0 votes
28 views
in খাদ্য ও পানীয় (Food & Drink) by (19 points)
আসসালামু আলাইকুম।

বাংলাদেশের চাইনিজ রেস্টুরেন্ট এ অনেক জায়গায়ই থাইল্যান্ড এর কিছু মশলা ব্যবহার করে যা হালাল নয়। কোন কোন রেস্টুরেন্ট এ করে তাতো আর জানা থাকেনা। আবার মুরগি, গরু এসব প্রানী আল্লাহর নাম নিয়ে জবাই হয়েছে কিনা তাও জানা থাকেনা।

রেস্টুরেন্ট এর খাবার যদি হালাল-হারাম নিয়ে একটা সন্দেহ যেহেতু থেকেই যায় সেক্ষেত্রে করণীয় কি?

1 Answer

0 votes
by (22,320 points)
জবাব
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

আমাদের দেশে প্রচলিত হোটেলগুলোতে সাধারণত মালিক ও কর্মচারী উভয়েই মুসলিম হয়ে থাকে। তাই জবাইয়ের ক্ষেত্রে তাদের সম্পর্কে ‘বিসমিল্লাহ’ না বলার ধারণা পোষণ করা অর্থহীন।

শরিয়তের দৃষ্টিতে সন্দেহের ভিত্তিতে কোনো কিছু হারাম করা বা নাজায়েজ বলার কোনো সুযোগ নেই।
সুতরাং সচরাচর মুসলিম হোটেলগুলো থেকে গুরু, খাসি বা মুরগির গোশত কিনে খেতে কোনো সমস্যা নেই। তবে যদি কোনো হোটেলের ব্যাপারে নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে, সেখানে বিসমিল্লাহ ব্যতীত জন্তু জবাই করা হয়, তাহলে সেখানকার গোশত  খাওয়া কোনোক্রমেই বৈধ হবে না। 
(রাদ্দুল মুহতার: ৬/২৯৯); ফাতাওয়া তাতার খানিয়া: ১৭/৪০১; আহসানুল ফাতাওয়া: ৮/১০৬)
,
হাদিস শরিফে এসেছে, 
আয়েশা সিদ্দিকা  রাযি. বলেন, একদল লোক নবী রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে জিজ্ঞেসা করল, ‘এক নও মুসলিম সম্প্রদায় আমাদের নিকট গোশত নিয়ে আসে। আমরা জানি না যে, তার জবেহকালে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয়েছে কি না।’ তিনি বললেন,  سَمُّوا عَلَيهِ أَنتُم وَكُلُوهُ ‘তোমরা আল্লাহর নাম নিয়ে তা ভক্ষণ কর।’ (বুখারি ২০৫৭, ৫৫০৭ )

উক্ত হাদিসের ব্যাখ্যায় হাফেজ ইবন হাজার আসকালানী রহ. বলেন,
ويستفاد منه أن كل ما يوجد في أسواق المسلمين محمول على الصحة ، وكذا ما ذبحه أعراب المسلمين…  لأن المسلم لا يظن به في كل شيء إلا الخير ، حتى يتبين خلاف ذلك
‘এই হাদিস থেকে বুঝা যায়, মুসলমানদের বাজারে যে গোশত পাওয়া যায় তা হালাল হিসেবে গণ্য হবে। কেননা, মুসলমানের সব বিষয়ে ততক্ষণ পর্যন্ত ভালো ধারণা রাখতে হয় যতক্ষণ পর্যন্ত এর বিপরীত স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়।’ (ফাতহুল বারী ৯/৭৮৬)
,
★সুতরাং মুসলিম দেশের হোটেল রেস্তোরাঁয় গোশত খাওয়া গোনাহের কাজ বলে বিবেচিত হবে না। এক্ষেত্রে সন্দেহ প্রবণতা পরিহার করা উচিত। মানুষকে, সমাজকে ও পরিবেশকে বিশ্বাস করাই স্বাভাবিকতা। অবশ্য কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে নিশ্চয়ই এসব থেকে দূরে থাকতে হবে।
,
★ প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরত "যদি বাংলাদেশের চাইনিজ রেস্টুরেন্ট যদি থাইল্যান্ড এর কিছু মশলা ব্যবহার করে যা হালাল নয়,সেটা হারাম হওয়া সম্পর্কে যদি নিশ্চিত হওয়া যায়,এবং সেগুলো উক্ত খাবারে ব্যবহার সম্পর্কে যদি নিশ্চিত হওয়া যায়,তাহলে সেই খাবার খাওয়া কোনো ভাবেই জায়েজ হবেনা।     


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন।

Related questions

...