালালে চেষ্টা করছে। কিন্তু ফেইল্ড হচ্ছিল বাঁর বাঁর। আমার মনে হয় এটা তার এতদিনের হারাম ভক্ষণের ফল এবং হারামের টাকা নিয়ে হালালে ইনভেস্ট করার জন্য হতে পারে। আল্লাহু আলাম। যাই এরপর সে আমাকে বলে যে সফটওয়্যারটা সে অন্য প্রজেক্টের জন্যই মেইনলি নিচ্ছে আপাতত ১-২ মাস বাসা ভাড়ার এই কাজ টা করবে আর তার অন্য একটা ব্যবসা হালাল সফলতার মুখ দেখছে। সেখানে ইউজ করবে। আর আমার সেসময় ২ লাখ টাকা ঋণও ছিল। তাই এক লাখ টাকার বিনিময়ে আমি সফটওয়্যার টা বানাই দেই। আল্লহুমাগফিরলি। কিন্তু আজ প্রায় ২ বছর হতে চলল। তার সেই হারাম কাজ বন্ধ হয়নাই। বরং আমার কাছে এমন অনেক কিছুই বানায় নিতে চাইছিল, যা দিলে আমার বিশ্বাস তারা মাসে ১-১০ কোটি পর্যন্ত ইনকাম করতে পারত এসব করে। কিন্তু আমি নিষেধ করেছিলাম। আমি এখন আবার রিয়েলাইজেশন শুরু করেছি। তাই এই সার্কেল থেকে বের হইতে চেষ্টা করছি। এখন আর মিশিনা তেমন ওদের সাথে। না মেশার অন্যতম কারন তারা হারাম উপার্জন করে আমার জানামতে। আর প্রচুর অহংকারী। তারা নিজেদের উদ্যোক্তা বলে আর আমাকে ফ্রিল্যান্সার/ডেভেলপার/সার্ভিস প্রোভাইডার বলে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে। তবে প্রতি মাসে সেই সফটওয়্যার টা রানিং রাখার জন্য একবার হলেও আমার সাপোর্ট লাগে। যেহেতু টাকা নিয়ে রাখছিলাম তাই করে দেই। তবে কাজের আগে সাপোর্ট নিয়ে কোন চুক্তি ছিলনা। যেহেতু বন্ধু মানুষ তাই বিনা পারিশ্রমিকেই করে সাপোর্ট। আমার প্রশ্ন সমূহঃ 

  1.  উপড়ে উল্লেখিত ২টি পদ্ধতি কি হারাম কিনা বলবেন। কারন ১ নাম্বার পদ্ধতিতে ইনকাম করা ব্যক্তি যুক্তি দেয় ইংরেজরা আমাদের শোষণ করেছে। মুসলিমদের অত্যাচার করেছে। তাই তাদেরকে লুট করা জায়েজ। যদিও সে কোন মুফতি না বাঁ ইসলাম নিয়ে পড়ালেখা নেই তেমন। ইমান আমলও নেই। কিন্তু এসব বলে। আবার বলে ব্যাংকে টাকা রাখা যাবেনা কিন্তু সে নিজে ১০ কোটি বাঁ তারও বেশি ইনকাম করেছে যা ব্যাংকে রেখে সুদ নেয়। 
  2. এই ২ পদ্ধতিতে ইনকাম করা টাকা ইনভেস্ট করে তারা হালাল বিজনেস করতে চেষ্টা করছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সবগুলোতেই ফেইলড। বরং ১.৫ থেকে ২ কোটি লস করেছে। প্রশ্ন হল হারামের টাকা দিয়ে হালাল ব্যবসা করলে সেটা কি জায়েজ কিনা। 
  3. আমি যে এক লক্ষ্য নিয়েছি সেটা আমার জন্য হারাম কিনা। যদিও সে মিথ্যা আশ্বাস দিয়েছিল যে সে সফটওয়্যার টা ভালো কাজে ইউজ করবে। কিন্তু ওইত ১-২ মাস এসব কাজে ব্যবহার করবে এটা তো আমি জানতাম বা ও নিজেই বলেছিল। সেটার জন্য হলেও নিজেকে দোষী মনে হচ্ছে।
  4. এর থেকে তাওবা করার উপায় কি? আমি ভেবেছি যখনই পারব ওই ১ লক্ষ্য টাকা ওকে দিয়ে দিব এবং নেক্সট সাপোর্টের সময় আমি ছোট্ট একটু মিথ্যা বলব। বলব যে কোন একটা আপডেট আসছে যে কাড়নে এখন আর এই সফটওয়ারটা চালানো সম্ভব না। আমি তোর এক লক্ষ্য দিয়ে দিব। কারন সফটওয়ারটাও আর রানিং থাকছে না আর মেইনলি এটা আমার জন্য হারাম। তারা হয়ত অন্য কোথাও থেকে সফটওয়ার নিবে কিন্তু আমি দায় থেকে মুক্ত হতে চাচ্ছি। যদি সামর্থ্য থাকতে সে আমার সফটওয়্যার দিয়ে যতজনের সাথে স্ক্যাম করেছে সবাইকে টাকা দিয়ে দিতাম। কিন্তু এটা খুঁজে বের করা খুবই কঠিন এবং টাকার পরিমাণও অনেক। 
  5. আমি আরও এক জনকে চিনি যার বাবা নাই। মা আছে ২ ভাই আছে স্ত্রী সন্তান আছে। পুরো পরিবারকে তার চালাইতে হয়। সেও আগে ২ নাম্বার ব্যাকতির অফিসে কাজ করত। কিন্তু সে নামাজি ছিল। তার কাছেও হারাম রিয়েলাইজেশন হওয়ার পড় সে জব ছেড়ে দেয়। কিন্তু বাড়িতে গিয়ে বসে থেকে কোন কাজ বের করতে না পেরে নিজেও আবার এই বাসা ভাড়া স্ক্যাম শুরু করে পরিবার চালাতে। আমি বলেছিলাম হারামে গেলে সহযোগিতা করব না। হালালে থাকলে সহযোগিতা করব। সে বলছে ৫- ৬ মাসের ব্যাকআপ রেডি হইলেই সে এটা বাদ দিবে। যদিও সে হালালে চেষ্টা করছে। কিন্তু রেজাল্ট নাই। এবং বাসা ভাড়ার কাজও করতেছে। যদিও প্রফিট করতে পারছেনা। উল্টা ঋণ গ্রস্থ হয়ে গেছে। আমি তার ঋণ পরিশোধের জন্য ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিলাম। আর তার পরিবার চালানোর জন্য সেইম সফটওয়্যারটা দিয়েছিলাম বিনা পয়সায়। এই চুক্তিতে যে সে অবশ্যই প্রতিদিন হালালের সন্ধান করবে এবং একটা ব্যবস্থা হলে এসব কাজ বাদ দিবে। কিন্তু তার মধ্যেও কোন উন্নতি নাই। আমার প্রশ্ন হলঃ আর এই সংকটময় অবস্থায় ২ নাম্বার কাজ টা করা কি তার জন্য জায়েজ নাকি হারাম? আমি সহায়তা করেছিলাম তার পরিবার চালানোর জন্য এবং ঋণ পরিশোধের জন্য। এখনও সে অনেক ঋণের মধ্যে আছে। তার এই কাজ যদি হঠাত করে বন্ধ হয়ে যায় টাকা আসার কোন রাস্তা নাই আর। আল্লাহু আলাম। আমি কি তার সফটওয়্যারটাও বন্ধ করে দিব? বা দেওয়া ঠিক হবে? 
  6. এসব লোককে হালাল হারাম নিয়ে বুঝাতে গেলে আমাকে বলে আমি নাকি হাজী, হুজুর ইত্যাদি বলে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে। আর এদের সাথে মিশে আমার ইমান আমল কমে গিয়েছিল। ধূমপান বেড়ে গিয়েছিল। এমনকি আমি আইওএমে ভর্তি হয়েছিলাম সেটাও কন্টিনিউ করা হয়নাই। ইথিক্স দিন দিন কমে যাচ্ছিল। তাই ওদের সাথে মেশা বন্ধ করে দিলে কি আমার কোন গুনাহ হবে? যেহেতু বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিন্ন করলাম। 
  7. ওদের থেকে কোন উপহার গ্রহণ করা যাবে? আমি জানি ওদের হালা কোন ইনকাম নাই। বিন্দু পরিমাণও নাই। 
ঘটনা ২ঃ 
আমেরিকার এক ক্ল্যায়েন্ট একবার আমার কাছে এসেছিল তার ওয়েব সাইট হ্যাক হয়েছে সেটা ঠিক করতে এবং সার্ভারে হোস্ট করে দিতে। কোম্পানিটি জার্মানির লাক্সারি একটা গাড়ি কোম্পানি। তারা আমেরিকায় ব্যবসা প্রসারের জন্য সাইটটি বানাইছিল। তাদের মুল ব্যবসা গাড়ির। তবে আমেরিকায় গিটারের ব্যবসা দিয়ে শুরু করতে চাচ্ছিল। তাদের কাছে অলরেডি সোর্স কোড ছিল। এবং ইকমার্স সাইটটাও রানিং ছিল। তবে তাদের জাস্ট ওয়েবসাইটটা হ্যাক হয়েছিল। ওয়েবসাইট আর ইকমার্স আলাদা সার্ভার ছিল। আমি জানতাম সফটওয়ারের উদ্দেশ্য যদি ইসলামের সাথে সাঙ্ঘর্ষিক হয় তাহলে সেটা আমার জন্য হয়ত হারাম হবে। আমার লাইফে অনেক বড় বড় প্রজেক্ট পেয়েছিলাম কিন্তু ছেড়ে দিয়েছিলাম এসব কাড়নে। এমনকি মেয়েদের ছবি আপলোড দেয়া লাগবে দেখেও অনেক কাস্টম ওয়েবসাইটের কাজ ছেড়ে দিয়েছিলাম। যেহেতু তারা গিটার/বাদ্য যন্ত্র বিক্রি করবে। তাই এটি করতে চাচ্ছিলাম না। কিন্তু সেইসময় আমি এই বন্ধুদের সাথে মিশে অলরেডি ইমান আমল কমায় দিছিলাম। আর ভোগ বিলাসিতায় ব্যাস্ত ছিলাম। তাই সেই সময়ও ঋণের মধ্যে ছিলাম। আর বন্ধুদেরও জিজ্ঞেস করলাম যে এই প্রজেক্ট টা হারাম হবে মনে হয় নেওয়া ঠিক হবেনা। ওরা বলল, আরে তুই তো জাস্ট ওয়েবসাইট সার্ভারে হোস্ট করে দিবি। এমনও না যে ওয়েবসাইট বানাই দিবি। তাই সমস্যা নাই। শেসে প্রজেক্টটা আমি হাতে নেই আমি। জাস্ট ১-২ দিনের কাজ কয়েক ঘণ্টা লেগেছিল। আমি প্রায় ১.৩ লাখ টাকা পেয়েছিলাম। এইটা আমার ওই ফ্রেন্ডের সফটওয়্যার বানানোর আগের ঘটনা। যাই হোক খুব ভালো ভাবেই যাচ্ছিল প্রথম কিছুদিন এরপর শ্বশুর বারি থেকে রেন্ট এ কারে করে বাসায় আসছিলাম। তখন রাত ৭-৮টা হবে। গাড়ি ছেড়ে বাসায় এসে অজু করে এশার নামাজ পড়লাম এরপর কাজে বসতে গিয়ে দেখি ল্যাপটপ নাই। যেইটা ছিল ম্যাকবুক। আর মূল্য ছিল সেই গিটারে প্রজেক্টের মূল্যের সমান ১.৩। কোথাও খুঁজে পেলাম না ড্রাইভারকে ফোন দিলাম সে বলল একটা ব্যাগ আছে পিছনের ছিটে। আর সে অলরেডি জেলা পার হয়ে গেছে। মনে হল আল্লাহ যেন আমাকে ইশারা দিলেন। সিজদায় পরে মাফ চাইলাম। এরপর ওই ড্রাইভাররে কাছে আরেকটি গারি নিয়ে যাই। আল্লাহ অশেষ রহমত ছিল। ম্যাকবুক ফিরে পাই। ওইটা হারায় গেলে হয়ত আমার পথে বসতে হত। বারীতে এসে সিজদায় তওবা করলাম এবং কাঁদলাম। আমার লাইফে হারাম ইনকামের রেকর্ড ওই বাসা ভাড়ার সফটওয়্যার আর এই গিটারের প্রজেক্ট ছাড়া আর নাই আমার জানামতে। কয়দিন আগে সেই গিটার ওয়েবসাইটের মালিক আবার এসেছে। বলতেছে সাইটে একটু আপডেট দরকার। আমার হাতের অবস্থা আবার খারাপ। কিছুদিন হল কাজও নেই। দ্বীনে ফেরারও চেষ্টা চলছে। হয়ত আল্লাহ আমাকে পরীক্ষা করছেন আপন করে নেয়াড় আগে। আল্লাহু আলাম।  আমার প্রশ্নঃ 
  1. সেই প্রজেক্টের ইনকাম আমার জন্য হারাম নাকি হালাল। হারাম হলে করনীয় কি? 
  2. লোকটি এখন আবার প্রজেক্ট এ আপডেট করে চাচ্ছে। আমার নতুন কোন প্রজেক্টও নাই। তাই তার কাজটি নেওয়া ঠিক হবে কিনা। যদিও আগের মত ইমান থাকলে ডিরেক্ট নিষেধ করে দিতাম। কিন্তু আপনাদের কাছে জানতে চাচ্ছিলাম শরিয়তে কি কোন বৈধতা আছেকিনা। 
ঘটনা ৩ঃ 
  1. আমার এই বন্ধুদের সাথে পুরাপুরি মেশার আগে আমার ইমান আমল ভালো ছিল আলহাদুলিল্লাহ। ইসতেগফারের আমল বেশি বেশি করতাম। ইবাদাতে তৃপ্তি পাইতাম। আল্লাহকে একান্তই আপন মনে হত। দুয়া করতে দেরি কবুল হইতে দেরি হত না আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু এখন ইবাদাতের সাদ কমে গেছে। আমল কমে গেছে দুয়া করি কিন্তু কবুল হয় কিনা বুঝিনা। আবার আগের মত আল্লাহর আপন আর ইবাদাতের সাদ প্যাঁতে চাইলে করনীয় কি? 

1 Answer

0 votes
by (607,050 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

হাদীস শরীফে এসেছেঃ
  
عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم الْحَلَالُ بَيِّنٌ وَالْحَرَامُ بَيِّنٌ وَبَيْنَهُمَا مُشْتَبِهَاتٌ لَا يَعْلَمُهُنَّ كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ فَمَنِ اتَّقَى الشُّبْهَاتِ استبرَأَ لدِينهِ وعِرْضِهِ ومَنْ وقَعَ فِي الشبُّهَاتِ وَقَعَ فِي الْحَرَامِ كَالرَّاعِي يَرْعَى حَوْلَ الْحِمَى يُوشِكُ أَنْ يَرْتَعَ فِيهِ أَلَا وَإِنَّ لِكُلِّ مَلِكٍ حِمًى أَلَا وَإِنَّ حِمَى اللهِ مَحَارِمُهُ أَلَا وَإِنَّ فِي الْجَسَدِ مُضْغَةً إِذَا صَلَحَتْ صَلَحَ الْجَسَدُ كُلُّهُ وَإِذَا فَسَدَتْ فَسَدَ الْجَسَدُ كُله أَلا وَهِيَ الْقَلْبُ.

নু’মান ইবনু বাশীর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘হালাল এবং হারাম সুস্পষ্ট, আর ঊভয়ের মধ্যে অনেক সন্দেহজনক বিষয় বা বস্তু আছে।(যেগুলি হালালের অন্তর্ভুক্ত না হারামের অন্তর্ভুক্ত,) সে সম্পর্কে অনেকেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। এরূপ ক্ষেত্রে যেই ব্যক্তি সন্দেহের বস্তুকে পরিহার করে চলবে, তার দ্বীন এবং আবরু-ইজ্জত, মান-সম্মান পাক-পবিত্র থাকবে। পক্ষান্তরে যেই ব্যক্তি সন্দেহের কাজে লিপ্ত হবে, সে অচিরেই হারামেও লিপ্ত হয়ে পড়বে। (ফলে তার দ্বীন এবং মান-সম্মান কলুষিত হবে।) যেমন যেই রাখাল তার পশুপালকে নিষিদ্ধ এলাকার সীমার ধারে চরাবে, খুব সম্ভব তার পশু নিষিদ্ধ এলাকার ভিতরেও মুখ ঢুকিয়ে দিবে। তোমরা ম্মরণ রেখো প্রত্যেক বাদশাই নিজ পশুপালের চারণভুমি (নিষিদ্ধ এলাকা) বানিয়ে রাখেন। তদ্রূপ (সকল বাদশাহর বাদশাহ) আল্লাহ তা’আলার চারণভূমি তাঁর হারাম বস্তুসমূহকে নির্ধারিত করে রেখেছেন। ‘মনে রেখো মানুষের দেহের ভিতরে একটি গোশতের টুকরা রয়েছে, যা সঠিক থাকলে সমস্ত দেহই সঠিক থাকে। আর সেই অংশের বিকৃতি ঘটলে সম্পূর্ণ দেহেরই বিকৃতি ঘটে। সেই গোশতের টুকরাটি হল অন্তর’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/২৭৬২)।

★এক নং ঘটনার প্রেক্ষিতে জবাবঃ-

(০১)
উপরে উল্লেখিত দুটি পদ্ধতি হারাম।
এথেকে উপার্জনও হারাম।

(০২)
https://ifatwa.info/25087/ ফতোয়ায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, 
হারাম টাকায় ব্যবসা করাও নাজায়েজ। 
,
তবে কঠিন প্রয়োজন বশত এমনটি হলে উক্ত ব্যবসার লভ্যাংশ ব্যবহারের অনুমতি কিছু ইসলামী স্কলারগন দিয়েছেন।   তারা বলেছেন যে এটি সেই ব্যবসায় তার পরিশ্রমের বিনিময়। 
হাদীস শরীফে এসেছেঃ 

عَنْ مَخْلَدِ بْنِ خُفَافٍ قَالَ : ابْتَعْتُ غُلَامًا فَاسْتَغْلَلْتُه ثُمَّ ظَهَرْتُ مِنْهُ عَلٰى عَيْبٍ فَخَاصَمْتُ فِيهِ إِلٰى عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ فَقَضٰى لِىْ بِرَدِّه وَقَضٰى عَلَىَّ بِرَدِّ غَلَّتِه فَأَتَيْتُ عُرْوَةَ فَأَخْبَرْتُه فَقَالَ : أَرُوْحُ إِلَيْهِ الْعَشِيَّةَ فَأُخْبِرُه أَنَّ عَائِشَةَ أَخْبَرَتْنِىْ أَنَّ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ قَضٰى فِىْ مِثْلِ هٰذَا : أَنَّ الْخَرَاجَ بِالضَّمَانِ فَرَاحَ إِلَيْهِ عُرْوَةُ فَقَضٰى لِىْ أَنْ اٰخُذَ الْخَرَاجَ مِنَ الَّذِىْ قَضٰى بِه عَلَىِّ لَه

মাখলাদ ইবনু খুফাফ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একটি দাস কিনেছিলাম এবং তার মাধ্যমে কিছু উপার্জনও করিয়েছিলাম। অতঃপর আমি তার মধ্যে একটি দোষ সম্পর্কে অবগত হলাম এবং শাসনকর্তা ‘উমার ইবনু ‘আবদুল ‘আযীয (রহঃ)-এর কাছে আমি তার বিষয়ে অভিযোগ করলাম। তিনি বিচার করলেন যে, আমি তাকে ফেরত দিতে পারবো, তবে অবশ্যই তার দ্বারা উপার্জিত সব কিছুই আমাকে ফেরত দিতে হবে। আমি ‘উরওয়াহ্ (রহঃ)-এর নিকট এ রায় জানালাম। তিনি বললেন, আমি সন্ধ্যাকালেই শাসনকর্তার নিকট যাবো এবং তাঁকে অবহিত করবো। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) আমাকে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ জাতীয় ঘটনায় রায় দিয়েছেন যে, উপার্জিত আয় তার তত্ত্বাবধান ব্যয় বলে সাব্যস্ত হবে। ‘উরওয়াহ্ (রহঃ) সন্ধ্যাকালেই ‘উমার ইবনু ‘আবদুল ‘আযীয (রহঃ)-এর কাছে গেলেন। এমতাবস্থায় তিনি বিচার করলেন যে, উক্ত উপার্জিত আয় তিনি পূর্বে (প্রথমে) যাকে দেয়ার জন্য আদেশ করেছিলেন তার কাছ থেকে আমি যেন তা ফেরত নেই।
(মিশকাতুল মাসাবিহ ২৮৭৯)

উক্ত সম্পদ দ্বারা ব্যবসা করে যে লভ্যাংশ অর্জিত হয়েছে বা হবে,তাহা গ্রহন করা জায়েজ নেই,এটিই অনেক ইসলামী স্কলারদের মত।

★তবে ইমাম শাফেয়ী ও মালেক রহঃ এর মতে সে ব্যাক্তি লভ্যাংশ নিজের পরিশ্রমের বিনিময় বা পারিশ্রমিক হিসাবে গ্রহণ করতে পারবে  (নববী, আল-মাজমূ‘ ৯/৩৫১)। 
তবে তাদের মতেও এহেন ব্যবসার লাভ পরিত্যাগ করাই অধিকতর নিরাপদ ও তাক্বওয়াপূর্ণ।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
হারাম টাকা দিয়ে হালাল ব্যবসা করলে সেটা জায়েজ হবে না। এক্ষেত্রে মূলধন এবং লভ্যাংশ সবই হারামের অন্তর্ভুক্ত হবে।

(০৩)
সে যেহেতু আপনার কাছে হালাল কাজ করবে এমন ওয়াদা দিয়েই সেই সফটওয়্যার ক্রয় করে নেয়, সুতরাং আপনার সেই এক লক্ষ টাকা হালাল বলেই বিবেচিত হবে।

(০৪)
এক্ষেত্রে তাকে আর কোনোভাবেই সাপোর্ট করা যাবে না, কোন সহযোগিতা করা যাবে না।

সহযোগিতা করলে সে ক্ষেত্রে আপনারও গুনাহ হবে।এমতাবস্থায় আপনি যেকোন ভাবে তাদেরকে এড়িয়ে চলবেন।

(০৫)
সে যেহেতু হারাম পথেই টাকা উপার্জন করছে, সুতরাং তাকে সফটওয়্যার দেওয়া ঠিক হয়নি। আপনি তাহা বন্ধ করে দিবেন। এক্ষেত্রে সে অন্য কোন ভাবে হালাল উপার্জন করে নিজ সংসার চালাবে।

(০৬)
না,এতে গুনাহ হবেনা।
তবে সামনাসামনি হলে সালাম বিনিময় করবেন।

(০৭)
প্রশ্নের বিবরন মতে তাদের থেকে কোনো উপহার গ্রহণ করা যাবেনা।

★দুই নং ঘটনার প্রেক্ষিতে জবাবঃ-
(০১)
প্রজেক্টের ইনকাম আপনার জন্য হালাল নয়।

আরো জানুনঃ- 

(০২)
তার এ কাজ নেয়া ঠিক হবেনা।

★তিন নং ঘটনার প্রেক্ষিতে জবাবঃ-
(০১)
তাদের থেকে সর্বদা দূরত্ব অবলম্বন করে চলবেন।
কোনোভাবেই তাদের সাথে আর মিশবেন না।

তবে সামনাসামনি দেখা সাক্ষাত হলে সেক্ষেত্রে সালাম বিনিময় করবেন, এক্ষেত্রে আপনার জন্য আরো করণীয় রয়েছে সে সম্পর্কে জানুন করনীয় গুলি জানুনঃ-


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...