আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
80 views
in ঈমান ও বিশ্বাস (Faith and Belief) by (3 points)
edited by
আসসালমুআলাইকুম হুজুর,

১. হুজুর আমি খুব ওয়াসওয়াসা রুগী। হুজুর আমার মনে মনে এমন হচ্ছে, আমি যদি জুম্মার বা এমনি নামাজ পড়তে না জাই তাহলে কাফের । এই রকম মনে মনে হচ্ছে। হুজুর ব্যাতিক্রম যদি নামাজ পড়তে না জাই তাহলে কি ঈমান চলে যাবে? কাফের হয়ে যাবো? খুবই ভয় লাগছে

২. মনে মনে এমন হচ্ছে যদি অমুক মসজিদ এ নামাজ পড়তে না জাই তাহলে কাফের মনে মনে এমন হচ্ছে,  হুজুর আমি যদি অন্য মসজিদ এ নামাজ পরি তাহলে কি কাফের হয়ে যাব?
৩. মনে মনে শুধু এমন সর্ত হয়ে যাচ্ছে যে  কোনো বিষয় নিয়ে, দিয়ে যদি আমি সেই কাজ করি বা না করি তাহলে কি কাফের হবে বা ঈমান চলে যাবে?

৪. মনে মনে এমন হচ্ছে অমুক কথা বললে কাফের , মনে মনে হচ্ছে হুজুর। হুজুর  দরকার এ সেই কথা বললে কি কাফের হবে? বা ঈমান চলে যাবে??

৫. মনে মনে এমন হচ্ছে তেল মেখে নামাজ পড়তে গেলে কাফের এই রকম মনে মনে হচ্ছে, দিয়ে হুজুর আমি যদি তেল মেখে নামাজ পড়তে জাই তাহলে কি ঈমান চলে যাবে বা কাফের হবে?

৬ . হুজুর মনে মনে শয়তানের ওয়াসওয়াসা তে আল্লাহর নামে খারাপ কথা বা গালি এমন মনে মনে হচ্ছে মুখে উচ্চরণ করিনি। এমন হওয়ার জন্য কি ঈমান চলে যাবে?

৭. হুজুর জুম্মার নামাজ পড়তে গিয়ে নামাজের মধ্যে হিন্দু দের কোনো মূর্তির কথা মনে পড়ছে সঙ্গে সঙ্গে মন কে অন্য মনষ্ক করে নামাজ আদায় করেছি, শয়তানের ওয়াসওয়াসা র জন্য কি ঈমান চলে যাবে?

৮. হুজুর নামাজ পড়তে গিয়ে যখন সুবহানা রাব্বিল আজিম বলছি তখন হিন্দু দের কিছু একটা মনে হইতেছে,  সঙ্গে সঙ্গে মন কে ঠিক করে নামাজ পড়েছি। হুজুর ঈমান ঠিক আছে তো?

৯. আর হুজুর, নামাজের সময় ভাবছি বাড়ি গিয়ে হুজুর যে জানাব, এই টা মনে এর মধ্যে হচ্ছিলো, তাই একটু নামাজ টা তারা তারি পড়েছি , এর জন্য কি ঈমান চলে যাবে?

১০. হুজুর মনে মনে এমন হচ্ছে ৫ গুনতে গুনতে যদি ফোন আসে তাহলে কাফের । এই রকম মনে মনে হচ্ছে , দিয়ে মনে মনে ৫ গুনলাম ফোন আসলো না। তাহলে তো ঈমান যাবে না বা কাফের হবে না। কিন্তু এর পর যদি ফোন আসে তাহলে কি কাফের হবে? বা ঈমান চলে যাবে?
১১. হুজুর রাস্তা দিয়ে যাচ্ছি , দিয়ে কারো দাড়ি দেখলে মনে মনে খারাপ ভাবনা বা কুটুক্তি চলে আসছে, হুজুর আমার ওয়াসওয়াসা র জন্য এমন হচ্ছে, আমি মুখে কিছু উচ্চরণ করিনি। এর জন্য কি ঈমান চলে যাবে?

১২. আপনাকে বললাম সমস্ত কথা এর জন্য কি ঈমান চলে যাবে না তো? আমার বৈবাহিক সম্পর্ক ঠিক আছে তো?
খুব চিন্তা হচ্ছে একটু দেখুন হুজুর।

1 Answer

0 votes
by (636,800 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম।
জবাবঃ- 


হাদীস শরীফে এসেছেঃ 

مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفٰى عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِنَّ اللهَ تَجَاوَزَ عَنْ أُمَّتِي مَا حَدَّثَتْ بِه„ أَنْفُسَهَا مَا لَمْ تَعْمَلْ أَوْ تَتَكَلَّمْ
قَالَ قَتَادَةُ إِذَا طَلَّقَ فِي نَفْسِه„ فَلَيْسَ بِشَيْءٍ.

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ আমার উম্মতের হৃদয়ে যে খেয়াল জাগ্রত হয় তা ক্ষমা করে দিয়েছেন, যতক্ষণ না সে তা কার্যে পরিণত করে বা মুখে উচ্চারণ করে।

ক্বাতাদাহ (রহ.) বলেনঃ মনে মনে তালাক দিলে তাতে কিছুইতালাক হবে না। [বুখারী শরীফ ৫২৬৯.২৫২৮] আধুনিক প্রকাশনী- ৪৮৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৭৭৮)

অন্য এক হাদীস শরীফে এসেছে-

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ اللَّهَ تَجَاوَزَ لِي عَنْ أُمَّتِي مَا وَسْوَسَتْ بِهِ صُدُورُهَا، مَا لَمْ تَعْمَلْ أَوْ تَكَلَّمْ ".

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, (আমার বরকতে) আল্লাহ আমার উম্মতের অন্তরে উদিত ওয়াসওয়াসা (পাপের ভাব ও চেতনা) মাফ করে দিয়েছেন। যতক্ষণ পর্যন্ত না সে তা কাজে পরিণত করে অথবা মুখে বলে। (সহীহ বুখারী ২৫২৮)

আরো জানুনঃ- 

★প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই,
(০১)
এক্ষেত্রে  আপনার ঈমান চলে যাবেনা। 

(০২)
আপনি যদি অন্য মসজিদ এ নামাজ পড়েন,তাহলে কাফের হয়ে যাবেননা।

(০৩)
যদি আপনি সেই কাজ করেন বা না করেন, তাহলে কাফের হয়ে যাবেননা বা ঈমান চলে যাবেনা।

(০৪)
এক্ষেত্রে সেই কথা বললে কাফের হয়ে যাবেননা বা ঈমান চলে যাবেনা।

(৫-১২)
প্রশ্নের বিবরন  মতে কোনো ছুরতেই আপনার ঈমান চলে যাবেনা।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...