+1 vote
50 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (8 points)
আস সালামু আলাইকুম।
হাজবেন্ড চায় তার স্ত্রী স্টাইল করুক,স্টাইল করে সৌন্দর্য প্রকাশ করলে খুশি হয়,প্রশংসা করে।এই স্টাইল এর কাতারে আছে ভ্রু প্লাক,চুল কাটা,সাজগোজ।তবে এসব অবশ্যই শুধু তাকে দেখাতে হবে,বাইরের কেও যেন না দেখে।প্রকাশ্যে কখনো বলে না যে,তুমি এই করো সেই করো। কিন্তু যখন এসব করে তখন প্রশংসা করে।কিন্তু এসব না করলে মনে মনে রাখে।জিজ্ঞেস করলেও বলে,না না এসব লাগবে না।এম্নেই ঠিক আছ।কিন্তু স্ত্রী ঠিক ই বুঝে হাজবেন্ড আসলে তাকে কি রুপে দেখতে চায়।


এক্ষেত্রে একজন স্ত্রীর করনীয় কি?জানালে খুব উপকার হয়।

1 Answer

0 votes
by (80,360 points)
জবাব
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

সাজগোজ করা, পরিপাটি থাকা এটি মহিলাদের স্বভাবজাত বিষয়। ইসলাম মেয়েদের স্বভাবজাত এ সাজসজ্জার মানসিকতার বিরোধী নয়। 

স্বামীর সামনে সাজসজ্জা ও সৌন্দর্য প্রদর্শন শুধু বৈধই নয় বরং করণীয়। 
হাদিস শরিফে এসেছে,
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ-رضي الله عنه- عَنِ النَّبِيِّ –ﷺ-، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ: مَا اسْتَفَادَ الْمُؤْمِنُ بَعْدَ تَقْوَى اللَّهِ خَيْرًا لَهُ مِنْ زَوْجَةٍ صَالِحَةٍ، إِنْ أَمَرَهَا أَطَاعَتْهُ، وَإِنْ نَظَرَ إِلَيْهَا سَرَّتْهُ، وَإِنْ أَقْسَمَ عَلَيْهَا أَبَرَّتْهُ، وَإِنْ غَابَ عَنْهَا نَصَحَتْهُ فِي نَفْسِهَا وَمَالِهِ
আবু উমামা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলতেন,  কোনো মুমিন ব্যক্তি আল্লাহ্ভীতির পর উত্তম যা লাভ করে তা হলো পুণ্যময়ী স্ত্রী। স্বামী তাকে কোন নির্দেশ দিলে সে তা পালন করে; সে তার দিকে তাকালে (তার বাহ্যিক সাজসজ্জা ও চরিত্রের মাধুর্যতা) তাকে আনন্দিত করে এবং সে তাকে শপথ করে কিছু বললে সে তা পূর্ণ করে। আর স্বামীর অনুপস্থিতিতে সে তার সম্ভ্রম ও সম্পদের হেফাযত করে। (সুনান ইবন মাজাহ ১৮৫৭)

তবে এক্ষেত্রে শরয়ী সীমা অতিক্রম করা জায়েজ নয়। এমন কোন কাজ করা উচিত নয়, যদ্ধারা আল্লাহ ও রাসূলের বিধান লঙ্ঘিত হয়।

সাজসজ্জার ক্ষেত্রে ইসলামের মূলনীতি হল, যে কাজ ইসলামে সম্পূর্ণ অবৈধ, সেকাজ কোনভাবেই কারো জন্যেই করা জায়েজ নয়। এমনকি স্বামীকে খুশি করার জন্যও করা জায়েজ নয়।

আল্লাহর নবী সাঃ স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন,
لَا طَاعَةَ لِمَخْلُوقٍ فِي مَعْصِيَةِ اللَّهِ

আল্লাহ তাআলা অবাধ্য হয়ে কোন সৃষ্টির আনুগত্ব করা জায়েজ নয়। {মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১০৯৫, সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-১৭০৭}

আর সাজগোজের যেসব বিষয় জায়েজ, তা গায়রে মাহরাম পুরুষদের দেখানোর জন্য করলে জায়েজ নয়, এতে করে সাজগোজকারী গোনাহগার হবে। তবে স্বামীকে খুশি করার জন্য যদি সাজগোজ করে তাহলে এতে সওয়াব পাবে।

ইসলামের দৃষ্টিকোণ হল, মানুষের শরীর আল্লাহর আমানত। এর স্রষ্টা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন। মানুষকে শুধু ভোগ দখলের অধিকার দেয়া হয়েছে। তাই শরীরকে যাচ্ছেতাইভা্বে পরিবর্তন করার অধিকার মানুষ সংরক্ষণ করে না। হ্যাঁ, অসুস্থ্য হলে অঙ্গ বেশি হলে ভিন্ন কথা। কিন্তু সৌন্দর্যতার নামে শরীরের গঠন পরিবর্তন করা হারাম।

★কিছু জায়েজ আর নাজায়েজ ছুরতঃ  

★চুল কাটা

মহিলাদের জন্য মাথার চুল যেকোন অংশ থেকেই হোক কাটা বা উপড়ানো কোনটিই জায়েজ নয়। কারণ এতে করে পুরুষের সাথে সাদৃশ্য হয়ে যায়। পুরুষের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ কাজ করার ব্যাপারে হাদীসে কঠোর হুশিয়ারী উচ্চারিত হয়েছে।

 عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: «لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ المُتَشَبِّهِينَ مِنَ الرِّجَالِ بِالنِّسَاءِ، وَالمُتَشَبِّهَاتِ مِنَ النِّسَاءِ بِالرِّجَالِ»

হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ অভিশাপ করেছেন সেসব পুরুষের উপর যারা মহিলাদের সাদৃশ্য গ্রহণ করে, আর সেসব মহিলাদের উপর যারা পুরুষের সাদৃশ্য গ্রহণ করে। {সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৫৮৮৫, ৫৫৪৬, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-১৯০৪}

অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে-

عَنْ عَلِيٍّ قَالَ: نَهَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ تَحْلِقَ الْمَرْأَةُ رَأْسَهَا.

হযরত আলী রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ মহিলাদের চুল কামাতে নিষেধ করেছেন। {সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-৯১৪, মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-৪৪৭, সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং-৫০৪৯}

এ কারণে মহিলাদের জন্য মাথার চুল কামানো জায়েজ নয়। তবে যদি কোন কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ে, তাহলে প্রয়োজনের কারণে চুল কর্তন করা জায়েজ আছে। তবে এক্ষেত্রে যখনি উজর দূরিভূত হয়ে যাবে, তখন থেকে আর কাটা জায়েজ হবে না।

ফাতাওয়া শামীতে এসেছে-

قَطَعَتْ شَعْرَ رَأْسِهَا أَثِمَتْ وَلُعِنَتْ زَادَ فِي الْبَزَّازِيَّةِ وَإِنْ بِإِذْنِ الزَّوْجِ لِأَنَّهُ لَا طَاعَةَ لِمَخْلُوقٍ فِي مَعْصِيَةِ الْخَالِقِ، (رد المحتار، كتاب الحظر والإباحة، فصل البيع-6/407
যার সারমর্ম হলো যদিও স্বামীর আদেশেই হোক,মহিলাদের জন্য চুল কাটা জায়েজ নেই।    

★চুল রং করা

চুলকে রঙ্গীন করাতে কোন সমস্যা নেই। যদি অন্য কোন হারাম কাজ না করা হয়, তাহলে এমনিতে মহিলাদের চুল রঙ্গিন করাতে শরয়ী কোন নিষিদ্ধতা নেই।
তবে কালো খেজাব/রং লাগানো জায়েজ নেই। 

★চুল ঝুঁটিকরণ
চুল কাটা ছাড়া বিভিন্ন প্রকার ঝুঁটি ও ডিজাইন করাতেও শরয়ী কোন নিষেধাজ্ঞা নেই।

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: بِتُّ لَيْلَةً عِنْدَ مَيْمُونَةَ بِنْتِ الحَارِثِ خَالَتِي، وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عِنْدَهَا فِي لَيْلَتِهَا، قَالَ: «فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ، فَقُمْتُ عَنْ يَسَارِهِ» قَالَ: «فَأَخَذَ بِذُؤَابَتِي فَجَعَلَنِي عَنْ يَمِينِهِ»

হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি আমার খালা মায়মূনা বিনতে হারিসের নিকট রাত যাপন করছিলাম। ঐ রাতে রাসূল সাঃ ও তাঁর কাছে ছিলেন। ইবনে আব্বাস রাঃ বলেন, রাসূল সাঃ উঠে রাতের সালাত আদায় করতে লাগলেন। আমি তাঁর বাম পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। তখন তিনি আমার চুলে ঝুটি ধরে আমাকে তাঁর ডান পাশে নিয়ে দাঁড় করালেন। {সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৫৯১৯, ৫৫৭৫}

তবে এক্ষেত্রে কাফের বা কোন ফাসেক মহিলার ডিজাইন ও ষ্টাইল যেন নকল না করা হয় সেদিকে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে। কারণ ফাসেক ও কাফেরের সাদৃশ্য গ্রহণ জায়েজ নয়।

عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- « مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ ».

হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-যে ব্যক্তি যার সাদৃশ্য গ্রহণ করে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে (আবু দাউদ শরীফ, হাদিস নং-৪০৩৩, মুসনাদুল বাজ্জার, হাদিস নং-২৯৬৬, মুসনাদে আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস নং-২০৯০৮৬)

★ফ্যাসিয়াল ও হাত পা মালিশ করা

শরয়ী সীমায় থেকে সৌন্দর্য বর্ধনের লক্ষ্যে মহিলাদের জন্য ফ্যাসিয়াল করা, ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করা, হাত পা মালিশ করা জায়েজ আছে। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যেন শরয়ী সীমা লঙ্ঘিত না হয়। যেমন মালিশ করতে গিয়ে যে অঙ্গ ধরা স্বামী ছাড়া কারো জন্য জায়েজ নয়, তা স্পর্শ করা ইত্যাদি। যদি এমনটি করা হয়, তাহলে তা হারাম হবে।

★ভ্রু প্লাক করা

ভ্রু উপড়ে ফেলা.চিকন করা জায়েজ নয়। হারাম। হাদীসে এসেছে-

عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: «لَعَنَ اللَّهُ الوَاشِمَاتِ وَالمُسْتَوْشِمَاتِ، وَالمُتَنَمِّصَاتِ وَالمُتَفَلِّجَاتِ لِلْحُسْنِ، المُغَيِّرَاتِ خَلْقَ اللَّهِ» مَا لِي لاَ أَلْعَنُ مَنْ لَعَنَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَهُوَ فِي كِتَابِ اللَّهِ

হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সৌন্দর্য বৃদ্ধিকল্পে যে নারী উলকী উৎকীর্ণ করে ও করায়, যে নারী ভ্র উপড়ে ফেলে এবং যে নারী দাঁত কেটে সরু করে দাঁরে মাঝখানে ফাঁক বানায়, যে কাজগুলি দ্বারা আল্লাহর সৃষ্টির মাঝে পরিবর্তন সাধিত হয়, এদের উপর আল্লাহ তাআলা অভিশাপ বর্ষণ করুন। আমি কেন তার উপর অভিশাপ বর্ষন করবো না, যাদের উপর আল্লাহর রাসূল অভিশাপ বর্ষণ করেছেন। সেই সাথে তা আল্লাহ তাআলার কিতাবেই বিদ্যমান আছে। {সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৫৯৪৩, ৫৫৯৯, মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-১৪৬৭}

★হাত-পা ও চেহারার চুল উপড়ে ফেলা

মহিলাদের শরীরের অতিরিক্ত লোম ও চুল উপড়ে ফেলা জায়েজ আছে। যেমন দাড়ি মোচ, লোম ইত্যাদি।

(قوله والنامصة إلخ) ذكره في الاختيار أيضا وفي المغرب.

النمص: نتف الشعر ومنه المنماص المنقاش اهـ ولعله محمول على ما إذا فعلته لتتزين للأجانب، وإلا فلو كان في وجهها شعر ينفر زوجها عنها بسببه، ففي تحريم إزالته بعد، لأن الزينة للنساء مطلوبة للتحسين، إلا أن يحمل على ما لا ضرورة إليه لما في نتفه بالمنماص من الإيذاء. وفي تبيين المحارم إزالة الشعر من الوجه حرام إلا إذا نبت للمرأة لحية أو شوارب فلا تحرم إزالته بل تستحب المخنث (رد المحتار على الدر المختارن كتاب الحظر والاباحة، فصل فى النظر والمس-6/373) 
যার সারমর্ম হলো মহিলার চেহারায় যদি চুল হয়, স্বামীর যদি এতে কষ্ট হয়,  তাহলে স্বামীর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে সেই চুল উপরে ফেলা,জায়েজ আছে। 

★দাঁত স্কেলিং করা বা আঁকাবাঁকা দাঁত সোজা করার উদ্দেশ্যে ব্রেস পরানো। এটি যদি কেবল ফ্যাশনের উদ্দেশ্যে হয়, অথবা এটা করতে গেলে যদি শরীরের কোনো ক্ষতি হয় তাহলে জায়েয হবে না। পক্ষান্তরে যদি চিকিৎসার উদ্দেশ্যে হয় তাহলে অসুবিধা নেই। হাফেজ ইবন হাজার আসকালানি রহ. বলেন,

(والمتفلجات للحسن) يفهم منه أن المذمومة من فعلت ذلك لأجل الحسن، فلو احتاجت إلى ذلك لمداواة مثلا جاز

হাদিসে যারা সৌন্দর্য মানসে দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি করে তাদের জন্য নিন্দা (লানত) এসেছে-এর দ্বারা বুঝা যায়, যদি তা চিকিৎসা বা এজাতীয় প্রয়োজনে হয় তাহলে জায়েয আছে। (ফাতহুল বারী ১০/৩৭২)

আরো জানুনঃ


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন।

Related questions

...