+1 vote
860 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (39 points)
প্রশ্ন বোনের পক্ষ থেকে,

আস সালামু আলাইকুম, আমার বাবা-মা আমাকে আমার ভাইয়ের সাথে একই রুমে থাকতে বাধ্য করে। মাঝে মাঝে একই বেডে থাকতে বাধ্য করে। তাদের হাদিসের নিষেদ্ধগা শোনালেও তারা বলে এসব ভুল কথা, তারা ছোট থেকে দেখে আসছে। ভাই-বোনে সমস্যা নেই। তারা কোন কথাই শোনতে রাজি না। এখন কি করতে পারি?

1 Answer

+1 vote
by (42.2k points)

বিসমিহি তা'আলা

জবাবঃ-

আলহামদু লিল্লাহ।

সহীহ হাদীস দ্বারা এ কথা প্রমাণিত রয়েছে যে,সন্তানদের বয়স দশ হয়ে গেলে তাদের শয়নস্থল-কে পৃথক করে দিতে হবে।

যেমন হযরত আমর বিন শুয়াইব তার সুত্রে বর্ণনা করেন,

ﻋَﻦْ ﻋَﻤْﺮِﻭ ﺑْﻦِ ﺷُﻌَﻴْﺐٍ ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻴﻪِ ﻋَﻦْ ﺟَﺪِّﻩِ ﻗَﺎﻝَ ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ : ( ﻣُﺮُﻭﺍ ﺃَﻭْﻟَﺎﺩَﻛُﻢْ ﺑِﺎﻟﺼَّﻠَﺎﺓِ ﻭَﻫُﻢْ ﺃَﺑْﻨَﺎﺀُ ﺳَﺒْﻊِ ﺳِﻨِﻴﻦَ ، ﻭَﺍﺿْﺮِﺑُﻮﻫُﻢْ ﻋَﻠَﻴْﻬَﺎ ﻭَﻫُﻢْ ﺃَﺑْﻨَﺎﺀُ ﻋَﺸْﺮٍ ، ﻭَﻓَﺮِّﻗُﻮﺍ ﺑَﻴْﻨَﻬُﻢْ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻤَﻀَﺎﺟِﻊِ ) .

রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, তোমরা তোমাদের সন্তানাদিকে নামাযের আদেশ দাও যখন তারা সপ্ত বর্ষে উপনীত হয়।নামায না পড়ার ধরুণ তাদেরকে প্রহার করো যখন তারা দশম বৎসরে উপনীত হয়।এবং সাথে সাথে তাদের শয়নস্থল কে পৃথক করে দাও।(সুনানু আবি-দাউদ-৪১৮)

হযরত সামুরাহ ইবনে মা'বাদ রাযি থেকে বর্ণিত,

ﻋﻦ ﺳﺒﺮﺓ ﺑﻦ ﻣﻌﺒﺪ ﺃﻥ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ : ( ﺇﺫﺍ ﺑﻠﻎ ﺃﻭﻻﺩﻛﻢ ﺳﺒﻊ ﺳﻨﻴﻦ ﻓﻔﺮﻗﻮﺍ ﺑﻴﻦ ﻓﺮﺷﻬﻢ ﻭ ﺇﺫﺍ ﺑﻠﻐﻮﺍ ﻋﺸﺮ ﺳﻨﻴﻦ ﻓﺎﺿﺮﺑﻮﻫﻢ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﺼﻼﺓ )

রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন,যখন তোমাদের সন্তানাদি সপ্তম বৎসরে উপনীত হবে তখন তোমরা তাদের বিছানাকে পৃথক করে দাও।এবং যখন তারা দশম বৎসরে উপনীত হবে তখন নামাযের জন্য তোমরা তাদেরকে প্রহার করো।

সহীহ জামে-৪১৮

এই হাদীস দ্বয় বালক-বালিকা সবাইকে শামিল রাখে।তথা ছেলেমেয়ে হলে তাদেরকে পৃথক করতে হবে।এবং কারো শুধুমাত্র ছেলে সন্তান বা শুধুমাত্র মেয়ে সন্তান থাকলে তাদের শয়নস্থল-কে ও পৃথক করতে হবে।

উলামায়ে কেরাম হাদীসে বর্ণিত শয়নস্থল পৃথকীকরণের দু'টি পদ্ধতি  উল্লেখ করে থাকেন।তথা শয়নস্থল দু'ভাবে পৃথক হতে পারে।যথা-

(এক)

সন্তানদের মধ্যকার বিছানাকে পৃথক করা।প্রত্যেকেই পৃথক পৃথক বিছানায় শয়ন করবে। যা সরাসরি হাদীস থেকে বুঝা যাচ্ছে।

(দুই)

সন্তানদের মধ্যকার বিছানা পৃথকীকরণের প্রয়োজন নেই।বরং যাতে করে দুই জন উলঙ্গ হয়ে/বা একি তোষকের নিচে এক বিছানায় ঘুমায়।

সে হিসেবে ফিতনার আশংকা না থাকলে,কাপড় ইত্যাদি দ্বারা আবৃত হয়ে নিরাপদ দূরত্বে ঘুমিয়ে পড়া জায়েয হবে।

হযরত যাকারিয়া আল-আনসারি রাহ, বলেন,

" ﺍﻟﺘﻔﺮﻳﻖ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﻀﺎﺟﻊ ﻳﺼﺪﻕ ﺑﻄﺮﻳﻘﻴﻦ : ﺃﻥ ﻳﻜﻮﻥ ﻟﻜﻞ ﻣﻨﻬﻤﺎ ﻓﺮﺍﺵ ، ﻭﺃﻥ ﻳﻜﻮﻧﺎ ﻓﻲ ﻓﺮﺍﺵ ﻭﺍﺣﺪ ﻭﻟﻜﻦ ﻣﺘﻔﺮﻗﻴﻦ ﻏﻴﺮ ﻣﺘﻼﺻﻘﻴﻦ ، ﻭﻳﻨﺒﻐﻲ ﺍﻻﻛﺘﻔﺎﺀ ﺑﺎﻟﺜﺎﻧﻲ ; ﻷﻧﻪ ﻻ ﺩﻟﻴﻞ ﻋﻠﻰ ﺣﻤﻞ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ ﻋﻠﻰ ﺍﻷﻭﻝ ﻭﺣﺪﻩ . ﻗﺎﻝ ﺍﻟﺰﺭﻛﺸﻲ : ﺣﻤﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻫﻮ ﺍﻟﻈﺎﻫﺮ ﺑﻞ ﻫﻮ ﺍﻟﺼﻮﺍﺏ ﻟﻠﺤﺪﻳﺚ ﺍﻟﺴﺎﺑﻖ : ( ﻓﺮﻗﻮﺍ ﺑﻴﻦ ﻓﺮﺷﻬﻢ ) ﻣﻊ ﺗﺄﻳﻴﺪﻩ ﺑﺎﻟﻤﻌﻨﻰ ﻭﻫﻮ ﺧﻮﻑ ﺍﻟﻤﺤﺬﻭﺭ "

বিচানা পৃথকীকরণ দুই পদ্ধতিতে হতে পারে।(১)প্রত্যেকের জন্য পৃথক পৃথক বিছানা হওয়া।(২)এক বিছানা হলেও সমস্যা নেই যদি দুনুজন বিছনায় নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নেয়।দ্বিতীয় পদ্ধতি গ্রহণ করা যেতে পারে।কেননা শুধুমাত্র প্রথম পদ্ধতি নির্দিষ্ট হওয়ার উপর যথেষ্ট কোনো দলীল নেই।কিন্ত ইমাম যারকাশি রাহ মনে করেন,ফিতনার আশংকায় উপরুক্ত হাদীস কে প্রথম প্রকার পৃথকীকরণ এর উপর ধরে নেয়া হবে।

(আসনাল-মাতালিব:৩/১১৩)

হাফিয ইবনে হজর রাহ এক বিছানায় একত্রে অনেকের শয়ন সম্পর্কে বলেন,

": ﻭﺛﺒﺖ ﻣﻦ ﻃﺮﻕ ﺃﺧﺮﻯ ﺃﻧﻪ ﻳﺸﺘﺮﻁ ﺃﻥ ﻻ ﻳﺠﺘﻤﻌﻮﺍ ﻓﻲ ﻟﺤﺎﻑ ﻭﺍﺣﺪ "

এক বিছানায় প্রয়োজনে অনেক ঘুমাতে পারবেন।তবে শর্ত হলো এক তোষকের নিচে শয়ন করতে পারবে না।বরং পৃথক পৃথক তোষকের নিচে শয়ন করতে হবে।(ফাতহুল বারী-৭/২০৪)

وَلَا يَجُوزُ لِلرَّجُلِ مُضَاجَعَةُ الرَّجُلِ وَإِنْ كَانَ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا فِي جَانِبٍ عَنْ الْفِرَاشِ كَمَا فِي التَّنْوِيرِ.

(مجْمَعُ الْأَنْهُرِ فِي شَرْحِ مُلْتَقَى الْأَبْحُرِ) 2/541

এক পুরুষের জন্য অন্য পুরুষের সাথে (বিনা জরুরতে)শয়নস্থলকে শেয়ার করা জায়েয হবে না।যদি ও তারা উভয় বিছানার কিনারা পার্শ্বে হোক না কেন।

মাজমা'উল আনহুর ফি শরহে মুলতাক্বাল আবহুর-২/৫৪১

আল্লামা আলাউদ্দীন হাসক্বফী রাহ. দুর্রুল মুখতার-(৬/৩৮২)এ লিখেনঃ-

(ولا يجوز للرجل مضاجعة الرجل وإن كان كل واحد منهما في جانب من الفراش) قال - عليه الصلاة والسلام - «لا يفضي الرجل إلى الرجل في ثوب واحد ولا تفضي المرأة إلى المرأة في الثوب الواحد» وإذا بلغ الصبي أو الصبية عشر سنين يجب التفريق بينهما بين أخيه وأخته وأمه وأبيه في المضجع لقوله - عليه الصلاة والسلام - «وفرقوا بينهم في المضاجع وهم أبناء عشر» وفي النتف إذا بلغوا ستا كذا في المجتبى،

দু'জন পুরুষের মধ্যে শয়নস্থল এক হওয়া জায়েয হবে না(একি তোষকের নিচে)।যদিও তাদের উভয়ের অবস্থান বিছানার উভয় পার্শ্বে হোক না কেন।

রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন,

এক তোষকের ভিতর এক পুরুষ অন্য পুরুষের সাথে শয়ন করতে পারবে না।এবং এক মহিলা অন্য মহিলার সাথেও একই তোষকের ভিতর শয়ন করতে পারবে না।

যখন বালক-বালিকা দশ বৎসরে পৌছে যায়, তখন আপন ভাই-বোন,ছেলে-মা,মেয়ে-পিতার মধ্যকার শয়নস্থল কে পৃথক করে দিতে হবে।কেননা রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন,সন্তান দশ বৎসরে উপনীত হয়ে গেলে তাদেরকে পৃথক শয়নস্থলের ব্যবস্থা করে দিতে হবে।

ফেকহী কিতাব 'আন-নুতাফ' এ বর্ণিত রয়েছে যে, সন্তান ছয় বৎসরে উপনীত হয়ে গেলে তাদের জন্য পৃথক শয়নস্থলের ব্যবস্থা করে দিতে হবে।(মুজতাবা)

উক্ত ইবারতের ব্যখ্যা করতে যেয়ে
মুহাম্মদ আমীন ইবনে উমর ইবনে আব্দুল আজীজ আবেদীন(ইবনে আবেদীন) শামী রাহ লিখেনঃ

(قوله مضاجعة الرجل) أي في ثوب واحد لا حاجز بينهما، وهو المفهوم من الحديث الآتي، وبه فسر الأتقاني المكامعة على خلاف ما مر عن الهداية، وهل المراد أن يلتفا في ثوب واحد أو يكون أحدهما في ثوب دون الآخر والظاهر الأول، يؤيده ما نقله عن مجمع البحار أي متجردين، وإن كان بينهما حائل، فيكره تنزيها اهـ تأمل

এক পুরুষের সাথে অপর পুরুষের একত্রে এক বিছানায় ঘুমানো নাজায়েয তখনই হবে যখন উভয় একই তোষকের ভিতর কোনো প্রকার পর্দা ব্যতীত শয়ন করবে।এ বিষয়টাই অন্য একটি হাদীস থেকে বুঝা যাচ্ছে। হ্যা যদি সমলিঙ্গের  মধ্যে কাপড় ইত্যাদির দ্বারা প্রতিবন্ধকতা থাকে,তাহলে এমতাবস্থায় একই বিছানায় দু'জন পুরুষের শয়ন করা মাকরুহে তানযিহি হবে।

 (قوله بين أخيه وأخته وأمه وأبيه) في بعض النسخ وبين بالواو وهكذا رأيته في المجتبى قال في الشرعة ويفرق بين الصبيان في المضاجع إذا بلغوا عشر سنين، ويحول بين ذكور الصبيان والنسوان وبين الصبيان والرجال فإن ذلك داعية إلى الفتنة ولو بعد حين اهـ وفي البزازية إذا بلغ الصبي عشرا لا ينام مع أمه وأخته وامرأة إلا بامرأته أو جاريته اهـ فالمراد التفريق بينهما عند النوم خوفا من الوقوع في المحذور، فإن الولد إذا بلغ عشرا عقل الجماع، ولا ديانة له ترده فربما وقع على أخته أو أمه، فإن النوم وقت راحة مهيج للشهوة وترتفع فيه الثياب عن العورة من الفريقين، فيؤدي إلى المحظور وإلى المضاجعة المحرمة خصوصا في أبناء هذا الزمان فإنهم يعرفون الفسق أكثر من الكبار.

দশ বৎসরে উপনীত হওয়া সন্তানদের মধ্যে শয়নস্থল-কে পৃথক করে দিতে হবে।এ বিধান ছেলে সন্তান ও মেয়ে সন্তান এবং সন্তান ও পুরুষদের মধ্যে প্রযোজ্য হবে।কেননা এটা ফিতনার দিকে নিয়ে যেতে পারে। যদিও বিষয়টা সময়সাপেক্ষ।

বায্যাযিয়্যাহ নামক কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,যখন ছেলে সন্তান দশ বৎসরে উপনীত হয়ে যাবে,তখন যেন সে তার মা,বোন,এবং অন্য কোনো নারীর সাথে শয়ন না করে,(তবে নিজ স্ত্রী বা দাসীর সাথে শয়ন করতে পারবে)।মোটকথা নিষিদ্ধ জিনিষ তথা যিনা-ব্যভিচার থেকে বাচাতেই মূলত শয়নস্থলকে পৃথক করে দেয়ার বিধান এসেছে।

কেননা বাচ্ছা দশ বৎসরে উপনীত হয়ে গেলে সে সহবাসের তাৎপর্য বুঝে নিতে সক্ষম হয়ে যায়।এবং বয়স কম থাকার ধরুণ তার খোদাভীরুতাও অসম্পূর্ণ থাককে।তাই আশংকা থেকে যায় যে,হয়তো সে তার সাথে শয়নকৃত ব্যক্তির উপর আপতিত হয়ে যেতে পারে।

এ আশংকা এজন্য যে, ঘুম হলো-প্রশান্তিদায়ক এবং যৌন উত্তেজনা কে জাগ্রতকারী। অন্যদিকে ঘুমের সময় কাপড় খুলে গিয়ে সতর প্রকাশিত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রাখে।

সুতরাং এমতাবস্থায় অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে নিষিদ্ধ ও হারাম শয়নের দিকে সন্তান চলে যেতে পারে।বিশেষ করে বর্তমান সময়ের সন্তান,যারা কিনা পাপাচারের অনুশীলনে বড়দের চেয়েও এগিয়ে রয়েছে।

وأما قوله وأمه وأبيه فالظاهر أن المراد تفريقه عن أمه وأبيه بأن لا يتركاه ينام معهما في فراشهما، لأنه ربما يطلع على ما يقع بينهما بخلاف ما إذا كان نائما وحده أو مع أبيه وحده أو البنت مع أمها وحدها، وكذا لا يترك الصبي ينام مع رجل أو امرأة أجنبيين خوفا من الفتنة، ولا سيما إذا كان صبيحا فإنه وإن لم يحصل في تلك النومة شيء فيتعلق به قلب الرجل أو المرأة فتحصل الفتنة بعد حين فلله در هذا الشرع الطاهر فقد حسم مادة الفساد ومن لم يحط في الأمور يقع في المحذور وفي المثل لا تسلم الجرة في كل مرة
(দশে উপনীত হওয়া)সন্তানের শয়নস্থল-কে মাতা-পিতা থেকে পৃথকীকরণ করতে এজন্য বলা হয়েছে যে,যাতেকরে মাতা-পিতা র মধ্যকার একান্ত মুহুর্ত গুলো সম্পর্কে সন্তান অবগত হতে না পারে।সন্তান একাকী ঘুমানো বা ছেলে সন্তান পিতার সাথে এবং মেয়ে সন্তান মায়ের সাথে ঘুমানো নিষিদ্ধ নয়।

এবং প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে সন্তান বা মেয়ে সন্তান-কে কোনো পুরুষ বা মহিলার সাথে ঘুমোতে দেয়া যাবে না।বিশেষ করে সন্তানের চেহারা সুন্দর হলে তো দেয়া যাবেই না।কেননা এক্ষেত্রে ঐ সুদর্শন সন্তানের প্রতি মন বসে যেতে পারে যা বর্তমানে না হলেও ভবিষ্যতে ফিতনার কারণ হয়ে দেখা দিতে পারে। শরীয়তের বিধানাবলী কতই না সুন্দর।কেননা শরীয়ত ফিতনার মূল উৎসকে ধংস করে দিতে চায়।সুতরাং ঐ সতর্কতামূলক অবস্থানকে উপেক্ষা  করলে অবশ্যই ফিতনায় জড়িত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকবে।

রদ্দুল মুহতার-(৬/৩৮২)

সুপ্রিয় পাঠকবর্গ!

উপরোক্ত আলোচনা থেকে বুঝতে পারলাম যে, শরীয়তের মূল বিধান হলো,

প্রাপ্তবয়স্ক তথা দশ বৎসরে উপনীত হওয়ার পর থেকে প্রত্যেকের জন্য অত্যাবশ্যকীয় বিধান হলো যে,প্রত্যেকেই এমন স্থানে শয়ন করবে যেখানে পর্দা পুশিদার রক্ষা হয়।সে হিসেবে প্রত্যেকেই পৃথক পৃথক রুমে থাকবেন।হ্যা স্বামী-স্ত্রীর বিষয়টি ভিন্ন।

সুতরাং সাধারন বিধান হচ্ছে প্রত্যেকেই পৃথক পৃথক রুমে শয়ন করবেন।এটাই সতর রক্ষার সর্বোত্তম পদ্ধতি।

হ্যা যদি কখনো এক রুমে দু'জনের থাকার প্রয়োজন পড়ে তাহলে এক্ষেত্রে একই রুমে দুই বা ততধিক সমলিঙ্গ তথা শুধু পুরুষ বা শুধু মহিলা একত্রে ঐ শর্তে থাকতে পারবেন যে,প্রত্যেকেরই পৃথক পৃথক তোষক/লেপ থাকবে।

এবং একই তোষকের নিচে একাধিক পুরুষ বা একাধিক মহিলা রাত্রিযাপন করা মাকরুহে তানযিহি।

তবে বিপরীত লিঙ্গ কয়েকজনের রাত্রিযাপন একই বিচানায় কখনো জায়েয হবে না।এমনি তারা পরস্পর মাহরাম হলেও জায়েয হবে না।এবং পৃথক পৃথক তোষক থাকলেও জায়েয হবে না।

ﻧﺴﺄﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻟﻚ ﺍﻟﺘﻮﻓﻴﻖ ﻭﺍﻟﺴﺪﺍﺩ ﻭﺍﻟﺮﺷﺎﺩ .

ﻭﺍﻟﻠﻪ ﺃﻋﻠﻢ

Related questions

...