+1 vote
208 views
in পবিত্রতা (Purity) by (125 points)
১)কাপড়ে পস্রাব,বীর্য লাগলে তিনবার ভালো করে ধুয়ে পানি নিঙড়িয়ে পবিত্র করা হয়।কিন্তু তিনবারের কম ধোয়া হলে কী সেটা পবিত্র হয় না?

২)এমন যদি হয় যে আমার অনেক আগে নাপাকী লেগেছিলো, তার পর আরো অনেক বার ই কাপড়টা পরিস্কার করা হয়েছে।কিন্তু কোনো বারই তিনবার ধুয়ে পরিস্কার করা হয় নি।তার মানে কী আমার অনেক আগে নাপাকী লাগা ঐ কাপড়টা এখনো অপবিত্র?

৩)যদি না হয়,তাহলে এতদিন যেসব কাপড় পরে নামাজ পরেছি ঐগুলা কী একটাও হয়নি?

৪)আমার কী এখন সব কাপড়  তিনবার ধুয়ে পবিত্র করতে হবে যদিও সেগুলো প্রতিদিন ই ধোয়া হয়(কিন্তু ৩ বার করে না)?

1 Answer

0 votes
by (59,920 points)
উত্তর
بسم الله الرحمن الرحيم 

(০১) শরীয়তের বিধান হলো   চাদরে কিংবা কাপড়ে নাপাকি লাগলে তিনবার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে এবং প্রত্যেকবার ভালো করে চাপ দিয়ে নিংড়াতে হবে। ভালো করে নিংড়িয়ে ধোয়ার পরও যদি দুর্গন্ধ থেকে যায় কিংবা দাগ থাকে তাতে কোনো দোষ নেই। এতেই চাদর কিংবা কাপড় পবিত্র হয়ে যাবে।  (হাশিয়ায়ে তাহতাবী আলাল মারাকী, পৃষ্ঠা নং ১৬১, বেহেশতি জিওর ২/৭৭ )

وغير المرئية بغسلهاثلاثا والعصر كل مرة
অদৃশ্যমান নাপাক বস্তু তিন বার ধৌত করত্র হবে।এবং প্রত্যেকবার নিংড়াতে হবে।
(নুরুল ইযাহ ৫৬)

উল্লেখ্য, তিনবারের কথা বলা হয়, যাতে সন্দেহ না থাকে। অন্যথায় যদি প্রবাহমান পানি যেমন, নদী, পুকুরে বা টেপের পানিতে এত বেশি করে ধোয়া হয়, যাতে নাপাকি দূর হওয়ার ব্যাপারে প্রবল ধারণা হয়ে যায় তাহলে তা পাক হয়ে যায়। এক্ষেত্রে তিনবার নিংড়িয়ে ধোয়া জরুরি নয়। (রদ্দুল মুহতার ১/৩৩৩ আলবাহরুর রায়েক ১/২৩৭ শরহুল মুনইয়া ১৮৩) 
★★এটাই মূলনীতি।  

হাদিস শরিফে এসেছে,আসমা রাযি. থেকে বর্ণিত,
 أَنَّ النَّبِيَّ  ﷺ قَالَ -فِي دَمِ الْحَيْضِ يُصِيبُ الثَّوْبَ-: «تَحُتُّهُ، ثُمَّ تَقْرُصُهُ بِالْمَاءِ، ثُمَّ تَنْضَحُهُ، ثُمَّ تُصَلِّي فِيهِ
হায়িযের রক্ত কাপড়ে লেগে যাওয়া প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, ‘পানি দিয়ে ঘষা দিবে তারপর পানি দ্বারা ভালোভাবে ধৌত করবে। অতঃপর সলাত আদায় করবে।’ (বুখারী ২২৭,৩০৭)
,
নাপাক কাপড় পরে গোসল করার ক্ষেত্রে যদি বেশি পরিমাণ পানি কাপড়ের উপর ঢালা হয় এবং কাপড় ভালোভাবে কচলে ধোয়া হয় যার ফলে কাপড় থেকে নাপাকি দূর হওয়ার ব্যাপারে প্রবল ধারণা হয় তাহলে এর দ্বারা কাপড়টি পাক হয়ে যাবে। আর দৃশ্যমান কোনো নাপাকি থাকলে ঐ নাপাকি কচলে ধুয়ে দূর করে নিলে কাপড় পাক হয়ে যাবে। 
উল্লেখ্য, শরীর বা কাপড়ের কোনো অংশে নাপাকি লেগে থাকলে তা গোসলের আগেই পৃথকভাবে ধুয়ে পাক করে নেওয়া উচিত।
 
-আদ্দুররুল মুখতার ১/৩৩৩; শরহুল মুনইয়া ১৮৩; আলবাহরুর রায়েক ১/২৩৮; আননাহরুল ফায়েক ১/১৫০
,
(০২) 
উপরোক্ত মূলনীতি  হিসেবে যদি আপনার কাপড় তখনই ধুয়ে থাকেন,তাহলে তো তখন থেকেই আপনার কাপড় পবিত্র । 
আর যদি তখন সেই ভাবে না ধুয়ে থাকেন,তাহলে পরবর্তীতে ঐ কাপড় আবার ধাওয়ার সময় অবশিষ্ট কয়েকবার যেহেতু অনেক আগেই ধোয়া হয়েছে,তাই সেগুলোও পবিত্র। 
,
(০৩)   
উপরোক্ত মূলনীতি  হিসেবে যদি আপনার কাপড় তখনই ধুয়ে থাকেন,তাহলে তো তখন থেকেই আপনার কাপড় পবিত্র । 
তাই সব নামাজই হয়েছে।
আর যদি তখন সেই ভাবে না ধুয়ে থাকেন,তাহলে পরবর্তীতে ঐ কাপড় আবার ধোয়ার সময় অবশিষ্ট কয়েকবার ধোয়ার আগ পর্যন্ত আপনার কাপড় নাপাক ছিলো,তাই ঐ কয়েক দিনের নামাজ হিসেব করে কাজা আদায় করে নিতে হবে। 
,
(০৪) আপনার আগের সব কাপড়ই পবিত্র।
এখন নতুন করে আপনার কাপড় আবার নাপাক হয়ে গেলে  উপরোক্ত মূলনীতির আলোকেই আপনি কাপড় ধৌত করবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন।

Related questions

...