+2 votes
4.1k views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (4 points)

আসসালামু আলাইকুম। শাইখ, MR (মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ) বিষয়ে আমার কয়েকটা প্রশ্ন ছিলো।

১. মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভদের কাজ হলো ডাক্তারদের কাছে বিভিন্ন ঐষধ কোম্পানির ওষুধের এডভার্টাইজমেন্ট করা। এদের নিজেদের জব এর কোনটুকু হারাম, কোনটুকু হালাল?

২. ডাক্তারদেরকে এরা ফ্রি ওষুধের স্যাম্পল, কলম, প্যাড, মগ, থেকে শুরু করে একটু বড় ডাক্তারদের ঈদে সেমাই চিনি, বৈশাখে বৈশাখী খাবার, রোযায় মসলাপাতি, প্লেট পিরিচ, তেল, সাবান, শ্যাম্পু....ইভেন ফ্রিজ, গাড়ি এসবও দেয় বড় ডাক্তারদের কাউকে কাউকে। কোনগুলো জায়েয, কোনগুলো নাজায়েয?

৩. ইন্টার্ন ডক্টরদের নিয়ে ঔষধ কোম্পানিগুলো বিভিন্ন প্রোগ্রামের আয়োজন করে, এসব প্রোগ্রামে তাদের নিজেদের বিজ্ঞাপন দেয়+ ডাক্তারদের ব্যাগ, কলম, প্যাড দেয়, আর র্যাফেল ড্র করে তাতে বিভিন্ন গিফট থাকে- কাচের বাটি সেট, ব্লেণ্ডার, মগ এসব। এইসব প্রোগ্রামে যাওয়া কি জায়েয?

৪. ইন্টার্ন ডক্টরদেরকে বিভিন্ন ট্রুরেও এরা স্পন্সর করে, কলেজ অথরিটি কিছু টাকা দেয়, বাকিটা ওষুধ কোম্পানী দেয়। এই ট্র্যুরে যাওয়া কি জায়েয হবে?

৫. অনেক সময় এরা ইন্টার্ন ডক্টরদের স্পেশ্যাল এক/দেড় হাজার টাকার গিফট দেয়, সাথে কোন একটা বিশেষ ঐষধের নাম লেখার অনুরোধ করে। অবশ্য বাধ্য করেনা। আর ঐ ওষুধ রোগীদের এমনিতেও দিতে হয়। এই চুক্তিতে গিফট নেয়া জায়েয কিনা?

৬. এরা অনেকসময় ডাক্তারদের জন্য ফ্রি স্টল দেয়, যেমন- আইসক্রীমের স্টল। এখান থেকে খাওয়া জায়েয কিনা?

৭. অনেক সৎ ডক্টর আছেন, MR দের একদম চেম্বারে ঢুকতেই দেন না। এই অবস্থানটি ঠিক কিনা? অথচ ঔষধের বিজ্ঞাপন দেয়া ওদেরও জব, ওরা না জানালে আমরা জানবোই বা কি করে? প্রচার করতে না পারলে ওরাও বেতন পায়না। এক্ষেত্রে একজন মুসলিম ডক্টরের সঠিক অবস্থান কী হওয়া উচিৎ?

1 Answer

0 votes
by (39.3k points)
বিসমিহি তা'আলা

সমাধানঃ-

প্রথমেই দু-একটি আয়াত ও হাদীসের অর্থ জেনে নিলে মূল উত্তর বুঝতে সুবিধা হবে।

আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ-
ﻭَﻳُﺤِﻞُّ ﻟَﻬُﻢُ ﺍﻟﻄَّﻴِّﺒَﺎﺕِ ﻭَﻳُﺤَﺮِّﻡُ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢُ ﺍﻟْﺨَﺒَﺂﺋِﺚ

আল্লাহ তা'আলা তাদের জন্য যাবতীয় পবিত্র বস্তু হালাল ঘোষনা করেন ও অপবিত্র বস্তুসমূহকে হারাম ঘোষনা করেন।
আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ-
ﻭَﻻَ ﺗَﺄْﻛُﻠُﻮﺍْ ﺃَﻣْﻮَﺍﻟَﻜُﻢ ﺑَﻴْﻨَﻜُﻢ ﺑِﺎﻟْﺒَﺎﻃِﻞِ ﻭَﺗُﺪْﻟُﻮﺍْ ﺑِﻬَﺎ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟْﺤُﻜَّﺎﻡِ ﻟِﺘَﺄْﻛُﻠُﻮﺍْ ﻓَﺮِﻳﻘًﺎ ﻣِّﻦْ ﺃَﻣْﻮَﺍﻝِ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ ﺑِﺎﻹِﺛْﻢِ ﻭَﺃَﻧﺘُﻢْ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ

তোমরা অন্যায়ভাবে একে অপরের সম্পদ ভোগ করো না। এবং জনগণের সম্পদের কিয়দংশ জেনে-শুনে পাপ পন্থায় আত্নসাৎ করার উদ্দেশে শাসন কতৃপক্ষের হাতেও তুলে দিও না।

আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ-
ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁﻣَﻨُﻮﺍْ ﻻَ ﺗَﺄْﻛُﻠُﻮﺍْ ﺃَﻣْﻮَﺍﻟَﻜُﻢْ ﺑَﻴْﻨَﻜُﻢْ ﺑِﺎﻟْﺒَﺎﻃِﻞِ

হে ঈমানদারগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না।

নবীজী সাঃ বলেনঃ-
ﻣﻦ ﻏﺸﻨﺎ ﻓﻠﻴﺲ ﻣﻨﺎ
"যে ব্যক্তি ধোকা দেয় সে আমাদের দলভুক্ত নয়"সহীহ মুসলিম-১০১।

কোন রোগী ডাক্তারের কাছে নির্দিষ্ট ফি দিয়ে ব্যবস্থা পত্র আনতে গেলে ইসলামি ফিকহের পরিভাষায় রোগিকে বলা হবে মুস্তাজির -নিয়োগকর্তা বা অর্থ দাতা)। আর ডাক্তারকে বলা হবে আজির বা কর্মের বিনিময়ে অর্থ গ্রহীতা।

এক্ষেত্রে ইসলাম বলবে রোগির দায়িত্ব হল ডাক্তারকে তার অবস্থা জানানো এবং নির্ধারিত ভিজিট প্রদান করা। পক্ষান্তরে ডাক্তারের দায়িত্ব হলো রোগীর জন্য প্রযোজ্য চিকিৎসার ব্যবস্থাপত্র প্রদান করা। মেডিকেল টেস্টগুলো ডাক্তাররা করিয়ে থাকেন তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব (অর্থাৎ, রোগ নির্ণয় করে প্রেসক্রিপশান দেয়া) যথাযথভাবে আদায়ের সুবিধার্থে, তদ্রুপ কোন ল্যাব বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করালে ভালো হবে, তা নির্ধারণ করে দেয়া ডাক্তারেরই পেশাগত দায়িত্ব। নির্ধারিত ভিজিটের বিনিময়ে তিনি এসব কাজগুলো পূর্ণাঙ্গরূপে করে দিবেন।

উপরোক্ত বিশ্লেষণের নিরিখে একথাই প্রমাণিত হয় যে, মেডিকেল টেস্টে রোগী প্রেরণকারী ডাক্তারের জন্য কমিশন গ্রহণের কোন সুযোগ নেই। কারণ এক্ষেত্রে কমিশন গ্রহণের অর্থ হলো, নিজ দায়িত্ব সমাধানের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাজের জন্য অন্যের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করেছেন। অথচ এ দায়িত্ব পূর্ণ করার জন্য তিনি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করছেন। তাই হাসপাতাল কর্তৃক ডাক্তারদের প্রদত্ত এই কমিশন শরিয়ত নিষিদ্ধ উৎকোচের অন্তর্ভুক্ত হবে। সূত্র : ইমদাদুল ফাতাওয়া ভলিয়ম ৩ পৃ:৪১০/ ফাতাওয়া রশিদিয়া পৃ:৫৫৮

অনুরূপ, ওষুধ কোম্পানি তাদের ওষুধের নাম লেখার জন্য ডাক্তারদের যে দামি-দামি জিনিস পত্র, নগদ অর্থ ইত্যাদি দেওয়া হয় তাও শরিয়ত সম্মত নয়। কারণ এটিও শরিয়তের দৃষ্টিতে বিনিময়হীন উৎকোচের শামিল। কেননা রোগির জন্য কোন গ্রুপের এবং কোন কোম্পানীর ওষুধ সর্বাধিক কার্যকরী তা লিখে দেয়া একজন চিকিৎসকের পেশাগত দায়িত্ব। অবশ্য বিভিন্ন ছোটখাট স্টেশনারি সামগ্রী নেয়া যেতে পারে।

যেমন : কলম, প্যাড ইত্যাদি। এগুলোতে ঔষধ কোম্পানির ট্রেডমার্ক এবং উৎপাদিত পণ্যের ট্রেড ন্যাম ছাপানো থাকে। মূলত এগুলো কোম্পানির বিজ্ঞাপনের কাজ দেয়। তাছাড়া পণ্যগুলো এজন্যে নয় যে, সেগুলো বিক্রি করে অনেক টাকা উপার্জন করা যাবে। তাই এসব বিবেচনায় স্টেশনারি সামগ্রী গ্রহণ করা বৈধ।

সূত্র : বাস্তব জীবনে হারামের অনুপ্রবেশ

আল্লামা তাকি উসমানি দাঃবাঃ লিখিত ।

(অসমাপ্ত)

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনার দ্বীন সম্পর্কীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য রয়েছে আমাদের  অভিজ্ঞ ওলামায়কেরাম ও মুফতি সাহেবগনের একটা টিম যারা ইনশাআল্লাহ প্রশ্ন করার ২৪-৪৮ ঘন্টার সময়ের মধ্যেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন।

Related questions

...