0 votes
571 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (55 points)
closed by
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ সম্মানীত উস্তাজ...

উস্তাজের থেকে কিছু সময় ধার চেয়ে আমাদের সাংসারিক জীবনের একটা সেন্সিটিভ ইস্যু নিয়ে প্রশ্ন ছিল। মেয়েদের ফ্রি মিক্সিং পরিবেশে জব করানোর প্রশ্নে উস্তাজ ফুকাহায়ে কেরামের একটা মূলনীতির কথা বলেছিলেন। সেটা হলঃ "প্রয়োজন অনেক নিশিদ্ধ কাজকেই বৈধ করে দেয়"। তাই আমি জানতে চাই আমার এই সমস্যাটা সেইসকল অনুমতিযোগ্য প্রয়োজনের মধ্যে পড়ে কিনা.....

ধরুন, বিয়ের পূর্বে একটা মেয়ের জব করার স্বপ্ন ছিলনা। সে চাইতো স্বামী সংসার নিয়ে ইসলামিক তরিকায় সুন্নাহ অনুযায়ী লাইভ লিড করবে। শরীয়তসম্মতভাবে পর্দা করবে। কিন্তু বিয়ের পর যদি মেয়েটা দেখে শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা তাকে তাদের অযোগ্য মনে করছে, ছোট চোখে দেখছে, মাঝে মধ্যেই খুব চতুরতার সাথে হেনস্থার সম্মুখীন করছে, এককথায় বউটা তাদের থেকে তার প্রাপ্য দাম পাচ্ছেনা। এদিকে সে শিক্ষিত ও ভালোমানের জব করার যোগ্যতা রাখে। অপরদিকে স্বামী তার স্ত্রীর প্রাপ্য সম্মান টিকিয়ে রাখতেও অপারগ। তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টাকে অনুচিত মনে করলেও তার বাবা মা এর মুখের উপর কোন কথা বলার ক্ষমতা রাখেন না। ঠিক সেই অবস্থান থেকে, মানসিক হীনমন্যতাটুকু থেকে কোন মেয়ে যদি অন্যের দায়গ্রস্থ হয়ে না থেকে পর্দার সাথে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে কি শরীয়ত তার অনুমতি দিবে? এই কাজের ফলে মেয়েটা যদি তার স্বামীর সংসারে প্রাপ্য সম্মানের সাথে মাথা উঁচু করে বাচতে পারে তবে আমাদের শরীয়ত কি বলবে? শরীয়ত কি মেয়েটার আত্মসম্মান আর মানসিক চাপের কথা বুঝবেনা উস্তায?

বাংলাদেশের সামাজিক অবস্থান থেকে বলতে গেলে হতে পারে জবটা ফ্রি মিক্সিং পরিবেশে হবে । কিন্তু মেয়েটা শরীয়তসম্মত পর্দা রক্ষার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে ইনশাআল্লাহ ।
closed

1 Answer

0 votes
by (42k points)
selected by
 
Best answer

বিসমিহি তা'আলা

সমাধানঃ-

(এক)

আমাদের পারিবারিক সিস্টেমের ধরুণ একরম পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক।

মূলত এজন্যই ইসলাম যৌথপারিবারিক সিস্টেমকে নিরুৎসাহিত করেছে।পারিবারিক জীবন-যাপন কেমন হবে?একক না যৌথ?

সে সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুন-430

(দুই)

ইসলাম চারটি জিনিষ যথা (১)ধনসম্পদ(২)বংশ মর্যাদা(৩)সুন্দর্য্য (৪) দ্বীন-ধর্ম, দেখে বিয়ে করার পরামর্শ দিয়ে দ্বীনকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।কোনো মেয়ে দ্বীনকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিয়ে বসলে হয়তো এমন পরিস্থিতির স্বীকার হতে হতো না।

(তিন)

নারীদের চাকুরী সম্পর্কে এটাই বলা যায় যে,

ফ্রি মিক্সিং পরিবেশ ব্যতীত সম্পূর্ণ পর্দা রক্ষা করে প্রয়োজনে চাকুরী করার সুযোগ রয়েছে।

(চার)

শরীয়ত প্রত্যেক নারীকে এ অধিকার দিয়েছে যে,

সে তার স্বামীর নিকট পৃথক বাসস্থানের দাবী করতে পারবে।যে বাসস্থানের সম্পূর্ণ কর্তৃত্ব ঐ স্ত্রীর নিকট থাকবে।যদি কোনো নারী সে পৃথকভাবে অবস্থান করে তখন কারো কাছে হেনস্থা হওয়ার সাধারণত কোনো সম্ভাবনা নেই।

(পাঁচ)

সবর বা ধৈর্যর ফযিলত অনেক। এবং যার শেষ ফলাফল অনেক মিষ্টি হয়ে থাকে।কোনো মহিলা বা পুরুষ তার সামর্থ্য থাকা সত্তেও যদি সে তার দ্বীনদ্বারিকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে সামান্য কষ্টকে স্বীকার করে নেয় তাহলে পরকালে সে এ জন্য অনেক সওয়াবের অংশীদার হবে।

যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন,

ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁﻣَﻨُﻮﺍْ ﺍﺻْﺒِﺮُﻭﺍْ ﻭَﺻَﺎﺑِﺮُﻭﺍْ ﻭَﺭَﺍﺑِﻄُﻮﺍْ ﻭَﺍﺗَّﻘُﻮﺍْ ﺍﻟﻠّﻪَ ﻟَﻌَﻠَّﻜُﻢْ ﺗُﻔْﻠِﺤُﻮﻥَ

হে ঈমানদানগণ! ধৈর্য্য ধারণ কর এবং মোকাবেলায় দৃঢ়তা অবলম্বন কর। আর আল্লাহকে ভয় করতে থাক যাতে তোমরা তোমাদের উদ্দেশ্য লাভে সামর্থ হতে পার।

সূরা আলে ইমরান-২০০

সু-প্রিয় দ্বীনী বোন/ভাই

দ্বীনের জ্ঞান আহরণের স্বার্থে আমাদের এখানে আসার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ।

উপরের কিছু বিচ্ছিন্ন আলোচনার পর এবার মূল আলোচনায় আসা যাক,

ফ্রি মিক্সিং পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণের অনুমোদন মূলত জরুরতের ভিত্তিতে দেয়া হয়েছে।উক্ত হুকুম শুধুমাত্র জরুরত তথা শিক্ষাগ্রহণ পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকবে।চাকুরীর বেলায় প্রযোজ্য হবে না।

জরুরত ব্যতীত নারীদের জন্য ঘরের বাহিরে যাবার কোনো অনুমোদন নেই।হ্যা জরুরতে যেতে পারবেন।চাকুরী ও করতে পারবেন।তবে অবশ্যই ফ্রি মিক্সিং পরিবেশ ব্যতীত।কিন্তু যদি জরুরত এমন পর্যায়ে পৌছে যায় যে, -যা না হলে নয়- তাহলে ফ্রি মিক্সিং পরিবেশেও চাকুরী করা বৈধ হবে।

আপনার বিবরণ থেকে আমরা যা বুঝেছি,

সে অনুযায়ী বলতে পারি যে,তুচ্ছতাচ্ছল্যর স্বীকার না হতে আপনার সামনে আরোও হয়তো অনেক রাস্তা রয়েছে।সকল প্রকার চেষ্টা করার পরও যদি কোনো সমাধান না আসে। এবং অন্যদিকে পরিবেশ শুধু ঘোলাটের দিকেই অগ্রসর হয় ,তাহলে এমতাবস্থায় শশুর-শাশুড়ী থেকে পৃথক হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত আপনি আপনি চাকুরী করতে পারবেন।তকে পর-পুরষ থেকে সর্বদা নিজেকে বাছিয়ে রাখার চেষ্টা করবেন।

আরো জানতে ভিজিট করুন-632,654

আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

উত্তর লিখনে

মুফতী ইমদাদুল হক

ইফতা বিভাগ, IOM.

by (55 points)
জাযাকুমুল্লাহু খাইরান ফিদ্দুনইয়া ওয়াল আখিরাহ

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনার দ্বীন সম্পর্কীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য রয়েছে আমাদের  অভিজ্ঞ ওলামায়কেরাম ও মুফতি সাহেবগনের একটা টিম যারা ইনশাআল্লাহ প্রশ্ন করার ২৪-৪৮ ঘন্টার সময়ের মধ্যেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন।

Related questions

...