আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
135 views
in পবিত্রতা (Purity) by (24 points)
১.১। মুসলমানি করানো হয়নি, তাই পুরুষাঙ্গের মাথা (forehead) চামড়ায় (foreskin) ঢেকে থাকে। আবার phimosis নামের একটা সমস্যার কারণে forehead এর উপর থেকে forskin সাধারন মুসলমানি না করা প্রাপ্তবয়ষ্কের পুরুষাঙ্গের (uncut penis) মতো সরানো যায়না। forehead সবসময় foreskin দিয়ে ঢাকা থাকে, পেশাব করার সময় বা টান দিলে একটু ফাঁকা হয়। এ অবস্থায় যদি ভেতর থেকে পেশাব বের হয়, আর foreskin এর বাধার কারণে তা বাইরে বের না হয় তবে কি ওজু ভেঙে যাবে?
১.২। উপরের প্রশ্নের মতো পুরুষাঙ্গ উক্ত সমস্যার কারনে সবসময় মোছা যায় না। কারণ পুরুষাঙ্গ ধুলে foreskin এর ভেতরদিকটা অনেক সময় ভেজা থাকে, foreskin ছেড়ে দিলেই তা আবার forehead কে ভিজিয়ে দেয়। ভালো মত মুছলেও কিছুক্ষন পর পেশাবের ফোটা বের হচ্ছে অনুভুত হলে চেক করে অনেক সময় ভেজা দেখা যায় আবার অনেকসময় যায় না। এক্ষেত্রে সেটা মুত্র কিনা সেটা বোঝার উপায় কী? এটা কি ওয়াসওয়াসা? আমার কী করা উচিৎ? চেক করার পর ভেজা পাওয়া গেলে কী করনীয়?


২.১। কাপড়ে নাপাকির পরিমান এক দিরহাম (পাঁচ টাকার কয়েনের সময়ায় আয়তন) পরিমান নাপাকি থাকলে তা দিয়ে সালাত আদায় হয়। এখন কাপড়ে যদি একাধিক যায়গায় একটু একটু করে নাপাকী লাগে তবে মাসায়লা কী হবে? ধরুন, একযায়গায় একটু লাগলো, আরেকযায়গায় আরেকটু, কিন্তু দুইটা মিলিয়ে এক দিরহাম আয়তন হলো না।
২.২। উপরের প্রশ্নের মতো, কিন্তু পেশাবের ছিটা ছড়িয়ে লেগেছে, সব ছিটা মিলালে এক দিরহাম হবে না কিন্তু ছিটার মাঝের ফাঁকও হিসাব করলে এক দিরহামের হবে।

২.৩। উপরের প্রশ্নের মতো, কিন্তু পেশাব দেড় বছরের বাচ্চার হলে?

1 Answer

0 votes
by (711,760 points)
জবাব
بسم الله الرحمن الرحيم 


https://www.ifatwa.info/17440 নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ- 
মৌলিকভাবে অযু ভঙ্গের কারণ ৭টি। যথা-

১. পেশাব-পায়খানার রাস্তা দিয়ে কোনো কিছু বের হওয়া। যেমন বায়ু, পেশাব পায়খানা, পোকা ইত্যাদি। (হেদায়া-১/৭)

আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত,  নিশ্চয় রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

إِنَّمَا الْوُضُوءُ مِمَّا خَرَجَ ، وَلَيْسَ مِمَّا دَخَلَ

শরীর থেকে যা কিছু বের হয় এ কারণে অযু ভেঙ্গে যায়, প্রবেশের দ্বারা ভঙ্গ হয় না। (সুনানে কুবরা লিলবায়হাকী ৫৬৮)

বিস্তারিত জানুনঃ 

۔
قال في الہدایۃ: المعاني الناقضۃ للوضوء کل ما خرج من السبیلین، لقولہ تعالیٰ: {اَوْ جَآئَ اَحَدٌ مِنْکُمْ مِنَ الْغَآئِطِ} [المائدۃ: ۶]
সারমর্মঃ
অযু ভঙ্গের কারন, পায়খানা বা পেশাবের রাস্তা দিয়ে কোনো কিছু বের হওয়া। 

وقیل رسول اللّٰہ صلی اللّٰہ علیہ وسلم: وما الحدث؟ قال: ما یخرج من السبیلین۔ (ہدایۃ ۱؍۲۲)
সারমর্মঃ
রাসুলুল্লাহ সাঃ কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিলো হদস কি?
তিনি জবাব দিলেন যেটি পায়খানা বা পেশাবের রাস্তা দিয়ে বের হয়।
,
 
سئل رسول اللّٰہ صلی اللّٰہ علیہ وسلم ما الحدث؟ فقال: ما یخرج من السبیلین۔ (نصب الرایۃ ۱؍۸۳) 
সারমর্মঃ
রাসুলুল্লাহ সাঃ কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিলো হদস কি?
তিনি জবাব দিলেন যেটি পায়খানা বা পেশাবের রাস্তা দিয়ে বের হয়।

الفصل الخامس في نواقض الوضوء: منہا ما یخرج من السبیلین من البول والغائط والریح الخارجة من الدبر والودي والمذي․ (الہندیة: ۱/۹)
সারমর্মঃ
  পেশাব-পায়খানার রাস্তা দিয়ে কোনো কিছু বের হওয়া। যেমন বায়ু, পেশাব পায়খানা, অদি,মযি ইত্যাদি।
,
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই, 
(১.১)
হ্যাঁ, এক্ষেত্রে অযু ভেঙ্গে যাবে।

(১.২)
চেক করার পর ভেজা পাওয়া গেলে পেশাব বের হয়েছে বলেই নিশ্চিত ধরা হবে।
তাই এক্ষেত্রে অযু ভেঙ্গে যাবে
উক্ত স্থান ধুয়ে অযু করে সালাত আদায় করতে হবে।

সমাধানের জন্য চিকিৎসকের স্বরনাপন্ন হওয়ার পরামর্শ রইলো। 

(২.১)
এক্ষেত্রে সব মিলিয়ে এক দিরহামের কম হলে তাহা দিয়ে সালাত আদায় হবে।

সব মিলিয়ে এক দিরহাম সমপরিমাণ বা তার চেয়ে বেশি হলে তাহা দিয়ে সালাত আদায় হবেনা।

(২.২)
ছিটার মাঝের ফাঁক নাপাক হিসেবেই ধরে নিয়ে হিসাব করবেন।
সুতরাং এক্ষেত্রে সব মিলিয়ে এক দিরহাম সমপরিমাণ বা তার চেয়ে বেশি হলে তাহা দিয়ে সালাত আদায় হবেনা।

(২.৩)
সেক্ষেত্রেও উপরের ন্যায় একই বিধান।
,
পেশাব একদিনের বাচ্চার হলেও একই বিধান।

এক্ষেত্রে বাচ্চার বয়স কম বা বেশির কোনো ধর্তব্য নেই।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...