0 votes
26 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (30 points)
এক বোনের প্রশ্ন:

আমি HSC দেওয়ার পর আমার আর জেনারেল পড়াশোনা করার ইচ্ছে হয় নি। তাই পরের বছর আমার বিয়ে হয়। আমি বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে। আমি ঢাকায় থাকি। ইনল'সও ঢাকায়। কিন্তু হাসবেন্ড চাকরীসূত্রে কক্সবাজার থাকেন। তাই আমিও সেখানে চলে যাই। কিন্তু পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়াতে আমার বাবা-মা কষ্ট পান। তারা চান যেন আমার অন্যান্য বান্ধবী, কাজিনদের মতো আমি পড়াশোনা চালিয়ে যাই। তাই কক্সবাজার শহরে বাস করাকালীন আমি ওখানেই একটা মাদ্রাসায় হিফজে এডমিট হই। কিন্তু হাসবেন্ডের অফিস গ্রামে হওয়ায় তার জন্য আসাযাওয়া অনেক কষ্টের হয়ে যায়। আর তার জন্য রিস্কিও ছিল। তাই আমরা গ্রামেই চলে যাই। কিন্তু সেখানে কোনো মাদ্রাসা নেই। এদিকে মা চাপ দিতে থাকে যেন আমি ঢাকায় চলে যাই আর সেখানেই পড়াশোনা কান্টিনিউ করি। একপর্যায়ে আমি ঢাকায় চলে যাই। সেখানেই মায়ের বাসায় থেকে পড়াশোনা কান্টিনিউ করা শুরু করি। মাঝেমাঝে হাসবেন্ডের কাছে এসে থাকতাম কারণ একে অপরকে ছাড়া থাকতে আমাদের কষ্ট হতো। হাসবেন্ডের কাছে গেলে মা ফোন দিয়ে বারবার বলতো কখন আসবা, চলে আসো। আর কতদিন। হাসবেন্ড এসব শুনতো তখন সেও বলতো চলে যাও।
এরপর ঢাকায় এসে বুঝতে পারি আমি কনসিভ করেছি। এখন ঢাকাতেই আছি। কিন্তু হাসবেন্ডকে ছাড়া থাকতে আমার কষ্ট হচ্ছে। আমার মনে হচ্ছে আমি অনুচিত কাজ করছি। হাসবেন্ডকে ছেড়ে পড়াশোনার জন্য এতদূরে থাকা আমার জন্য উচিত হচ্ছে না। কিন্তু মাকেও বুঝাতে পারছি না। কি করবো আমি এখন?
যে মাদ্রাসায় এডমিট হয়েছি সে মাদ্রাসার আলিমা বড় আপুকে এই বিষয়ে কোশ্চেন করেছিলাম মায়ের সামনে। উনি বলেছেন, "যাদের হাসবেন্ড বিদেশে থাকে তারা কি থাকে না? কত মেয়েই তো হাসবেন্ড থেকে দূরে থেকে পড়ছে।"
যার কারণে মাকে আর কিছু বুঝানোর রইলো না।

1 Answer

+1 vote
by (145,240 points)
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। 
জবাবঃ- 
বিয়ের পর স্ত্রীর অভিবাবক একমাত্র স্বামী।স্বামীর আদেশ ব্যতীত ঘর থেকে বাহির হওয়া স্ত্রীর জন্য জায়েয হবে না।স্বামীর অনুমতি ব্যতীত মা-ভাইয়ের আহবানে সাড়া দিয়ে পিতার বাড়ীতে অবস্থান করা বা অন্য কোথাও অবস্থান করা করা স্ত্রীর জন্য কখনো জায়েয হবে না।এমনকি স্ত্রীর জন্য স্বামীর অনুমতি ব্যতীত ঘরের বাহিরে যাওয়াও জায়েয হবে না।কেননা স্ত্রীর জন্য স্বামীর আদেশ মান্য করা ওয়াজিব।বিশেষ করে পারিবারিক বৈধ বিষয়ে মাতাপিতার চেয়ে স্বামীর আদেশকে স্ত্রী অগ্রাধিকার দিবে।তবে শরীয়ত বিরোধী কোনো কাজে স্বামীর আদেশকে মান্য করা স্ত্রীর উপর ওয়াজিব হবে না।বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- 634 

1722 নং ফাতাওয়ায় আমরা বলেছি যে, গোনাহের কাজ ব্যতীত অন্যান্য সমস্ত কাজে মাতাপিতার বিধিনিষেধের অনুসরণ করা ওয়াজিব।কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহিসসালাম বলেছেন,
 ﻻ ﻃﺎﻋﺔ ﻓﻲ ﻣﻌﺼﻴﺔ ﺇﻧﻤﺎ ﺍﻟﻄﺎﻋﺔ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﻌﺮﻭﻑ
 গোনাহের কাজে কারো অনুসরণ করা যাবে না,অনুসরণ একমাত্র নেককাজ সমূহেই করা যাবে।(সহীহ বুখারী-৭২৫৭,সহীহ মুসলিম-১৮৪০) অন্যত্র বর্ণিত আছে
 ﻟَﺎ ﻃَﺎﻋَﺔَ ﻟِﻤَﺨْﻠُﻮﻕٍ ﻓِﻲ ﻣَﻌْﺼِﻴَﺔِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ 
আল্লাহর অবাধ্যতায় কোনো মাখলুকের অনুসরণ করা যাবে না।(মুসনাদে আহমদ-১০৯৮) 

যে সমস্ত বিষয় মাতাপিতার ফায়দাদায়ক এবং সন্তানের জন্য ক্ষতিকর নয়,সে সমস্ত বিষয়ে মাতাপিতার অনুসরণ ওয়াজিব।যদি মাতাপিতা জন্য ফায়দাদায়ক না হয় বা সন্তানের জন্য ক্ষতিকর হয়,সে সমস্ত বিষয়ে মাতাপিতা আদেশ নিষেধের অনুসরণ ওয়াজিব নয়। 

 ইবনে তাইমিয়্যাহ রাহ বলেন,
 ﻭﻳﻠﺰﻡ ﺍﻹﻧﺴﺎﻥ ﻃﺎﻋﺔ ﻭﺍﻟﺪﻳﻪ ﻓﻲ ﻏﻴﺮ ﺍﻟﻤﻌﺼﻴﺔ ، ﻭﺇﻥ ﻛﺎﻧﺎ ﻓﺎﺳﻘﻴﻦ ... ﻭﻫﺬﺍ ﻓﻴﻤﺎ ﻓﻴﻪ ﻣﻨﻔﻌﺔ ﻟﻬﻤﺎ ، ﻭﻻ ﺿﺮﺭ ﻋﻠﻴﻪ " ﺍﻧﺘﻬﻰ . 
মাতাপিতা আদেশ নিষেধের অনুসরণ সন্তানের জন্য তখনই ওয়াজিব যখন তা কোনো গোনাহের কাজ হবে না।যদি ও তারা ফাসিক হোক না কেন? উপরোক্ত হুকুম তখনই যখন তা মাতাপিতার জন্য ফায়দাদায়ক হবে,এবং সন্তানের জন্য কোনো ক্ষতির কারণ হবে না।(সন্তানের জন্য ক্ষতির কারণ হলে শরীয়ত কর্তৃক বৈধ জিনিষেও মাতাপিতার অনুসরণ ওয়াজিব হবে না)(আল-ইখতিয়ারাত-১১৪) 

 চার মাযহাব সম্বলীত সর্ব বৃহৎ ফেক্বাহী গ্রন্থ 'আল-মাওসু'আতুল ফেক্বহিয়্যায়' রয়েছে,
 " ﻃﺎﻋﺔ ﺍﻟﻤﺨﻠﻮﻗﻴﻦ - ﻣﻤّﻦ ﺗﺠﺐ ﻃﺎﻋﺘﻬﻢ – ﻛﺎﻟﻮﺍﻟﺪﻳﻦ ، ﻭﺍﻟﺰّﻭﺝ ، ﻭﻭﻻﺓ ﺍﻷﻣﺮ : ﻓﺈﻥّ ﻭﺟﻮﺏ ﻃﺎﻋﺘﻬﻢ ﻣﻘﻴّﺪ ﺑﺄﻥ ﻻ ﻳﻜﻮﻥ ﻓﻲ ﻣﻌﺼﻴﺔ ، ﺇﺫ ﻻ ﻃﺎﻋﺔ ﻟﻤﺨﻠﻮﻕ ﻓﻲ ﻣﻌﺼﻴﺔ ﺍﻟﺨﺎﻟﻖ " ﺍﻧﺘﻬﻰ 
যাদের আদেশ-নিষেধ এর অনুসরণ শরীয়ত কর্তৃক ওয়াজিব।যেমন-মাতাপিতা,স্বামী,সরকারী বিধিনিষেধ,এর অনুসরণ ওয়াজিব। এ হুকুম ব্যাপক হারে প্রযোজ্য হবে না বরং ঐ সময়-ই প্রযোজ্য হবে যখন তা গুনাহের কাজ হবে না।কেননা হাদীস দ্বারা প্রমাণিত রয়েছে আল্লাহর অবাধ্যতায় কোনো মাখলুকের অনুসরণ করা যাবে না।(২৮/৩২৭) 

 সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন! 
আপনি যদি আপনার স্বামীর অনুমতি নিয়ে ঢাকায় থাকেন, এবং তথায় লেখাপড়া করেন,তাহলে তাতে কোনো সমস্যা হবে না। কিন্তু যদি স্বামীর অনুমতিহীন সেখানে থাকেন,এবং লেখা পড়া করেন,তাহলে আপনার জন্য তা জায়েয হবে না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন।

Related questions

...