0 votes
10 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (3 points)
closed by

আসসালামুয়ালাইকুম। বর্তমানে ভিক্ষাবৃত্তি একটা পেশায় পরিণত হয়েছে। ভিক্ষায় যেমন অনেক দরিদ্র মানুষ আছেন যারা কাজ করতে অক্ষম, ঠিক তেমনি অনেক সুস্থ সবল এবং সম্পদশালী মানুষও আছেন যারা একটু কষ্ট করলেই ইনকাম করতে পারেন। এমন অবস্থায় আমার প্রশ্ন যেসব ভিক্ষুককে দেখলে মনে হয় তারা কাজ করে টাকা উপার্জনে সক্ষম তাদের কি ভিক্ষা না দিলে কোন সমস্যা হবে? অনেক সময় যারা প্রকৃত অর্থেই অক্ষম তাদেরও ব্যস্ততার কারণে বা অন্য কারণে ফিরিয়ে দিতে হয়। এদের ফিরিয়ে দিলেও কি গুনাহ হবে? 

 

ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহ ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন একবার রাসূলুল্লাহ ﷺ তাদের নিকটে আসলেন। তখন তারা একটি মজলিসে বসেছিলেন।

তিনি আমাদেরকে বললেন, আমি কি তোমাদেরকে সর্বোত্তম মর্যাদার অধিকারী ব্যক্তির কথা বলবো না?
আমরা বললাম, অবশ্যই বলবেন ইয়া রাসূলুল্লাহ!
তিনি বললেন, যে ব্যক্তি মৃত্যু অবধি আল্লাহর পথে তার ঘোড়ার মাথা ধরে রাখে।

তিনি বললেন, আমি কি তোমাদেরকে তার পরবর্তীজনের কথা বলবো না?
আমরা বললাম, বলুন ইয়া রাসূলুল্লাহ!
তিনি বললেন, যে ব্যক্তি কোন পাহাড়ের নির্জনস্থানে অবস্থান করে, সুষ্ঠুভাবে সালাত আদায় করে, যাকাত প্রদান করে এবং মানুষের অকল্যাণ থেকে দূরে সরে থাকে।

তিনি বললেন, আমি কি তোমাদেরকে নিকৃষ্টতম মানুষের কথা বলবো না?
আমরা বললাম, বলুন ইয়া রাসূলুল্লাহ! তিনি বললেন যার নিকটে আল্লাহর নামে চাওয়া হয় এরপরও সে প্রদান করে না।

[কিতাবুল জিহাদ, ইবনুল মুবারাক : ১৭০]

 অনেকসময় কাজ করতে সক্ষম লোক এসে আল্লাহ্‌র নামে ভিক্ষা চায়। উপরের হাদিসের আলোকে আমার কি তখন সেই ভিক্ষুককে কিছু দিতে হবে? উল্লেখ্য আমাদের দোকানের এখানে প্রতি শুক্রবারে অন্তত ৫০-৭০ জন ভিক্ষুক আসেন সকাল থেকে জুমার নামাযের আগ পর্যন্ত। 

 

উত্তর প্রদানের সুবিধার জন্য প্রশ্নগুলো পয়েন্ট আকারে আবার দেয়া হলঃ

 

১. যেসব ভিক্ষুককে দেখলে মনে হয় তারা কাজ করে টাকা উপার্জনে সক্ষম তাদের কি ভিক্ষা না দিলে কোন সমস্যা হবে?

২. প্রকৃত অর্থেই অক্ষম তাদেরও ব্যস্ততার কারণে বা অন্য কারণে ফিরিয়ে দিতে হয়। এদের ফিরিয়ে দিলেও কি গুনাহ হবে? 

৩. আল্লাহ্‌র নাম করে কেউ কিছু চাইলে তাকে কি ফিরিয়ে দেয়া অপছন্দনীয়? 

৪. ৫০-৭০ জন ভিক্ষুকের সবাই যদি আল্লাহ্‌র নামে কিছু চায় তাহলে কি তাদের সবাইকেই দেয়া আমার কর্তব্য অথবা তাদের কি কিছু হলেও দেয়া উচিত? 

closed

1 Answer

0 votes
by (52,200 points)
edited by
 
Best answer

ওয়া আলাইকুম আসসালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।


জবাবঃ-
ভিক্ষাবৃত্তি এবং ইসলাম
ভিক্ষাবৃত্তি কাদের জন্য জায়েয আর কাদের জন্য জায়েয নয়?এ সম্পর্কে যৎ সামান্য হাদীস উল্লেখযোগ্য। নিম্নে প্রদত্ত হল।
হযরত ক্বাবিসাহ ইবনে মুখারিক্ব রাঃ থেকে বর্ণিত,তিনি বলেনঃ
 «عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ مُخَارِقٍ قَالَ: تَحَمَّلْتُ حَمَالَةً، فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - أَسْأَلُهُ فِيهَا، فَقَالَ: " أَقِمْ حَتَّى تَأْتِيَنَا الصَّدَقَةُ، فَنَأْمُرَ لَكَ بِهَا "، ثُمَّ قَالَ: " يَا قَبِيصَةُ إِنَّ الْمَسْأَلَةَ لَا تَحِلُّ إِلَّا لِأَحَدِ ثَلَاثَةٍ: رَجُلٍ تَحَمَّلَ حَمَالَةً فَحَلَّتْ لَهُ الْمَسْأَلَةُ حَتَّى يُصِيبَهَا ثُمَّ يُمْسِكُ، وَرَجُلٍ أَصَابَتْهُ جَائِحَةٌ اجْتَاحَتْ مَالَهُ، فَحَلَّتْ لَهُ الْمَسْأَلَةُ حَتَّى يُصِيبَ قِوَامًا مِنْ عَيْشٍ، أَوْ قَالَ سِدَادًا مِنْ عَيْشٍ، وَرَجُلٍ أَصَابَتْهُ فَاقَةٌ حَتَّى يَقُولَ ثَلَاثَةٌ مِنْ ذَوِي الْحِجَا مِنْ قَوْمِهِ: لَقَدْ أَصَابَتْ فُلَانًا فَاقَةٌ فَحَلَّتْ لَهُ الْمَسْأَلَةُ حَتَّى يُصِيبَ قِوَامًا مِنْ عَيْشٍ، أَوْ قَالَ سِدَادًا مِنْ عَيْشٍ، فَمَا سِوَاهُنَّ مِنَ الْمَسْأَلَةِ يَا قَبِيصَةُ سُحْتٌ، يَأْكُلُهَا صَاحِبُهَا سُحْتًا» "
আমি একবার অন্যর ঋণের বোঝা/রক্তপণ নিজ দায়িত্বে নিয়ে আসি।অতঃপর অনুন্যপায় হয়ে নবীজী সাঃ এর কাছে যাই যাতে করে উনার কাছে এ সম্পর্কে সুওয়াল করি।নবীজী সাঃ বলেনঃ তুমি দাড়াও যতক্ষণ না আমাদের কাছে সদকার (যাকাতের)কোনো মাল আসে,আসলে তোমার জন্য নির্দেশ দিয়ে দিবো।অতঃপর নবীজী সাঃ বললেনঃ হে ক্বাবিসাহ! সুওয়াল করা তিন প্রকার মানুষ ব্যতীত অন্য কারো জন্য বৈধ নয়।
  1. ঐ ব্যক্তির জন্য বৈধ যে, অন্যর ঋণের বোঝা/রক্তপণ নিজ দায়িত্বে নিয়ে এসেছে।যতক্ষণ না উক্ত প্রয়োজন শেষ হয়(ততক্ষণ বৈধ রয়েছে)।
  2. ঐ ব্যক্তির জন্য বৈধ যে,যাকে প্রাকৃতিক দুর্যোগে রাস্তায় বসিয়ে দিয়েছে, অর্থাৎ তার সমস্ত সম্পত্তি ধংস হয়ে গেছে।যতক্ষণ না তার আবশ্যকীয় প্রয়োজনাদি পূর্ণ হয়।(ততক্ষণ বৈধ রয়েছে)
  3. ঐ ব্যক্তির জন্য বৈধ যে, নিতান্ত-ই গরীব হয়ে গিয়েছে,এমনকি তার প্রতিবেশীদের মধ্যে তিনজন জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তি দাড়িয়ে এ স্বাক্ষ্য প্রদান করতে সক্ষম যে অমুক গরীব হয়ে গিয়েছে।যতক্ষণ না সে তার আবশ্যকীয় প্রয়োজনাদি পূর্ণ করবে।(ততক্ষণ বৈধ রয়েছে) (সহীহ মুসলিম-১৮৩৭)
হযরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত,
 عن أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ -: «مَنْ سَأَلَ النَّاسَ أَمْوَالَهُمْ تَكَثُّرًا فَإِنَّمَا يَسْأَلُ جَمْرًا، فَلْيَسْتَقِلَّ أَوْ لِيَسْتَكْثِرْ» "
নবীজী সাঃবলেনঃ যে ব্যক্তি সম্পদবৃদ্ধির আশায় মানুষের কাছে সুওয়াল করবে,সে যেন  আল্লাহ সুবহানু ওয়া তা'আলার কাছে আগুনের আঙ্গারা সুওয়াল করল।এখন সে যেন কমিয়ে করে অথবা বাড়িয়ে করে(তার ইচ্ছাস্বাধীন )।(সহীহ মুসলিম১৮৩৮)

হযরত সাহল ইবনে হানযালা রাঃ থেকে বর্ণিত,
 وَعَنْ سَهْلِ بْنِ الْحَنْظَلِيَّةِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ -: " «مَنْ سَأَلَ وَعِنْدَهُ مَا يُغْنِيهِ، فَإِنَّمَا يَسْتَكْثِرُ مِنَ النَّارِ» " قَالَ النُّفَيْلِيُّ وَهُوَ أَحَدُ رُوَاتِهِ فِي مَوْضِعٍ آخَرَ " وَمَا الْغِنَى الَّذِي لَا تَنْبَغِي مَعَهُ الْمَسْأَلَةُ؟ قَالَ: قَدْرُ مَا يُغَدِّيهِ وَيُعَشِّيهِ " وَقَالَ فِي مَوْضِعٍ آخَرَ " أَنْ يَكُونَ لَهُ شِبَعُ يَوْمٍ أَوْ لَيْلَةٍ وَيَوْمٍ "
নবীজী সাঃ বলিয়াছেন,যে ব্যক্তি সুওয়াল করল,অথচ তার কাছে যথেষ্ট পরিমাণ মাল রয়েছে, সে যেন বেশী বেশী আগুনকে চাইল।আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আন-নুফায়লি যিনি উক্ত হাদিসের একজন রাবী(বর্ণনাকারী),তিনি  বলেন:
কি পরিমাণ সম্পদ থাকলে সুওয়াল করা যাবে না? মর্মক প্রশ্নের জবাবে নবীজী সাঃ বলেনঃ সকালবিকাল পরিমাণ খাদ্য সংগ্রহ থাকলে সুওয়াল করা যাবে না।নুফাইলি রাহ অন্যত্র বলেন,নবীজী সাঃ বলেছেনঃ যার কাছে একদিন পরিমাণ বা একদিন ও রাত পরিমাণ খাদ্য সংগ্রহ থাকবে তার জন্য সুওয়াল করা হারাম হবে।
(আবু-দাউদ-১৮৪৮)

মুল্লা আলী ক্বারী রাহ বলেনঃ
وَالْأَنْسَبُ بِمَسْأَلَةِ تَحْرِيمِ السُّؤَالِ أَنْ يَكُونَ أَمْرُ النَّسْخِ بِالْعَكْسِ بِأَنْ نُسِخَ الْأَكْثَرُ، فَالْأَكْثَرُ إِلَى أَنْ تَقَرَّرَ أَنَّ مَنْ عِنْدَهُ مَا يُغَدِّيهِ وَيُعَشِّيهِ يَحْرُمُ عَلَيْهِ السُّؤَالُ، فَيَكُونُ الْحُكْمُ تَدْرِيجِيًّا بِمُقْتَضَى الْحُكْمِ كَمَا وَقَعَ فِي تَحْرِيمِ الْخَمْرِ،
কি পরিমাণ সম্পদ থাকা অবস্থায় ভিক্ষা চাওয়া হারাম সে সম্পর্কে গ্রহণযোগ্য অভিমত হল,মদের মত ধাপে ধাপে শেষ পর্যন্ত নবীজী সাঃ সকাল-বিকাল খাদ্যর মালিকের জন্য ভিক্ষাবৃত্তিকে হারাম সাব্যস্ত করেছেন।
এবং ইহাই হানাফি মাযহাবের চুরান্ত সিদ্ধান্ত বলে গৃহিত। (মিরক্বাতুল মাফাতিহ;৪/১৩১৩)

  • সু-প্রিয় পাঠকবর্গ!
রাস্তার ভিক্ষুক যাদের ভিক্ষাবৃত্তি আজকাল একরকম পেশা হয়ে গেছে।তন্মধ্যে অনেকের আবার আর্থিক সচ্ছলতা ও শারীরিক সক্ষমতা রয়েছে।এদেরকে রুক্ষ ভাষায় ধমক না দিয়ে উপদেশ দিতে হবে।নরম ভাষায় তাদেরকে বুঝাতে হবে।না দিলে সুন্দরভাবে বিদায় দিতে হবে
কেননা আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ
ﻭَﺃَﻣَّﺎ ﺍﻟﺴَّﺎﺋِﻞَ ﻓَﻼ ﺗَﻨْﻬَﺮْ
তরজমাঃ এবং(হে নবী) আপনি সওয়ালকারীকে ধমক দিবেন না।

হাদীস শরীফে এসেছে, নবীজী সাঃ বলেনঃ
ﺃﻥ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ : ( ﻟﻠﺴﺎﺋﻞ ﺣﻖ ﻭﺇﻥ ﺟﺎﺀ ﻋﻠﻰ ﻓﺮﺱ-
তরজমাঃ সুওয়াল কারীর ও একটি হক্ব রয়েছে যদিও সে ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে আসে।(আবু-দাউদ-১৬৬৫)

  • সুওয়াল করার হুকুম ভিক্ষুকের অবস্থার উপর নির্ভর করবে।সে যদি সাবলম্বী হয় তাহলে সুওয়াল করা তার জন্য উপরের বর্ণিত ধারা অনুযায়ী হারাম হবে ঠিক কিন্তু সুওয়ালকৃত ব্যক্তির জন্য কিছু দিয়ে দেয়াটা উচিৎ।কেননা সুওয়ালের কারণে তার উপর সুওয়ালকারীর জন্য একরকম হক্ব বা অধিকার স্থাপিত হয়ে গেছে।তবে সাধারণত সদকার(নফল) নিয়্যাত থাকলে বাস্তব অবস্থা অনুসন্ধান করে দেয়াটাই উত্তম হবে।কারো সম্পর্কে যদি প্রবল ধারণা হয় যে,সে সর্বদিক দিয়ে অক্ষম তাহলে তাকে দিয়ে দিবে।তবে যদি কেউ ধনী বা সুস্থ-সবল,উপার্জনোক্ষমকাউকে সদকা দিয়ে দেয় তাহলে তার বৃথা যাবে না।বরং অবশ্যই সে সওয়াব পাবে।
যেমন হযরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত আছে,
ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ ﺃَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻗَﺎﻝَ : ( ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺟُﻞٌ ﻟَﺄَﺗَﺼَﺪَّﻗَﻦَّ ﺑِﺼَﺪَﻗَﺔٍ ﻓَﺨَﺮَﺝَ ﺑِﺼَﺪَﻗَﺘِﻪِ ﻓَﻮَﺿَﻌَﻬَﺎ ﻓِﻲ ﻳَﺪِ ﺳَﺎﺭِﻕٍ ﻓَﺄَﺻْﺒَﺤُﻮﺍ ﻳَﺘَﺤَﺪَّﺛُﻮﻥَ ﺗُﺼُﺪِّﻕَ ﻋَﻠَﻰ ﺳَﺎﺭِﻕٍ ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﻟَﻚَ ﺍﻟْﺤَﻤْﺪُ ﻟَﺄَﺗَﺼَﺪَّﻗَﻦَّ ﺑِﺼَﺪَﻗَﺔٍ ﻓَﺨَﺮَﺝَ ﺑِﺼَﺪَﻗَﺘِﻪِ ﻓَﻮَﺿَﻌَﻬَﺎ ﻓِﻲ ﻳَﺪَﻱْ ﺯَﺍﻧِﻴَﺔٍ ﻓَﺄَﺻْﺒَﺤُﻮﺍ ﻳَﺘَﺤَﺪَّﺛُﻮﻥَ ﺗُﺼُﺪِّﻕَ ﺍﻟﻠَّﻴْﻠَﺔَ ﻋَﻠَﻰ ﺯَﺍﻧِﻴَﺔٍ ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﻟَﻚَ ﺍﻟْﺤَﻤْﺪُ ﻋَﻠَﻰ ﺯَﺍﻧِﻴَﺔٍ ﻟَﺄَﺗَﺼَﺪَّﻗَﻦَّ ﺑِﺼَﺪَﻗَﺔٍ ﻓَﺨَﺮَﺝَ ﺑِﺼَﺪَﻗَﺘِﻪِ ﻓَﻮَﺿَﻌَﻬَﺎ ﻓِﻲ ﻳَﺪَﻱْ ﻏَﻨِﻲٍّ ﻓَﺄَﺻْﺒَﺤُﻮﺍ ﻳَﺘَﺤَﺪَّﺛُﻮﻥَ ﺗُﺼُﺪِّﻕَ ﻋَﻠَﻰ ﻏَﻨِﻲٍّ ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﻟَﻚَ ﺍﻟْﺤَﻤْﺪُ ﻋَﻠَﻰ ﺳَﺎﺭِﻕٍ ﻭَﻋَﻠَﻰ ﺯَﺍﻧِﻴَﺔٍ ﻭَﻋَﻠَﻰ ﻏَﻨِﻲٍّ ﻓَﺄُﺗِﻲَ ﻓَﻘِﻴﻞَ ﻟَﻪُ ﺃَﻣَّﺎ ﺻَﺪَﻗَﺘُﻚَ ﻋَﻠَﻰ ﺳَﺎﺭِﻕٍ ﻓَﻠَﻌَﻠَّﻪُ ﺃَﻥْ ﻳَﺴْﺘَﻌِﻒَّ ﻋَﻦْ ﺳَﺮِﻗَﺘِﻪِ ﻭَﺃَﻣَّﺎ ﺍﻟﺰَّﺍﻧِﻴَﺔُ ﻓَﻠَﻌَﻠَّﻬَﺎ ﺃَﻥْ ﺗَﺴْﺘَﻌِﻒَّ ﻋَﻦْ ﺯِﻧَﺎﻫَﺎ ﻭَﺃَﻣَّﺎ ﺍﻟْﻐَﻨِﻲُّ ﻓَﻠَﻌَﻠَّﻪُ ﻳَﻌْﺘَﺒِﺮُ ﻓَﻴُﻨْﻔِﻖُ ﻣِﻤَّﺎ ﺃَﻋْﻄَﺎﻩُ ﺍﻟﻠَّﻪُ )
ভাবার্থ-পূর্ববর্তী উম্মতের কোনো এক লোক একবার বলেছিলো।আমি অবশ্যই সদকা করবো।অতঃপর সে সদকা নিয়ে বাহির হল,এবং তা এক চোরকে দিয়ে দিল,লোকগণ বলাবলি শুরু করল,এক চোরকে(গত কাল/রাত)সদকা দেয়া হয়েছে।উক্ত ব্যক্তি (শুনে)বলল,হে আল্লাহ! সকল প্রশংসা তোমার, আমি তো চোরকে সদকা দিয়েছি।
অতঃপর সে ব্যক্তি বলল আমি(আগামী কাল) আবার সদকা করবো,পরবর্তিতে সে এক পতিতাকে  সদকা দিয়ে দিল,(এদিনও)লোকগণ বলাবলি শুরু করে দিল,(গতকাল)এক পতিতাকে সদকা দেয়া হয়েছে।উক্ত ব্যক্তি (শুনে) বলল,হে আল্লাহ!সকল প্রশংসা তোমার-ই,আমি তো পতিতাকে সদকা দিয়েছি।সে ব্যক্তি আবার বলল আমি আগামীকাল সদকা করবো।অতঃপর সে একজন ধনী ব্যক্তিকে সদকা দিয়ে দিল,লোকগণ বলাবলি শুরু করে দিল,এবার ধনীকে সদকা দেয়া হয়েছে।উক্ত ব্যক্তি শুনে বলল,হে আল্লাহ!সকল প্রশংসা তোমার-ই,আমি তো এক ধনী ব্যক্তিকে সদকা দিয়ে দিয়েছি।
তাকে স্বপ্নে বলা হল,সদকা হয়তো চোরকে চোরি থেকে বিরত রাখবে,এবং পতিতাকে পতিতাবৃত্তি থেকে বিরত রাখবে,এবং ধনীকে সদকার প্রতি উৎসাহিত করবে।(সহীহ বুখারী-১৩৫৫ সহীহ মুসলিম-১০২২)

  • যাকাত ঐ সমস্ত ভিক্ষুককে দিলে আদায় হবে কি? এ সম্পর্কে ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়াতে মূলনীতি উল্লেখপূর্বক এভাবে আলোচনা করা হয়েছে,
إذا شك وتحرى فوقع في أكبر رأيه أنه محل الصدقة فدفع إليه أو سأل منه فدفع أو رآه في صف الفقراء فدفع فإن ظهر أنه محل الصدقة جاز بالإجماع، وكذا إن لم يظهر حاله عنده، وأما إذا ظهر أنه غني أو هاشمي أو كافر أو مولى الهاشمي أو الوالدان أو المولودون أو الزوج أو الزوجة فإنه يجوز وتسقط عنه الزكاة في قول أبي حنيفة ومحمد - رحمهما الله تعالى -، 
ভাবার্থ-যদি যাকাত দেওয়ার সময় কারো ব্যপারে সন্দেহ হয়,পরবর্তিতে  অনুসন্ধান করে তার ব্যপারে প্রবল ধারণা হয় যে, সে যাকাত ব্যয়ের ক্ষেত্র, অতঃপর সে(যাকাত দানকারী ব্যক্তি তাকে) যাকাত দিয়ে দেয়,অথবা কোন ফকির কারো কাছে কিছু সুওয়াল করে,যার পরিপক্বতে সে ঐ ফকিরকে যাকাত দিয়ে দেয়,বা সে কাউকে ফকিরদের কাতারে দেখে তাকে যাকাত দিয়ে দেয়।পরবর্তিতে তার কাছে উক্ত ব্যক্তি যাকাত ব্যয়ের ক্ষেত্র হিসেবে স্পষ্ট হোক বা না হোক সর্বাবস্থায় তার যাকাত আদায় হয়ে যাবে।এমনকি যদি পরবর্তিতে প্রমাণ হয় যে সে ধনী বা হাশেমী বা হাশেমীর গোলাম বা কাফির বা পিতা-মাতা অথবা সন্তানাদি কিংবা স্বামী-স্ত্রী প্রমাণ হয় তাহলে ইমাম আবু-হানিফ ও ইমাম মুহাম্মদ রাহ এর মতে উক্ত যাকাত আদায় হয়ে যাবে।

আরো বর্ণিত রয়েছে,
وإذا دفعها، ولم يخطر بباله أنه مصرف أم لا فهو على الجواز إلا إذا تبين أنه غير مصرف، وإذا دفعها إليه، وهو شاك، ولم يتحر أو تحرى، ولم يظهر له أنه مصرف أو غلب على ظنه أنه ليس بمصرف فهو على الفساد إلا إذا تبين أنه مصرف هكذا في التبيين.
ভাবার্থ-যদি কেউ যাকাত দেওয়ার সময় মাসরাফ(যাকাত বন্টনের ক্ষেত্র) কি না? অনুসন্ধান না করে,
তাহলে দেওয়া জায়েয হবে যতক্ষণ না গায়রে মাসরাফ বা মাসরাফ নয় প্রকাশিত হবে।যদি যাকাত দেওয়ার সময় সন্দেহ হয় এবং তৎক্ষণাৎ অনুসন্ধান না করে অথবা অনুসন্ধান  করে কিন্তু ক্ষেত্র বলে মনে না হয় অথবা ক্ষেত্র নয় বলে প্রবল ধারণা হয়,(এবং তাকে যাকাত দিয়ে দেয়)তাহলে তা আদায় হবে না। কিন্তু যদি পরবর্তিতে তার উল্টো অর্থাৎ যাকাত ব্যয়ের ক্ষেত্র হিসেবে প্রমাণিত হয় তাহলে যাকাত আদায় হবে।(ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া-১/১৯)

  • সু-প্রিয় পাঠকবর্গ!
উপরোক্ত ফেকহী আলোচনা থেকে প্রমান হয় যে যাকাত দেওয়ার সময় যাচাই-বাচাই করে দেয়া অত্যান্ত জরুরী।যাচাই-বাচাই করার পর যাকাত-ক্ষেত্র নয় বলে কারো ব্যপারে প্রমাণিত হলে দ্বিতীয় বার জাকাত দেয়া লাগবে না।বরং ওটাই যতেষ্ট হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন।

Related questions

...