0 votes
49 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (2 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ

১) যে পোষাক কোনো গাইরে মাহরাম পুরুষ দেখবে সেই পোষাক পরে নামাজ পড়লে নাকি নামাজ হবে না? এটা কি সঠিক?

২)মহিলাদের মাস্তুরাতে যাওয়ার দলিল জানতে চাই।

1 Answer

0 votes
by (32.1k points)
বিসমিহি তা'আলা

জবাবঃ-

(১) না, এটা সঠিক নয়।তবে মহিলাদের সবকিছুই পর্দা।বিধায় মহিলাদের কাপড় পর্দার আড়ালে রাখাই উচিৎ।

(২)

মহিলাদের দায়িত্ব হল ঘরে অবস্থান করে সাধ্যমত দ্বীনের খেদমত করা,এবং সন্তানের তা'লিম তারবিয়্যাতের ব্যবস্থা সহ স্বামীর ঘরের হেফাজত করা।

পুরুষের দায়িত্ব হল,বাহিরে অবস্থান করে ব্যবসা-বাণিজ্য,চাকুরী ইত্যাদি সহ যাবতীয় বাহিরের কাজ আঞ্জাম দেয়া।

বর্তমান সময়ে যেহেতু নিজ ঈমান-আমল কে হেফাজত করা এবং সাথে সাথে অন্যকে আ'মলের প্রতি উৎসাহিত করা অত্যন্ত জরুরী একটি বিষয়।অনেক সময় অন্যর অা'মলকে চর্মচক্ষু দ্বারা অবলোকন করার পরই নিজের জন্য আ'মল করা সহজসাধ্য হয়। তাই এই হেকমতের প্রতি লক্ষ্য রেখে তাবলীগ সমস্ত শর্তকে যত্নের সাথে পালনের নিমিত্তে ফুকাহায়ে কিরাম মাস্তুরাত জামাতের অনুমতি দিয়ে থাকেন।

তবে যদি কোনো শর্ত ছুটে যায় বা কোনো শর্তকে যত্নের সাথে আ'মলে নিয়ে আসা না হয়,তাহলে সেক্ষেত্রে মাস্তুরাত জামাতে যাওয়া বৈধ হবে না।

এক্ষেত্রে ফুকাহায়ে কিরাম নিম্নোক্ত জিহাদ ভিত্তিক কিছু হাদীস দ্বারা উক্ত মাস্তরাত জামাতের দলীল দিয়ে থাকেন।যদিও হাদীস গুলো জিহাদ বিষয়ে এসেছে,তথাপি এখানে একটি বিষয় লক্ষণীয় যে,

আমরা দেখছি পর্দার বিধান আরোপিত হওয়ার পরও মহিলা সাহাবিগণ জিহাদের ময়দানে অংশ নিয়েছেন,তাই তা'লিম তারবিয়্যাত এর মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও শরয়ী শর্তের ভিত্তিতে মহিলাদের জন্য ঘরের বাহিরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।

 হযরত আয়েশা রাযি থেকে বর্ণিত,

عن حديث عائشة، كل حدثني طائفة من الحديث، قالت: «كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا أراد أن يخرج أقرع بين نسائه، فأيتهن يخرج سهمها خرج بها النبي صلى الله عليه وسلم، فأقرع بيننا في غزوة غزاها، فخرج فيها سهمي، فخرجت مع النبي صلى الله عليه وسلم بعد ما أنزل الحجاب»

তিনি বলেন,যখন রাসূলুল্লাহ সাঃ সফরে বাহির হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করতেন,তখন নিজ স্ত্রীগণের মধ্যে লটারী দিতেন।লটারির মাধ্যমে যার নাম বের হত তাকে নিয়ে সফরে বের হতেন।একবার একটি যুদ্ধে যাওয়ার জন্য আমাদের মধ্যে লটারি দিলে লটারিতে আমার নাম উঠে আসল,তাই আমি রাসূলুল্লাহ সাঃ এর সাথে যুদ্ধে বের হলাম।এটা ছিলো পর্দা ফরয হওয়ার পরের ঘটনা।

সহীহ বুখারী-(শামেলা)২৮৭৯

হযরত আনাস ইবনে মালিক রাযি থেকে বর্ণিত,

عن أنس بن مالك رضي الله عنه، قال: حدثتني أم حرام: أن النبي صلى الله عليه وسلم قال يوما في بيتها، فاستيقظ وهو يضحك، قالت: يا رسول الله ما يضحكك؟ قال: «عجبت من قوم من أمتي يركبون البحر كالملوك على الأسرة»، فقلت: يا رسول الله، ادع الله أن يجعلني منهم، فقال: «أنت منهم»، ثم نام فاستيقظ وهو يضحك، فقال مثل ذلك مرتين أو ثلاثا، قلت: يا رسول الله، ادع الله أن يجعلني منهم، فيقول: «أنت من الأولين»، فتزوج بها عبادة بن الصامت، فخرج بها إلى الغزو، فلما رجعت قربت دابة لتركبها، فوقعت، فاندقت عنقها

তিনি বলেন, উম্মু হারাম (রাঃ) আমাকে বলেছেন, একদা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন। পরে তিনি হাসতে হাসতে জেগে উঠেন। উম্মু হারাম (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! কিসে আপনাকে হাসাচ্ছে? তিনি বললেন, আমি আমার উম্মাতের একদলের ব্যাপারে বিস্মিত হয়েছি, তারা সিংহাসনে উপবিষ্ট রাজা-বাদশাহদের মত সমুদ্র সফর করবে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আল্লাহর নিকট দু‘আ করুন, তিনি যেন আমাকেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি তাদের মধ্যে থাকবে। অতঃপর তিনি আবার ঘুমালেন এবং হাসতে হাসতে জেগে উঠেন। আর তিনি দু’বার অথবা তিনবার অনুরূপ বললেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আল্লাহর নিকট দু’আ করুন যেন তিনি আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি তাদের অগ্রগামীদের মধ্যে রয়েছ। পরে ‘উবাদাহ ইবনু সামিত (রাঃ) তাঁকে বিয়ে করেন এবং তাঁকে নিয়ে জিহাদে বের হন। ফিরার পথে তাঁকে তাঁর আরোহণের জন্য একটি সাওয়ারীর জানোয়ারের নিকটবর্তী করা হল। কিন্তু তিনি তা থেকে পড়ে যান এবং তার ঘাড় ভেঙ্গে যায়।

সহীহ বুখারী-(শামেলা)২৮৯৪

আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

উত্তর লিখনে

মুফতী ইমদাদুল হক

ইফতা বিভাগ, IOM.

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনার দ্বীন সম্পর্কীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য রয়েছে আমাদের  অভিজ্ঞ ওলামায়কেরাম ও মুফতি সাহেবগনের একটা টিম যারা ইনশাআল্লাহ প্রশ্ন করার ২৪-৪৮ ঘন্টার সময়ের মধ্যেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন।

Related questions

...