আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
46 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (9 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া
বারকাতুহু
১/রাসুল সাল্লাল্লাহু আ'লাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে কেউ কিছু চাইলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আ'লাইহি ওয়া সাল্লাম "না "করতেন না।কখনও কাউকে কোনো কিছু দিতে "না" করাটা কি সুন্নাতের খেলাফ হবে?

২/অব্যবহৃত মালের উপর যাকাত ও কুরবানি  ওয়াজিব  হয়?যেমন  অব্যবহৃত ল্যাপটপ বা জামা কাপড় যা  অব্যবহৃত বা খুব কম ব্যবহৃত হয়,এগুলোর  উপর যাকাত ও কুরবানি ও ফিতরা ফর‍য হবে?যাকাত ফরয হলে তার পরিমাণ কিভাবে নির্ধারণ করবে?

৩/যদি অব্যবহৃত মাল নিসাব পরিমাণ না হয়,কিন্তু সাথে আরও টাকা থাকে এবং সব মিলিয়ে নিসাব পরিমাণ হয়,তাহলে যাকাত বা কুরবানি বা ফিতরা ফরয হবে?

৪/আমার ভাসুর এনজিওতে চাকরি করেন, সুদের সাথে জড়িত। উনি শরিক হয়ে কুরবানী দিলে তো সেটা হবে না। এখন আমার বর এটা তার ভাইকে সরাসরি বলতে পারছে না।

ক. কিভাবে বললে বা কি করলে ভালো হয়, যদি একটু পরামর্শ দিতেন,উস্তায।

খ. যদি শ্বশুরবাড়ি যাই আমি, ওই মাংস কি খাওয়া উচিত হবে?আর আমার শ্বশুরবাড়ির অধিকাংশ বাজার বা জিনিসপত্র আমার ভাসুরেরই কেনা, সেক্ষেত্রে ওখানে গিয়ে কিছু খাওয়া কি আমার জায়েজ?
উল্লেখ্য, আমি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক না।আইফতোয়ার এক প্রশ্নের উত্তরে দেখলাম,নিসাব পরিমাণ মালের অধিকারী না হলে তার জন্য রুখসত আছে।  এসব বিবেচনার আমার কী করণীয়?

গ.আর বাকি শরিকদের যেমন আমার ননদ এনাদেরকেও ব্যাপারটা জানানো উচিত কিনা?

1 Answer

0 votes
by (701,080 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

(০১)
কোনো ভিক্ষুক/গরিব কিছু চাইলে সেক্ষেত্রে সামর্থ থাকা সত্ত্বেও কিছু না দেয়া সুন্নাতের খেলাফ।

(০২)
সব ধরনের সম্পদ ও সামগ্রীর ওপর যাকাত ফরয হয় না। শুধু সোনা-রুপা, টাকা-পয়সা, পালিত পশু (নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী) এবং ব্যবসার পণ্যে যাকাত ফরয হয়।

সোনা-রুপার অলংকার সর্বদা বা কালেভদ্রে ব্যবহৃত হোক কিংবা একেবারেই ব্যবহার না করা হোক সর্বাবস্থাতেই তার যাকাত দিতে হবে। -সুনানে আবু দাউদ ১/২৫৫;  সুনানে নাসায়ী হাদীস ২২৫৮; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৭০৫৪-৭০৬১,৭০৬৩-৭০৬৫; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা হাদীস ৯৯৭৪;৬/৪৬৯-৪৭১

ব্যবসার নিয়তে  কোনো কিছু ক্রয় করলে তা স্থাবর সম্পত্তি হোক যেমন জমি-জমা, ফ্ল্যাট কিংবা অস্থাবর যেমন মুদী সামগ্রী, কাপড়-চোপড়, অলংকার, নির্মাণ সামগ্রী, গাড়ি, ফার্নিচার, ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী, হার্ডওয়ার সামগ্রী, বইপুস্তক ইত্যাদি, তা বাণিজ্য-দ্রব্য বলে গণ্য হবে এবং মূল্য নিসাব পরিমাণ হলে যাকাত দেওয়া ফরয হবে। -মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭১০৩,৭১০৪
,
★সুতরাং আপনার উক্ত জমি তো ব্যবসার জন্য নয়,তাই তার উপর যাকাত ফরজ হবেনা।

যাকাত শুধুমাত্র ক্রমবর্ধমান মালের উপর ওয়াজিব হয়ে থাকে। 
মালে নামী বলতে যে মাল শরীয়তের দৃষ্টিতে বাড়তে থাকে,সেগুলো সর্বমোট চার প্রকার,(১)সোনা(২)রুপা(৩)ব্যবসার মাল(৪)গবাদি পশুএগোলো কে যেহেতু শরীয়ত বাড়ন্ত মাল বলে আখ্যা দিয়েছে,সুতরাং এগুলো বাড়ন্ত মাল।বাস্তবে সবগুলো বাড়ুক বা নাই বাড়ুক।

আরো জানুনঃ 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
প্রশ্নের উল্লেখিত পন্য গুলোর উপর যাকাত ফরজ হবেনা।
 
তবে এগুলো দৈনন্দিন প্রয়োজন অতিরিক্ত হওয়ায় এগুলোর উপর কুরবানী ও ফিতরা ওয়াজিব হবে।
অর্থাৎ এগুলোর মূল্যকে নিজের কাছে থাকা অন্যান্য সম্পদের সাথে মিলানো হলে সেক্ষেত্রে নেসাব পূর্ণ হলে কুরবানী ও ফিতরা ওয়াজিব হবে।

(০৩)
এক্ষেত্রে কুরবানী ও ফিতরা ওয়াজিব হবে।
অব্যবহৃত বলতে (১)সোনা(২)রুপা(৩)ব্যবসার মাল না হলে এক্ষেত্রে যাকাত ফরজ হবেনা।

(০৪)
ক,
দ্বীনের ব্যপারে কোনো লজ্জা বা কোনো কিছুর ভয় পাওয়ার সুযোগ নেই।
এক্ষেত্রে স্পষ্ট আকারে বলে দিতে হবে যে যেহেতু কুরবানীতে সম্পূর্ণ হালাল টাকা দিতে হয়,তাই আপনি হালাল সোর্স হয়ে টাকা কুরবানীর পশু ক্রয়ে দিবেন।

এটা বলতে না পারলে সেক্ষেত্রে আপনার স্বামী ছাগল দিয়ে কুরবানী দিবে।

বা অন্য কোথাও শরীক হবে।

খ,
আপনি নেসাব পরিমান সম্পদের মালিক না হলে আপনার জন্য রুখছত আছে।

তবে আপনার স্বামী যেহেতু নেসাব পরিমান সম্পদের মালিক, তাই তার জন্য ও আপনার নাবালেগ সন্তানের জন্য সেই বাড়ি হতে কিছু খাওয়া নেয়া জায়েজ নেই।

গ,
হ্যাঁ, জানাতে হবে।

আরো জানুনঃ- 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...