আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
35 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (8 points)
আসসালামু আলাইকুম সম্মানিত উস্তায
১. রাতে ক্বুরআন তিলাওয়াত করতে করতে ক্বুরআন হাতে বা পাশে রেখে ঘুমিয়ে পড়লে করণীয় কী?এতে কী ক্বুরআনের অমর্যাদা করা হয়?

২. নামায অবস্থায় শেষ বৈঠকে ঘুমিয়ে পড়লে করনীয় কী? এমনও হয় শেষ রাতে নামায পড়তে নিছি,সিজদাতেই ঘুম, উঠে দেখি ফজরের ওয়াক্ত চলছে বা শেষের দিকে।গাফেল আমি কী করবো উস্তায?
নামায পূর্ণ করবো কীভাবে?
৩. একটা প্রশ্নোত্তরে দেখেছি হায়েজ অবস্থায় ক্বুরআন বা কায়দা পড়ানো যাবে না।আমাদের একজন উস্তাযা হায়েজ অবস্থায় কায়দা পড়াতে বলেন এবং সেভাবেই পড়াই,হায়েজ অবস্থায় পড়া অফ রাখা হয়না।এক্ষেত্রে কী আমাদের গুনাহ হচ্ছে?
আবার হায়েজ অবস্থায় নাজারা শুনে জাস্ট কারেকশন(যে সূরা গুলো হিফয আছে) দেই কিন্তু পড়ি না। এভাবে কারেকশন দেওয়া যাবে?

৪. মাঝে মাঝে অনেক ক্লান্ত হয়ে পরি।তখন ক্লাস নিলে একটু কষ্ট হয়ে যায়।সে সময় কী হেলান দিয়ে বা শুয়ে কায়দা পড়া নিতে পারব?বা পড়া নিতে নিতে হালকা পাতলা কাজ করা যাবে?
নাকি এতে গুনাহ হবে বা হক পরিপূর্ণ ভাবে আদায় হবে না?

৫. উস্তায আমার ছোট সময়ের তখন চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ি,সে সময় মক্তবের হুজুর আমাকে পুরাতন ক্বুরআন চেঞ্জ করে নতুন ক্বুরআন হাদিয়া দেন।সেই ক্বুরআনই আমি সমসময় পড়তাম/ পড়ি আলহামদুলিল্লাহ,আমার সবসময়ের সঙ্গী ছিল।কতো রাত ক্বুরআন হাতে নিয়েই জড়িয়ে রেখে ঘুমিয়ে গেছি তার ইয়াদ নেই,সওয়াবের আশায় না,তবে শান্তি পেতাম তাই করতাম(জানি না এটাতে গুনাহ হয়েছে কী না আল্লহ মাফ করুন আমায়),তো লাস্ট ৪ বছর ধরে আমি গ্রামের বাড়িতে থাকি না।বছরে ২ বার যাওয়া হয়।
ঢাকায় আসার সময় আমার সেই ক্বুরআন রেখে আসি।প্রতিবারই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে,এবং বাড়ি ফিরার পরে ক্বুরআন রেখে যেন কোনো কাজে শান্তি পেতাম না। শুধু মনে হতো ক্বুরআন আমাকে ডাকছে,সময় দিচ্ছি না আমি।আমি আমার সেই ক্বুরআন রেখে আসাতে আজ চার বছর ধরে ক্বুরআন পড়তে নিলেই কান্না পায়,বা যেকোনো সময়ই মনে পড়লে মন হু হু করে কেদে উঠে। প্রথম তিন বছর প্রায় প্রতিদিনই ক্বুরআনের জন্য,আমার জায়নামায,আমার বেড এর জন্য কান্না করি। আমার শুধু মনে হয় আমার জায়নামায আমার জন্য কান্না করছে আমার রুম আমার জন্য কান্না করছে, বাড়ির ক্বুরআনটি আমাকে ডাকছে,আমার দিকে তাকিয়ে আছে,আমাকে বলছে আমাকে পড়ছো না কেন। আমাকে রেখে যাও কেন।সারাক্ষণ ই চোখে ভাসে।
লাস্ট ১ বছর ধরে মাঝে মাঝে এমন কষ্ট হয়,বা কান্না পায়।আজ ৪-৫ দিন ধরে আমি অলমোস্ট প্রতিটি মূহুর্ত মিস কর্তেছি।সকালেও ক্বুরআন পড়ার সময় অনেক কান্না পায়, বাড়ির ক্বুরআনকে পড়ার জন্য মন আকুপাকু করছে।মাঝ রাতে উঠেও আমি মিস করি পূর্বের কুরআন শরীফ পড়াকে।বর্তমানে মানসিক অবস্থা বেশি ভালো নয়, এখন আরও বেশি বেশি ক্বুরআনের কথা মনে পড়ছে
ঢাকায় অনেকবার নিয়ে আসতে চেয়েছি কিন্তু আমার মা আনতে দেয় না।বলে বাড়ি এসে পড়লেই হবে এতোদূর নিতে হবে না।ক্বুরআন নিয়ে আসিনি এজন্য আমার গুনাহ হবে? বাড়ির ক্বুরআন শরীফের হক কী নষ্ট করে ফেলতেছি? আমার কী করা উচিত?কষ্টও হচ্ছে আবার নিয়েও আসিনা
ঢাকায়ও অনেকগুলো ক্বুরআন আছে।তার মধ্যে ২টা ক্বুরআন আমার বেশ পছন্দের। এখন সমস্যা হচ্ছে একটা ক্বুরআন পড়তে নিলে মনে হয় ঐ ক্বুরআন কষ্ট পাচ্ছে বা অভিমান করছে , আবার সেটি পড়া শুরু করলে মনে হয় এই কুরআন কষ্ট পাচ্ছে, আমাকে পড়তে বলতেছে।আমি যদি অর্ধেক অর্ধেক করে ভাগ করে পড়ি এমনটা করা যাবে?এরকম দ্বিধা কাজ করে এজন্য আমার করণীয় কী?ভয় হচ্ছে খুব

৬) আমরা জানি, যে ক্বুরআন শিখে এবং অন্যকে শিক্ষা দেয় সে উত্তম।
কেও যদি সাদাকায়ে জারিয়া হিসেবে উক্ত বিষয়টা রেখে যেতে চায় এবং জেনারেল পড়াশুনায় সময় না দিয়ে(খুবই কম সময় দেয়) ক্বুরআনের জন্য সময় দেয়। এক্ষেত্রে কী এটি করা যাবে?
জেনারেল পড়াশুনার কী হক রয়েছে?

৭) উস্তায একটি প্রশ্নোত্তর এ দেখেছি, পরীক্ষায় দেখে লিখা কবিরা গুনাহ।এবং এ গুনাহ পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
এখন কেও যদি কাওকে দেখায় এবং অন্যকে পাশ করাতে যেয়ে তার নিজের রেজাল্ট-ই আশানুরূপ হয়নি। (ক্লাস টিচার দেখাতে বলেছে তাই বাধ্যহয়ে দেখায় তবে তারও কী সেইম গুনাহ হবে?)
মাঝে মাঝে পরীক্ষা দুই -একটা প্রশ্ন সামনের জনকে জিজ্ঞেস করা হয়,বা আমি পারলেও দেখতে চাইলে দেখাতে হয়
এই গুনাহ'তে কী অন্যের হক জড়িত? তবে করণীয় কী?

জাযাকাল্লহু খইরন ফিদ-দুনইয়া ওয়াল আখিরহ

1 Answer

0 votes
by (746,320 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
(১)রাতে ক্বুরআন তিলাওয়াত করতে করতে ক্বুরআন হাতে বা পাশে রেখে ঘুমিয়ে পড়া অনুচিত। কেননা এতেকরে কুরআনকে অসম্মান করার সমূহ সম্ভাবনা থেকে যায়।  

(২)নামায অবস্থায় শেষ বৈঠকে ঘুমিয়ে পড়া অনুচিত।  ঘুম ঘুম ভাব নিয়ে অলসতার সাথে নামায পড়া মাকরুহ। সুতরাং রাতের প্রথমাংশে ঘুমিয়ে যাবার যাবতীয় চেষ্টা করতে হবে।

(৩)
অপবিত্র অবস্থায় কুরআন স্পর্শ করা যাবে না।এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন-  https://www.ifatwa.info/793

হায়েয অবস্থায় কুরআন তেলাওয়াত করা যাবে কি না?এ সম্পর্কে উলামাদের মধ্যে মতবেদ রয়েছে। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/389


(৪) হেলান দিয়ে বা শুয়ে কায়দা পড়া নয়া যাবে।তাছাড়া কায়দা পড়া নিতে নিতে হালকা পাতলা কাজও করা যাবে। এতে গুনাহ হবে না। যদি মনযোগ দিয়ে শুনের তাহলে পরিপূর্ণ হক আদায়ের প্রশ্ন এখানে আসবে না।

(৫) সময় সুযোগ করে আপনার ঐ পুরাতন কুরআন সাথে নিয়ে আসবেন। আল্লাহ আপনার কুরআন তিলাওয়াত ও কুরআনের মহব্বতকে কবুল করুক।আপনার জন্য উত্তম প্রতিদানের ব্যবস্থা হোক।আমীন।

(৬) জেনারেল পড়াশুনায় সময় দিয়ে তারপর কুরআনের জন্য সময় দিবেন। 

(৭) পরীক্ষায় নিজে নকল করা এবং অন্যকে নকল করার সুযোগ দেওয়া সবকিছুই হারাম এবং গোনাহ।অতীতে হয়ে থাকলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...