আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
52 views
in সালাত(Prayer) by (8 points)
আসসালামুআলাইকুম,
নামাজ কসরের ক্ষেত্রে যোহর ও আসর একসাথে পড়া যায় আবার মাগরিব ও এশা একসাথে পড়া যায় শুনেছি। অনলাইনে বিভিন্ন আার্টিকেল দেখে সেটাই মনে হলো। একজন মুসাফির কি এভাবে নামাজ সম্পন্ন করতে পারবে? হানাফি মাযহাব এর মতে এটা কি সহীহ?

1 Answer

0 votes
by (62,960 points)
edited by

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম।

জবাব,

প্রত্যেক নামাজের শুরু ও শেষ সময় কোরআন ও হাদিসে স্পষ্টভাবে, বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে। কোনো নামাজকে বিলম্ব করা, কিংবা সময়ের পূর্বে আদায় করা জায়েজ নেই। আল্লাহ তাআলা বলেন,

اِنَّ الصَّلوٰةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِیْنَ كِتَابًا مَّوْقُوْتًا

নিশ্চয় নামায মুসলমানদের উপর ফরয নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে। (সূরা নিসা-১০৩) তাই প্রত্যেক নামাজের শুরু এর শেষ নির্ধারিত। হাদিসে এসেছে,

مَا رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلّٰى صَلَاةً بِغَيْرِ (لِغَيْرِ) مِيْقَاتِهَا إِلَّا صَلَاتَيْنِ جَمَعَ بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ وَصَلَّى الْفَجْرَ قَبْلَ مِيْقَاتِهَا

আমর ইবনে হাফস ইবনে গিয়াস (রহ.) ......... আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী ()কে দুটি নামায ছাড়া কোনো নামায তার নির্দিষ্ট সময় ব্যতীত আদায় করতে দেখিনি। তিনি মাগরিব ও ‘ইশা একত্রে আদায় করেছেন এবং ফজরের নামায তার (নিয়মিত) ওয়াক্তের আগে আদায় করেছেন। (বুখারী-১৬৮২)

ইমাম নববী এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন,

قال النووي: المراد قبل وقتها المعتاد، لا قبل طلوع الفجر لأن ذلك ليس بجائز بإجماع المسلمين، فيتعين.

ফজর নামাজ সময়ের আগে আদায় করেছেন এর দ্বারা উদ্দেশ্য সাধারণত নিয়মিত যে সময় ফজরের নামাজ আদায় করা হয় ওই সময়ের পূর্বে আদায় করেছেন। সুবহে সাদেক তথা সময় আসার পূর্বে আদায় করেননি। কেননা সুবহে সাদিকের পূর্বে নামাজ আদায় করা সকল মুসলমানদের ঐকমত্যে নাজায়েজ।

দুই নামাজ একত্রিত একসাথে আদায় করার কথা কেবলমাত্র মুজদালিফায় মাগরিব এবং এশা ও আরাফার ময়দানে জোহর এবং আসর, একসাথে আদায় করার কথা এসেছে। আর কোনো নামাজের ক্ষেত্রে দুই নামাজ একসাথে আদায় করার সুযোগ নেই।

ইসলামের শুরু থেকেই নামাজের সময়টা নির্ধারিত। তার মাঝে কোন ধরনের পরিবর্তন পরিবর্ধন ঘটেনি। এজন্য ইচ্ছাকৃত নামাজকে তার সময় থেকে বিলম্বে আদায় করা অর্থাৎ কাজা করা গুনাহের কাজ। আর সময়ের পূর্বে আদায় করা করলে নামাজ আদায় হবে না।

অন্যায়ের বর্ণনা এসেছে,

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ جَمَعَ بَيْنَ الصَّلاَتَيْنِ مِنْ غَيْرِ عُذْرٍ فَقَدْ أَتَى بَابًا مِنْ أَبْوَابِ الْكَبَائِرِ " .

ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, কোন অজুহাত ছাড়াই যে ব্যক্তি দুই ওয়াক্তের নামায একত্রে আদায় করে সে কাবীরা গুনাহের স্তরসমূহের মধ্যে একটি স্তরে পৌঁছে যায়। (জামে তিরমিজি, হাদিস : ১৮৮)

ইমাম মুহাম্মাদ রহ. বলেন,

قَالَ مُحَمَّدٌ: بَلَغَنَا , عَنْ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ , أَنَّهُ «كَتَبَ فِي الآفَاقِ، يَنْهَاهُمْ أَنْ يَجْمَعُوا بَيْنَ الصَّلاتَيْنِ، وَيُخْبِرُهُمْ أَنَّ الْجَمْعَ بَيْنَ الصَّلاتَيْنِ فِي وَقْتٍ وَاحِدٍ كَبِيرَةٌ مِنَ الْكَبَائِرِ»

আমরা হযরত উমার (রা.) সম্পর্কে জানতে পেরেছি যে, তিনি দেশের বিভিন্ন এলাকায় এই মর্মে লিখিত আদেশ পাঠান যে, একই ওয়াক্তে একত্রে দুই নামায পড়া যাবে না। এটা বড়ো ধরনের অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে। (আল মুওয়াত্তা-ইমাম মুহাম্মাদ রহ. হাদীস : ২০৭)

এখন বাকি রইলো সফরত অবস্থায় কেউ যদি দুই নামায একসাথে আদায় করতে চায়, তাহলে সে সুযোগ আছে কিনা? কারণ, কিছু কিছু বর্ণনায় এমনটা পাওয়া যায়, যার দ্বারা বুঝা যায় সফর অবস্থায় দুই নামায একসাথে পড়া জায়েজ।

عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِذَا عَجِلَ عَلَيْهِ السَّفَرُ يُؤَخِّرُ الظُّهْرَ إِلَى أَوَّلِ وَقْتِ الْعَصْرِ فَيَجْمَعُ بَيْنَهُمَا وَيُؤَخِّرُ الْمَغْرِبَ حَتَّى يَجْمَعَ بَيْنَهَا وَبَيْنَ الْعِشَاءِ حِينَ يَغِيبُ الشَّفَقُ .

আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ () এর যখন সফরে তাড়াহুড়া থাকত, তখন তিনি যোহরের নামায আসরের প্রথম ওয়াক্ত আসা পর্যন্ত-বিলম্ব করতেন। তারপর উভয় নামায একত্রে আদায় করতেন। মাগরিবের নামাযে বিলম্ব করতেন এমনকি লালিমা অস্তমিত হওয়ার সময় হলে মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করতেন। (সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১৫০০)

এই হাদিসের ব্যাখ্যা হচ্ছে, এখানে দুই নামাজ একসাথে পড়ার দ্বারা হাকিকি একসাথে উদ্দেশ্য নয় বরং এটাকে বাহ্যত একসাথে মনে হলেও বাস্তব অর্থে একসাথে নয়। আর তা এভাবে যে সফর করতে করতে একদম জোহরের শেষ ওয়াক্তে এসে গেছে, এমন সময় নামাজ পড়া আরম্ভ করেছে যে শুধু ওই যোহরের নামাযই পড়া যায়, এটুকু সময় বাকি আছে। এরপর ৫-৭ মিনিট অপেক্ষার পর, আসরের সময় হয়ে যায়। তখন আসরের নামাজ পড়ে আবার সফর করা শুরু করে। তো এখানে একসাথে দুই নামাজ আদায় করলেও প্রকৃত অর্থে দুই ওয়াক্তে দুই নামাজ আদায় হয়েছে। কিন্তু আপাতদৃষ্টিতে মনে হবে দুটোই একসঙ্গে পড়া হয়েছে।

★★প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/ বোন!  

হানাফি মাযহাব মতে হজ্বের সময় আরাফা ও মুযদালিফা ছাড়া বাকি সময় মুকিম হোক বা মুসাফির হোক কোন অবস্থায়ই এক নামাযকে অন্য নামাযের সময়ে একসাথে করে পড়া জায়েজ নয়।

তবে আকৃতিগতভাবে একত্রিত করা যাবে, আর তা হচ্ছে যোহরকে তার শেষ সময় পর্যন্ত দেরী করে আদায় করা তারপর আসরকে তার প্রথম ওয়াক্তে আদায় করা। [আদ-দুররুল মুখতার ওয়া হাশিয়া ইবন আবেদীন, ১/৩৮১]

ইমাম তিরমিজি রহঃ বলেন

وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنْ لاَ يَجْمَعَ بَيْنَ الصَّلاَتَيْنِ إِلاَّ فِي السَّفَرِ أَوْ بِعَرَفَةَ . وَرَخَّصَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنَ التَّابِعِينَ فِي الْجَمْعِ بَيْنَ الصَّلاَتَيْنِ لِلْمَرِيضِ وَبِهِ يَقُولُ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ يَجْمَعُ بَيْنَ الصَّلاَتَيْنِ فِي الْمَطَرِ وَبِهِ يَقُولُ الشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ . وَلَمْ يَرَ الشَّافِعِيُّ لِلْمَرِيضِ أَنْ يَجْمَعَ بَيْنَ الصَّلاَتَيْنِ .

বিশেষজ্ঞদের মতে সফর ও আরাফাতের ময়দান ছাড়া দুই ওয়াক্তের নামায একত্রে আদায় করা যাবে না। কিছু তাবিঈ রুগ্ন ব্যক্তিকে দুই ওয়াক্তের নামায একত্র করার অনুমতি দিয়েছেন। আহমাদ ও ইসহাক এ মত গ্রহণ করেছেন। কিছু বিশেষজ্ঞ বৃষ্টির কারণে দুই নামায একত্রে আদায় করা যেতে পারে বলে মত দিয়েছেন। শাফিঈ, আহমাদ এবং ইসহাকও অনুরূপ কথা বলেছেন। কিন্তু শাফিঈ রুগ্ন ব্যক্তিকে দুই নামায একত্রে আদায়ের অনুমতি দেননি।

তবে অনেক ইসলামী স্কলারগন যেমন মালেকী, শাফেয়ী, হাম্বলীগণ এ মত পোষণ করেছেন যে, সফরের কারণে যোহর এবং আসর অনুরূপভাবে মাগরিব ও ইশার সালাতকে একত্রে আদায় করা জায়েয। [আশ-শারহুল কাবীর, ১/৩৬৮; মুগনিল মুহতাজ, ১/৫২৯, কাশশাফুল কিনা‘, ২/৫]

সুতরাং তাদের মতানুসারী গন সেই মত অনুযায়ী আমল করতে পারবেন। কোনো সমস্যা নেই।    

আরো জানুনঃ https://ifatwa.info/12657/


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী মুজিবুর রহমান
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...