জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم
শরীয়তের বিধান হলো তালাকে রজয়ীর ক্ষেত্রে ইদ্দতের মধ্যে ফিরিয়ে নেওয়া না হলে ইদ্দত অতিক্রম করার পর ঐ স্ত্রী তার জন্য অন্যান্য গায়রে মাহরাম মহিলার ন্যায় হয়ে যায়।
তাকে আর নতুন করে তালাক দেওয়া যায়না।
মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ
وَ اِذَا طَلَّقۡتُمُ النِّسَآءَ فَبَلَغۡنَ اَجَلَہُنَّ فَلَا تَعۡضُلُوۡہُنَّ اَنۡ یَّنۡکِحۡنَ اَزۡوَاجَہُنَّ اِذَا تَرَاضَوۡا بَیۡنَہُمۡ بِالۡمَعۡرُوۡفِ ؕ ذٰلِکَ یُوۡعَظُ بِہٖ مَنۡ کَانَ مِنۡکُمۡ یُؤۡمِنُ بِاللّٰہِ وَ الۡیَوۡمِ الۡاٰخِرِ ؕ ذٰلِکُمۡ اَزۡکٰی لَکُمۡ وَ اَطۡہَرُ ؕ وَ اللّٰہُ یَعۡلَمُ وَ اَنۡتُمۡ لَا تَعۡلَمُوۡنَ ﴿۲۳۲﴾
আর তোমরা যখন স্ত্রীদেরকে তালাক দাও এবং তারা তাদের ইদ্দতকাল পূর্ণ করে, এরপর তারা যদি বিধিমত পরস্পর সম্মত হয়, তবে স্ত্রীরা নিজেদের স্বামীদের (নতুন হোক বা আগের স্বামী হোক) বিয়ে করতে চাইলে তোমরা তাদেরকে বাধা দিও না। এ দ্বারা তাকে উপদেশ দেয়া হয় তোমাদের মধ্যে যে আল্লাহ ও আখেরাতে ঈমান রাখে, এটাই তোমাদের জন্য শুদ্ধতম ও পবিত্রতম। আর আল্লাহ্ জানেন এবং তোমরা জান না।
(সুরা বাকারা ২৩২)
وقال العلامۃ الکاسانی:
"فلا یصح الطلاق الا فی الملک او فی علقۃ من علائق الملک وہی عدۃ الطلاق".
(بدائع الصنائع: ٣/ ١٢٦، فصل واماالذی یرجع الی المرأۃ)
সারমর্মঃ
মালিকানা থাকা অবস্থায় অথবা সেই সাথে সংশ্লিষ্ট অবস্থায় শুধু তালাক পতিত হয়।
নতুবা নয়।
ফাতাওয়ায়ে শামীতে আছেঃ
الدر المختار وحاشية ابن عابدين (رد المحتار) (3/ 306)
(الصريح يلحق الصريح و) يلحق (البائن) بشرط العدة (والبائن يلحق الصريح) الصريح ما لا يحتاج إلى نية بائنا كان الواقع به أو رجعيا فتح ۔۔۔ (لا) يلحق البائن (البائن)
সারমর্মঃ
স্পষ্ট বাক্যে তালাক দিলে ইদ্দতের মধ্যে স্পষ্ট এবং অস্পষ্ট অভয় প্রকারের বাক্য দ্বারাই তালাক দিলে তাহা পতিত হবে।
তবে কেনায়া বাক্যে তালাক দেওয়া হলে ইদ্দতের মধ্যে স্পষ্ট বাক্যে তালাক দিলে আবার তালাক পতিত হবে।
অস্পষ্ট বাক্যে তালাক দিলে সেই তালাক পতিত হবেনা।
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই,
(০১)
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে তৃতীয় তালাক ঐ তৃতীয় হায়েজ চলাকালীন সময়ের মধ্যেই দেওয়া যাবে।
(০২)
বিষয়টি এরকম নয়। মূলত এক তালাক বা দুই তালাক স্পষ্ট বাক্যে দেওয়া হলে সেক্ষেত্রে রজয়ী তালাক পতিত হয়। বায়েন তালাক পতিত হয় না। এমতাবস্থায় ওই স্ত্রীকে ইদ্দত চলাকালীন সময়ের মধ্যে ফিরিয়ে নেওয়া যায়।
ইদ্দতের সময়ের মধ্যে ওই স্বামী যদি ওই স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে স্ত্রীর গায়ে হাত দেয়/ শারীরিক সম্পর্ক করে, তাহলে সেই মহিলাটি পুনরায় তার স্ত্রী হয়ে যায়।
এই সুযোগটি শরীয়ত দিয়েছে রজয়ী তালাকের ক্ষেত্রে, কিন্তু বায়েন তালাকের ক্ষেত্রে বিষয়টি এমন নয়।
এক্ষেত্রে পুনরায় বিবাহ করে নেওয়া ব্যতীত ফিরিয়ে নেওয়ার কোন সুযোগ থাকে না।
এক তালাক বা দুই তালাকে রজয়ীর ক্ষেত্রেও যদি ইদ্দত কাল সময় শেষ হয়ে যায়,তাহলেও কিন্তু বায়েন তালাক পতিত হয়। এক্ষেত্রেও বিবাহ করা নেওয়া ব্যতীত ঐ স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়ার কোন সুযোগ থাকে না।
(এক তালাক বা দুই তালাকে রজয়ীর ক্ষেত্রে ইদ্দত কাল সময় শেষ হয়ে গেলে পূর্ণ বিচ্ছেদ ঘটে,তার আগে স্ত্রীর কিছু বিধান ঠিকই জারী থাকে।)
তালাক যেটিই হোক সে তালাকের পর ওই স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়ার আগ পর্যন্ত স্ত্রী কে ওই স্বামীর সামনে অবশ্যই পর্দা করতে হবে
(০৩)
১ম তালাকের পর ৩ হায়েজ।