0 votes
15 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (28 points)
আসসালামু আলাইকুম,

বর্তমান ইউটিউবে নানা ইসলামী শিল্পীগোষ্ঠীর আবির্ভাব হয়েছে যাদের গজলে নিচের চারটি বিষয় স্পষ্ট পাওয়া যায় তা হলো:

* বিভিন্ন আধুনিক বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার।

* পুরো সময় জুরে গজল পরিবেশনকারীর অপ্রয়োজনীয় ছবি রেকর্ড করা ও বিভিন্ন ভঙ্গিতে তার ছবি তুলতে থাকা।

* প্রচলিত বিভিন্ন গানের সুরকে গজলের সুরে রূপান্তর করা।

* যুবকদের দিয়ে গজল পরিবেশন করা যাদের মুখে দাড়ি পর্যন্ত উঠে নায়। তারা শুধু পাগড়ী ও পাঞ্জাবী পরিধান করে।

প্রশ্ন: এসবকে কী গজল বলা যাবে? এগুলা শোনা কী হারাম হবে?

1 Answer

0 votes
by (23,600 points)
উত্তর
وعليكم 
بسمالله الرحمن الرحيم 
,
দফ বা বাজনা,বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার ছাড়া  নিরেট ইসলামী সংগীত তথা হামদ-নাত,জাগরণী সংগীত ইত্যাদি গাওয়া এবং শোনা জায়েজ আছে। তবে খেয়াল করতে হবে,যেন এর দ্বারা ইবাদতের মাঝে গাফলতী কিংবা ক্ষতি না হয়।

عن ابن عباس ، قال : جاءأعرابي إلى النبي صلى الله عليه وسلم ، فجعل يتكلم بكلام ، فقالرسول الله صلى الله عليه وسلم : (إن من البيان سحرا ، وإن من الشعرحكما

হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত। একজন অনারবী ব্যক্তি রাসূল সাঃ এর কাছে আসল। তারপর সে বিশেষ ভঙ্গিমায় কথা বলল। তখন রাসূল সাঃ বললেনঃ নিশ্চয় কথন পদ্ধতিতে যাদু রয়েছে। আর কবিতায় আছে হিকমাত তথা গভীর প্রজ্ঞা। {সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৫০১১}

عن أبي بن كعب أن رسول الله صلى الله عليه و سلم قال ( إن من الشعر لحكمة

হযরত উবাই বিন কাব রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ নিশ্চয় কবিতা-শেরের মাঝে রয়েছে হিকমাহ। {৩৭৫৫}

حَسَّانَ بْنَ ثَابِتٍ الْأَنْصَارِيَّ يَسْتَشْهِدُ أَبَا هُرَيْرَةَ أَنْشُدُكَ اللَّهَ هَلْ سَمِعْتَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ يَا حَسَّانُ أَجِبْ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اللَّهُمَّ أَيِّدْهُ بِرُوحِ الْقُدُسِ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ نَعَمْ

হযরত হাসসান বিন সাবেত আনসারী রাঃ হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ কে আল্লাহর কসম দিয়ে একথার সাক্ষ্য চেয়ে বলেনঃ আপনি কি রাসূল সাঃ কে একথা বলতে শুনেছেন, হে হাসসান! রাসূলুল্লাহ সাঃ এর পক্ষ থেকে [কবিতার মাধ্যমে মুশরিকদের] জবাব দাও। হে আল্লাহ! হাসসানকে রূহুর কুদুস [জিবরাঈল] দ্বারা সাহায্য কর। আবূ হুরায়রা রাঃ বলেন,হ্যাঁ। {সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৪৫৩}

ইউটিউবে ভিডিও গজল দেখাঃ

এ বিষয়ে উলামায়ে কেরামের মাঝে মতভেদ আছে। 
কেহ কেহ সরাসরি নাজায়েজ বলেছেন।
  তবে অনেক মুহাক্কিক আলেমদের কাছে ইউটিউবের  গজল যদি উপরে উল্লেখিত শর্তের ভিত্তিতে হয় এবং সেখানে হারাম কিছু না থাক,তাহলে এসব ভিডিও দেখা জায়েজ। আর যদি তা দ্বীন প্রচারের উদ্দেশ্যে  হয়, তাহলে এর দ্বারা সওয়াবও হবে ইনশাআল্লাহ।

واما الصورة التى ليس لها ثبات واستقرار، وليست منقوشة على شيئ يصفة دائمة فإنها باالظل اشبه (الى قوله) فان الصورة لا تستقو على الكيسرا الى الشاشة وتظهر عليها بترتيبها الأصلى ثم تفتى وتزول، (تكملة فتح الملهم-4/164)
যেই ছুরত স্থির থাকেনা,সেটা কোনো বস্তুর উপর স্থায়ী ভাবে অংকিতও হয়না,তাহলে সেটা ছায়ার সাথে সাদৃশ্য রাখবে।
(তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম ৪/১৬৪)  


এ বিষয়ে মুফতী আব্দুল মালেক সাহেব দাঃবাঃ  এর  মারকাযুদ দাওয়াহ এর ফতোয়া উল্লেখ করছিঃ 
বাদ্য-বাজনা শোনা নাজায়েয। তাই হামদ-নাতের সাথে বাদ্য-বাজনা থাকলে ঐ হামদ-নাত শোনা জায়েয হবে না। এছাড়া হামদ-নাত, গজলের সাথে এটা যুক্ত করা বেয়াদবিও বটে। তাই এ থেকে বিরত থাকা কর্তব্য। তবে হামদ-নাত, গজল যদি সম্পূর্ণ বাজনা ও মিউজিক মুক্ত হয় এবং তার কথা যদি সহীহ হয়, শরীয়তের কোনো আকীদা বা নির্দেশের পরিপন্থী না হয় তাহলে তা বলা ও শোনা জায়েয।

উল্লেখ্য যে, যারা হামদ-নাত বা ইসলামী ধাঁচের গজল পরিবেশন করবে তাদের দায়িত্ব হল এতে স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখা এবং গানের সুরে তা না বলা। তদ্রƒপ এসব ক্ষেত্রে অন্যদের পরিভাষা যেমন কনসার্ট, গান ইত্যাদি শব্দও পরিহার করা উচিত।

(-সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৫৯০; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৩৬৮৫; মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস ৬৯০৮; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩৪৫; ফাতহুল কাদীর ৬/৪৮১; আলবাহরুর রায়েক ৭/৮৮; ইসলাম আওর মূসিকী, মুফতী মুহাম্মাদ শফী রাহ.)


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন।

Related questions

...