0 votes
24 views
in সালাত(Prayer) by (21 points)
১। আমি যদি সুরা ফাতিহা পড়ার পর অন্য সুরা পরার জন্য বিসমিল্লাহ বলে ফেলি,কিন্তু পরে আমার মনে হয় যে ফাতিহার শেষ আয়াতটা সঠিকভাবে পড়া হয় নি,তাই আবার শেষ আয়াত টা পড়ে বিসমিল্লাহ পড়ে অন্য সুরা পড়লাম।এতে নামাজের কি কোন ক্ষতি হয়েছে?

২। আমি যদি কাওকে বলি,"আমার ভাইয়ের কারণে আমার সম্পত্তিতে ভাগ কম আসছে",কিন্তু সে আমার ভাইকে না চেনে, এটা গীবত হবে?

৩। আমি যদি কাওকে বলি, "আমার ভাইয়ের ব্যবহার আমার সাথে খুব খারাপ।" কিন্তু সে আমার ভাইকে না চেনে,তাও কি এটা গীবত হবে?

1 Answer

0 votes
by (33,800 points)
জবাব
بسم الله الرحمن الرحيم 

(০১)
শরীয়তের বিধান হলো নামাজে সুরা ফাতেহা পড়া ওয়াজিব।
আর ওয়াজিবকে একাধিকবার আদায় করলে সেজদায়ে সাহু ওয়াজিব হয়।    
চাই সুরা ফাতেহা পুরাটাই আবার আদায় করা হোক,বা তার এক আয়াত হয়নি সন্দেহ করে পরবর্তীতে  পুনরায় যদি উক্ত আয়াত পড়া হয়।

"لو كررها في الأوليين يجب عليه سجود السهو بخلاف ما لو أعادها بعد السورة أو كررها في الأخريين، كذا في التبيين." (126/1ط:سعید)
যদি নামাজের প্রথম দুই রাকাতে সুরা ফাতেহা দুই বার পড়া হয়,তাহলে সেজদায়ে সাহু ওয়াজিব হবে,,,,।  

ولو قرأ الفاتحة إلا حرفا أو قرأ أكثرها ثم أعادها ساهيا فهو بمنزلة ما لو قرأها مرتين كذا في الظهيرة
যদি সুরা ফাতেহা পড়ার সময় এক আয়াত বাদ দেয়, অথবা অতিরিক্ত পড়ে,অতঃপর ভুলক্রমে  উক্ত  আয়াত আবার পড়ে,তাহলে সে যেনো পুরা সুরাকেই দুই বার পড়লো।
(অর্থাৎ পুরো সুরা দুই বার পড়লে যেমন সেজদায়ে সাহু ওয়াজিব হয়, এক্ষেতেও সেজদায়ে সাহু ওয়াজিব হবে।)
(ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী ১/১২৬)
,
★★সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে যদি নামাজের প্রথম  দুই রাকাতের ভিতর এভাবে পড়ে থাকে,তাহলে সেজদায়ে সাহু ওয়াজিব হবে। 
পরের দুই রাকাতের ভিতর একাজ করলে কোনো সমস্যা নেই।    

সেজদায়ে সাহু সংক্রান্ত আরো জানুনঃ

(২.৩)
গীবতের গুনাহ খুবই মারাত্মক। 
হাদীস শরীফে এসেছেঃ   
عَنْ أَبِي سَعْدٍ، وَجَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ، قَالَا: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ” الْغِيبَةُ أَشَدُّ مِنَ الزِّنَا “، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ وَكَيْفَ الْغِيبَةُ أَشَدُّ مِنَ الزِّنَا؟ قَالَ: ” إِنَّ الرَّجُلَ لَيَزْنِي فَيَتُوبُ فَيَتُوبُ اللهُ عَلَيْهِ “وَفِي رِوَايَةِ حَمْزَةَ ” فَيَتُوبُ فَيَغْفِرُ لَهُ، وَإِنَّ صَاحِبَ الْغِيبَةِ لَا يُغْفَرُ لَهُ حَتَّى يَغْفِرَهَا لَهُ صَاحِبُهُ  

হযরত আবু সাঈস এবং জাবের বিন আব্দুল্লাহ রাঃ থেকে বর্ণিত। উভয়ে বলেন, রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ গীবত করা ব্যভিচার করার চেয়েও জঘন্য। সাহাবাগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! গীবত করা ব্যভিচারের চেয়ে জঘন্য হয় কি করে? রাসূল সাঃ বললেনঃ নিশ্চয় ব্যভিচারকারী ব্যভিচার করে তওবা করে থাকে, ফলে আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দেন।

অন্য বর্ণনায় এসেছে, কিন্তু গীবতকারীকে ক্ষমা করা হয় না, যতক্ষণ না যার গীবত করেছে সে তাকে ক্ষমা করে। {শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৬৩১৫, আলমুজামুল আওসাত, হাদীস নং-৬৫৯০}

শরীয়তের বিধান হলো  কারো নাম,পরিচয়  উল্লেখ না করলে এতে গীবত হয় না। কিন্তু উপস্থিত লোকেরা যদি বুঝতে পারে যে অমুক ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে তবে তা গীবত বলে গণ্য এবং হারাম হবে।
,
★সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে যদিও সে আপনার ভাইকে চিনেনা,তবে সে তো আপাতত এতটুকু জানতে পারলো যে সম্পত্তিতে কম আসা,ব্যবহার খারাপ ইত্যাদি দোষ দুনিয়ার আর  কাহারো নয়,আপনার ভাইয়েরই।
এটাও এক ধরনের পরিচিতি লাভ করাই।
,
তাই প্রশ্নে উল্লেখিত উভয় ছুরতে গীবত হবে।  

আরো জানুনঃ  


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন।

Related questions

...