0 votes
34 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (96 points)
edited by
১. স্ত্রী যদি স্বামীকে জিজ্ঞেস করে, "তোমার কি ওইরকম কিছু নিয়ত ছিল?"- যদি স্বামী উত্তরে  "হ্যা" বলে,
এই প্রশ্নের জবাবে ইমদাদ হুজুর আপনি বলেছেন-

"স্ত্রী যদি ওই রকম কিছু দ্বারা তালাক বুঝায়, এবং স্বামীও বুঝে নেয় যে, ওই রকম কিছু বলতে তালাকের কথাই জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে, এবং তালাকের নিয়তে হ্যা বলে, তাহলে তালাক পতিত হবে"

প্রশ্ন হলো:

যদি স্ত্রী স্বামীকে জিজ্ঞেস করে, "তোমার কি ওইরকম নিয়ত ছিল"?
এবং স্বামী যদি জানে যে স্ত্রী "ওইরকম কিছু" বলতে "তালাক" বুঝাচ্ছে, আর তখন স্বামী যদি তালাকের নিয়ত ছাড়া "হ্যা" বলে তাহলে কি তালাক হবে?

২. তালাকের মিথ্যা স্বীকারোক্তির ব্যাখায় আপনি বলেছেন-

-"মিথ্যা স্বীকারোক্তির পূর্বে স্বামী এ ব্যাপারে সাক্ষী রাখার অর্থ হল, স্বামী কাউকে বলবে, আপনি জেনে রাখুন, আমি মিথ্যা বলবো,মূলত আমি অতিতে আমার স্ত্রীকে তালাক দেইনি, এখন আমি তালাকের মিথ্যা স্বীকারোক্তি দিবো।"

নিচের ঘটনাটি দেখুন-

স্ত্রী স্বামীকে সরাসরি জিজ্ঞেস করল "কেনায়া বলার সময় কি ওইরকম কোনো নিয়ত ছিল?"
উত্তরে স্বামী বলেছে ছিল না।

তখন আবার স্ত্রী একই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলে স্বামী বলে "হ্যা ছিল"।

এখন প্রশ্ন হলো: উপরের এই ঘটনাতে কি মিথ্যা স্বীকারোক্তির আগে স্বামী স্ত্রীকে সাক্ষী হিসেবে রেখেছে বুঝাবে?

1 Answer

0 votes
by (469,840 points)
edited by

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
আপনাকে বলবো দয়াকরে আপনি এই তালাকের ওয়াসওয়াসাকে পরিহার করুন। কিভাবে পরিহার করবেন,সেটা হল, যখনই মনে এরকম ওয়াসওয়াসা আসবে, সাথে সাথেই মনকে বলবেন, আমি যেহেতু ওয়াসওয়াসার রোগী, তাই আমার ব্যাপারে শরীয়তের হুকুমে শীতিলতা রয়েছে।আমি অন্য দশজনের মত নই। কেননা ওয়াসওয়াসা রোগি কাউকে হত্যা করলেও শরীয়তের দৃষ্টিতে কেসাস আসেনা।ওয়াসওয়াসার রোগী সারাদিন কুফরি বাক্য উচ্ছারণ করলেও সে কাফির হয়না।বরং তার ঈমান বহাল থাকে।

যদি ওয়াসওয়াসা থেকে আপনি বের না হন,তাহলে আপনার ভবিষ্যত আপনি নিজেই নষ্ট করবেন।ওয়াসওয়াসা থেকে বের হওয়ার একমাত্র মাধ্যম হল, এই চিন্তাকে পরিহার করে ভিন্ন চিন্তা গ্রহণ করা,লোকদের সাথে হাশিখুশিতে থাকা।

ইবনে হাজার হাইতামি রাহ এ সম্পর্কে বলেন,
( وسئل نفع الله به عن داء الوسوسة هل له دواء ؟
فأجاب بقوله : له دواء نافع وهو الإعراض عنها جملة كافية ، وإن كان في النفس من التردد ما كان - فإنه متى لم يلتفت لذلك لم يثبت بل يذهب بعد زمن قليل كما جرب ذلك الموفقون) (الفتاوى الفقهية الكبرى 1/149)
মর্মার্থ - পরিপূর্ণ ভাবে এই চিন্তাকে পরিহার করার চেষ্টা করাই এর সর্বোত্তম চিকিৎসা।
এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন-https://www.ifatwa.info/835

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
মিথ্যা স্বীকারোক্তি হলে তালাক হবে না। আপনার ঐ প্রশ্ন যদি মিথ্যা স্বীকারোক্তি মূলক বিষয়েই হয়ে থাকে, তাহলে তালাক হবে না।

স্ত্রী যদি স্বামীকে জিজ্ঞেস করে, "তোমার কি ওইরকম কিছু নিয়ত ছিল?"- যদি স্বামী উত্তরে  "হ্যা" বলে,
এই প্রশ্নের জবাবে আমি বলেছি

"স্ত্রী যদি ওই রকম কিছু দ্বারা তালাক বুঝায়, এবং স্বামীও বুঝে নেয় যে, ওই রকম কিছু বলতে তালাকের কথাই জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে, এবং তালাকের নিয়তে হ্যা বলে, তাহলে তালাক পতিত হবে" কেননা মিথ্যা স্বীকারোক্তির কথাতো আপনি বলেননি। তাই বলেছি তালাক হবে। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (469,840 points)
সংযোজন ও সংশোধন করা হয়েছে।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করলে ভালো হয়। অন্যদিকে প্রতিমাসে একাধিকবার আমাদের মুফতি সাহেবগন জুমের মাধ্যমে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন। সেই ক্লাসগুলোতেও জয়েন করার জন্য অনুরোধ করা গেল। ক্লাসের সিডিউল: fb.com/iomedu.org

Related questions

...