বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
ইস্তেগফার অর্থ আল্লাহর নিকট মাফ চাওয়া,ক্ষমা চাওয়া। রাসূলুল্লাহ সাঃ এর জীবনের (যদি হতো, তবে কোনো গোনাহই ছিল না) সমস্ত গুনাহকে ক্ষমা করে দেয়া হয়েছিলো। এরপরও রাসূলুল্লাহ সাঃ দিনে সত্তরবার তাওবাহ-ইস্তেগফার করতেন।
আল্লাহ তা'আলা ইস্তেগফার সম্পর্কে হযরত নূহ আঃ এর কথাকে পছন্দ করে কুরআনে তা বর্ণনা করেন।
হযরত নূহ আঃ উনার কওমকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন,
ﻓَﻘُﻠْﺖُ ﺍﺳْﺘَﻐْﻔِﺮُﻭﺍ ﺭَﺑَّﻜُﻢْ ﺇِﻧَّﻪُ ﻛَﺎﻥَ ﻏَﻔَّﺎﺭًﺍ
(হে আল্লাহ!)অতঃপর(আমার কওমকে) বলেছিঃ তোমরা তোমাদের পালনকর্তার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল।
ﻳُﺮْﺳِﻞِ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﺀ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢ ﻣِّﺪْﺭَﺍﺭًﺍ
তিনি তোমাদের উপর অজস্র বৃষ্টিধারা ছেড়ে দিবেন।
ﻭَﻳُﻤْﺪِﺩْﻛُﻢْ ﺑِﺄَﻣْﻮَﺍﻝٍ ﻭَﺑَﻨِﻴﻦَ ﻭَﻳَﺠْﻌَﻞ ﻟَّﻜُﻢْ ﺟَﻨَّﺎﺕٍ ﻭَﻳَﺠْﻌَﻞ ﻟَّﻜُﻢْ ﺃَﻧْﻬَﺎﺭًﺍ
তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দিবেন, তোমাদের জন্যে উদ্যান স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্যে নদীনালা প্রবাহিত করবেন। (সূরা নুহ-১০-১১-১২)
বেশী বেশী ইস্তেগফার করলে আল্লাহ তা'আলা রাযি এবং খুশি হন।দু'আ কবুল করেন।আর জানে মালে বরকত দান করেন। আল্লাহ-ই ভালো জানেন।
সাইয়িদুল ইস্তিগফার
(/সাইয়েদুল ইস্তেগফার) তথা ক্ষমা প্রার্থনার শ্রেষ্ঠ দো‘আ
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে এই দো‘আ পাঠ করবে, দিনে পাঠ করে রাতে মারা গেলে কিংবা রাতে পাঠ করে দিনে মারা গেলে, সে জান্নাতী হবে’।
اَللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّىْ لآ إِلهَ إلاَّ أَنْتَ خَلَقْتَنِىْ وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوْذُبِكَ مِنْ شَرِّمَا صَنَعْتُ، أبُوْءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَىَّ وَأَبُوْءُ بِذَنْبِىْ فَاغْفِرْلِىْ، فَإِنَّهُ لاَيَغْفِرُ الذُّنُوْبَ إِلاَّ أَنْتَ
উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মা আনতা রব্বী লা ইলা-হা ইল্লা আনতা খালাক্বতানী, ওয়া আনা ‘আবদুকা ওয়া আনা ‘আলা ‘আহদিকা ওয়া ওয়া‘দিকা মাসতাত্বা‘তু, আ‘ঊযুবিকা মিন শার্রি মা ছানা‘তু। আবূউ লাকা বিনি‘মাতিকা ‘আলাইয়া ওয়া আবূউ বিযাম্বী ফাগফিরলী ফাইন্নাহূ লা ইয়াগফিরুয্ যুনূবা ইল্লা আনতা।
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! তুমি আমার পালনকর্তা। তুমি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমার দাস। আমি আমার সাধ্যমত তোমার নিকটে দেওয়া অঙ্গীকারে ও প্রতিশ্রুতিতে দৃঢ় আছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট হ’তে তোমার নিকটে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি আমার উপরে তোমার দেওয়া অনুগ্রহকে স্বীকার করছি এবং আমি আমার গোনাহের স্বীকৃতি দিচ্ছি। অতএব তুমি আমাকে ক্ষমা কর। কেননা তুমি ব্যতীত পাপসমূহ ক্ষমা করার কেউ নেই’। [মিশকাত -২৩৩৫]