0 votes
68 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (4 points)
অন্য চাকরির ব্যবস্থা আছে কিন্তু এই সরকারি চাকরিটি পেলে বাবা মায়ের কাছে নিজ এলাকায় থাকতে পারবে। তার স্ত্রীর মানসিক সমস্যা আছে যা ওখানে গেলে অনেকটা সারবে। স্ত্রীর মা খুব প্রত্যাশী মেয়ে কাছাকাছি থাকবে বলে, সে খুব রিকোয়েস্ট করছে মেয়েকে ঘুষ দিয়ে হলেও চাকরিটা নিতে।  উভয়পক্ষের বাবা মা ই চায় চাকরি ঘুষ দিয়ে হলেও নিক। চাকরিটা পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করে নেওয়া হবে না,এই চাকরিতে সাধারণত শো একটা পরীক্ষা হয় কিন্তু যে ঘুষ দেয় তার চাকরি হয়। চাকরির জন্য যে কোয়ালিফিকেশন  চাওয়া হয়েছে তা আছে। এ অবস্থায় কি ঘুষ দেওয়া জায়েজ? এভাবে চাকরি নিলে কি অন্য বান্দার হক নষ্ট হবে? ইনকাম কি হালাল হবে? চাকরির কাজটা হালাল কাজ।  আর ঘুষ না দিলেও যদি শুধু লোক ধরাধরি করে মুখের কথায় চাকরি হয় সেটা কি জায়েজ?

1 Answer

0 votes
by (42k points)
edited by
বিসমিহি তা'আলা

জবাবঃ

ﺍﻟﺤﻤﺪ ﻟﻠﻪ

(এক)

ঘুষ কবিরা গুনাহ সমূহের একটি।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি থেকে বর্ণিত,

ﻋﻦ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑْﻦِ ﻋَﻤْﺮٍﻭ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ ﻗَﺎﻝَ : ﻟَﻌَﻦَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺍﻟﺮَّﺍﺷِﻲ ﻭَﺍﻟْﻤُﺮْﺗَﺸِﻲ .

ঘুষ প্রদাণকারী ও গ্রহণকারী উভয়ের উপর রাসূলুল্লাহ সাঃ লা'নত দিয়েছেন।

মুসনাদে আহমদ-৬৭৯১

সুনানে আবু-দাউদ-৩৫৮০

(দুই)

ঘুষ দেওয়া ব্যতীত যদি নিজ প্রাপ্য হক আদায় করা সম্ভব না হয়, তাহলে এমতাবস্থায় ঘুষ দেয়া জায়েয।অন্যথায় ঘুষ দেয়া হারাম।তবে ঘুষ গ্রহণ করা সর্বাবস্থায়-ই নাজায়েয ও হারাম।

প্রয়োজনে ঘুষ দেয়া জায়েয।এ বিষয়ের উপর উলামায়ে কেরাম নিম্নোক্ত হাদীস দ্বারা প্রমাণ পেশ করে থাকেন।

হযরত উমর ইবনে খাত্তাব রাযি থেকে বর্ণিত,

ﻋﻦ ﻋﻤﺮ ﺑﻦ ﺍﻟﺨﻄﺎﺏ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﺃﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ :

( ﺇِﻥَّ ﺃَﺣَﺪَﻫُﻢْ ﻟَﻴَﺴْﺄَﻟُﻨِﻲ ﺍﻟْﻤَﺴْﺄَﻟَﺔَ ﻓَﺄُﻋْﻄِﻴﻬَﺎ ﺇِﻳَّﺎﻩُ ﻓَﻴَﺨْﺮُﺝُ ﺑِﻬَﺎ ﻣُﺘَﺄَﺑِّﻄُﻬَﺎ ، ﻭَﻣَﺎ ﻫِﻲَ ﻟَﻬُﻢْ ﺇِﻻ ﻧَﺎﺭٌ ، ﻗَﺎﻝَ ﻋُﻤَﺮُ : ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ، ﻓَﻠِﻢَ ﺗُﻌْﻄِﻴﻬِﻢْ ؟ ﻗَﺎﻝَ : ﺇِﻧَّﻬُﻢْ ﻳَﺄْﺑَﻮْﻥَ ﺇِﻻ ﺃَﻥْ ﻳَﺴْﺄَﻟُﻮﻧِﻲ ، ﻭَﻳَﺄْﺑَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻟِﻲ ﺍﻟْﺒُﺨْﻞَ )

রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন,তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ আমার কাছে যাকাতের মাল থেকে কিছু দেওয়ার জন্য সুওয়াল করে।অতঃপর আমি তাকে কিছু দিয়ে দেই।তথা তার সুওয়াল আমার কাছ থেকে কিছু নিয়ে নেয়।তবে এই গ্রহণকৃত জিনিষ তাদের জন্য আগুনের মত।তখন উমর রাযি বললেন, হে রাসূলুল্লাহ! তাহলে আপনি কেন দেন?তারা আমারকে লেপ্টে ধরেছে।অথচ আল্লাহ আমাকে কৃপণতা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছন।মসনাদে আহমদ-১০৭৩৯

রাসূলুল্লাহ সাঃ উক্ত মাল তাদের উপর হারাম হওয়া সত্তেও তাদের বারংবার সুওয়াল করার ধরুণ তাদেরকে দিয়ে নিজের উপর কৃপণতার অপবাদকে দূর করেছেন।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রাহ বলেন,

" ﻓﺄﻣﺎ ﺇﺫﺍ ﺃﻫﺪﻯ ﻟﻪ ﻫﺪﻳﺔ ﻟﻴﻜﻒ ﻇﻠﻤﻪ ﻋﻨﻪ ﺃﻭ ﻟﻴﻌﻄﻴﻪ ﺣﻘﻪ ﺍﻟﻮﺍﺟﺐ ﻛﺎﻧﺖ ﻫﺬﻩ ﺍﻟﻬﺪﻳﺔ ﺣﺮﺍﻣﺎ ﻋﻠﻰ ﺍﻵﺧﺬ , ﻭﺟﺎﺯ ﻟﻠﺪﺍﻓﻊ ﺃﻥ ﻳﺪﻓﻌﻬﺎ ﺇﻟﻴﻪ , ﻛﻤﺎ ﻛﺎﻥ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳﻘﻮﻝ : ( ﺇﻧﻲ ﻷﻋﻄﻲ ﺃﺣﺪﻫﻢ ﺍﻟﻌﻄﻴﺔ ... ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ "

যদি কাউকে তার জুলুম থেকে বাঁছতে অথবা তার নিকট হতে প্রাপ্য হক্ব আদায় করতে ঘুষ দেয়া হয় তবে এই টাকা গ্রহণকারীর জন্য হারাম।

এবং ঘুষ প্রদাণকারীর জন্য প্রদান করা জায়েয।

যেভাবে রাসূলুল্লাহ উপরোক্ত হাদীসে দিয়েছেন।আল-ফাতাওয়াল কুবরা-৪/১৭৪

তিনি আরো বলেন,

" ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟْﻌُﻠَﻤَﺎﺀُ : ﻳَﺠُﻮﺯُ ﺭِﺷْﻮَﺓُ ﺍﻟْﻌَﺎﻣِﻞِ ﻟِﺪَﻓْﻊِ ﺍﻟﻈُّﻠْﻢِ ﻻ ﻟِﻤَﻨْﻊِ ﺍﻟْﺤَﻖِّ ، ﻭَﺇِﺭْﺷَﺎﺅُﻩُ ﺣَﺮَﺍﻡٌ ﻓِﻴﻬِﻤَﺎ (ﻳﻌﻨﻲ: ﺃﺧﺬﻩ ﻟﻠﺮﺷﻮﺓ ﺣﺮﺍﻡ )

কারো হক্বকে বাধা দিতে নয় বরং তার জুলুম থেকে বাঁচতে ঘুষ প্রদান জায়েয।তবে সর্বাবস্থায় গ্রহণকারীর জন্য ঘুষ হারাম।

যদি চাকুরী নেয়ার মত শিক্ষাগত যোগ্যতা আপনার থাকে,এবং আপনার মত পরিস্থিতির স্বীকার অন্য কেউ না থাকে,তাহলে এমতাবস্থায় এ চাকুরী আপনি নিতে পারবেন।তবে হ্যা আপনার মত পরিস্থিতির স্বীকার যদি আরো কেউ থেকে থাকেন তাহলে এমতাবস্থায় আপনার জন্য চাকুরী নেয়াটা বৈধ হবে না।কেননা এক্ষেত্রে অন্য বান্দার হক নষ্ট করা হয়ে যাবে।

আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

উত্তর লিখনে

মুফতী ইমদাদুল হক

ইফতা বিভাগ, IOM.
by
বর্তমানে বাংলাদেশের সরকারি চাকুরিতে ঘুষ ভয়াবহ রূপ লাভ করেছে। তাই যার টাকা আছে, ঘুষ দেয়ার ক্ষমতা রাখে সেই চাকুরি পাচ্ছে। যার টাকা নেই সে পাচ্ছে না। এ অবস্থায় ঘুষ দিয়ে চাকুরি জায়েজ?
আর দয়াকরে "আপনার মত পরিস্থিতির স্বীকার" এ কথাটার আর একটু স্পষ্ট ব্যাখা করলে আমার মত অদমের বুঝতে সুবিধা হত।

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনার দ্বীন সম্পর্কীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য রয়েছে আমাদের  অভিজ্ঞ ওলামায়কেরাম ও মুফতি সাহেবগনের একটা টিম যারা ইনশাআল্লাহ প্রশ্ন করার ২৪-৪৮ ঘন্টার সময়ের মধ্যেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন।

Related questions

...