0 votes
13 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (25 points)
edited by

আসসালামু আলাইকুম 

আমি হানাফি মাজহাবের অনুসারী। বেশ কিছু দিন ধরে কুরআনের তাফসীর পড়ছি।এমন সময় আমার মনে হলো,যে কুরআন থেকেই তো সব মাজহাব মাসয়ালা দিয়ে থাকে।তাহলে কি কুরআনের তাফসীরেও কি মাজহাব অনুসারে ভিন্নতা আছে? 

আমি জানতে চাই, 

১.  মাজহাব অনুসারে কি কুরআনের তাফসীরের পার্থক্য আছে?

 

২. যদি থাকে, তাহলে আমার (আমি হানাফি মাজহাবের) কোন তাফসীর পড়া উচিত?

৩. একই মাজহাবের একাধিক মুফতির(জীবিত) কাছ থেকে কি ফতোয়া নেয়া যাবে?

1 Answer

0 votes
by (15,640 points)
edited by

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

জবাবঃ

আল্লাহ তায়ালা বলেন-

اَطِيْعُوا للهَ وَاَطِيْعُوا الرَّسُوْلَ وَاُولِى الْاَمْرِ مِنْكُمْ

অনুবাদঃ আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের আনুগত্য কর এবং তোমাদের মধ্যে যারা আদেশ প্রদানকারী রয়েছে তাদেরও।

ব্যাখ্যাঃ এ আয়াতে তিনটি সত্বার আনুগত্যের নির্দেশ  দেয়া হয়েছে –

(১) আল্লাহর (কুরআনের) আনুগত্য,

(২) রসুলের (হাদীছের) আনুগত্য এবং

(৩) আদেশ দাতাগণের (ফিকহাবিদ মুজতাহিদ আলিমগণ) আনুগত্য। اُوْلِى الْاَمْرِ (উলিল আমর) হলেন মুজতাহিদ আলিমগণই।মনে রাখতে হবে যে, এ আয়াতে আনুগত্য বলতে শরীয়তের আনুগত্য বোঝানো হয়েছে।

এ আয়াতে এ বিষয়ের প্রতিও পরোক্ষ ইঙ্গিত রয়েছে যে অনুশাসন তিন রকমের আছে, কতগুলো সরাসরি কুরআন থেকে সুস্পষ্টরূপে প্রমাণিত। যেমন, অন্তঃসত্ত্বা নয়, এমন মহিলার স্বামী মারা গেলে, তাকে ‘ইদ্দত’ পালন করতে হয়, এদের প্রতি  আল্লার নির্দেশ اَطِيْعُوْا اللهَ (আতীউল্লাহ) থেকে এ অনুশাসন গৃহীত হয়েছে। আর কতগুলো অনুশাসন সরাসরি হাদীছ থেকে স্পষ্টরূপে প্রমাণিত। উদাহরণ স্বরূপ, সোনা-রূপা নির্মিত অলংকার ব্যবহার পুরুষের জন্য হারাম। এ ধরনের অনুশাসন মেনে চলার জন্য اَطِيْعُوْا الرَّسُوْلُ (আতীউর রসুল) বলা হয়েছে। আর কতকগুলো অনুশাসন আছে যেগুলো স্পষ্টভাবে কুরআন বা হাদীছ থেকে প্রতীয়মান হয় না। যেমন স্ত্রীর সঙ্গে পায়ুকামে লিপ্ত হওয়ার ব্যাপারটি অকাট্যভাবে হারাম হওয়ার বিধান। এ ধরনের অনুশাসন মেনে চলার জন্য اُوْلِى الْاَمْرِ مِنْكُمْ (উলীল আমরে মিনকুম) বলা হয়েছে। এ তিন রকম শরীয়ত বিধির জন্য তিনটি আদেশ দেয়া হয়েছে।

তিনি অন্যত্র বলেন-

فَاسلُوْا اَهْلَ الذِّكْرِ اِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُوْنَ 

অনুবাদঃ হে লোক সকল! তোমাদের যদি জ্ঞান না থাকে জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞাসা কর।

ব্যাখ্যাঃ এ আয়াত থেকে বোঝা গেল, যে যেই বিষয়ে অবহিত নয়, সে যেন সেই বিষয়ে জ্ঞানীদের নিকট থেকে জেনে নেয়। যে সব গবেষণালব্ধ মাসাইল বের করার ক্ষমতা আমাদের নেই, ঐগুলো মুজতাহিদগনের নিকট থেকে জিজ্ঞাসা করে জেনে নিতে হবে। সুতরাং যে বিষয়ে আমরা জানি না, সেটা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা একান্ত প্রয়োজন। 

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!


. ফিকহের মত মাজহাব অনযায়ী কুরআনের তাফসীরে তেমন কোনো পার্থক্য নেই , কয়েকটি মাসআলা বা ব্যাখ্যা ছাড়া। আর এটা হয়েছে তাফসীরকারীর কারণে। কারণ তিনি হয়তো হানাফী মাজহাবের অনুসারী অথবা অন্য মাজহাবের। তাই তিনি ঐ এক দুইটা মাসআলা বা ব্যাখ্যা নিজের মাজহাব অনুযায়ী করেছেন।

২. আপনি তাফসীরে মারেফুল কুরআন পড়তে পারেন। এর বাংলাও আছে। লেখক: মুফতী শফী রহ.। আর তিনি হানাফী মাজহাবের ছিলেন।

৩. একাধিক মুফতীর থেকে ফাতওয়া নেওয়া ঠিক নয়। বরং প্রশ্নকারীর জন্য আবশ্যক হলো যোগ্য কোনো একজন মুফতীর থেকে ফাতওয়া নিয়ে তার উপর আমল করা। তবে তার ফাতওয়ার বিষয়ে সন্দেহ হলে তখন অন্য কোনো যোগ্য মুফতীর কাছেও জিজ্ঞাসা করা যাবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী আব্দুল ওয়াহিদ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করলে ভালো হয়। অন্যদিকে প্রতিমাসে একাধিকবার আমাদের মুফতি সাহেবগন জুমের মাধ্যমে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন। সেই ক্লাসগুলোতেও জয়েন করার জন্য অনুরোধ করা গেল। ক্লাসের সিডিউল: fb.com/iomedu.org

Related questions

...