আমার এক বন্ধু বিষয়টা জানতে চেয়েছে। সে প্রবাসে থাকে। তার মনে হচ্ছে বিয়ে করা তার উপর ফরজ হয়ে আছে। সে গুনাহ থেকে কিছুতেই বেঁচে থাকতে পারছে না। বয়সও অনেক হয়েছে তার। এখন সে সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাঁচ মাস পরে তার আকামার মেয়াদ শেষ। তো সে নতুন করে আকামা রেনু না করে পাঁচ মাস পরে একবারে দেশে চলে আসবে। দেশে এসে বিয়ে করবে এবং দেশেই কোন একটা ব্যবসা করবে। এখন তার কাছে প্রয়োজনীয় খরচ বাদে, এক্সট্রা ১৫ লক্ষ টাকা আছে। এখন এই ১৫ লক্ষ টাকার কারণে কি তার উপর হজ ফরজ হয়েছে? যেহেতু এখন হজের মৌসুম চলতেছে এবং সে সৌদিতে আছে। এখন কি তার এই অতিরিক্ত টাকার কারণে তার সৌদি থেকেই হজ আদায় করা বাধযতামূলক হবে?
আর এখানে কিছু বিষয় হচ্ছে, পাঁচ মাস পরে সে দেশে চলে আসলে তার তো আর ইনকাম থাকবে না। ঐ ১৫ লক্ষ টাকার উপরই তার নির্ভর। এখন এসে যে বিয়ে করবে তার স্ত্রীকেও তো পর্দার মধ্যে রাখা তার উপর ফরজ। তো এজন্য সে ১৫ লক্ষ টাকা থেকে কিছু টাকা দিয়ে তার ঘর বানাবে যেন পর্দার সমস্যা না হয়। এবং এই ১৫ লক্ষ টাকা থেকেই তার বিয়ের আনুসাঙ্গিক খরচাপাতি এবং স্ত্রীর মোহরানা দিবে। আর বাকি কিছু টাকা দিয়ে দেশে ব্যবসা বাণিজ্য করবে। এখন যদি তার ওপর হজ ফরজ হয়ে থাকে সৌদি থেকে তার হজ করা যদি বাধ্যতামূলক হয়। তাহলে তো সে পাঁচমাস পর দেশে গিয়ে কোন কিছু করতে পারবে না। বিয়ের জন্য কিছু খরচপাতি এবং স্ত্রীর মোহরানা লাগবে। এবং স্ত্রীকে পর্দায় রাখা বা পর্দার পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া যেহেতু তার উপর ফরজ সুতরাং স্ত্রীর পর্দার জন্য তার নতুন ঘর তৈরি করাও ফরজ। এখন যদি সে সৌদি থেকে ঐ টাকা দিয়ে হজ করে ফেলে তাহলে বিয়ে করা, ঘর তৈরি করা, এবং ব্যবসা করা ইত্যাদি তার জন্য সম্ভব হবে না।
বিঃদ্রঃ: সে কিছুদিন যাবত হজে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করতেছিল। কিন্তু সৌদি সরকার যেই কয়েকটা প্যাকেজ নির্ধারণ করেছে হাজীদের জন্য। তার মধ্যে কম দামে যে প্যাকেজগুলো ওইগুলো টোটালি বন্ধ হয়ে গেছে। এখন দামি দুইটা প্যাকেজ চালু আছে এবং সে যদি সেই দুইটা প্যাকেজে যে কোন একটা ক্রয় করে তাহলে তার প্রায়ই ৫ লক্ষ টাকার মত চলে যাবে। তাহলে তার মূল যে ১৫ লক্ষ টাকা তার থেকে অনেক টাকায় চলে যাবে। তো এখন তার করণীয় কি তার উপর কি হজ করা ফরজ? নাকি হজ্জ না করলে তার গুনাহ হবে না?