+2 votes
163 views
in খাদ্য ও পানীয় (Food & Drink) by (1 point)
বর্তমানে অনেককেই দেখি বিভিন্ন খাবার খাওয়ার ছবি বা খাবারের ছবি ফেসবুক বা অন্যান্ন সোসাল মিডিয়ায় শেয়ার করে থাকে। অনেক সময় এই খাবার দেখে আনেকের খাওয়ার ইচ্ছা জাগতে পারে কিন্তু হইতো তার সামর্থ নেই, সেকারণে কি ঐ পোষ্ট দাতার কোন গোণাহ হতে পারে? পোষ্ট দাতার উদ্দেশ্য যদি মানুষকে দেখানোর জন্য না হয়ে আল্লাহর প্রতি কৃতগ্যতা প্রকাশের উদ্দেশ্য হয় তাহলে কি গোণাহ হবে? কোরআন হাদিসের কোন স্পষ্ট দলিল থাকলে সেইগুলোর উদ্রিতি দিয়ে বল্লে উপকার হবে।

1 Answer

+1 vote
by (59,600 points)
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। 
জবাবঃ
নি'আমতের ইজহার প্রশংসনীয় ও ভালো কাজ।নিয়ত বিশুদ্ধ থাকলে নি'আমত কে ইজহার করার উপর সওয়াব পাওয়া যাবে।কিন্তু হাল জমানায় ইজহারে নি'আমতের নামে সোস্যাল মিডিয়ায় যে সব ছবি আপলোড হচ্ছে,এটা শরয়ীভাবে অপছন্দনীয়।
কোনো কোনো ক্ষেত্রে এরকম ছবি আপলোডের ফলে হিংসা বিদ্ধেষ শুরু হয়ে যায়।

যাকে আল্লাহ উক্ত নি'আমত দিয়েছেন,তার উপর অন্যরা হিংসা করতে শুরু করে দেয়।সোস্যাল মিডিয়ায় এ রকম ধনাট্য ছবি নিঃস্বদের অন্তরে ক্ষত সৃষ্টি করে দেয়।তাছাড়া ছবি আপলোড কারীর অন্তরে একপ্রকার লোকদেখানো মনোভাব চলে আসে।লোকদেখানো মনোভাব অত্যন্ত গর্হিত কাজ।তাছাড়া আস্তে আস্তে এতে অহংকারপূর্ণ মনোভাবও চলে আসে।তখন সেটা হাদীসে নিষিদ্ধ খাবারের আওতাধীন হয়ে যায়,

ইবনে আব্বাস রাযি থেকে বর্ণিত,
 عن ابْن عَبَّاسٍ قال: إِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ طَعَامِ الْمُتَبَارِيَيْنِ أَنْ يُؤْكَلَ.
প্রতিযোগীতার মাধ্য অগ্রগণ্যতাকে প্রত্যাশীদদের খাবার গ্রহণ থেকে রাসূলুল্লাহ সাঃ নিষেধ করেছেন।(সুনানু আবি-দাউদ-৩৭৫৪,জা'মে তিরমিযি-)

ইমাম খাত্তাবী রাহ উক্ত হাদীসের ব্যখ্যায় লিখেন,
" الْمُتَبَارِيَانِ: هُمَا الْمُتَعَارِضَانِ بِفِعْلَيْهِمَا، يُقَالُ تَبَارَى الرَّجُلَانِ إِذَا فَعَلَ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مِثْلَ فِعْلِ صَاحِبِهِ ، لِيُرَى أَيُّهُمَا يَغْلِبُ صَاحِبَهُ، وَإِنَّمَا كُرِهَ ذَلِكَ لِمَا فِيهِ مِنَ الرِّيَاءِ وَالْمُبَاهَاةِ، ِ"
উক্ত হাদীসে ঐ খাবার কে নিষেধ করা হয়েছে,যে খাবারকে দু'ইজন মানুষ প্রতিযোগিতা করে অগ্যগণ্যতার প্রত্যাশী হয়ে প্রস্তুত করে থাকে।এটা হাদীসে এজন্য নিষেধ করা হয়েছে,কেননা তাতে লোকদেখানো ও অহংকারকে পাওয়া যায়।(আউনুল মা'বুদ-১০/১৬১)

ইমাম মুনাবী রাহ লিখেন,
(المتباريان) أي: المتعارضان بفعلهما في الطعام؛ ليميز أيهما يغلب (لا يجابان، ولا يؤكل طعامهما) تنزيهًا، فتكره إجابتهما وأكله؛ لما فيه من المباهاة، والرياء؛ ولهذا دعي بعض العلماء لوليمة، فلم يجب، فقيل له: كان السلف يجيبون، قال: كانوا يدعون للمؤاخاة، والمؤاساة، وأنتم تدعون للمباهاة، والمكافأة. اهــ.
খাবার প্রস্তুতে প্রতিযোগিতাকারী, কার খাবার অগ্র্যগণ্য।এমন খাবারের দাওয়াতে অংশগ্রহণ করা যাবে না।এবং এমন খাবার খাওয়াও যাবে না।এমন খাবারের দাওয়াতে অংশগ্রহণ মাকরুহে তানযিহি।কেননা তাতে লোকদেখানো ও অহংকারের অর্থ রয়েছে।এজন্য কিছু সংখ্যাক উলামায়ে কেরাম এমন সব লোকদেখানো সম্ভাবনার দাওয়াতে অংশগ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।কিন্তু পূর্বযুগের লোকজন যেহেতু ভ্রাতৃত্ববোধ ও সহমর্মিতার দরুণ দাওয়াকতের আয়োজন করতেন,তাই সালাফগণ দাওয়াতে অংশ গ্রহণ করতেন।(ফয়যুল কাদীর)


সু-প্রিয় পাঠকবর্গ ও প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
যেহেতু ফেইসবুকে খাবারের ছবি আপলোডে লোকদেখানো ও অহংকারের অর্থের সম্ভাবনা রয়েছে,এবং গরীবদের আফসোসের ক্ষেত্র তৈরী হয়,তাই সতর্কতামূলক এমন সব ছবি আপলোড করা যাবে না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন।

Related questions

...